Total Pageviews

Thursday, April 2, 2020

Goblin Market – Christina Rossetti - Translation in Bengali (Part 3 of 3)

Goblin Market – Christina Rossetti - Translation in Bengali (Part 3 of 3)


Goblin Market – Christina Rossetti - Translation in Bengali (Part 3 of 3)
২য় পর্বের পর থেকে ৩য় পর্ব শুরুঃ 
জেনির কথা মনে রেখে,
প্রিয়জনেরা,” বললো লিজ্জি
দিন-না আমাকে বেশি বেশি করে আর অনেক অনেক”;
তার জামার আঁচল দিলো বিছিয়ে,
তাদের দিকে মুদ্রা ছুঁড়ে দিলো।
তাহলে, আমাদের সাথে বসে পড়ো,
খাও, আর আমাদের খুশি করো,”
দাঁত কেলিয়ে বললো তারা, “আমাদের আপ্যায়নতো
শুরু হলো মাত্র আর রাতেরওতো মাত্র শুরু,
একেবারেই তাজা আর শিশিরতো মুক্তোর মতো।
একেবারেই নিঘুম (Wakeful) আর তারা-ছাওয়া (starry):
এমন অপূর্ব ফলের নাগাল
কোন মানুষই পাবে না:
তার অর্ধেক ফুলই ঝরে যাবে,
শিশিরের কারণেই বাকি অর্ধেক শুকিয়ে যাবে,
অর্ধেক স্বাদ যাবে উবে।
বসে পড়ো-না আমাদের সাথে, নাও-না খেয়ে।
ধন্যবাদবললো লিজ্জি, “কিন্তু একজন-যে
আমার জন্যেই একা অপেক্ষা করছে বাড়িতে:
যদি আপনারা কিছু বিক্রি না-করতে চান।
তাই আর নয় বকবক শোনা (parleying),
মুদ্রাটি আমার ফেরত দিনতো দেখি।
উৎক্ষেপণ করে দেখি (toss’d)আপনাদের দেওয়া যায় কিনা ফি।
মাথা চুলকাতে লাগলো তারা।
ফুরিয়ে গেলো রসিকতা, গর গর শব্দে
বরং প্রকাশ্যে আপত্তি করতে লাগলো তারা।
ঘোত ঘোত করলো আর রাগ দেখালো দাঁত খেচিয়ে
একজনতো গাল পাড়লো অহংকারী বলে
বললো তাকে গোয়ার, অসভ্য (Cross-grain’d, uncivil);
চড়তেই লাগলো তাদের গলা,
আর চো-মুখ ছিলো শয়তানি-ভরা।।
আছড়াতে (Lashing) লাগলো লেজখানা
মাড়িয়ে গেলো তার পা (trod), মারলো ঠেলা (hustled),
গুতো মারলো কুনুই (Elbow’d and jostled)দিয়ে
আঁচড়  (Claw’d) মারলো নখে
করলো ঘেউ ঘেউ, মেও-মেও, ফেসফাস, কাটলো ভেংচি আর (Barking, mewing, hissing, mocking)
ছিড়ে (Tore) ফেললো জামাটা তার
মাটির দাগ লাগিয়ে দিলো মোজায় (stocking)
চুলের গুঁড়ি ধরে হেঁচকা টান (Twitch’d) দিলো মাথায়
তার সুন্দর পা-দুটিতে মারলো লাথি (Stamp’d)
আঁকড়ে ধরলো তার হাত ভূতের দল
আর মুখে চেপে-থ্যাতলে (squeez’d) দিলো ফল

শুভ্র আর সোনালি রূপসী লিজ্জি রইলো দাড়িয়ে,
দাঁড়িয়ে থাকলো সে বানের তোড়ে একটা পদ্মের মতো,
দাঁড়িয়ে থাকলো নীল-শিরার (vein’d) পাথরের একটা কণার মতো।
প্রবল বেগে (obstreperously) বয়ে চলা (Lash’d) জলের স্রোতের ধাক্কা খেয়েও
দাঁড়িয়ে থাকলো বাতি-স্তম্ভের (beacon) মতো একা।
গর্জনশীল ( roaring) ফেনিল (hoary) সাদা সাগরের বুকে,
আকাশে সোনালি-শিখা ঊর্ধ্বে ছড়ে,—
দাঁড়িয়ে থাকলো ফলের মুকুট পরা কমলা গাছের মতো
মধুভরা ফুলে ফুলে সাদা হয়ে থাকা
আর বোলতা আর মৌমাছি (wasp and bee) ঘেরা বলে ব্যথায়-ছাওয়া,
দাঁড়িয়ে থাকলো কুমারির শহরের মতো
তীক্ষ্ম-চূড়া (gilded dome and spire) আর গম্বুজে উঁচু (Topp’d)
অবরুদ্ধ (beleaguer’d) যে-শহর নৌবহরের হাতে আর সেনাবাহিনী
উন্মাদ তার পতাকা ছিনিয়ে (tug) নিতে।

একটা ঘোড়াকে একজন হয়তো নিতে পারে জলে।
তবে জল গেলাতে পারবে না তাকে বিশজনও মিলে
ভূতেরা তার কবজি চেপে ধরলো আর বন্দি করলো (cuff’d and caught) তাকে,
মিঠে মিঠে কথায় দেখালো লোভ (Coax’d) আর চললে লড়ে তার সাথে,
ভয় দেখালো (Bullied) আর করলো কাকুতি-মিনতি (besough)
কালি-কালো করলো তাকে আঁচড় (Scratch’d) চিমটিতে (pinch’d)
লাথি মারলো, মারলো ঝাকি (knock’d),    
করলো দুর্ব্যবহার (Maul’d), করলো তামাশা (mock’d),
তারপর লিজ্জি একটিও শব্দ বলল (utter’d) না
তবু লিজ্জি খেলো না এক ফোঁটা
ফাক করলো না ঠোট এক কণা
পাছে মুখের ভেতরে ঠেসে দেয় (mouthful) তারা মুঠোভরা (cram) ফল;
সারামুখে রসের ঘন (syrupp’d) ফোটা (drip)
আর চিবুকের ভাঁজে,
ফোঁটা-হয়ে-জমে-থাকা (lodg’d in dimples),
গলদেশে থকথকে (quaked) দইয়ের মতো কেঁপে-ওঠা (streak’d) রসের দাগ।
অনুভব করে হাসলো সে মনে মনে।
অবশেষে শয়তানগুলো,
প্রতিরোধের মুখে হয়ে গেলো শক্তিহীন।
যে-পথে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো তাকে সে-পথে
মুদ্রাটি সজোরে ছুড়ে মারলে তারা নিজেদের ফলাদিতে মারলো লাথি
সে-পথের কোথাও তারা শেকড়, বিচি বা কোন অঙ্কুরও যায়নি ফেলে (root or stone or shoot)
যন্ত্রণায় কুঁকড়ে মাটিতে পড়েছিলো কয়েকজন
ছোত নদীর ভেতর ঝাপিয়ে (div’d) পড়েছিলো কেউ কেউ
গোল-তরঙ্গ (ring) আর মৃদু হিল্লোল (ripple)তুলে।
কেউ কেউ সরাসরি পালিয়ে (scudded) গেলো ঝড়ো বাতাসে শব্দ না-করে।
দূরে (distance) মিলিয়ে গেলো কেউ কেউ।

বেশ-ব্যথা (ache)-টনটনে (tingle) ভাব নিয়ে
লিজ্জি নিজের পথে গেল চলে;
টের পায়নি তখন দিন না রাত;
লাফিয়ে পেরোলো তীর (Sprang up), গুলোর ঝোপের (furze) ভেতর দিয়ে (tore thro’)
ঝোপ (copse) আর গাছে ঘন গহীন উপত্যকার (dingle) ভেতর দিয়ে (Threaded)
আর শুনতে পেলো তার মুদ্রার সুরেলা ধ্বনি (jingle)
তার টাকার থলের ভেতর লাফালো (Bouncing) খুব মুদ্রাটি
লাফালাফির ধ্বনি গান মনে হলে কানে।
ছুটলো কে আর ছুটেই চললো
ভয় পেলো সে ভেবে কিছু ভূত বুঝি
কুকুরের মতো পিছুপিছু আসছে ছুটে (Dogg’d), বিদ্রুপ আর গালাগাল (gibe or curse)
ঝাড়ছে বুঝি তাকে, বা আরও খারাপ কিছু:
আসলে কোন ভূতই নেয়নি পিছু (scurried),
আর সেও কুঁকড়ে (prick’d) যায়নি ভয়ে;
উদার হৃদয় ঝড়ো বেগে (windy-paced) ছোটার তাড়া (urged) দিলো শুধু
অন্তরের (inward) হাসিতে (laughter) রুদ্ধশাস যেনো
তাড়া-দিলো তাকে দ্রুত বাড়ি পৌছানোর।


সে চেঁচিয়ে বললো, “লরাবাগানে পৌঁছে
তুই কি আমার কথা খুব ভাবছিলি?
আয় কাছে আর চুমোয় ভরিয়ে দে আমাকে
মারের কালসিটে (bruises) দাগ দেখে কষ্ট পাস নে
জড়িয়ে ধর, চুমো দে, লেহন কর গায়ে-লাগা-রস।
তোর জন্য ভূতের ফল চিপেচুপে এসেছি নিয়ে,
ভূতের ফলের রস আর ভূতের ফলের শাঁস।
খা, আমাকে পান কর, ভালবাস
আমার সবকিছু নিয়ে নে, লরা:
তোর জন্যই তো চিপা-উপত্যকায় সাহস করেছি ছুটে-যেতে
তোর জন্যই তো গিয়েছি লড়তে ফল-বেচা ভূতের সাথে।
লরা তার চেয়ার থেকে শুরু করলো।
উর্ধ্বে তুলে ধরলো বাহু তার,
আঁকড়ে ধরলো তার চুল:
লিজ্জি, লিজ্জি, আমার কারণে
তুই কি খেয়েছিস এসব নিষিদ্ধ ফল?
তাহলে সব আলো-যে তোর আমার মতোই নিভে যাবে,
তোর তরুণ-কালটা-যে আমার মতেই অপচয় হয়ে যাবে,
আমার মন্দকর্মে সবকিছু তোর ধ্বংস হয়ে যাবে-যে।
আমার ধ্বংসে তুই- কি ধসে গেলি;
তুইও কি তৃষ্ণাতুরা (canker’d), পাগলি, আর ভূতে ধরা?”
সে তার বোনের গায়ে জড়িয়ে রইলো,
চুমোর পর চুমো খেতে লাগলো;
আর কাঁদতে লাগলো ফের।
ভেজা চোখ তার মুছলো সে,
দীর্ঘ খরার দিন শেষ হলে (sultry drouth)
ফের বৃষ্টির মতো ঝরতে লাগলো;
উদ্বেগ, ভয় আর যন্ত্রণায় কাপতে কাপতে,
ক্ষুধার্ত মুখে দিতে লাগলো সে চুমোর পর চুমো।

জ্বলতে (scorch) লাগলো ঠোট লরার,
রস তার জিভে ঠেকেছিলো বিস্বাদ (wormwood)
তুপ্তির খাবার তার কাছে ঠেকলো বিরক্তিকর (loath’d):
যন্ত্রণায় পাক-খাওয়া (Writhing) লোকের মতো সে লাফালো (leap’d)আর গাইলো খুব,
তার সকল ঢিলেঢালা জামাই গিয়েছে ছিড়ে
আর মোচড়-খেলো তার হাতদুটি অতি-তাড়াহুড়ায় (lamentable haste),
আর তা করছিলো আঘাত তার বুকে।
পুরোদমে-ছুটা কোন লোকের হাতে মশালের মতো
বা ছুটন্ত ঘোড়ার কেশরের মতো
কিংবা কোন ঈগলের মতো যখন সে সরাসরি সূর্যের দিকে
উড়তে উড়তে আলোর বাঁধা পেরোয়
কিংবা বাক্স-মুক্ত হওয়া জিনিসের মতো
কিংবা ধাবমান সেনাবাহিনীর হাতে উড়ন্ত পতাকার মতো
কেশ তার ছুটছিলো একদিকেই।

দ্রুত ছড়ালো আগুন শিরায় শিরায়, হৃদয় মূলে গিয়ে করলো আঘাত,
ধিকিধিকি হদয়-আগুনের উপর হলো সন্নিপাত (smouldering)
আর তার নিকৃষ্টতর শিখাগুলোকে করলো নিপাত (overbore)
নাম-না-জানা তিক্ততায় পেট তার উঠলো গুলিয়ে:
এমন প্রাণ-দগ্ধ-করা (soul-consuming) কাজ
বেছে নেয়া, ওহ কী বোকামি!
যে-কাজের দুশ্চিন্তায় হুশ থাকে না আমরণ:
এক শহরের ওয়াচটাওয়ারের মতো।
একটা ভূমিকম্পই চুরমার (shatters) করে দিতে পারে যাকে,
বজ্রাঘাত লাগা মাস্তুলের মতো,
উড়ে ঘুরে মরে,
উপড়ানো গাছের মতো একটা ঝড়ে,
প্রবল বেগে ছুটে আসা ফেনিল-ঢেউ।
সমুদ্র তীরে সোজা আছড়ে পড়ার মতো,
শেষ পর্যন্ত লিজ্জির গা থেকে খসে-পড়লো সে;
আনন্দ হলো শেষ আর শেষ হলো কষ্টও,
একী মরণ নাকি মৃত্যু হলো?

মৃত্যুর হাতে লড়ছিলো জীবন
সারটা রাত লিজ্জির যত্ন নিলো সে,
লক্ষ্য করলো ধীর-হয়ে-আসা (flagging stir) নাড়ির স্পন্দন,
খেয়াল রাখলো তার শ্বাস-প্রশ্বাস,
পানি ছিটিয়ে ঠোটে, পাতার বাতাসে (fanning leaves) আর
অশ্রুতে (tears) মুখ ধুয়ে তার করলো শীতল:
যখন প্রথম পাখিটি করলো তাদের সন্ধ্যার (eaves) ঘোষণা,
সোনালি শস্যের আঁটি-ভরা জমিনের দিকে
যখন ভোরের শস্য-কাটুরেরা (reapers) এগোলো (plodded) ধীরে,
মনোরম বয়ে-চলা ভোরের বাতাসে
শিশির ভেজা প্রাণবন্ত (brisk) ঘাস যখন নোয়ালো মাথা,
আর নতুন দিনে নতুন কুঁড়ি
স্রোতের উপর পাপড়ি মেললো কাপের আকারে,
তখন লরাও জাগলো যেনো স্বপ্ন থেকে,,
নিস্পাপ পুরোনো দিনের মতোই ফের উঠলো হেসে,
লিজ্জিকে জড়িয়ে ধরলো বুকে, দুই-তিনবার নয় শুধু একবার;
তার ঝলমলে চুলের গোছার (gleaming locks) একটা চুলও ধূসর দেখালো না,
ছিলো প্রশ্বাস তার মে মাসের মাধুর্য-মাখা
আর আলোর নাচে দুচোখ ভরা।

কত দিন সপ্তাহ, মাস, বছর পেরোলো,
অবশেষে দুজনেই গৃহিণী হলো।
হলো শিশুর অধিকারী দুবোন;
আর সুখী জীবনের জন্য উন্মুখ হলো জীবন
তাদের মাতৃ-হৃদয়ে ভয় দেখা (beset with fears) দিলো তখন,
ছোটদের ডেকে জড়ো করতো লরা
সুখের দিনের গল্প বলতো তাদের,
সেসব সুখের দিন অনেক আগে হয়েছে গত,
যে-সময় ফিরবে না (not-returning) আর:
গল্প করতো ভুতুড়ে সে-উপত্যকা নিয়ে,
উদ্ভূত-আকর্ষণীয় (quaint) দুষ্ট ফল-ব্যবসায়ীদের নিয়ে,
বলতো তাদের ফল গুলায় মধুর যদিও,
রক্তে ঠিকই বিষ ঢেলে দেয়;
(কোন শহরেই কেউ এমন ফল বেচে না;)
বলতো তার মঙ্গল চেয়ে কীভাবে তার বোন।
লড়াই করেছিলো ভূতের মৃত্যু-ফাদের (peril) ভেতর,
জয় করেছিলো আগুন-গরম রোগ মুক্তির ওষুধ:
তারপর কচি কচি হাতগুলো জড়ো করে
গড়ে দিতে বাধন খুব দৃঢ়-করে,
কারণ বোনের মতো বন্ধু হয় না কোনো
সঠিক-উপায়ে কাউকে হাসিখুশি রাখতে
কেউ গাড্ডায় (tedious) গেলে তাকে উদ্ধার করতে,
কেউ যদি বিপদে তলায় তাকে টেনে তুলতে,
শান্ত দিনেই হোক বা ঝড়ের দিনেই (totters),
কিছু করার ক্ষেত্রে নিজের শক্তি বাড়াতে।

No comments:

Post a Comment

Blog Archive