Tuesday, July 9, 2019

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 - Scene - 1-2

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 - Scene - 1-2


First Part - Duchess of Malfi Bangla Translation

Previous Part

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 - Scene - 1-2
দি ডাচেস অভ মালফি
পঞ্চম অঙ্ক - প্রথম দৃশ্য - দৃশ্যপট মিলান - জনসমাবেশের স্থান
[অ্যান্টনিওঃ ডেলিওর প্রবেশ]
অ্যান্টনিওঃ  তোমার কি মনে হয়, দুই অ্যারাগনীয় ভ্রাতার সাথে আমার সমঝোতায় পৌছানোর কোন আশা আছে
ডেলিওঃ আমি ব্যাপারে সন্দিহান যদিও তারা তোমাকে নিরাপদে মিলানে প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তবু মনে হয় তোমাকে ফাঁদে ফেলার জন্য জাল পাতা হয়েছে ভূসম্পত্তি সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী মাকুইস অব পেস্কারার কর্তৃত্বাধীন এলাকায় তোমার যে ভূসম্পত্তি ছিল, তিনি তা বাজেয়াপ্ত করেছেন এই মহান ব্যক্তি অনেকটা নিজ ইচ্ছার বিরুদ্ধেই জমিগুলো ক্রোক করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন এখন কার্ডিনালের পোষ্যদের কেউ কেউ অনুরোধ জানাচ্ছে যেন তোমার জমির আয় তারা ভোগ করতে পারে তারা যখন জীবিকা নির্বাহের উপায় থেকে তোমাকে বঞ্চিত রাখতে চাইছেন তখন আমার মনে হয় না তারা তোমার মঙ্গল চান
অ্যান্টনিওঃ অর্থাৎ আমি আপন নিরাপত্তার জন্য যে ব্যবস্থাই গ্রহণ করি না কেন তার সফলতা সম্বন্ধে তোমার সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে
ডেলিওঃ যে মার্কুইস মহোদয় আসছেন তোমার জমি কার হাতে যাচ্ছে জানার জন্যই আমি তার একাংশ বরাদ্দ পাবার জন্য আবেদন করব
অ্যান্টনিওঃ অনুগ্রহ করে তাই কর
[পেস্কারার প্রবেশ]
ডেলিওঃ জনাব, আপনার কাছে একটি আর্জি আছে
পেস্কারাঃ আমার কাছে?
ডেলিওঃ একটা সামান্য আব্দার করছি সেইন্ট বেনেট নামক নগরদুর্গের সাথে কিছু খাসজমি আছে যা সাম্প্রতিক কালেও অ্যান্টনিও বলোগনার অধিকারে ছিল অনুগ্রহ করে ঐ জমিটুকুর স্বত্ব আমায় প্রদান করুন
পেঙ্কারাঃ আপনি আমার মিত্রস্থানীয় ব্যক্তি কিন্তু আপনি এমন একটা জমির জন্য আবেদন করেছেন যা আমার পক্ষে দান করা বা আপনার পক্ষে গ্রহণ করা সঙ্গত হবে না
ডেলিওঃ কেন হবে না, মহোদয়?
পেঙ্কারাঃ কেন এ কথা বলেছি তার পর্যাপ্ত কারণ অচিরেই গোপনে আপনাকে জানাব। ঐ যে কার্ডিনালের প্রণয়িনী আসছে।
[জুলিয়ার প্রবেশ ]
জুলিয়াঃ প্রভু, এই অধম আপনার অনুগ্রহপ্রার্থী। হয়তো আমি একজন উপযুক্ত আবেদনকারী বলে গণ্য হতাম না যদি আমার সাথে এক প্রতাপশালী ব্যক্তির সুপারিশ না থাকত। আপনার অনুগ্রহ লাভের জন্য আমি কার্ডিনাল মহোদয়ের এই পত্র এনেছি।
[সে পেস্কারকে একটি পত্র দিল]
পেঙ্কারাঃ তিনি আপনাকে সেইন্ট বেনেট দুর্গের মালিকানা দান করতে অনুরোধ করেছেন। ঐ সম্পত্তির মালিক অ্যান্টনিও বলোগনা এখন নির্বাসিত।
জুলিয়াঃ হ্যাঁ।
পেস্কারাঃ অন্য কোন বন্ধুর কথা ভেবে পাচ্ছিনা যাকে আমি ঐ জমি দান করে আনন্দ পাব। ঐ ভুখণ্ড এখন আপনার।
জুলিয়াঃ মহাত্মন, আপনাকে ধন্যবাদ। কার্ডিনালকে জানাব যে আমি আপনার নিকট দ্বিগুণ ঋণে ঋণী। আপনি আমাকে উপহার প্রদান করেছেন। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রদান কার্য সম্পন্ন করায় এই দান অধিকতর মহিমান্বিত হয়েছে।[প্রস্থান ]

অ্যান্টনিওঃ (স্বগত) আমার পতনের সাথে সাথে তারা কেমন ভাবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করছে!
ডেলিওঃ স্যার, আমি আপনার উপর একটু ক্ষুব্ধ হয়েছি।
পেস্কারাঃ কেন, বলুন তো?
ডেলিওঃ কারণ আপনি আমাকে যা দিতে অস্বীকার করলেন সেই একই জিনিস ঐ ধরনের একটা মানুষকে দান করলেন।
পেস্কারাঃ আপনি কি ঐ উপহার সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেন? ওটা অ্যান্টনিওর জমি। ওটা আইনানুগভাবে অধিগৃহীত হয়নি। কার্ডিনালের অনুরোধক্রমে তার মুখের গ্রাস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যায়ভাবে জব্দকৃত কোন সম্পত্তি আমার বন্ধুকে প্রদান করাটা শোভন নয়। এহেন বস্তু দান কেবল একজন বেশ্যারই সন্তুষ্টির কারণ হতে পারে যেহেতু সেটা অবিচার। যারা আমার অনুসারী, যাদের আমি বন্ধু মানি, তাদের দেহে আমি কেন নির্দোষীদের রক্ত ছিটাব? তাদেরকে আমার চেয়েও অমার্জিত হিসাবে প্রতিপন্ন করার জন্য? যে জমি মূল মালিকের কাছ থেকে এমন অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সেটা কার্ডিনালের কামনা চরিতার্থের পারিশ্রমিক প্রদানের ন্যায় নোংরা উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ায় আমি খুশী হয়েছি। সুজন ডেলিও, আমার নিকট থেকে চমৎকার জিনিস চাইতে শিখুন। তাহলে দেখতে পাবেন আমি এক মহান দাতায় পরিণত হয়েছি।
ডেলিওঃ আপনি আমাকে একটি ভাল নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যান্টনিওঃ যাক, এই একজন ব্যক্তি আছেন যিনি নির্লজ্জ অনুগ্রহপ্রার্থীদের ঔদ্ধত্য দূর করতে পারবেন।
পেস্কারাঃ যুবরাজ ফার্ডিনান্ড অসুস্থ অবস্থায় মিলানে এসেছেন লোকে বলছে উনি নাকি সন্ন্যাস রোগে ভুগছেন। কিন্তু কারো কারো মতে এ এক ধরনের উন্মত্ততা। আমি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।
(প্রস্থান)
অ্যান্টনিওঃ এই পেস্কারা একজন মহান প্রবীণ ব্যক্তি।
ডেলিওঃ অ্যান্টনিও, তুমি কি কর্মপন্থা গ্রহণ করতে চাও?
অ্যান্টনিওঃ এখন তো আমার এই দীনহীন জীবন ছাড়া আর কোন সম্পদই অবশিষ্ট নেই। আজ রাতে সেই সম্পদের ঝুঁকি নিয়েই আমি কার্ডিনালের চরম প্রতিহিংসার সম্মুখীন হব। গোপনে তার শয়নকক্ষে প্রবেশের উপায় আমার জানা আছে এবং মধ্যরাত্রিতে আমি উনার সাথে সাক্ষাত করতে চাই। এমনভাবেই একদিন তাঁর ভ্রাতা আমাদের মহিয়সী ডাচেসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আমি স্ববেশেই সেখানে যাব। হয়তো অকস্মাৎ বিপদের আশঙ্কায় তিনি ভীত হবেন। তবে যখন দেখবেন আমার অন্তর তার জন্য ভালবাসা ও আনুগত্যে পূর্ণ তখন তাঁর মন থেকে শত্রুতার বিষ দূর হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা একটা সমঝোতায় আসতে পারব। যদি এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় তবু আমি অন্ততঃ এক দুঃসহ ভার থেকে রক্ষা পাব কারণ অবিরত মৃত্যুভয়ে থাকার তুলনায় একবারেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ভাল।
ডেলিওঃ সকল বিপদের সময় আমি তোমায় সমর্থন করব। যে কোন পরিস্থিতিতে আমারঃ তোমার জীবন একসূত্রে গ্রথিত থাকবে।
অ্যান্টনিওঃ অদ্যাবধি তুমিই আমার সেরাঃ প্রিয়তম বন্ধু ।
[প্রস্থান]



দি ডাচেস অভ মালফি
পঞ্চম অঙ্ক
দ্বিতীয় দৃশ্য
দৃশ্যপট ও কার্ডিনালঃ ফার্ডিনান্ডের বাসভবনের একটি গ্যালারী।
[পেস্কারা এবং জনৈক ডাক্তারের প্রবেশ]
পেস্কারাঃ ডাক্তার সাহেব, আমি কি এখন আপনার রুগীর সাথে দেখা করতে পারি?
ডাক্তারঃ প্রভু, সেটা আপনার মর্জি। কিন্তু অবিলম্বেই আমার নির্দেশনা অনুযায়ী বায়ু সেবনের জন্য তিনি এই গ্যালারীতে আসবেন।
পেস্কারাঃ দয়া করে বলুন তো ডিউক কি রোগে ভুগছেন?
ডাক্তারঃ প্রভু এটি একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগের নাম লাইক্যানথ্রপিয়া
পেস্কারাঃ এই শব্দের অর্থ কি? সেটা জানার জন্য তো আমার অভিধানের প্রয়োজন হবে।
ডাক্তারঃ আমি তা আপনাকে বলছি। এই রোগে যারা আক্রান্ত হয় তাদের মাঝে করুণরসের এত প্রাবল্য ঘটে যে তারা কল্পনা করে তারা নেকড়ে বাঘে রূপান্তরিত হয়েছে। গভীর রাতে চুপি চুপি তারা গীর্জা সংলগ্ন কবরস্থানে প্রবেশ করে এবং কবর খুঁড়ে মৃতদেহ বের করে। গত পরশু প্রায় মধ্যরাতে এক ব্যক্তি সেইন্ট মার্ক গীর্জার পিছনের গলিপথ দিয়ে ডিউককে নিজ কাঁধে কোন এক মরা মানুষের পা বয়ে নিয়ে যেতে দেখেছে। তখন তিনি ভয়ঙ্কর গর্জন করে বলছিলেন যে তিনি একটি নেকড়ে, তবে উভয়ের মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে। নেকড়ের চামড়ার বহির্ভাগ লোমশ অপর দিকে তার দেহের ভিতরের দিকটা লোমযুক্ত। তিনি লোকজনকে আহ্বান জানান যেন তারা নিজ নিজ তরবারী দিয়ে তার মাংস চিরে ফেলে এবং তিনি যা বললেন তা যাচাই করে দেখে। তখন আমাকে সরাসরি ডেকে পাঠানো হয়। ডিউক মহোদয়কে সেবা শুশ্রুষা করার পর দেখি তিনি ভালই সেরে উঠলেন।
পেঙ্কারাঃ খবরটা জেনে খুশী হলাম।
ডাক্তারঃ তবুও তার পুনরায় আক্রান্ত হবার ভয় কিছুটা থেকে যাচ্ছে। ডিউকের মাঝে আবার উন্মাদনা দেখা দিলে আমি তাঁর এত ঘনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে চিকিৎসা করব যে সেই ধরনের পদ্ধতির কথা প্যারাসেলসাস স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নি। যদি তারা আমাকে অনুমতি দেন, আমি তার পাগলামিকে চপেটাঘাত করে বের করে দিব। এক পাশে সরে দাঁড়ান। উনি আসছেন।
[ফার্ডিনান্ড, কার্ডিনাল, বসোলাঃ ম্যালাটেস্টির প্রবেশ]
ফার্ডিনান্ডঃ আমার নিকট থেকে চলে যাও।
ম্যালাটেষ্টিঃ মহামান্য প্রভু, কেন আপনি একা থাকতে ভালবাসেন।
ফার্ডিনান্ডঃ ঈগলরা সাধারণত একা একাই উড়ে। ঝাঁক বেঁধে যে সব পাখী উড়ে তারা পাতি কাক, দাঁড় কাক বা স্টার্লিং গোত্রীয়। দেখ তো কে আমায় অনুসরণ করছে?
ম্যালটেস্টিঃ প্রভু, কেউই তা করছে না।
ফার্ডিনান্ডঃ হ্যা, করছে।
ম্যালাটেস্টিঃ সেটাতো কেবল আপনার ছায়া।
ফার্ডিনান্ডঃ ওটাকে থামিয়ে রাখ; ওটা যেন আমায় তাড়া করতে না পারে ।
ম্যালটেষ্টিঃ আপনি যদি নড়া চড়া করেন এবং সূর্য কিরণ দিতে থাকে তবে ওটাকে থামানো সম্ভব নয়।
ফার্ডিনান্ডঃ আমি ওর গলা টিপে মারব। তিনি নিজের ছায়ার উপর ঝাপিয়ে পড়লেন।
ম্যালাটেস্টিঃ আঃ, প্রভু আপনি যার সাথে রাগ করছেন সে আসলে অস্তিত্বহীন।
ফার্ডিনান্ডঃ তুমি একটা বোকা; ছায়ার উপর ঝাপিয়ে না পড়লে কিভাবে আমি ছায়াকে ধরব? সেও কি সম্ভব? ভাবছি নরকে যাওয়ার সময় ঘুষস্বরূপ সঙ্গে কিছু নিয়ে যাব। কারণ, লক্ষ্য করে দেখ, সবচেয়ে খারাপ প্রকৃতির লোকরাও ভাল উপঢৌকন প্রদানের মাধ্যমে সব সময়ই এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরী করে নেয়।
পেস্কারাঃ সুবোধ প্রভু, দয়া করে উঠুন।
ফার্ডিনান্ডঃ আমি এখন ধৈর্য্যধারণের কৌশল শিখছি।
পেস্কারঃ ধৈর্য্য একটা মহৎ গুণ।
ফার্ডিনান্ডঃ আমার সম্মুখের ছয়টি শামুককে এই শহর থেকে তাড়িয়ে মস্কোয় নিয়ে যেতে চেষ্টা করছি। তাদের উপর আমি সুচালো লাঠি বা চাবুক কোনটাই প্রয়োগ করব না; আমি ওদেরকে ওদের স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিব। পৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্য্যশীল ব্যক্তিকে এই ক্ষেত্রে আমার সমকক্ষতা অর্জনের জন্য পরীক্ষা নীরিক্ষা চালাতে দাও। কচ্ছপদের পিছু পিছু আমি রাখালের কুকুরের মতো হামাগুড়ি দিয়ে চলব ।
কার্ডিনালঃ উনাকে জোর করে টেনে তোল।
[তারা ডিউককে উঠাল]
ফার্ডিনান্ডঃ আমার সাথে ভাল ব্যবহার করাটাই হবে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম পন্থা। যা করেছি তার কিছুই আমি স্বীকার করব না।
ডাক্তারঃ এখন আমাকে তার নিকটে আসতে দিন। প্রভু, আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন ? আপনার রাজোচিত প্রজ্ঞা কি লোপ পেল?
ফার্ডিনান্ডঃ এই লোকটি কে?
কার্ডিনালঃ সে তোমার চিকিৎসক।
ফার্ডিনান্ডঃ আমি চাই, তার দাড়ি ছেটে দাও এবং তার ভ্রূগুলো উখার সাহায্যে আরো ভদ্রস্থ রূপ দাও।
ডাক্তারঃ (জনান্তিকে) ডিউকের সাথে আমার অবশ্যই পাগলামি করতে হবে। বর্তমান অবস্থায় এ ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই। (প্রকাশ্যে) প্রভু জ্বলন্ত সূর্যের তাপ থেকে আপনাকে রক্ষা করার জন্য আমি একটি স্যালামান্ডারের চামড়া এনেছি।
ফার্ডিনান্ডঃ আমার চোখে ভীষণ যন্ত্রণা বোধ করছি।
ডাক্তারঃ ককেট্রিক্সের ডিমের শ্বেত অংশ দিয়ে আপনার চোখ এখনি সারানো যেতে পারে।
ফার্ডিনান্ডঃ তোমরা যদি একটি সদ্য পাড়া ডিম যোগাড় করতে পার তো সবচেয়ে ভাল হয়। আমাকে ঐ লোকটির দৃষ্টির আড়ালে রাখ। ডাক্তারদের স্বভাব রাজ-রাজড়াদের মত। তারা কোন প্রকার বিরোধিতা সহ্য করতে পারে না।
ডাক্তারঃ তিনি এখন আমাকে ভয় করতে শুরু করেছেন। এবার আমাকে তার সাথে একা থাকতে দিন।
কার্ডিনালঃ আরে করছেন কি! আপনার গাউন খুলছেন কেন?
ডাক্তারঃ আমাকে গোটা চল্লিশেক গোলাপ জল পূর্ণ পাত্র এনে দিন। উনি আর আমি পরস্পরের দিকে জল ছিটাব। এখন তিনি আমাকে ভয় পেতে শুরু করেছেন। (ফার্ডিনান্ডের প্রতি) জনাব, আপনি কি তিড়িং বিড়িং করে নাচতে পারেন?
ছেড়ে দিন, ডিউকমহোদয়কে আমার হাতে ছেড়ে দিন।
তার দৃষ্টি থেকে বুঝতে পারছি তিনি আমাকে দেখে আতঙ্কিত বোধ করছেন।
ফার্ডিনান্ডঃ আমি তাঁকে ডোমাউসের মত পোষ মানাব ।।
ফার্ডিনান্ডঃ এই যে জনাব, আপনি কি নিজে তিড়িং বিড়িং করে নাচতে পারেন? (অন্যান্যদের প্রতি) আমি তাকে পিষে চূর্ণ করে সুরুয়ায় ডুবাব। আমি তার গা থেকে ছাল ছাড়িয়ে নিব এবং এই দুবৃত্ত নাপিত-ডাক্তারদের হলঘরের শীতল জায়গায় যে কঙ্কালগুলো রেখেছে তাদের একটির দেহ আবৃত করে দিব। এখনি, এখনি এখান থেকে চলে যাও। তোমরা সকলেই বলিদানের জন্য নির্দিষ্ট পশুর মত। তোমরা মুখ ও উদর সর্বস্ব। তোষামোদ ও কাম চরিতার্থ করা ছাড়া অন্য কিছু তোমরা পার না।।
[প্রস্থান]
পেস্কারাঃ ডাক্তার সাহেব, উনি আপনাকে পুরোপুরি ভয় পাচ্ছেন না।
ডাক্তারঃ সে কথা সত্য, আমি একটু বেশী তাড়াহুড়াড়ো করে ফেলেছি।
বসোলাঃ (জনান্তিকে) ঈশ্বর যেন আমাকে ক্ষমা করেন। কি ভয়ঙ্কর এক শাস্তি ফার্ডিনান্ডের উপর নিপতিত হয়েছে!
পেঙ্কারাঃ (কার্ডিনালের প্রতি) সম্মানিত প্রভু, আপনি কি জানেন কোন দুর্ঘটনার ফলে যুবরাজের মাঝে এই অদ্ভুত উন্মত্ততা দেখা দিয়েছে?
কার্ডিনালঃ (জনান্তিকে) আমাকে অবশ্যই কিছু একটা অজুহাত উদ্ভাবন করতে হবে।এর উৎপত্তি সম্বন্ধে লোকে যা বলে তা বলছি। আপনি হয়তো অনেক বছর ধরেই গুঞ্জন শুনে আসছেন যে যখনই আমাদের পরিবারের কারো মৃত্যু হয় তখন এক বৃদ্ধ মহিলার প্রেতাত্মার দর্শন মিলে। পারিবারিক ইতিহাস থেকে আমরা জেনেছি যে মহিলার সম্পত্তি হাতানোর লক্ষ্যে তার ভাগ্নে তাকে খুন করেছিল। এক গভীর রাতে যুবরাজ যখন বই পড়ছিলেন তখন ঐ ধরনের একটি প্রেতাত্মা তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হয়। তিনি সাহায্যের জন্য চীৎকার দেন। তখন তাঁর কক্ষ-তত্ত্বাবধায়ক সেখানে যায়। ও দেখে যে তার সারা শরীর ঘামে ভাসছে। তার মুখের চেহারাঃ বাচন ভঙ্গী বহুলাংশে বদলে গিয়েছে। ঐ প্রেতাত্মাটি দেখার পর থেকেই তাঁর অবস্থার ক্রমাবনতি হচ্ছে। আমার খুবই ভয় হচ্ছে যে তিনি আর বাঁচবেন না।
বসোলাঃ স্যার, আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই।
পেঙ্কারাঃ শ্রদ্ধাভাজনেষু, আমরা বিদায় নিচ্ছি। আমাদের মহান প্রভু অর্থাৎ অসুস্থ যুবরাজের শারিরীক ও মানসিক কুশল কামনা করছি।
কার্ডিনালঃ আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
[পেস্কারা, ম্যালাটেস্টি ও ডাক্তারের প্রস্থান]
(বসোলার প্রতি) তুমি কি এসে পড়েছ? অতএব--- [জনান্তিকে] এই লোকটাকে কোন ভাবেই জানতে দেওয়া যাবে না যে আমাদের ডাচেসের মৃত্যুসংবাদ আমি পেয়েছি। কারণ যদিও ঐ ব্যাপারে আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম তবু আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হোক যে পুরো পরিকল্পনা ফার্ডিনান্ডের মাথা থেকেই উদ্ভূত। [বসোলার প্রতি] এই যে জনাব, এখন বল দেখি আমাদের বোনটি কেমন আছে? আমাকে ভাবতেই হচ্ছে যে দুঃখের আগুনে তার চেহারা মলিন হয়ে বহুবার রঙ-করা বস্ত্রের মত হয়েছে। এখন সে আমার নিকট থেকেই সান্ত্বনার বাণী গ্রহণ করবে। তোমাকে এত উদ্ভ্রান্ত দেখাচ্ছে কেন? বুঝেছি, তোমার প্রভু যুবরাজ ফার্ডিনান্ডের দুর্ভাগ্যে তুমি হতাশ হয়ে পড়েছ। কিন্তু নিজেকে সান্ত্বনা দাও। আমার অনুরোধ অনুযায়ী যদি তুমি আমাকে একটি কাজ করে দাও তাহলে যদি ডিউকের হাড়গুলোর উপর সমাধিফলকও স্থাপিত হয় তবু তুমি যা হতে চাও সেই আকাঙ্খা আমি পূরণ করব ।
বসোলাঃ আমি যে কোন কাজ করতে প্রস্তুত আছি। নিমেষের মাঝে আমাকে দায়িত্ব অর্পণ করুন এবং আমাকে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে দিন । যারা কাজ করার পূর্বে দীর্ঘ সময় ভাবে তারা কেবল ছোট কাজেই সফল হয়; কারণ ফলাফল সম্পর্কে বেশী চিন্তা করলে কাজই শুরু করা যায় না।
[জুলিয়ার প্রবেশ]
জুলিয়াঃ প্রভু আপনি কি রাতের খাবার খেতে আসবেন?
কার্ডিনালঃ আমি ব্যস্ত আছি। তুমি চলে যাও।
জুলিয়াঃ (জনান্তিকে) ঐ লোকটা কি চমৎকার দেহ সৌষ্ঠবের অধিকারী!
কার্ডিনালঃ কাজটা কি হবে তা বলছি। অ্যান্টনিও মিলান নগরীতেই লুকিয়ে আছে। তাকে খুঁজে বের কর এবং হত্যা কর। যতক্ষণ সে জীবিত থাকবে, আমাদের বোন পুনর্বিবাহ করতে পারবে না। আমি তার জন্য একটা চমৎকার সম্বন্ধের কথা ভেবে রেখেছি। এই কাজটি কর এবং তোমার পদোন্নতি সংক্রান্ত আকাঙ্ক্ষা আমায় জানাও।
বসোলাঃ কিন্তু আমি তাঁকে কিভাবে খুঁজে বের করব?
কার্ডিনালঃ স্থানীয় সেনা শিবিরে ডেলিও নামে এক ভদ্রলোক অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন যাবত সে অ্যান্টনিওর বিশ্বস্ত বন্ধু বলে স্বীকৃত। ঐ ব্যক্তিটির উপর নজর রেখো। সে গীর্জায় যাওয়ার সময় তাকে অনুসরণ করো। যদিও অ্যান্টনিও ধর্মকে একটা ছেলেখেলা মনে করে তবুও এমন ঘটনা ঘটতে পারে যে দুনিয়ার ফ্যাশন মোতাবেক সে ডেলিওকে সঙ্গ দিতে পারে। অথবা তুমি সেই ধর্মযাজককে খুঁজে বের করতে পার যার কাছে ডেলিও আপন পাপের স্বীকারোক্তি করে। দেখ, তাকে উৎকোচ দিয়ে কাঙ্খিত তথ্যটি উদঘাটন করতে পার কি না? মানুষ তার সন্ধান পাবার হাজারটা উপায় খুঁজে বের করতে পারে। যেমন, সে খবর নিতে পারে কোন ব্যক্তিরা প্রায়ই বড় অঙ্কের টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য ইহুদিদের কাছে যায় কারণ এটা নিশ্চিত যে সে এখন অভাবে আছে। আবার কেউ চিত্রকরদের কাছে গিয়ে খবর নিতে পারে সাম্প্রতিক কালে কে ডাচেসের ছবি কিনেছে? এই কৌশলগুলোর কোন একটি কার্যকরী হবার সম্ভাবনা আছে।
বসোলাঃ ঠিক আছে, কর্ম সম্পাদনের ব্যাপারে আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। পৃথিবীর অন্য যে কোন দৃশ্য দেখার চেয়ে আমি অ্যান্টনিও নামের ঐ ঘৃণিত ব্যক্তিটির দেখা পেতে বেশী আগ্রহী।
কার্ডিনালঃ যাও, কাজটি করে নিজের সুখী হওয়ার ব্যবস্থা কর।
[প্রস্থান]
বসোলাঃ এই ব্যক্তিটির চোখে রয়েছে ব্যাসিলিক্সের দৃষ্টি। তিনি খুনের প্রতিরূপ ছাড়া অন্য কিছু নয়। তথাপি মনে হয় তিনি এমন ভাব করলেন যেন ডাচেসের মৃত্যু সম্বন্ধে তিনি অবগত নন। এটা হল তাঁর ধূর্ততা। আমাকে অবশ্যই তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে হবে। কাউকে খুঁজে বের করতে হলে বুড়ো শেয়ালের কৌশল অনুকরণ করাই সবচেয়ে নিশ্চিত পন্থা।
[জুলিয়ার পুনঃ প্রবেশ ]
জুলিয়াঃ অতএব, জনাব তোমার সাথে শুভ মোলাকাত হল ।
বসোলাঃ কি বললেন?
জুলিয়াঃ না, দরজাগুলো যথেষ্ট শক্তভাবে বন্ধ করা আছে। জনাব, আমি এখন তোমাকে দিয়েই তোমার বিশ্বাসঘাতকতার কথা স্বীকার করাব।
বসোলাঃ বিশ্বাসঘাতকতার কথা!
জুলিয়াঃ হ্যাঁ, স্বীকার কর তো আমার পানীয়ের মাঝে প্রেম-চূর্ণ মিশিয়ে দেয়ার জন্য কোন পরিচারিকাটিকে তুমি টাকা দিয়েছিলে।
বসোলাঃ প্রেম-চুর্ণ! বলেন কি?
জুলিয়াঃ হ্যাঁ, যখন আমি মালফিতে ছিলাম তখন। তাছাড়া কি কারণেই বা তোমার মত চেহারার একটা লোকের প্রেমে পড়তে যাব? ইতোমধ্যেই তোমার জন্য অনেক কষ্ট সয়েছি। আমার বাসনা নিবৃত্তির মাধ্যমেই কেবল এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব।
[সে বসোলার প্রতি পিস্তল তাক করল।]
বসোলাঃ আমি নিশ্চিত আপনার পিস্তলে সুগন্ধি অথবা নিঃশ্বাস সুবাসিত করার দ্রব্য ছাড়া অন্য কিছু নেই। হে সুন্দরী! আপনি আপনার কামনা এক সুন্দর উপায়ে ব্যক্ত করেছেন।
জুলিয়াঃ  মহিলাদের মাঝের অতিরিক্ত বিনয় হল এক অশুভ আত্মা। যা তাদের তাড়িত করে।
বসোলাঃ আপনি কি আমাকে চেনেন? আমি একজন রূঢ়ভাষী সৈনিক।
জুলিয়াঃ সেটাই তো ভাল। যেখানে রূঢ়তার স্ফুলিঙ্গ নেই সেখানে নিশ্চয়ই প্রেমাগ্নির অভাব আছে।
বসোলাঃ আমি মহিলাদের প্রশংসা করার ভাষা জানিনা।
জুলিয়াঃ যদি তোমার একটি প্রেমময় অন্তর থাকে, তাহলে প্রেম নিবেদনের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তুমি তেমন কোন ভুল করবে না।
বসেলাঃ আপনি খুবই সুন্দর!
জুলিয়াঃ আমি সুন্দরী হওয়ার জন্য যদি তুমি আমায় দায়ী কর তো আমি অবশ্যই অনুনয় করে বলব যে এটা আমার অপরাধ নয়।
বসোলাঃ আপনার উজ্জ্বল চক্ষুযুগলের মাঝে একগুচ্ছ প্রেমের তীর রয়েছে যা সূর্যরশ্মির চেয়েও তীক্ষ্ম।
জুলিয়াঃ তুমি তো দেখি প্রশংসা করে করে আমার বারোটা বাজিয়ে দিবে। যেহেতু আমি তোমার প্রণয় ভিক্ষা করেছি অতএব আমার মন জয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত হও।
বসোলাঃ (জনান্তিকে) আমি পথ পেয়ে গিয়েছি। এই মহিলাটিকে আমি কাজে লাগাব- আসুন আমরা পরস্পরকে আরো গভীরভাবে জানি ও ভালবাসি। মহামতি কার্ডিনাল যদি আমায় এ অবস্থায় দেখেন তবে তিনি কি আমাকে দুবৃত্ত বলে বিবেচনা করবেন না?
জুলিয়াঃ না, তিনি আমাকে নষ্টা মেয়ে ভাবতে পারেন তবে তোমাকে তিনি মোটেই দোষারোপ করবেন না। কারণ আমি যদি একটি হীরকখণ্ড দেখতে পেয়ে তা চুরি করি তবে সে দোষ হীরকের নয়, আমার (যে তা চুরি করেছে)। আমরা যারা বড় ঘরের মহিলা তারা আনন্দ উপভোগের জন্য সব ধরনের ভয়-ভীতি দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলি। সময় নষ্ট না করে আমরা মজা উপভোগ করি এবং একই সাথে আপন কাজের জন্য সুন্দর অজুহাত খুঁজে বের করি। এমন কি তুমি যদি আমার শয়নকক্ষের নীচের রাস্তায় অবস্থায় করতে, সেখানেও আমি তোমার সাথে প্রেম করতাম।
বসোলাঃ আপনি আসলেই এক চমৎকার রমণী।
জুলিয়াঃ তোমার জন্য এখন এমন কিছু আমায় করতে বল যাতে আমি প্রমাণ করতে পারি যে আমি তোমায় ভালবাসি।
বসোলাঃ হ্যা, বলছি। যদি আপনি আমাকে ভালবেসে থাকেন তাহলে কাজটি সম্পন্ন করতে যেন ব্যর্থ না হন। কার্ডিনাল আশ্চর্য রকম বিষন্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁর কাছে এর কারণ জানতে চাইবেন। মনগড়া অজুহাত দিয়ে তিনি যেন আপনাকে বিদায় করতে না পারেন। প্রধান কারণটিই আবিষ্কারের প্রচেষ্টা চালাবেন।
জুলিয়াঃ তুমি এ কথা জানতে চাইছ কেন?
বসোলাঃ আমি তার উপর নির্ভরশীল। আমি শুনেছি যে তিনি সম্রাটের অনুগ্রহ কিছুটা হারিয়েছেন। যদি তাই হয় তাহলে ইঁদুর যেমন পতনোন্মুখ বাড়ী ত্যাগ করে তেমনভাবেই আমিও সরে পড়ব এবং অন্য একজন পৃষ্ঠপোষকের ঠিকানা খুঁজে নিব-
জুলিয়াঃ তোমার যুদ্ধে যাবার কোনই প্রয়োজন নেই। তোমার ভরণ পোষণের ভার আমি নিব।
বসোলাঃ আমি আপনার অনুগত ভৃত্য হয়ে যাব। কিন্তু আমি আমার পেশা ছাড়তে পারব না।
জুলিয়াঃ তুমি কি এক মিষ্টি মহিলার প্রেমের জন্য এক অপ্রিয় সেনানায়ককে ত্যাগ করতে পারবে না? কিছু লোক আছে যারা বালিশ হিসাবে অবশ্যই পাথরের টুকরা ব্যবহার করে এবং পালকের বিছানায় ঘুমাতে পারে না। তুমি দেখছি তাদের মতই।
বসোলাঃ আপনি কি কাজটা করবেন?
জুলিয়াঃ সুকৌশলে করব।
বসোলাঃ আমি তথ্যটি আগামীকাল পাওয়ার আশা করছি।
জুলিয়াঃ আগামীকাল! তুমি আমার দেরাজের ভিতর ঢুকে পড়। তুমি আপনা থেকেই কাঙ্খিত তথ্যটা পেয়ে যাবে। আমি তোমার কাজ সমাধা করতে যেটুকু সময় নেব তুমি আমাকে তার তুলনায় অধিক সময় দেরী করিও না। আমার অবস্থা এক দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত আসামীর মতো যাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি ঐ প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে চাই। যাও, ভিতরে ঢুকে পড়; দেখবে কিভাবে আমার কথামালা দিয়ে তাঁর হৃদয়টা রেশমী সুতার জালে পেঁচিয়ে ফেলি।
[বসোলার প্রস্থান]
[কার্ডিনালের পুনঃপ্রবেশ]
কার্ডিনালঃ তোমরা কোথায়?
[ভৃত্যদের আগমন]
ভৃত্যবৃন্দঃ আমরা এখানে।
কার্ডিনালঃ আমার অজান্তে রাজকুমার ফার্ডিনান্ডের সাথে কথা বলে কেউ আপন জীবন বিপন্ন কর না। (জনান্তিকে) পাগলামি করতে গিয়ে সে হয়তো খুনের কথা প্রকাশ করে দিতে পারে।
[ভৃত্যদের প্রস্থান]
ঐ মহিলা আমার সাথে যক্ষাব্যাধির মতো সেঁটে আছে। তার জ্বালায় আমি অতীষ্ঠ। যে কোন উপায়ে তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে চাই।
জুলিয়াঃ প্রভু, খবর কি? কি সমস্যায় আপনি ভুগছেন?
কার্ডিনালঃ না, কোন সমস্যা নেই।
জুলিয়াঃ হায় প্রভু, আপনি অনেক বদলে গিয়েছেন। আসুন আপনার বুকের গুরুভার মুক্ত করুন। আপনার গোপন তথ্য অবশ্যই আমাকে বলুন। ব্যাপারটা কি?
কার্ডিনালঃ আমি তোমাকে সে কথা নাও বলতে পারি।
জুলিয়াঃ আপনি কি দুঃখকে এতই ভালবেসেছেন যে তার একাংশও ত্যাগ করতে চান না? অথবা আপনি কি ভাবেন যে আপনি খুশী মনে থাকলেই আমি আপনাকে ভালবাসব আর বিষণ্ণমনে থাকলে ভালবাসতে পারব না? কিংবা আপনি কি সন্দেহ করেন যে এত বছর ধরে আমি যেভাবে আপনার অন্তরের কথা গোপন রেখেছি সেই একইভাবে আপনার মুখের কথা গোপন রাখতে পারব না?
কার্ডিনালঃ আমার গোপন কথা সংরক্ষণের একটি মাত্র উপায় আছে। সেটি হল তোমাকে ঐ কথা না বলা। এটুকু শুনেই তোমার কৌতূহল নিবৃত্ত কর।
জুলিয়াঃ যারা চাটুকার বা যারা আপনার কথার প্রতিধ্বনিকারী তাদেরকে এই উপদেশ দিন। কারণ তারা আপনাকে যা বলতে শুনবে সে কথাই প্রতিধ্বনির ন্যায় অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণভাবে পুনরাবৃত্তি করবে। আমাকে এমন কথা বলবেন না কারণ যদি আপনার অন্তরটা খাটি হয় তবে আপনার গোপন কথা আমি অবশ্যই জানতে পারব।
কার্ডিনালঃ তুমি কি আমাকে জ্বালাতেই থাকবে?
জুলিয়াঃ আপনার সুবিবেচনাই আপনার অন্তর থেকে সে কথা বের করে আনবে। গোপন কথা সবাইকে বলা বা কাউকেই না বলা উভয়টিই সমান ভুল।
কার্ডিনালঃ প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করা স্রেফ নির্বুদ্ধিতা।
জুলিয়াঃ কিন্তু দ্বিতীয় পদক্ষেপটি স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচায়ক।
কার্ডিনালঃ বেশ, ভাল কথা; কেন, কল্পনা করে নাও না যে আমি এমন কোন গোপন কাজ করেছি যার কথা, আমি চাই না, পৃথিবীর কেউ কখনো শুনতে পাক।
জুলিয়াঃ এই কারণেই কি আমিও তা জানতে পারব না? আমার খাতিরে আপনি ব্যাভিচারের মতো একটি মহাপাপ গোপন করে গিয়েছেন। প্রভু, আজকের মত আর কখনো আমার বিশ্বস্ততার যথাযথ পরীক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত অবকাশ পাইনি। প্রভু, আমি আপনার কাছে মিনতি করছি যে-
কার্ডিনালঃ সেজন্য পরে তোমাকে অনুতাপ করতে হবে।
জুলিয়াঃ কখনই না।।
কার্ডিনালঃ এতে তোমার পতন তরান্বিত হবে তাই আমি তোমাকে ঐ কথা বলব না। আমার সদুপদেশ গ্রহণ কর এবং ভেবে দেখ একজন রাজপুরুষের গোপন তথ্য জানার বিপদটা কি? তা ধারণ করার জন্য বক্ষপিঞ্জরকে ইচ্ছামত কঠিন করে বাঁধতে হয়। আমার অনুরোধ এটুকু জেনেই সন্তুষ্ট থাক। নিজ দোষ-ত্রুটিগুলি পরখ করে দেখ। গিট খোলার চেয়ে গিট দেওয়া অনেক সোজা। এ এমন এক গোপন তথ্য যা দৈবাৎ তোমার শিরা-উপশিরায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে বিষের মত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আজ থেকে সাত বছর পরেও তোমার মৃত্যু ঘটাতে পারে।
জুলিয়াঃ আপনি তো এখন আমাকে নিয়ে খেলছেন।
কার্ডিনালঃ না, আর খেলা নয়। তুমি কথাটা জানতে পারবে। আমার নির্দেশক্রমে মালফির মহিয়সী ডাচেস ও তার দুই মাসুম বাচ্চাকে চার রাত আগে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
জুলিয়াঃ হায়, ঈশ্বর! প্রভু এ আপনি কি করেছেন?
কার্ডিনালঃ এখন কেমন লাগছে? এতে তোমার প্রতিক্রিয়া কি? তুমি কি মনে কর এ ধরনের একটি গোপন কথা ধারণ করে রাখার উপযোগী, কবরের ন্যায় তমসাচ্ছন্ন ও অগম্য একটি অন্তর তোমার আছে।
জুলিয়াঃ প্রভু, আপনি নিজেকে ডুবিয়েছেন।
কার্ডিনালঃ কেন?
জুলিয়াঃ এ কথা গোপন রাখার সাধ্য আমার নেই।
কার্ডিনালঃ সাধ্য নেই? তবে এসো, আমি তোমাকে এই গ্রন্থ ছুঁইয়ে সে ব্যাপারে শপথ করাব।
জুলিয়াঃ আমি অতি ধর্মভীরু মন নিয়েই তা করব ।
কার্ডিনালঃ বইটি চুম্বন কর। [সে বইতে চুম্বন করল] ঐ গোপন কথা তুমি আর কোনদিন উচ্চারণ করতে পারবে না। তোমার কৌতূহলই তোমাকে শেষ করে দিল। ঐ বইটির সাহায্যে তোমায় বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। কারণ আমি জেনেছিলাম যে আমার কথা তুমি গোপন রাখতে পারবে না। তাই তোমাকে হত্যার মাধ্যমে সে কথা নিজের মনেই চেপে রাখতে তোমায় বাধ্য করলাম ।
[বসোলার পুনঃ প্রবেশ]
বসোলাঃ দোহাই, করুণা করে একটু থামুন ।
কার্ডিনালঃ আরে, বসোলা তুমি?
জুলিয়াঃ আমার যথাযথ বিচার করায় আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম। কারণ আমি আপনার গোপন কথা ঐ লোকটির কাছে ফাঁস করে ফেলেছি। সে আড়ি পেতে আমাদের কথা শুনেছে। এ কারণেই আমি বলেছিলাম যে ঐ তথ্য গোপন রাখার সাধ্য আমার নেই।
বসোলাঃ হায়, নির্বোধ মহিলা, আপনি কেন উনাকে বিষ খাইয়ে মারতে পারলেন না?
জুলিয়াঃ কি করা উচিত ছিল বা ছিল না তা নিয়ে বেশী চিন্তা করাটা দুর্বলতারই নামান্তর। জানি আমি কোন জগতে চলে যাচ্ছি।
(মৃত্যু)
কার্ডিনালঃ তুমি এখানে এলে কেন?
বসোলাঃ এই উদ্দেশ্যে যে আমি আপনার মতো একজন মহান লোকের সাথে সাক্ষাত করতে পারব যিনি লর্ড ফার্ডিনান্ডের মত পাগল হয়ে যাননি এবং আপনাকে আমার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিব।
কার্ডিনালঃ আমি তোমাকে কুচি কুচি করে কাটব।
বসোলাঃ যার জীবনের ব্যাপরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার আপনার নেই তার জীবন সম্বন্ধে কোন কিছু করার কথা ঘোষণা করবেন না।
কার্ডিনালঃ তোমাকে ঐখানে কে জায়গা দিয়েছিল?
বসোলঃ জুলিয়া, কারণ সে তার যৌনকামনা মিটাতে চেয়েছিল।
কার্ডিনালঃ খুবই ভাল কথা। তুমি এখন জেনে গেলে যে আমিও তোমার মতই একজন খুনী।
বসোলাঃ কেন আপনি আপনার কুমতলবগুলো এমন সুন্দর রঙ চড়িয়ে আমার কাছে উপস্থাপন করছেন? যারা বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করার পরিকল্পনা আঁটে তাদের যদি আপনি অনুকরণ না করেন এবং কাজটি হয়ে যায়, তাহলে তারা সেইসব ব্যক্তির কবরে লুকায় যারা ঐ ষড়যন্ত্রে কেবল অভিনেতার ভূমিকায় ছিল।
কার্ডিনালঃ আর কথা বলো না। তোমার জন্য সৌভাগ্যসূচক একটা কিছু অপেক্ষা করছে।
বসোলাঃ আমি কি আবার ভাগ্যদেবীর অনুগ্রহপ্রার্থী হব? সেটা হবে বোকার তীর্থযাত্রা করার মতই নিষ্ফলা ব্যাপার।
কার্ডিনালঃ তোমাকে আমি অনেক সম্মান দেবার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছি।
বসোলাঃ অন্তঃসারশূন্য সম্মান লাভের অনেক পন্থা আছে। তার মাঝে কতকগুলো পন্থা খুবই নোংরা।
কার্ডিনালঃ তোমার ঐ নিরানন্দ ভাবটা শয়তানের হাতে ছুঁড়ে দাও। আগুন ভালভাবেই জ্বলছে সেক্ষেত্রে সেটাকে নাড়িয়ে দিয়ে বড় ধূম্রজাল সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন আমাদের আছে কি? তুমি কি অ্যান্টনিওকে হত্যা করবে?
বসোলাঃ হ্যা।
কার্ডিনালঃ ঐ মৃতদেহটি উঠিয়ে নাও।
বসোলাঃ আমার মনে হয় অচিরেই আমি গোরস্থানের এক সাধারণ লাশ বাহকে পরিণত হব।
কার্ডিনালঃ খুনের ব্যাপারে সহায়তা করার জন্য আমি তোমাকে কয়েক ডজন সহকারী প্রদান করব।
বসোলাঃ না তার কোন প্রয়োজন নেই। যে ডাক্তাররা ঘোড়ার গায়ের ফুলে উঠা ও দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে জোক লাগিয়ে দেয়, তারাই ঘোড়ার লেজ কেটে দেয় যাতে দূষিত রক্ত ঐ পথে দ্রুত বেরিয়ে যায়। রক্তপাত করার কাজে কোন সঙ্গীর প্রয়োজন আমার নেই কারণ তা করলে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলতে যাওয়ার সময় অনেকেই আমার সঙ্গী হয়ে যাবে।
কার্ডিনালঃ মধ্যরাত্রির পর আমার কাছে এসো। জুলিয়ার মৃতদেহটি তার আপন নিবাসে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করো। আমি রটিয়ে দিব যে প্লেগরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। এই পদক্ষেপ নিলে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খুব একটা অনুসন্ধান চলবে না।
বসোলাঃ তাঁর স্বামী ক্যাস্ট্রুসিও কোথায়?
কার্ডিনালঃ সে অশ্বপৃষ্ঠে নেপলস গমন করেছে। অ্যান্টনিওর দুর্গের মালিকানা গ্রহণ করাটাই তার উদ্দেশ্য।
বসোলাঃ বিশ্বাস করুন, আপনি খুবই ভাল একটা কাজ করেছেন।
কার্ডিনালঃ কোনভাবেই এখানে আসতে ব্যর্থ হয়োনা। এই চাবি দিয়ে আমাদের বাসভবনের সব তালা খোলা যায়। চাবিটি নাও। এবারে তুমি হয়তো অনুভব করতে পারবে যে আমি তোমার উপর কতখানি বিশ্বাস স্থাপন করেছি।

বসোলাঃ আপনি আমাকে প্রস্তুত অবস্থায়ই পাবেন। [কার্ডিনালের প্রস্থান] হায় বেচারা অ্যান্টনিও! এই মুহূর্তে অনুকম্পা ছাড়া অন্য কিছুর প্রয়োজন তোমার তেমন নেই তবুও আমি দেখতে পাচ্ছি সেটা পাওয়াই হবে তোমার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। নিজের পায়ের তলে মাটি আছে কিনা তা আমাকে অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। এ ধরনের পিছল বরফাবৃত পথে চলতে গেলে কাঁটাযুক্ত জুতার প্রয়োজন অন্যথায় ঘাড় ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে। তার নজির এখানে আমার সামনেই রয়েছে। এই লোকটা এত রক্তপাতের দৃশ্য সহ্য করে কি করে? মনে হয় লোকটি অকুতোভয়। নিরাপত্তাকে কিছু লোক নরকের উপশহর বলে থাকে কারণ দুটির মাঝে কেবল একটি দেয়ালের ব্যবধান রয়েছে। সুজন অ্যান্টনিও, আমি তোমাকে খুঁজে বের করব এবং আমার সমস্ত যত্ন ব্যয়িত হবে তোমাকে হিংস্র হায়েনাদের নাগাল থেকে নিরাপদ অবস্থানে রাখার জন্য। এই ভক্ষকের দল ইতোমধ্যেই তোমার রক্তের স্বাদ কিছুটা পেয়েছে। এমন হতে পারে যথোপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার সময় আমি তোমার সাথে যোগ দিতে পারি। ন্যায়ের তরবারি চালনার সময় দুর্বল হাতও যথেষ্ট সবল হয়ে উঠে। আমার এখনও মনে হয় ডাচেস প্রায়ই আবির্ভূত হচ্ছেন; ঐ যে, ঐ যে। তিনি-না, এ আমার বিষন্নতার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নয়। -হে অনুশোচনা, তোমার পানপাত্র মানুষকে অবনমিত করে শুধুই তাকে মহীয়ান করে তোলার জন্য। আমি যেন ঐ পানপাত্র যথার্থভাবে আস্বাদন করতে পারি।
The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 -Scene - 3-4-5


পঞ্চম অঙ্কঃ দ্বিতীয় দৃশ্য
১. লাইক্যানথ্রপিয়াঃ এই রোগে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে নেকড়ে অথবা অন্য কোন বন্য জন্তু হিসাবে কল্পনা করে।।
২. প্যারাসেলসাস (১৪৯৩-১৫৪১)এক বিখ্যাত সুইস দার্শনিক এবং চিকিৎসক। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নের চেষ্টা করেন। তিনি স্বল্পকালের জন্য আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন কিন্তু জীবনের শেষ ভাগটা প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে কাটাতে বাধ্য হন। কেউ কেউ তাকে আধুনিক রসায়নবিদ্যার সূচনাকারী বলে থাকেন।
৩. ককেট্রিক্সঃ রূপকথায় উল্লেখিত এক প্রকার সরীসৃপ।
৪. অতীতকালে নাপিতরা শল্য চিকিৎসার কাজও করত । তাই তাদের Barber-Surgeon বলা হত। লণ্ডনের মঙ্কওয়েল স্ট্রীটে তাদের একটি মিলনকেন্দ্র ছিল যার নাম Barber Chirurgeon's Hall.

No comments:

Post a Comment

Trending