Total Pageviews

Thursday, December 27, 2018

Characters of The Canterbury Tales - ক্যান্টারবারি টেলসের চরিত্রসমূহ- ১ম পর্ব

characters of the canterbury tales


Prologue এ বর্ণিত চরিত্রসমূহ ২য় পর্ব 

Characters of The Canterbury Tales - ক্যান্টারবারি টেলসের চরিত্রসমূহ- ১ম পর্ব 

চরিত্র পরিচয় 
The Narrator – বর্ণনাকারি আসলে চসার নিজেই ছিলেন। একজন তীর্থযাত্রী হিসেবে চসার নিজেও সেখানে দুটি গল্প বলেন। একটি হল স্যার থপাস এর গল্প আর একটী হল দ্যা টেল অফ মালিবি।

The Host/ The Innkeeper – harry Bailey – সড়াইখানার মালিক যার নাম ছিল হ্যারি বেইলি। মূলত যাত্রাপথের ক্লান্তি বিরক্তি দূর করার জন্যে এই ব্যাক্তিই প্রস্তাব রেখেছিল যে সবাই ৪টি করে গল্প বলবেন। আর এর ভিত্তিতে যাত্রা শেষে বিজয়ীকে সবাই খাওয়াবে। সে ছিল হাসিখুশি, বিশাল শক্তিশালী দেহের অধিকারী। পুরো যাত্রাপথে তীর্থ যাত্রীদের সেই পরিচালনা করে। তাকে Host বলা হয়েছে। মূলত সে একজন সড়াইখানার মালিক। Host শব্দটা আসলে এখানে Pun হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারন সে সড়াইখানার মালিক হিসেবেও Host আবার তীর্থযাত্রা পরিচালক হিসেবেও সে Host.   

The Knight - নাইট
নাইট চরিত্রিটি ক্যান্টারবারি টেলসের প্রথম গল্পটি বলেন। তাঁর গল্পটির প্রধান চরিত ছিল রাজা থিসিয়াস, আর্কাইট ও তাঁর বন্ধু পলোম্যান।
বর্ণনাকারী নিমন্ত্রক উভয়েই নাইটকে সম্মান করতেন। বর্ণনাকারী তার গুণ গুলোকে বর্ণনা করতে গিয়ে পৌরুষদীপ্ত, বিশ্বস্ত, সম্মানীত, মহানুভব, কৃতজ্ঞচিত্ত ইত্যাদি শব্দ ব্যাবহার করেন। ক্যান্টারবারি টেলসের বিশিষ্ট এক চরিত্র এই বীর নাইট। যিনি সত্য সুন্দরের পূজারী, সম্মানিত একজন উদারমনা মানুষ। তিনি ভালোবাসতেন যুদ্ধ, বীরের ধর্ম এবং কর্মকে। তার প্রভুর প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনি অসীম সাহসিকতার প্রতীক। সাহসিকতার প্রসঙ্গ উঠলেই লোকে তার উদাহরণ দিত। যুদ্ধে যোগদান করে কৃতিত্ব সম্মান অর্জন করাটাকেই তিনি প্রধান গৌরবের বিষয় লে মনে করতেন। কারণে যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠলে তিনি আর নীরব থাকতে পারতেন না। তিনি তার জীবনে যেসব যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, খুবই গর্বের সাথে সেসব যুদ্ধজয়ের কাহিনী বলতেন। বহু যুদ্ধের অভিজ্ঞ বীর তিনি। যোগ দিয়েছেন বুনো বর্বরদের দেশের দুঃসাহসিক অভিযানে, তিনি গেছেন মিশরে, স্পেন, রাশিয়ায়, তুরস্ক, আফ্রিকায় আর সেইসব যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর তাঁকে সন্মানসূচক যেসব মেডেল প্রদান করা হয়েছিল সেগুলো সবই তাঁর কোটের উপরে শোভা পাচ্ছে। কম করে হলেও তিনি পনেরটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অর্জন করেছেন প্রচুর ম্মান। তবে নাইটদের পরনে যে জমকালো পোশাক থাকে তার পরনে তা ছিল না। তবে তার ঘোড়াটা ছিল খুবই চমৎকার নাইটের সাথে ছিল তার কুড়ি বছর বয়সী পুত্র, যে নিজেও নাইট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

The Squire  - নাইটের ছেলে
এই মহান নাইট অনুচর হিসেবে সাথে এনেছেন কুড়ি বছরের পুত্রকে। অবিবাহিত এক উজ্জ্বল প্রেমিক সে। মাথায় তার সুবিন্যস্ত কোকড়া চুল। সে গান রচনা করতে পারে। যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, নাচতে জানে, সুন্দর ছবি আঁকে, লেখাপড়া জানা একজন সুদক্ষ অশ্বারোহী। সে ছিল আগাগোড়াই একজন প্রেমিক। প্রেমিকার জন্য সে বহু বিনিদ্র রজনী যাপন করেছে। নাইটের পুত্র ছিল খুবই ভদ্র বিনয়ী, তার আচরণে কোনো অসৌজন্য প্রকাশ পায়নি কখনো। কোনো অহংকার ছিল না তার মাঝে, আর সে ছিল পরোপকারী। তাঁর পরনে ছিল কারুকার্য খচিত পোশাক। দেখে মনে হচ্ছিল সেখানে যেন সাদা আর লাল পুষ্পের ছড়াছড়ি। মে মাসের মতই সে সদা উচ্ছল, উদ্দাম। সারাদিন সে শুধু গান গায় আর বাশি বাজায়। প্রেমিকার মন জয় জরার জন্য সে একবার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ফ্রান্সে গিয়েছিল সাহসিকতার সাথে সে লড়েছিল সেখানে। এই প্রাণোচ্ছল যুবা তার পিতার মতই একজন নাইট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

The Yeoman জমিদারভৃত্য দেহরক্ষী
বীর নাইট সাথে করে তাঁর দেহরক্ষী হিসেবে এনেছেন একজন পরিচারক এই দেহরক্ষীও তীর্থ ভ্রমণের আগ্রহের কথা জানিয়েছিল তার মনিবকে। দেহরক্ষীর পরনে একটা সবুজ কোট, তার শিরস্ত্রাণটির রংটাও সবুজ। তার কোমরের বেল্টে আটকানো ছিল ময়ূরপুচ্ছ লাগানো ঝকঝকে অনেকগুলো তীর আর তার হাতে ছিল একটা মজবুত ধনুক। সে সর্বদা নিজের অস্ত্রশস্ত্রগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে, যত্ন করে, যে কারণে তার তীর হতে ময়ুরপুচ্ছগুলো কখনোই খসে পড়ে না। তার গায়ের রংটা তামাটে আর মাথার চুলগুলো ছোট ছোট করে ছাটা। হাতের কবজিতে আঁটসাঁট করে আটকানো একটা চামড়ার ব্রেসলেট। তার একপাশে তরবারি, অন্য পাশে ঢাল, আর অন্যদিকে ঝুলছে একটি ঝকঝকে ছোরা; সবুজ সুতোতে আটাকানো একটি শিঙাও ঝুলছে। লেখকের মতে, সে একজন সত্যিকারের শিকারি।

The Prioress - মঠের সন্ন্যাসিনী
তীর্থযাত্রীর দলে ছিল মঠের একজন সন্ন্যাসিনী। বড়ই সহজ সরল সে। মুখখানাতে হাসি সর্বদাই লেগে থাকে তার। তার নাম মাদাম এগল্যান্টাইন। চমৎকার তার প্রার্থনার সুর, কিছুটা আনুনাসিক উচ্চারণের কারণে তা আরো মধুর শোনায়। অনর্গ ফরাসি বলে কিন্তু প্যারিসে প্রচলিত ফরাসির মত নয়। খেতে বসলে কখনোই তার মুখ থেকে খাবার ছিটকে পড়ে না,  চাটনিতে সে ঙ্গু ডুবিয়ে দেয় না। খাবার গ্রহণ করার সকল রকম নিয়মনীতি সে ভালো করেই জানে। আদবকায়দাটা সে ভালোই রপ্ত করেছে। সে ছিল আসলেই হাসিখুশি স্বভাবের, স্বভাব চরিত্র খুবই ভালো, আচার আচরণে কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে না। সে রাজসভায় প্রচলিত রীতিনীতি মানতে চেষ্টা করত। তার মনটা এতটাই নরম ছিল যে, ফাদে আটকা পড়া রক্তাক্ত মরা ইদুর দেখলেই সে কান্না জুড়ে দিত, কিংবা কেউ যদি কুকুর পেটাত তাহলে সে কুকুরের শোকেও কাদত। নাকটা ছিল তার খাড়া, চোখ দুটো নীল, মুখে সর্বদা একটা রক্তিমাভা খেলা করত, কপালটা ছিল তার অনেকখানি চওড়া। তার বাহুতে জড়ানো ছিল প্রার্থনাকারীদের ব্যবহৃত জপমালা। তার সাথে আরো একজন সন্ন্যাসিনী এবং তিনজন পুরোহিত ছিল। তাঁর জামার ব্রৌচে লিখাছিল এমর ভিনসিট অমনিয়াভালোবাসা সবকিছুকে জয় করে।

The Monk - সাধু
তীর্থযাত্রী দলে ছিলেন একজন সম্মানিত মঠের সাধু। মঠের সকল বিষয় তত্ত্বাবধান করাই ছিল তার প্রধান কাজ। শিকার করার নেশাও ছিল তার তার আস্তাবলে অনেকগুলো ঘোড়া  ছিল। সে যখন ঘোড়া ছোটাত তখন বাতাসে উঠত শনশন আওয়াজ আর চাবুকের হিসহিস শব্দ। এই সাধু পুরনো রীতিনীতি পরিহার করে নতুন রীতিনীতিটাকেই বেশি আমল দিত। যে গ্রন্থে লেখা থাকত যে, শিকারিগণ পুণ্যাত্মা নয় আর যে সাধু তার নিজের ধর্মের প্রতি আস্থা রাখে না, দায়িত্বজ্ঞান কম, সে জলহীন সের মত সে গ্রন্থের কোনো কদর করতেন না তিনি। লেখক মনে করেন, তার মনোভাব সঠিক। মঠের মাঝে একলা বসে গ্রন্থ পাঠে নিমগ্ন থেকে একজন সাধু নিজেকে পাগল বানাবে কেন। এই সাধু ছিলেন একজন দক্ষ শিকারি। বেশ কটি শিকারি কুকুরও ছিল তার। খরগোস শিকারে তিনি আনন্দ পেতেন। লেখক লক্ষ করেছেন, তার জামাতে ছিল দুর্লভ পশুদের লোমের স্তর। তার মাথা ভরা ছিল টাক। তার ঘোড়াটিও দামি সাজে সজ্জিত থাকত র্বদা। তিনি পছন্দ করতেন ঝলসানো হাসের মাংস। লেখক মনে করতেন, তিনি হয়ত কোনো মঠের প্রধান পুরোহিত।

The Friar - Huberd - মঠবাসী ভিক্ষু
যাত্রীদলে একজন ভিক্ষুও ছিল। সে ছিল খুবই আমুদে স্বভাবের, সর্বদাই উৎফুল্ল। সে ছিল অনুমোদন পাওয়া ভিক্ষু। চার ধরনের ভিক্ষুর মাঝে তার মত এমন গল্প বলিয়ে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। নিজের গাটের পয়সা খরচ করে সে অনেক মহিলার স্বামী জুটিয়ে দিয়েছে। সমাজের ম্ভ্রান্ত মহিলাদের কাছে সে ছিল খুবই আদরনীয়। তা মতে, গির্জার পুরোহিতের চাইতে মানুষের পাপের স্বীকৃতি শোনার অধিকার তারই বেশি। সে পাপীজনদের স্বীকৃতি শোনে আর যেখান থেকে মোটা ঘুষ পাওয়া যাবে বলে সে মনে করত সেখানে সে প্রায়শ্চিত্তের একটা সহজ বিধান দিয়ে দিত। সে বলত, যে লোক দান করে সে তার পাপকার্য দূর করার জন্যই তা করে থাকে। সে বলত, পাপের কারণে কান্নাকাটি আর অহেতুক প্রার্থনা না করে ভিক্ষুকে কিছু দিয়ে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। সুন্দরী রমণীদের দেয়ার জন্য সে তার টিলে পোশাকের ভেতর সর্বদা খোপার কাটা, নানা ধরনের পিন লুকিয়ে রাখত। তার গানের গলাটিও ছিল বেশ, আর চমৎকার বেহালা বাজাতে পারত সে। শহরের প্রতিটি শুঁড়িখানা সে চিনত। সরাইখানার সুন্দরী পরিচারিকাদের দিকেই তার ঝোঁকটা ছিল বেশি। সে র্বদা পয়সাওয়ালা লোকদের আশেপাশে ঘুর ঘুর করত। তার কথাবার্তার চটুলতায় মুগ্ধ হয়ে সাধারণ একজন দরিদ্র মানুষও তাকে অন্তত একটা রুপার মুদ্রা দিত। রাজদরবারে তার যাতায়াত ছিল। ইয়ার্কিতে তার জুড়ি ছিল না। এই দক্ষ ভিক্ষুর নাম ছিল হিউবার্ট।

The Merchant - ব্যবসায়ী
তীর্থর্যাত্রী দলে ভিড়েছিল একজন ব্যবসায়ী। বিচিত্র পোশাক পরা, ঘোড়ার উপরে আসীন, দাড়িটা মাঝখানে ফাক, মাথায় লোমের টুপি, জুতো জোড়া খুবই সৌখিন। জোর গলায় সে সর্বদা নিজের মত প্রকাশ করে। সারাক্ষণ সে লাভ-লোকসান নিয়ে আলোচনায় মত্ত থাকে। সে মনে করে মিডলবার্গ আর অবওয়েলের মাঝখানের সমুদ্র পথটা যেন কোনোক্রমেই বন্ধ না হয় টাকাপয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সে খুবই সিদ্ধহস্থ নিজের ভেতরের কথা কারো কাছে প্রকাশ করে না। ধারদেনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কখনোই মুখ খোলে না সে। সে দেনার দায়ে জর্জরিত কি না এটাও বোঝার কোনো পথ নেই। লোকটা খুবই ধড়িবাজ, তাঁর নামটা পর্যন্ত কারো জানা নেই

Oxford-educated scholarThe Clerk
অক্সফোর্ড হতে আসা একজন যাজকও আছেন তীর্থযাত্রীদের সাথে বহুদিন যাবত তিনি নীতিশাস্ত্র চর্চা করছেন। তাঁর ঘোড়াটা একেবারে হাড়জিরজিরে, তিনি নিজেও হালকা-পাতলা আর গম্ভীর স্বভাবের। তার পরনের কোটটা বেশ পুরনো আর ময়লা। বেচারার এমন কোনো উচ্চ পর্যায়ের বন্ধু নেই যে তাকে একটা বড়সড় পদে আসীন করে দেয়ার চেষ্টা চালাতে পারে। তিনি একজন বড় দার্শনিক কিন্তু গাটে কোনো পয়সা জমা নেই। বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে যা কিছু পান তা তিনি তাঁর পড়াশুনার পেছনে ব্যয় করেন। বড় বড় দর্শনের বই তিনি কালো মলাট দ্বারা বাধিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। মোট কথা পড়াশুনা করাটাই তার একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান। যারা তাকে টাকাপয়সা দেয় তিনি শুধু তাদের জন্যই প্রার্থনা করেন। বিনা প্রয়োজনে কোনো বাক্য ব্যয় করে না। যতটুকু বলেন খুবই সংক্ষিপ্তাকারে। তার প্রতিটি কথাবার্তাই নীতিশাস্ত্র বিষয় নিয়ে তিনি নিজেও মানুষের কাছ থেকে নানা বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করতে আগ্রহী এবং অন্যদেরকেও জ্ঞান দিতে সমান উৎসাহী।

The Man of Law or sergeant of law - আইনজীবী
অত্যন্ত সচেতন আর যথেষ্ট বিজ্ঞ এই উকিল মহোদয়। বহুদনি যাবত সে ওকালতি করছে। তাকে দেখে একজন দক্ষ, চিন্তাশীল এবং সুবিবেচক মানুষ বলে মনে হয়। অনেকবার সে রাজার নির্দেশমত দায়রা আদালতে কাজকর্ম করেছে। ওকালতি ব্যবসায় সে যথেষ্ট সুনামের সাথে সাথে অনেক ধনসম্পদও অর্জন করেছে। জমি কেনার বিষয়ে সে ছিল খুবই দক্ষ সে জমি ক্রয় করলে সেখানে কোনো ভেজাল খুঁজে পাওয়া যেত না। সে এসব কাজকর্মে ব্যস্ত দিন কাটাত। রাজা উইলিয়ামের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যেসব মামলার রায় বের হয়েছে সবই তার মুখস্থ। তার কাগজপত্রের মুসাবিদায় কেউ কোনো দিন কোনো ভুল ধরতে পারেনি। আইনের ধারাগুলো তার কণ্ঠস্থ ছিল। একটা সাধারণ কোট পরিধান করে খুবই সাধারণ স্তরের একটা ঘোড়ায় চড়ে বেড়াত সে। তার পোশাক নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি লেখক।
The Franklin - জমিদার
এই উকিল মহোদয়ের সাথে ছিলেন একজন নিষ্ক জমিদার। সাদা ধবধবে তার দাড়ি। প্রতিদিন ভোরবেলায় তিনি তার দাড়ি মদের পাত্রে চুবিয়ে তুলতেন। তিনি এপিকিউরাসের নির্ভেজাল সুখ বিষয়টিকে অবলম্বন করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, ঝামেলাবিহীন সুখটাই পরম সুখ তিনি ছিলেন তাঁর অঞ্চলের সবচাইতে ধনবান জমিদার। সেরা রুটি আর সেরা মদ সর্বদা থাকত তার কাছে। তার ভাড়ার ঘরটা সর্বদা রুটি, দামী পানীয় অন্যান্য জিনিসে ভরপুর থাকতো।  তাঁর গৃহে খাবারদাবার এতটাই মজুদ থাকত যে খাদ্য পানীয়ের একেবারে স্রোত বইত যেন ঋতু বদলের সাথে সাথে তার খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটত। তাঁর গৃহে খাচায় ভরা থাকত পাখি আর পুকুর ভরা মাছ। চাটনিটা যদি কিছুটা ঝাল না হত তাহলে রাধুনির চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতেন তিনি। দায়রা আদালতে তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি তার এলাকায় পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তার কোমরে সর্বদা একটা ছোরা আর সিল্কে একটা থলি ঝুলত তিনি তার অঞ্চলে একজন বিখ্যাত হিসাবরক্ষক হিসেবেও খ্যাতিমান ছিলেন। মোট কথাতিনি ছিলেন একজন দক্ষ জমিদার।
The Cook - Roger - পাচক
যাত্রীদলে ছিল একজন রাধুনি। সে ছিল খুবই দক্ষ পাচক। হাড়সুদ্ধ মুরগি রান্নাতে তার জুড়ি ছিল না। এক চুমুক পান করেই সে সেটা লন্ডন বিয়ার কিনা বলে দিতে পারে। ভালো রোস্ট আর কাবাব বানাতে সে খুবই দক্ষ। ভালো পিঠেও ভাজতে পারে সে। তার পায়ে ছিল ঘা। লেখকের কাছে তার এই ক্ষতস্থানটা খুবই লজ্জাকর বিষয় বলে মনে হয়েছিল। কারণ তার এই ঘা থেকে হাস মুরগিগুলোর চর্মরোগ হতে পারে।
The Shipman - নাবিক

দূর পশ্চিমাঞ্চল থেকে একজন নাবিক এসে যোগ দিয়েছিল তীর্থযাত্রীদের দলে। মনে হয় সে ডর্টমাউথ হতে এসেছে। আজানুলম্বিত একটা গাউন পরে একটা ঘোড়ায় চেপে এসেছে সে। দড়িতে বাধা একটা ছোরা ছিল তার বগলের তলায়। রোদের তাপে তার শরীরটা তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে। লোক হিসেবে সে ভালো। তবে মদের ব্যবসায়ী ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে সে তার মদের পাত্রগুলো খুলে বসে যেত কোনো নিয়মনীতির সে পরোয়া করত না মোটেই যুদ্ধে জয়ী হলে সে বন্দীদের তাড়াতে তাড়াতে নিয়ে যেত। তার কাজ ছিল জোয়ার-ভাটার হিসেব রাখা, যথানিয়মে জাহাজ চালানো, দিগদর্শন যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা। এসব কাজে তার তুল্য একজনও ছিল না। সাহসের সাথে সে সকল অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে। অনেক ঝড়ঝাপটায় তার দাড়ি উপড়ে গেছে। গটল্যান্ড দ্বীপ হতে ফিনিস্ট অন্তরীপ পর্যন্ত সব বন্দরের খবর তার নখদর্পণে তার জাহাজের নাম ম্যাগডালেন।

No comments:

Post a Comment

Blog Archive