Thursday, December 27, 2018

The Characters of The Canterbury Tales - দ্যা ক্যান্টারবারি টেলসের চরিত্রসমূহ ২য় ও শেষ পর্ব

characters of the canterbury tales


The Characters of The Canterbury Tales- দ্যা ক্যান্টারবারি টেলসের চরিত্রসমূহ ২য় ও শেষ পর্ব

Prologue এ বর্ণিত চরিত্রসমূহ - ১ম পর্ব

Five craft workers – Five Guildsmanএরা হলেন  চুলের ফিতা বিক্রিকারী -haberdasher, ছুতার মিস্ত্রি - carpenter, তাঁতি - weaver, রঙ মিশ্রণকারী - dyer and দেয়ালের পর্দা তৈরীকারি -  tapester.

The second nun - ২য় সন্নাসীনী   তাঁর সম্পর্কে চসার তেমন কিছুই বর্ণনা করেন নি কিন্তু সে একজন সাধুর গল্প বলেছিল

The Nun’s Priest- তাদের ব্যাপারেও চসার তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় তেমন কিছু বলেননি। কিন্তু তাদের একজন চন্টিক্লিয়ার নামক মোরগের গল্পটি বলেছিল। তাঁর বলা গল্পটি প্রমান করে যে তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান আত্মপ্রত্ত্যয়ি ব্যাক্তি।

The Physician - চিকিৎসক
যাত্রীদলের সাথে এসে মিলেছেন একজন চিকিৎসক, যাবতীয় ঔষধ আর কাটাছেড়ার চিকিৎসায় তার জুড়ি মেলা ভার। তার আরো একটি গুণ এই যে, তিনি জ্যোতিষশাস্ত্রে খুবই অভিজ্ঞ। তিনি জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দিনক্ষণ গ্রহনক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে রোগীদের চিকিৎসা করতেন। তিনি রোগীর একটি মূর্তি তৈরি করতেন মোম দিয়ে আর সে মূর্তিটাকে এমনভাবে স্থাপন করতেন যেন সেখানে সৌভাগ্যের অধিপতি কোনো গ্রহের আবির্ভাব ঘটবে। কোনো রসের প্রাবল্য শরীরে বেশি দেখা দিলে অসুখ বেড়ে যায় তা তিনি জানতেন। তার সহকারীরা সর্বদা রোগীর জন্য সিরাপ তৈরিতে ব্যস্ত থাকে, সহকারীরাও জানে এতে তাদেরও লাভের বিষয় নিহিত। এই চিকিৎসক পুরনো দিনের অ্যাসকিউলাপিয়াস, ডায়েস্কোরাইডস হতে রুফাস, হিপোক্রিটাস, হ্যালি, গ্যালেন, সেবাপিয়ান, রাজেস, আভিসিনা, এভেরোস, কনস্টানটাইন, বার্নার্ড, গ্যাটসডেন আর গিলবার্টিন সবার নাম তার নখদর্পণে। তিনি রোগীর জন্য খুবই অল্প পথ্য ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। এই চিকিৎসক বাইবেল পাঠ করে সময় নষ্ট করেন না। তিনি লাল নীল রঙা রেশমের কাপড় পরিধান করেছেন। একটু কিপটে, বেশি খরচ করতে চান না। একবার যখন প্লেগ নামক মহামারি দেখা দিয়েছিল সে সময়ে যে সম্পদ আয় করেছিলেন সেটাই এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন। স্বর্ণের প্রতি তার লোভটা একটু বেশি

The Wife of Bath  - বাথবাসী রমণী
বাথ নামক স্থান হতে আসা একজন মহিলাও ছিলেন যাত্রীদলে। কিন্তু সমস্যা এই, তিনি একটু কানে কম শোনেন। কাপড় বুনতে তিনি খুবই দক্ষ, যেকোনো তাঁতিই তার সমকক্ষ হতে সময় লাগবে। তার একটি বড় গুণ এই যে, তিনি অঞ্চলের সব মহিলাদের আগে গিয়ে গির্জায় হাজির হতেন। যদি হঠাৎ কোনোদিন তার আগে কেউ গির্জায় হাজির হত তাহলে তিনি রেগে অস্থির হয়ে যেতেন তখন দয়ামায়া বলে কিছু থাকত না তার মাঝে। মাথার আবরণীটা ছিল তার খুবই চমৎকার। সুন্দর লাল রঙা মোজা পরে থাকেন। তিনি আর জুতো জোড়াও একেবারে ঝকঝকে নতুন। তার মুখখানাতে সর্বদা। সাহসিকতার একটা রক্তিম আভা খেলা করে। সবাই তাকে খুবই শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তার যৌবনকালের প্রেমিকদের কথা বাদ দিলে যাবৎ তিনি কম করে হলেও পাঁচজন স্বামী গ্রহণ করেছেন। পরপর তিনবার জেরুজালেম গিয়েছেন, বহু বিদেশি নদ-নদী পার হয়েছেন। প্রায় সব তীর্থেই তাঁর পদচারণা ঘটেছে। দেশ ভ্রমণ বিষয়ে বহু কিছু তার জানা। কিন্তু বেচারী একটু বাচাল, কোনো কথাই তার মুখে আটকায় না। মোটা কোমরে স্কার্ট বাঁ ঘাগড়া পরিহিত অবস্থায় অনায়াসে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসেন। কখন কোথায় কতটুকু হাসতে হবে এটাও তার জানা।

The Parson - যাজক
দলে যাজক পল্লীর একজন পুরোহিত ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই গরীব কিন্তু সৎ লোক। তার চিন্তাচেতনা ছিল খুবই উন্নত। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিত যাজক। তিনি যিশুর বাণী সঠিক নিয়মে প্রচার করতে আগ্রহী। তিনি খুবই দয়ালু এবং পরিশ্রশী, বিপদে ধৈর্যশীল আয়ের দশ ভাগের এক ভাগ গির্জায় ট্যাক্স প্রদান করতে হবে নিয়মটা তিনি মানতে চান না। তিনি তার বেতনের কিছু অংশ অসহায়জনদের মাঝে বিলি করে দিতেন। তার আওতাভুক্ত যাজক পল্লীটি বেশ বড়, বাড়িগুলোও অনেক দূরে দূরে। তবুও তিনি গ্রীষ্মে বর্ষায় সকল ঋতুতে একটি ছাতা হাতে করে প্রতিটি মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে সবার খোজখবর করতেন। তিনি নিজে সৎকর্ম করেন এবং অন্যকেও সৎকর্ম করতে দীক্ষা দেন। তিনি বলেন, স্বর্ণের মাঝেই যদি মরিচা ধরে তাহলে লোহাতে ধরবেই। যে যাজকের উপর নির্ভর করি সে যদি সৎ না হয় তাহলে সাধারণ অনভিজ্ঞ লোকজন সৎ হবে কী করে। তিনি মনে করেন, সব যাজকই এটা মনে রাখবেন। তিনি মৃতজনের সৎকর্মের জন্য অর্থ বাগাবার কায়দা করতে লন্ডনের সেন্টপল গির্জার উদ্দেশে ধাবিত হন না কিংবা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি বাগিয়ে নেয়ার ধান্দাও করেন না। তিনি নিজের আওতাভুক্ত যাজকপল্লীকে সর্বদা পাপাচার হতে রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকেন। তার কথাবার্তায় কখনোই অহংকারী ভাব প্রকাশ পেত না। মানুষকে ঈশ্বরের দিকে আকৃষ্ট করাই ছিল তার প্রধান কাজ। পাপী ব্যক্তি যত উঁচু স্তরের মানুষই হোক না কেন, সে যাজকের তিরস্কার হতে রেহাই পেত না। তিনি ছিলেন যথার্থই একজন সৎ যাজক।

The Plowman - কৃষক
যাত্রীদলের সাথে আসা এই মহান যাজকের একজন ভাই এসেছিল তার সাথে, পেশায় সে একজন কৃষক। বহু সারের বস্তা সে টেনেছে। সে আসলেই একজন সৎ মজুর। সে নানাজনকে সহায্য সহযোগিতা করে জীবন যাপন করে। মনে প্রাণে সে ঈশ্বরকে ভালোবাসে, লাভ ক্ষতি নিয়ে কখনো মাথা ঘামায় না, প্রয়োজনে সে গবির কৃষকদের বিনা পয়সায় ধান ঝাড়াই করা খাল কাটার কাজটিও করে দেয়। নিজো খাটাখাটুনি করে ফসল উৎপাদন রে দশ ভাগের এক ভাগ সে ট্যাক্স হিসেবে প্রদান করে নিয়মিত। সাধারণ মজুরেরা যে কোট পরিধান করে সেই কোট পরে এক মাদী ঘোড়ায় চড়ে সে যাত্রীদলের সাথে তীর্থযাত্রায় বের হয়েছে।

The Miller – Robynযাঁতাওয়ালা
যাত্রীদলের যাঁতাওয়ালা লোকটা খুবই গান্ধাগোদা টাইপের স্থুলকায়। হা মাংসপেশি খুবই শক্ত। প্রতিবারই সে কুস্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কারটি ছিনিয়ে নেয়। খুবই বলিষ্ঠ শরীর তার, যেকোনো শক্ত দরজা একটানে খুলে ফেলে সে কিংবা মাথায় ধাক্কা মেরে ভেঙ্গেও ফেলতে পারে। তার দাড়িটা শেয়াল রঙাদেখতে ঠিক কোদালের মত চওড়া। তার কানের উপরে কয়েক গোহা চুল গজিয়েছে, সেগুলো শূকরের লোমের মত লালচে। নাকের ফুটো দুটো অনেক বড় আর প্রসারিত। তার শরীরের একপাশে ঝোলানো একটা তরবারি আর একটা ঢাল। বড় চুলার মত তার বিশাল মুখগহব ইয়ার্কি ঠাট্টা করার সময় সর্বদা নোংরা কথাবার্তা বলে। তার রসিকতাগুলো একেবারে অশ্লীল নোংরা কথাবার্তায় ভরা। গম চুরি করেও কী করে তিন গুণ মূল্য আদায় করা যায় এটাতে সে খুবই পারদর্শী। তবে সে কিছুটা হলেও মোটামুটি সে এমন জোরে ব্যাগপাইপ বাজায় যে তার শব্দে যেকোনো শহরের লোক দৌড়ে পালাতে পথ পাবে না।

The Manciple  - খাদ্যভাণ্ডারী
কোনো এক সরাইখানা হতে আসা একজান খাদ্যভাণ্ডারীও এসে জুটেছিল তীর্থযাত্রীদলের সাথে। খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করার ব্যাপারে সে এতটাই দক্ষ ছিল যে, অন্যান্য খাদ্যভাণ্ডারী তাকে নিশ্চিন্তে অনুসরণ করতে পারে নগদে কিংবা বাকিতে যেভাবেই সে খাবার ক্রয় করুক না কেন, সেখানে তার লাভের অংশ কিছুটা থাকবেই। তার মত একজন মূর্থ লোক শত শত শিক্ষিত লোককে ধাপ্পা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এটাও ঈশ্বরের লীলা। তার মনিব কমপক্ষে ত্রিশ জন। তারা খুবই সচেতন আর আইন কানুন সম্পর্কে বিশেষভাবে দক্ষ। এদের মাঝে কম পক্ষে বারো জন ইংল্যান্ডের যেকোনো লর্ডের সমুদয় সম্পদের দেখাশুনার যোগ্যতা রাখে। আর এমন খবরদারি যে, কোনো লর্ড যদি একেবারে দেউলিয়া না হয় তাহলে তার ওই সম্পদ দ্বারাই সে সুখে কাল কাটাতে পারবে সম্মানের সাথে। ওইসব মনিবগণ যেকোনো জেলার দুঃসময়েও সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম। এই ঝানু ঝানু মনিবদের সাথে সে ধাপ্লাবাজি করে বোকা বানায়।

The Reeve Osewald -  ম্যাজিস্ট্রেট
ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় বড়ই খিটখিটে স্বভাবের একজন রাগী মানুষ। পরিচ্ছন্নভাবে কামানো দাড়ি। মাথার চুলগুলো যাজকের মত কান পর্যন্ত গোল করে কাটা, মাথার সামনের চুলগুলো ছোট ছোট করে ছাঁটা। পা দুটো কাঠির মত সরু, পায়ের গোড়ালি আছে বলে মনে হয় না। তিনি শস্যভাগুর আর ভাড়ার ঘরের তদারকিতে সিদ্ধহস্ত যেকোনো হিসাব রক্ষককেই তিনি সহজে টেক্কা দিতে পারেন। অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি হলে কতটা ফসল পাওয়া যাবে এটা তিনি হিসেব করে সহজেই বলে দিতে পারেন। তাঁর প্রভুর গরু, বাছুর, ভেড়া, দুন্ধখামার, শূকর, ঘোড়া, হাঁস, মুরগি, সকল তৈজসপত্র তারই দায়িত্বে থাকে। তার প্রভু তার যুবা বয়স থেকেই এই ম্যাজিস্ট্রেটের দেয়া হিসেবমত চলে এসেছেন যাবৎ। কোনো বাকি বকেয়ার মধ্যে থাকেন না এই ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়। পেয়াদা কিংবা চাকরবাকরদের ছোটখাটো চুরিচামারি তিনি সহজেই ধরে ফেলেন। এজন্য সবাই তাকে যমের মত ভয় পায়। সবুজ গাছগাছালি ঘেরা ছায়াময় একটা স্থানে তাঁর বাড়ি। তার প্রভু কিনতে পারেননি অথচ তিনি অতি সহজেই বাড়িটা কিনে ফেলেছেন। গোপনে গোপনে তিনি বহু অর্থসম্পদ জমা করেছেন। কারণ, কী করে প্রভুকে খুশি করে তাঁর কাছ থেকে বেশি সুবিধা আদায় করা যায় এটা তিনি ভালো করেই জানেন। তিনি আবার একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রিও। যৌবনে কাজটা শিখেছিলেন। ঘোড়ায় আরোহণ করে চলেছেন তিনি, পরনে লম্বা টপ কোট, পাশে ঝুলছে মরচে পড়া তরবারি। ইনি এসেছেন নরফোক হতে। তাঁর ঘোড়াটা সব সময় দলের পেছনে পড়ে থাকে।

The Summoner - কোর্টের নির্দেশজারিকারী
যাত্রীদলে একজন কোর্টের নির্দেশজারিকারীও ছিল। কুষ্ঠরোগ থাকার কারণে তার মুখমণ্ডল একেবারে বালকের মত উজ্জ্বল ঝলমলে। চোখ দুটো গর্তে বসা। লোকটা চড়ুই পাখির মত কামুক স্বভাবের, চোখের ভুরু দুটোতে কড়াপড়া আর দাড়িগুলো খোচা খোচা। তার মুখের দিকে তাকালেই বাচ্চারা ভয় পায়। সে তার মুখের শ্বেতী রোগ সারাতে পারদ, সীসা, গন্ধক সোহাগা, সাদা সীসা, লবণ, তেল, মলম কোনো কিছুই বাদ রাখেনি কিন্তুকোনো কাজ হয়নি। সে রসুন, পেয়াজ আর রক্তের মত লাল রঙা কড়া মদ খেতে পছন্দ করে। মদ পান করে সে মাতাল হয়ে পাগলের মত চিৎকার করে। পুরো মাতাল হলে সে শুধু ল্যাটিন ভাষায় গালাগাল করে। গির্জার নথিপত্র থেকে দুএকটি ল্যাটিন যা শিখেছে তাই ব্যবহার করে সে। এটা কোনো আজব ব্যাপার নয়। কারণ সারাদিনই সে ল্যাটিন ভাষা শোনে, এটা তো জানা কথা যে একটা কাকও সারাদিন এটা শুনলে পোপের মত করেই বলতে পারবে তবে আইন নিয়ে আলোচনায় বসলে লোকটা যে আসলে কিছুই জানে না এটা ধরা পড়ে আর তখন শুধু সে চিৎকার করে ফাকা বুলি ঝাড়তে থাকে। সে খুবই জঘন্য টাইপের দয়ালু ব্যক্তি, লোক হিসেবে ভালো। সিকি গ্যালন মদ উপহার দিলে যে কেউ তার বউকে নিয়ে এক বছরের জন্য কাছে রাখতে পারে। এজন্য তার মনে কোনো ক্ষোভ থাকবে না। অন্যের ক্ষেত্রেও সে ধরনের খেলা খেলতে খুবই সিদ্ধহস্ত বিশপের প্রদান করা অর্থদণ্ড হতে কোনো লোককে বাচাতে তার জুড়ি নেই, অবশ্য সে লোকটার কাছ থেকে যথাসময়ে সে অর্থ বাগাতেও জুড়ি মিলবে না তার। সে বলে, টাকার থলেটা একজন বিশপের কাছে নরকতুল্য। সে আরো বলে, শান্তি মানেটাই হল অর্থদণ্ড, কিন্তু তার একথা ভুল মনে করেন লেখক, তার মতে, ক্ষমা যেরূপ আত্মাকে বাচায় ঠিক তেমনি আত্মাকে হত্যা করে। এই কোর্টের নির্দেশজারিকারী লোকটা এলাকার সকল যুবকের সর্দার। তাদের গোপন পরামর্শদাতা। আবার একটা দোকানও চালায় সে

The Pardoner - গির্জার অনুমোদন পাওয়া একজন ক্ষমা বিলিকারী -

যাত্রীদলের সাথে যাচ্ছে একজন অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষমা বিলিকারী। সে সদ্য রোমের দরবার হতে ফিরেছে, উচ্চস্বরে সে গান গাইছে, প্রিয়তমা মোর কাছে এসো। তার সাথে আসা এক পেয়াদাও তার সাথে গলা মিলিয়েছে। আর গলাটাও এমন যে, যেকোনো জোরালো শব্দের ভেঁপুকেও তা হার মানাবে। লোকটার মাথায় শনের মত হলদে চুল বাতাসে উড়ছে। একেবারে মাথার তালুতে খোঁচা খোঁচা কয়েক গোছা চুল গজিয়েছে। মাথার টুপিটা সে সর্বদা থলের মাঝে ভরে রাখে। একটা ছোট্ট টুপি পরে ঘোড়ায় চড়াটা শেখাচ্ছে সবাইকে, এটা একটা নতুন ফ্যাশন এটা বোঝাতে চাচ্ছে। চোখ দুটো তার সর্বদা খরগোশের চোখের মত জ্বলজ্বল করে। তার থলেটা রোম থেকে আনা নানা রকম ন্ত্রপূত ঔষধ পথ্যে ভরা। গলার স্বর ছাগলের মত। মুখে দাড়ি নেই। কোনো দিন গজাবে বলে মনেও হয় না। লেখকের ধারণা লোকটা নপুংসক। তাঁর থলের মাঝে আছে একটা বালিশের মলাট, সে সবাইকে বলে এই বালিশের মলাটটি তৈরি করা হয়েছে মাতা মেরি মাথায় যে আবরণ পরতেন সেটা দিয়ে। যে পাল তুলে সেন্টপিটার সমুদ্রযাত্রা করলে যিশু নিজে তাকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, সেই পালের একটা টুকরাও নাকি তার কাছে আছে। তার কাছে আছে পাথর খচিত একটি ধাতব ক্রুশ। একটা পাত্রে রেখেছে শূকর ছানার হাড়গোড়। এইসব নানা টুকটাক জিনিস সে গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে থাকে। অনেক সময় সে সহজ সরল যাজকদেরকেও ঠকায়, ধাপ্লাবাজি করে গ্রামাঞ্চলের লোকজনদেরকেও সে এভাবে ঠকায়। তবে তার একটা বিশেষ গুণ এই যে, সে গ্রন্থপাঠে চৌকস, অনেক নীতিকাহিনী জানে সে। গির্জার ভেতরে সে একজন পুরোহিত হিসেবে সম্মানিত। সে যখন তখন গলা ছেড়ে গান গায়, কণ্ঠস্বরটাও খুব মিষ্টি, কারণ সে জানে, মিষ্টি কথা বলেই লোকজনকে বশ করতে হয়।

No comments:

Post a Comment

Trending