Tuesday, July 9, 2019

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 -Scene - 3-4-5



The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 -Scene - 3-4-5
Previous Part : 
The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 5 -Scene - 3-4-5
দি ডাচেস অভ মালফি - পঞ্চম অঙ্ক - তৃতীয় দৃশ্য
দৃশ্যপট ও একটি দুর্গসংলগ্ন এলাকা।
[অ্যান্টনিও এবং ডেলিওর আগমন]
ডেলিওঃ ঐ যে কার্ডিনালের ঘরের জানালা দেখা যায়। এই দুর্গটি এক প্রাচীন ধর্মাশ্রমের ধ্বংসাবশেষের উপর নির্মিত হয়েছে। নদীর ঐ ধারটায় একটা দেয়াল রয়েছে যা একটি ক্লইস্টারের অংশবিশেষ। আমার ধারণা ঐ দেয়ালটি এত সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করে যেমনটি তুমি কখনই শোননি। এ প্রতিধ্বনি এত ফাঁকা এবং এত দুঃখময় অথচ আমাদের কথার এত স্পষ্ট পুনরাবৃত্তি ঘটায় যে অনেকে মনে করে ওখানে কোন আত্মা আছে যা কথার উত্তর দেয়।
অ্যান্টনিওঃ আমি এই প্রাচীন ধ্বংসস্তুপগুলো ভালবাসি। কখনও ওগুলোর উপর দিয়ে হাঁটার সাথে সাথে আমরা কোন পবিত্র ঐতিহাসিক নিদর্শনের উপর পা রাখি। বর্তমানে ঝড়ো হাওয়ার আক্রমণের মুখে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই মুক্ত প্রাঙ্গণে যে কিছু ব্যক্তির সমাধি রয়েছে তা প্রশ্নাতীত। এরা উপাসনালয়টিকে বড় ভালবেসে ছিল এবং এতে বড় অঙ্কের টাকা দান করেছিল। তারা ভেবেছিল যে মৃত্যুর পর তাদের হাড়গুলো অনন্তকাল এর ভবন দ্বারা আচ্ছাদিত থাকবে। কিন্তু সব জিনিসেরই ধ্বংস অনিবার্য। মানুষের মত উপাসনালয় ও নগরীগুলোও ব্যাধির শিকার হয় এবং অবশ্যম্ভাবী ভাবেই আমাদের মত মৃত্যুবরণ করে।।
প্রতিধ্বনিঃ আমাদের মত মৃত্যুবরণ করে।
ডেলিওঃ এবার তুমি প্রতিধ্বনির পাল্লায় পড়েছ।
অ্যান্টনিওঃ মনে হচ্ছে সে যেন বিলাপ করছে। তার উচ্চারণভঙ্গী মৃত্যুসদৃশ ।
প্রতিধ্বনিঃ উচ্চারণভঙ্গী মৃত্যুসদৃশ।
ডেলিওঃ তোমাকে তো বলেছি যে এখানের প্রতিধ্বনি উন্নতমানের। তুমি একে দিয়ে শিকারীর, বাজপাখীর প্রশিক্ষকের অথবা সঙ্গীত শিল্পীর মতো কথা বলাতে পারবে এমন কি দুঃখভারাক্রান্ত মানুষেরও।
প্রতিধ্বনিঃ দুঃখভারাক্রান্ত মানুষেরও।
অ্যান্টনিওঃ হ্যাঁ, দুঃখের ভাবের সাথেই এটা সবচেয়ে মানানসই।
প্রতিধ্বনিঃ সবচেয়ে মানানসই।

অ্যান্টনিওঃ প্রতিধ্বনিটা অনেকটা আমার স্ত্রীর কণ্ঠস্বরের ন্যায়।
প্রতিধ্বনিঃ হ্যাঁ, স্ত্রীর কণ্ঠস্বরের ন্যায় ।
ডেলিওঃ চল আমরা এই স্থান থেকে দূরে সরে যাই। আমি চাই না আজ রাতে তুমি। কার্ডিনালের বাসায় যাও। তুমি যেও না ।
প্রতিধ্বনিঃ যেও না।
ডেলিওঃ যে দুঃখ মানুষকে কুরে কুরে খায় প্রাজ্ঞতার তুলনায় মহাকালই ঐ দুঃখের ভার অধিকতর হ্রাস করতে পারে। কিছু সময় নিয়ে কাজটা কর। নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হও।
প্রতিধ্বনিঃ নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হও।
অ্যান্টনিওঃ পরিস্থিতিই আমাকে (ওখানে যেতে) বাধ্য করছে। নিজের জীবনের ঘটনাপ্রবাহগুলো নীরিক্ষা করে দেখ। তোমার কাছে যে কাজটি অসম্ভব মনে হবে তা হল ভাগ্যের হাত থেকে পলায়ন।
প্রতিধ্বনিঃ এই ভাগ্যের হাত থেকে পালাও।
ডেলিওঃ এই শুনছ। মনে হচ্ছে প্রাণহীন পাথরগুলোও তোমার প্রতি করুণা বোধ করে এবং তোমায় সদুপদেশ দেয়।
অ্যান্টনিওঃ প্রতিধ্বনি আমি তোমার সাথে কথা বলব না কারণ তুমি একটা প্রাণহীন বস্তু।
প্রতিধ্বনিঃ তুমি একটা প্রাণহীন বস্তু।
অ্যান্টনিওঃ আশা করি আমার ডাচেস ও তার সন্তানেরা এখন ঘুমে আচ্ছন্ন। হে ঈশ্বর, আমি কি আর কখনো তাকে দেখতে পাব না।
প্রতিধ্বনিঃ আর কখনো তাকে দেখতে পাবে না।
অ্যান্টনিওঃ এই শেষ কথাগুলো ছাড়া অন্য যে সব কথার পুনরাবৃত্তি প্রতিধ্বনি করেছিল আমি তা লক্ষ্য করিনি। অকস্মাৎ এক স্পষ্ট আলোর মধ্যে একটি দুঃখভারাক্রান্ত মুখ আমার সামনে ভেসে উঠল।
ডেলিওঃ এটা শুধুই তোমার কল্পনা।
অ্যান্টনিওঃ এসো, আমি এই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে চাই। কারণ এইভাবে বেঁচে থাকাটা বেঁচে না থাকার শামিল। এটাকে বলা যায় জীবনের প্রহসন অথবা জীবনের অপব্যবহার। অতঃপর এই অপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য আর আত্মরক্ষা করব না। হয় আমি সব কিছুই হারাব নয়তো কিছুই খোয়াব না।
ডেলিওঃ তোমার সদগুণাবলীই তোমায় রক্ষা করবে। আমি গিয়ে তোমার বড় ছেলেকে নিয়ে আসব এবং তোমাকে সহায়তা করব। এমনও হতে পারে যে অত সুন্দর একটি বালকের ধমনীতে আপন রক্তের ধারা প্রবাহিত হতে দেখে কার্ডিনালের মনে অধিক করুণা জাগ্রত হবে। যাই হোক না কেন তোমায় বিদায় জানাচ্ছি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশার পিছনে ভাগ্যের একটা ভূমিকা থাকলেও যে প্রশস্ত গাম্ভীর্যের সাথে আমরা কষ্ট ভোগ করি তাতে ভাগ্যের কোন হাত নেই। দুঃখ ও যন্ত্রণার প্রতি আমাদের যে ঘৃণাবোধ আছে সেটাকে আমাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যই বলা যায় ।
[প্রস্থান]
পঞ্চম অঙ্ক - চতুর্থ দৃশ্য - দৃশ্যপটঃ কার্ডিনাল ও ফার্ডিনান্ডের বাসভবনের একটি কক্ষ ।
[কার্ডিনাল, পেস্কারা, ম্যালাটেস্টি, রডেরিগো এবং গ্রিসোলানের প্রবেশ।]
কার্ডিনালঃ আজ রাতে অসুস্থ যুবরাজের শয্যাপার্শ্বে আপনাদের জাগ্রত থাকতে হবে না। যুবরাজ বেশ ভালই সেরে উঠেছেন।
ম্যালাটেস্টিঃ হে মহান প্রভু, আমাদের কষ্ট করতে দিন।
কার্ডিনালঃ না, না, তার কোন প্রয়োজন নেই। কোলাহল হতে থাকলে এবং তার চোখের সামনে লোকজন অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকলে তিনি বিহবল হয়ে পড়বেন। অনুরোধ করছি আপনারা সবাই ঘুমাতে যান। যদি শুনতে পান যে তিনি প্রচণ্ড পাগলামি করছেন তবুও উঠবেন না। আপনাদের কাছে এ আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ।
পেস্কারাঃ ঠিক আছে, জনাব। আমরা ঐ কাজটি করব না।
কার্ডিনালঃ শুধু তাই নয়। আপন আপন সম্মান রক্ষার জন্য আপনারা আমায় ঐ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিবেন। কারণ ডিউক নিজেই আমায় এ ধরনের নির্দেশ দান করেছেন। তখন মনে হয়েছিল উনি বুঝে শুনেই এ প্রস্তাব দিচ্ছেন।
পেস্কারাঃ আমাদের সম্মানের দোহাই দিয়েই বলছি যে এই তুচ্ছ শর্ত আমরা মানব।
কার্ডিনালঃ আপনাদের অনুচররাও যেন কেউ ঐ শর্ত ভঙ্গ না করে।
ম্যালাটেষ্টিঃ কেউ তা করবে না।
কার্ডিনালঃ এমনও হতে পারে যে আপনাদের প্রতিশ্রুতির সত্যতা যাচাই করার জন্য যখন তিনি ঘুমিয়ে থাকবেন, আমি নিজেই জেগে উঠব এবং তাঁকে অনুকরণ করে কয়েক ধরনের পাগলামি করব অথবা বিপদে পড়েছি এমন ভান করে চীকার করে সাহায্য চাইব।
ম্যালাটেষ্টিঃ এবারে আমি শপথ করে বলছি যে যদি আপনার গলাও কাটা হতে থাকে তবু আমি আপনার নিকট আসব না।
কার্ডিনালঃ আহা, তা কেন! আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
[তিনি কক্ষের উপরের কোনা দিয়ে চলে গেলেন।]
গ্রিসোলানঃ আজ রাতে এক জঘন্য ঝড় বইছে।
রডেরিগোঃ লর্ড ফার্ডিনান্ডের খাস কামরাটা ওজিয়ার বৃক্ষের মত নড়ছে।
ম্যালাটেস্টিঃ ও আর কিছুই নয় সত্য সত্যই প্রকৃত দয়াপরবশ হয়ে আপন সন্তানকে দোলা দিচ্ছে।
[কার্ডিনাল ছাড়া বাকী সকলের প্রস্থান]
কার্ডিনালঃ আমি এই লোকগুলোকে আমার ভ্রাতার কাছে আসতে দিতে চাই না কারণ মধ্যরাতে আমি অধিকতর গোপনীয়তার সাথে জুলিয়ার লাশটি তার নিজ বাসভবনে পাঠাতে চাই। হে, আমার বিবেক, আমি এখন প্রার্থনা করতে ইচ্ছুক; কিন্তু শয়তান আমার হৃদয়টা হরণ করেছে। ফলে প্রার্থনার প্রতি আমি বিশ্বাস হারিয়েছি। ঐ সময়ে এসে মৃতদেহটি নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি বসোলাকে নিযুক্ত করেছি। আমার এই আদেশ পালন করার পর, তারও মৃত্যু ঘটবে।
[নিষ্ক্রমণ]
[বসোলার প্রবেশ]
বসোলাঃ আরে! এতো কার্ডিনালের কণ্ঠস্বর। তাঁকে আমার নাম এবং আমার মৃত্যুর কথা উচ্চারণ করতে শুনলাম। শুনুন, আমি কার যেন পায়ের শব্দ পাচ্ছি।
[ফার্ডিনান্ডের প্রবেশ]
ফার্ডিনান্ডঃ শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রক্রিয়াটা বড়ই নিঃশব্দ প্রকৃতির।
বসোলাঃ (জনান্তিকে) আর নয়, এখন দেখছি আমাকে অবশ্যই নিজের নিরাপত্তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফার্ডিনান্ডঃ এ সম্বন্ধে তোমার বক্তব্য কি? ফিস ফিস করে বল। তুমি কি এ ব্যাপারে একমত?, তাই। কাজটা অবশ্যই অন্ধকারে করা উচিত। কার্ডিনালকে হাজার পাউণ্ড দিলেও সে চাবে না যে ডাক্তার ঘটনাটা দেখুক।
[নির্গমন]
বসোলাঃ আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। খুন করার এই হল প্রতিফল। যখন আমাদের জানা থাকে যে হত্যার মাধ্যমেই কুকর্ম ঢাকা যায় তখন আমরা মেধার মূল্য দিই না ধর্মমতেরও দাম দিই না।
[অ্যান্টনিও এবং জনৈক ভূত্যের প্রবেশ]
ভৃত্যঃ প্রভু, দয়া করে এখানে দাঁড়ান, আত্মবিশ্বাসী হন। আমি আপনার জন্য একটি কালো লণ্ঠন এনে দিচ্ছি।
[প্রস্থান]
অ্যান্টনিওঃ কার্ডিনাল যখন প্রার্থনা করবেন তখন যদি তার সাথে সাক্ষাত করতে পারি তাহলে হয়তো ক্ষমালাভের আশা করতে পারব।
বসোলাঃ তরবারি, তুই সঠিক স্থানে আঘাত হান। আমি আপনাকে প্রার্থনা করার পর্যাপ্ত অবকাশ দিব না।
[সে অ্যান্টনিওকে ছুরিকাঘাত করল]
আন্টনিওঃ হায়, আমার জীবন ফুরিয়ে গেল । দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত বিষয় তুমি এক মিনিটেই সমাধা করে দিলে।
বসোলাঃ কে আপনি?
অ্যান্টনিওঃ আমি এক হতভাগ্য ব্যক্তি যে কেবল মৃত্যুকালে তোমার কাছ থেকে উপকার পেল। এখন আমাকে আর ছদ্মবেশ ধারণ করতে হবে না।
[একটি লণ্ঠনসহ ভৃত্যের পুনঃ প্রবেশ]
ভৃত্যঃ প্রভু, আপনি কোথায়?
আন্টনিওঃ আমি আমার গন্তব্যস্থলের সন্নিকটে পৌঁছে গিয়েছি। তুমি কি বলো?
ভৃত্যঃ হায়, কি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা !
বসোলাঃ (ভূত্যের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ থেকে বিরত থাক নয়তো তোমাকেও মরতে হবে। (অ্যান্টনিওর প্রতি) অ্যান্টনিও, আপনি সেই ব্যক্তি যাকে আমি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। আমরা যেনো গ্রহদের খেলার টেনিস বল। তারা আমাদের যেদিকে খুশী ধাক্কায় ও নিক্ষেপ করে। হে সুজন অ্যান্টনিও, আপনার মৃত্যুর প্রাক্কালে আপনার কানে ফিসফিসিয়ে একটি সংবাদ দিতে চাই। খবরটি আপনার হৃদয় দ্রুত বিদীর্ণ করে দিবে। আপনার সুন্দরী ডাচেস এবং দুটো মিষ্টি বাচ্চাকে
অ্যান্টনিওঃ তাদের নাম শুনেই আমার মাঝে একটু জীবনের স্পন্দন জাগছে।
বসোলাঃ -হত্যা করা হয়েছে ।।
অ্যান্টনিওঃ কিছু কিছু লোক দুঃখের খবর শুনলে মরে যেতে চায়। আমি এই ভেবে খুশি যে আমি সত্যই দুঃখভারাক্রান্ত অবস্থায় মরছি। আমার ক্ষতগুলোয় প্রলেপ লাগানো হোক অথবা সেগুলো সারিয়ে তোলা হোক এমন ধরনের ইচ্ছা এখন আর আমার নেই। কারণ আমার জীবন ধারণের কোন প্রয়োজনীয়তা আর নেই। ভাল কিছুর অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুষ্ট ছেলেদের মতই ক্রীড়াচ্ছলে আমরা কেবল বাতাসে ভেসে বেড়ানো বুদ্বুদের পিছু ধাওয়া করি। আসলে জীবনে আনন্দ শব্দটি কি অর্থ বহন করে? তীব্র জ্বরে কষ্ট পাওয়ার সময়ে আকস্মিক ক্ষণিক আরাম বোধ করা না বিড়ম্বনা সহ্য করার জন্য পূর্ব প্রস্তুতিমূলক বিশ্রাম? আমাকে যে ভাবে হত্যা করা হল তা নিয়ে কোন প্রশ্ন করতে চাই না। শুধু ডেলিওকে আমার কথা বলো।
বসোলাঃ আঃ আমার হৃদয়, বিদীর্ণ হও।
অ্যান্টনিওঃ আমার ছেলে যেন এই রাজদরবার থেকে পালিয়ে যেতে পারে।
[মৃত্যু]
বসোলাঃ মনে হয় তুমি অ্যান্টনিওকে ভালবাসতে।
ভৃত্যঃ কার্ডিনালের সাথে তিনি যাতে একটা সমঝোতায় পৌছাতে পারেন সেজন্য আমিই তাকে এখানে নিয়ে এসেছিলাম।
বসোলাঃ আমি তোমাকে সে কথা জিজ্ঞাসা করিনি। যদি জীবনের মায়া থেকে থাকে তবে তাঁর দেহটা তুলে নাও এবং লেডি জুলিয়া যে প্রকোষ্ঠে বাস করতেন সেখানে নিয়ে চল।। আমার ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘুরছে। এই কার্ডিনালকে আমি ইতোমধ্যেই কামারশালায় ঢুকিয়েছি। এবার আমি তাঁকে হাতুড়ির নীচে আনব। হায়, কি ভয়াবহ ভুলই না করেছি! আমি গৌরবজনক বা ঘৃণ্য কোন দৃষ্টান্তই আর অনুকরণ করব না। নিজের বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী পথ চলব। (ভৃত্যের প্রতি) এগিয়ে চল, এগিয়ে চল এবং যে লাশ তুমি বহন করছ তার মতই নীরব থাকার চেষ্টা কর।
[নির্গমন]
পঞ্চম অঙ্ক - পঞ্চম দৃশ্য - দৃশ্যপটঃ একই প্রাসাদের অপর একটি কক্ষ।
[- একটি বই হাতে কার্ডিনালের প্রবেশ]
কার্ডিনালঃ নরকসংক্রান্ত একটি প্রশ্ন নিয়ে আমার মনে বিভ্রান্তি জাগছে। এই বইতে বলা হয়েছে নরকে নাকি এক প্রকার পার্থিব আগুন আছে কিন্তু তা সকল মানুষকে সম পরিমাণ দগ্ধ করে না। বইটি এক পাশে সরিয়ে রাখা যাক। অপরাধবোধ জিনিসটা কতই না ক্লান্তিকর। যখন নিজের বাগানের মাছভরা পুকুরগুলোর দিকে তাকাই, আমার মনে হয় কি একটা জিনিস যেন দেখতে পাচ্ছি। সেটা যেন আঁকশি হাতে আমায় আঘাত করতে চাইছে। [বসোলার আগমন। একই সাথে অ্যান্টনিওর লাশ বহনকারী ভৃত্যের প্রবেশ] তুমি কি এখন এলে? তোমাকে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে? তোমার মুখে দৃঢ়সংকল্প ফুটে উঠেছে। সেই সাথে কিছুটা ভীতির ছাপও আছে।
বসোলাঃ উক্ত সংকল্প এখন প্রজ্বলিত হয়ে কর্মে রূপ নিবে। আমি আপনাকে হত্যা করতে এসেছি।
কার্ডিনালঃ হায়, হায়, আমাদের রক্ষীরা কোথায়? বাচাও।
বসোলাঃ আপনি ঠকে গিয়েছেন। আপনার চিৎকার তাদের কানে পৌছবে না।
কার্ডিনালঃ থাম, থাম! আমি যথাযথভাবে আমার রাজস্ব আয় তোমার সাথে ভাগাভাগি করে নিব।
বসোলাঃ বড় অসময়ে আপনি কাকুতি-মিনতি করছেন ও আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
কার্ডিনালঃ প্রহরীদের জাগাও! আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।
বসোলাঃ আপনার পালানোর পথ আমি বন্ধ করেছি। আপনাকে এখান থেকে জুলিয়ার ঘর। পর্যন্ত পিছু হটতে দিব কিন্তু তার বাইরে যেতে দিব না।
কার্ডিনালঃ বাঁচাও! আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।
[মঞ্চের উপরিভাগে পেস্কারা, ম্যালাটেস্টি, রডোরিগো ও গ্রিসোলানের প্রবেশ]
ম্যালাটেস্টিঃ আরে, শুনছেন।
কার্ডিনালঃ যে আমাকে উদ্ধার করবে তাকে আমার রাজ্য দিয়ে দিব।
রডেরিগোঃ ধিক, তার এই প্রতারণাকে।
ম্যালটেষ্টিঃ আরে! এটা তো কার্ডিনালের গলা নয়।
রডেরিগোঃ হা, হ্যা, এটা তারই গলা। কিন্তু ওঁর নিকট যাওয়ার আগে আমি উনার ফাঁসির দৃশ্য দেখতে চাই।
কার্ডিনালঃ এখানে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি লাঞ্ছিত হয়েছি। কেউ আমাকে উদ্ধার না করলে আমার মৃত্যু অনিবার্য।
গ্রিসোলানঃ তিনি এ ধরনের অভিনয় খুবই ভাল করতে পারেন। কিন্তু এতে ভুলে গিয়ে আমি আমার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করব না এবং হাসির পাত্র হব না।
কার্ডিনালঃ আমার গলায় তরবারী চেপে ধরা হয়েছে।।
রডেরিগোঃ যদি তাই হত তাহলে উনি অত জোরে চেঁচাতে পারতেন না।
ম্যালটেষ্টিঃ আসুন, আসুন আমরা ঘুমাতে যাই। তিনি তো অনেক আগেই এসব সম্বন্ধে আমাদের বলেছেন।
পেস্কারাঃ তিনি চেয়েছিলেন, আপনারা যেন তাঁর নিকটে না যান কিন্তু বিশ্বাস করুন তাঁর কণ্ঠস্বরের ধরনে মনে হচ্ছে না যে তিনি ঠাট্টার ছলে এসব করছেন। পরিস্থিতি যেমনই হোক আমি নীচে তাঁর কাছে যাব এবং যন্ত্রপাতির সাহায্যে জোর করেই দরজা খুলে ফেলব। [মঞ্চের উপরিভাগ থেকে পেস্কারার নিষ্ক্রমণ]
রডেরিগোঃ চলুন আমরা দূর থেকে তাঁকে অনুসরণ করি এবং লক্ষ্য করি কার্ডিনাল উনাকে কিভাবে লজ্জা দেন?
[উপরিভাগ দিয়ে ম্যালাটেস্টি, গ্রিসোলান ও রডেরিগোর প্রস্থান]
বসোলাঃ প্রথমে তোমাকেই শেষ করে দিচ্ছি যাতে তুমি দরজা খুলে দিয়ে তার উদ্ধারকারীদের প্রবেশ করাতে না পার। [ সে ভৃত্যটিকে হত্যা করল]।
কার্ডিনালঃ কি কারণে তুমি আমার জীবন হরণ করতে চাও?
বসোলাঃ ঐদিকে তাকান।
কার্ডিনালঃ ওটা তো অ্যান্টনিওর লাশ।
বসোলাঃ অবিবেচকের মতো আমি নিজ হাতে তাঁকে হত্যা করেছি। দ্রুত আপনার প্রার্থনা সেরে নিন। আপন ভগ্নীকে হত্যার মাধ্যমে আপনি ন্যায় দেবতার হাতের নিক্তিটি কেড়ে নিয়েছেন কিন্তু তরবারিটিই কেবল রেখে দিয়েছেন।
কার্ডিনালঃ আমাকে ক্ষমা করে দাও।
বসোলাঃ এখন তো মনে হচ্ছে আপনার মহিমান্বিত ভাবটি একদম মেকী কারণ দুর্যোগে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই মানসিক দুর্বলতাবশতঃ আপনি দ্রুত কাতর হয়ে পড়ছেন। আমি আর সময় নষ্ট করব না-এই ধরুন।
[সে তাকে ছুরিকাঘাত করল]
কার্ডিনালঃ তুমি আমাকে আঘাত করলে।
বসোলাঃ আবারও করছি। [পুনরায় ছুরিকাঘাত]
কার্ডিনালঃ আমাকে কি খরগোশ ছানার মতো মরতে হবে। কোন প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারব না? বাঁচাও, বাঁচাও, বাঁচা-ও, আমাকে হত্যা করা হচ্ছে।
[ফার্ডিনান্ডের প্রবেশ]
ফার্ডিনান্ডঃ বিপদসঙ্কেত ধ্বনিত হচ্ছে। আমাকে একটা তাজা ঘোড়া দাও। সম্মুখসারির যোদ্ধাদের একত্রিত করো, নয়তো পরাজয় অনিবার্য। বার বার বলি, নতি স্বীকার কর। সেক্ষেত্রে আমি আমার তরবারি তোমার মাথার উপরে দোলাব এবং তুমি কি আত্মসমর্পণ করবে?
কার্ডিনান্ডঃ আমাকে সাহায্য কর। আমি তোমার ভাই।
ফার্ডিনান্ডঃ ওরে শয়তান। ভাই হয়ে তুই আমার প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করছিস। [তিনি কার্ডিনালকে আঘাত করলেন এবং ধস্তাধস্তির মাঝে বসোলাকেও প্রাণঘাতী আঘাত দিলেন] যে লোক তোমাকে মুক্তিপণের টাকা এনে দিতে পারত তার প্রাণপাখী উড়ে যাচ্ছে।
কার্ডিনালঃ হায়রে, ন্যায় বিচার! এতদিন যা করেছি সেজন্য এখন প্রতিফল ভোগ করছি। কথায় বলে দুঃখ হল পাপের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
ফার্ডিনান্ডঃ তোমরা এখন সাহসী মানুষ। সিজারের ভাগ্য পম্পের তুলনায় খারাপ ছিল। সিজার মরেছিলেন সমৃদ্ধির বাহুডোরে থাকা অবস্থায় আর পম্পের মৃত্যু হয়েছিল অসম্মানজনক অবস্থায় নিপতিত হয়ে। তোমরা উভয়েই যুদ্ধক্ষেত্রে মরলে। ব্যথা বেদনা কোন ব্যাপার নয়। নাপিত দাঁত তুলতে আসছে দেখলে যেমন দাঁতের ব্যথা দূর হয়ে যায় তেমনই বড় ধরনের কষ্ট পাবার আশঙ্কায় মানুষ অনেক সময়ই ব্যথা ভুলে যায়। এটা হল তোমাদের জন্যে প্রয়োজনীয় জীবনদর্শন।
বসোলাঃ এবার আমার প্রতিশোধস্পৃহা যথাযথভাবে চরিতার্থ হবে। হে আমার যাবতীয় সর্বনাশের মূল কারণ আপনি এবার অস্তমিত হউন। আমার জীবনের শেষ মুহূর্তটুকুতেই আমি সেরা কাজ করেছি।
[সে কার্ডিনালকে হত্যা করল]
ফার্ডিনান্ডঃ আমাকে কিছু ভেজা খড় দাও। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এই দুনিয়াটাকে আমি কুকুরের ঘর ছাড়া অন্য কিছু বলে বিবেচনা করতে পারি না। আমি আশাতীত বড় কাজ করব এবং মরণের ওপারে গিয়ে উচ্চতর আনন্দের সূচনা করব।
বসোলাঃ মৃত্যুর অন্ধকারে প্রায় তলিয়ে যাবার আগে উনি যেন মানসিক সুস্থতা ফিরে পেয়েছেন।
ফার্ডিনান্ডঃ বোন, ও আমার বোন। এর পিছনে কারণ রয়েছে। হীরা যেমন কেবল হীরা দিয়ে কাটা যায় তেমনই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, রক্তপিপাসা বা কামনা মিটাতে গিয়ে আমাদেরই কর্মের মাধ্যমে আমাদের পতন ঘটে।
[ মৃত্যু ]
কার্ডিনালঃ তুমিও তোমার প্রাপ্য শাস্তি পেতে চলেছ ।
বসোলাঃ হ্যা, আমার ক্লান্ত আত্মা এখন আমায় ত্যাগ করতে উন্মুখ; আমিই দাঁতে দাঁত চেপে তাকে আটকে রেখেছি। উচ্চ বংশে জন্ম হওয়ার সূত্রে আপনি সুবিশাল ভিত্তির উপর দণ্ডায়মান সুউচ্চ পিরামিডের মতো অবস্থান করছিলেন; অথচ এখন পিরামিডের অগ্রভাগের মতই সরু ও তাৎপর্যহীন হয়ে জীবন শেষ করছেন। এটা ভেবে আমি উল্লসিত বোধ করছি।
[মঞ্চের নীচের অংশে পেস্কারা, ম্যালাটেস্টি, রডেরিগো ও গ্রিসোলানের আগমন]
পেস্কারাঃ প্রভু, এ কেমন ব্যাপার?
ম্যালাটেস্টিঃ হায়, কি দুঃখজনক ঘটনা!
রডেরিগোঃ কিভাবে এ সব ঘটল?
বসোলাঃ অ্যারাগনীয় ভ্রাতৃযুগল মালফির ডাচেসকে খুন করেছিলেন। তারই প্রতিশোধ এভাবে গৃহীত হয়েছে। অ্যান্টনিও আমার হাতে খুন হয়েছে। কার্ডিনাল কামুক জুলিয়াকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছেন। নিজের সম্বন্ধে বলতে হয় যে আমার সুন্দর মনের অনেকটা বিরুদ্ধেই আমি সকল ঘটনার মূল অভিনেতা হিসাবে ছিলাম। তবুও শেষ পর্যন্ত আমাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
পেস্কারঃ প্রভু, ব্যাপারটা কি?
কার্ডিনালঃ আমার ভ্রাতার দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমরা যখন রাশের তৈরী কার্পেটের উপর ধস্তাধস্তি করছিলাম তখন উনি আমাদের দেহে বিশাল ক্ষতের সৃষ্টি করেন। এখন আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ যে আমায় কবর দিবেন এবং কোনদিন আমায় স্মরণ করবেন না ।
[মৃত্যু]
পেস্কারাঃ কি মারাত্মক ভাবে নিজের উদ্ধার প্রাপ্তির পথ তিনি বন্ধ করেছেন!
ম্যালাটেস্টিঃ এই ঘৃণ্য, রক্তপিপাসু! বল অ্যান্টনিও কিভাবে মারা গেল?
বসোলাঃ ভুলবশত এ ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমি জানি না কিভাবে এমন হল। এই ধরনের ভুল নাটকে প্রায়ই ঘটতে দেখেছি। হায়, আমি এখন মৃত্যুপথযাত্রী! আমরা কেবল নিষ্প্রাণ দেওয়াল অথবা খিলানযুক্ত কবরের মতো যেগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করে না। আপনাদের থেকে বিদায় নিচ্ছি। হয়তো আমার মরতে যন্ত্রণা হচ্ছে কিন্তু আমার মৃত্যুতে কোন ক্ষতি হবে না কারণ আমি একটা শুভ উদ্দেশ্যে মারা যাচ্ছি হিয়, এই পৃথিবী কি বিষাদময়! মানুষ কাপুরুষের মত ভয়ে ভয়ে কেমন ছায়াময় অবস্থায় অথবা অন্ধকারের গভীর গহবরে বাস করে! গুণবান লোকেরা যেন ন্যায়সঙ্গত কারণে মৃত্যু অথবা অসম্মানের মুখোমুখি হতে গিয়ে অবিশ্বাসের দোলায় দ্বিধান্বিত হয়ে না পড়েন। আমি এক অন্য ধরনের ভ্রমণে চলেছি।
[মৃত্যু]
পেস্কারাঃ প্রাসাদে আসার পথে মহানুভব ডেলিও আমায় বলেছিলেন যে অ্যান্টনিও এখানেই অবস্থান করছেন। তিনি একটি সুদর্শন ভদ্রলোককে দেখিয়ে বলেছিলেন যে সে অ্যান্টনিওর সন্তান ও উত্তরাধিকারী।
[ডেলিও এবং অ্যান্টনিওর সন্তানের প্রবেশ]
ম্যালটেস্টিঃ হায়, জনাব বড় দেরী করে আপনি এলেন।
ডেলিওঃ আমি সবই শুনেছি এবং তাই এখানে আসার আগে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। চলুন। এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞকে কোন মহৎ কাজে লাগাই এবং আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এই উদীয়মান তরুণকে তার মার অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করি। হিমশীতল আবহাওয়ায় কেউ বাইরে বেরোলে বরফের উপর তার পদচিহ্ন অঙ্কিত হয়। কিন্তু রোদ ঝলকানোর সাথে সাথে ঐ চিহ্নের আকারঃ অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। এইসব সুপরিচিত অথচ বদমাশ ব্যক্তিরা ঐ চিহ্নের তুলনায় স্থায়ী কোন সুখ্যাতি রেখে যেতে পারলেন না। আমি সব সময়ই ভেবেছি যে প্রকৃতি খুশী হয়ে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন লোকদের সত্যের রক্ষক বানিয়ে দিয়ে তাদের সর্বাধিক অনুগৃহীত করতে পারে। সুখ্যাতি অর্জনের সেরা উপায় হল শুদ্ধ ও সৎ জীবন-যাপন। তা করলে মানুষ মরণের পরেও গৌরবের মুকুটে ভূষিত হয়।
[প্রস্থান]

 -------  যবনিকা  --------

টিকাসমূহঃ 

পঞ্চম অঙ্ক ও তৃতীয় দৃশ্য।
১. ক্লইস্টারঃ প্রধানত মঠ, গির্জা, কলেজভবন ইত্যাদির মধ্যের আচ্ছাদিত উদ্যানপথ ।

পঞ্চম অঙ্কঃ পঞ্চম দৃশ্য
১। অতীতকালে ন্যায়ের যে সব মূর্তি তৈরী করা হতো সেগুলোর এক হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্য হাতে তরবারী থাকত।
২. রাশঃ জলাভূমির সরু পত্রহীন কাণ্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদবিশেষ, যা শুকিয়ে অনেক সময় চেয়ারের আসন, ঝুড়ি ইত্যাদি বোনার কাজে ব্যবহার করা হয়। অতীতে এই উদ্ভিদ ঘরের মেঝেতে বিছানো হতো।

No comments:

Post a Comment

Trending

Ads