Total Pageviews

Monday, July 8, 2019

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 3 - Scene - 1-2

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 3 - Scene - 1-2
First Part - Duchess of Malfi Bangla Translation

Previous Part 

The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 3 - Scene - 1-2


দি ডাচেস অভ মালফি
তৃতীয় অঙ্ক - প্রথম দৃশ্য - দৃশ্যপটঃ মালফি। ডাচেসের প্রাসাদের একটি কক্ষ
[অ্যান্টনিওঃ ডেলিওর প্রবেশ]
অ্যান্টনিওঃ হে মহান বন্ধু, হে প্রিয়তম বন্ধু ডেলিও! আজ কতদিন যাবত তুমি দরবারে অনুপস্থিত। তুমি কি লর্ড ফার্ডিনান্ডের সাথে এসেছ?
ডেলিওঃ হ্যা, জনাব। আচ্ছা মহানুভব ডাচেস কেমন আছেন?
অ্যান্টনিওঃ সৌভাগ্যক্রমে, তিনি ভালই আছেন। তিনি তাঁর বংশ ধারা চমৎকারভাবে বজায় রেখেছেন। তোমার সাথে তাঁর শেষ সাক্ষাৎ হবার পর তিনি আরো দুটি সন্তানের জননী হয়েছেন। যার একটি পুত্র অপরটি কন্যা।
ডেলিওঃ আমার মনে হচ্ছে যেন গতকালই আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল। আমাকে চোখ বুজে থাকতে দাও যেন তোমার মুখটি দেখতে না হয়। তোমার মুখটা আমার চোখে আগের তুলনায় শুকনো মনে হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি আমার স্বপ্ন দেখা উচিত যেন সবকিছু বিগত অর্ধঘণ্টার মধ্যেই ঘটেছে।
অ্যান্টনিওঃ বন্ধুবর ডেলিও, তুমি আইন ব্যবসায় জড়িত নও, তোমাকে বন্দীশালায় যেতে হয়নি অথবা অনুগ্রহ প্রার্থী হয়ে রাজদরবারে যেতে হয়নি। তুমি কখনও চাওনি যে কোন প্রতাপশালী লোকের পদাবনতি ঘটুক; বৃদ্ধা স্ত্রী নিয়ে তোমার ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয় তোমার অগোচরেই তোমার সময় গুলো দ্রুত কেটে গিয়েছে।
ডেলিওঃ জনাব, একটা অনুরোধ জানাই। আমাকে বলতো এই খবর কি এখনও মাননীয় কার্ডিনালের কানে পৌঁছায়নি।
অ্যান্টনিওঃ আমি সেটাই আশঙ্কা করছি। সম্প্রতি লর্ড ফার্ডিনান্ড এই প্রাসাদে এসেছেন। তাঁর আচরণ সত্যিই বিপজ্জনক।
ডেলিওঃ কেন তিনি এমন করছেন?
অ্যান্টনিওঃ তিনি অত্যন্ত শান্ত হয়ে আছেন। মনে হচ্ছে ডোমাউসরা যেমন শীতনিদ্রা দেয় সেভাবেই তিনি তাঁর ক্রোধের ঝড়কে ঘুম পাড়িয়ে রাখছেন। শয়তান জেগে না উঠা পর্যন্ত ভূতুড়ে বাড়ীগুলোতেই সর্বাপেক্ষা বেশী নীরবতা বিরাজ করে।
ডেলিওঃ জনসাধারণ কি বলাবলি করছে?
অ্যান্টনিওঃ নিম্ন শ্রেণীর লোকজন সরাসরিই বলছে যে ডাচেস একজন বেশ্যা।
ডেলিওঃ অপেক্ষাকৃত গম্ভীর ও বিচক্ষণ লোকেরা কি ধরনের সমালোচনা করছে?
অ্যান্টনিওঃ তারা মন্তব্য করছে যে আমি অসদুপায় অবলম্বন করে অপরিসীম ধনরত্নের মালিক হয়েছি। সকলেই ধারণা করছে যদি তার সাধ্য থাকত তবে ডাচেস মহোদয়া এমন অবস্থা চলতে দিতেন না। তাদের মতে যদিও বড় বড় রাজ-রাজড়ারা এটা মেনে নিতে অনিচ্ছুক যে তাদের অধীনে চাকুরী করে কর্মকর্তারা সম্পদ আহরণের এমন অবাধ ও ব্যাপক সুযোগ পাক তবুও তারা সেই অভিযোগ উত্থাপন করেন না। তাঁদের মনে শঙ্কা থাকে যে ঐ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা নিজেরাই প্রজাদের ঘৃণার পাত্র হতে পারেন। তবে ডাচেস এবং আমার মধ্যে যে কোন প্রেমঘটিত বা বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে সে কথা তারা স্বপ্নেও ভাবে না। ঐ দেখ, লর্ড ফার্ডিনান্ড ঘুমাতে যাচ্ছেন।
[ডেলিও, ডাচেস, ফার্ডিনান্ডঃ পরিচারকদের প্রবেশ]
ফার্ডিনান্ডঃ আমি ক্লান্ত তাই আমি এখনি ঘুমাতে যাব। আমি তোমার জন্য একজন স্বামী নির্বাচনের ব্যপারে কথা বলব।
ডাচেসঃ আমার জন্য! প্রভু দয়া করে বলুন না তিনি কে?
ফার্ডিনান্ডঃ পরম গুণবান কাউন্ট ম্যালাটেস্টি।
ডাচেসঃ ফুঃ! আপনি যাকে কাউন্ট বলে অভিহিত করছেন সে শুধুই একটা চিনির লাঠি। আপনি তার মনের ভিতরটা সহজেই অবলোকন করতে পারবেন। যখন আমি স্বামী হিসাবে কাউকে বেছে নিব তখন আপনার সম্মান রক্ষা করেই তা করব।
ফার্ডিনান্ডঃ তুমি যদি তা কর তো ভালই হয়। আচ্ছা, সুযোগ্য অ্যান্টনিও, তুমি কেমন আছ?
ডাচেসঃ কিন্তু, স্যার, আপনার সাথে আমার কিছু ব্যক্তিগত আলাপ ছিল। একটা কলঙ্ককর খবর ছড়িয়ে পড়েছে যা আমার জন্য মর্যাদা হানিকর।
ফার্ডিনান্ডঃ ওসব কথা চলাকালে আমি যেন সদাবধির হয়ে থাকি। রাজ প্রাসাদ গুলো অবশ্য খুব কম সময়ই ইত্যাকার ন্যাক্কার জনক গুজব থেকে মুক্ত থাকে। এই গুজবগুলো প্যাসকুইলের ব্যঙ্গ কবিতার মতো। (কাগুজে গুলির মতই সেগুলো অকার্যকরী)। ঐ গুজব সত্যি বলে ধরে নিলেও, আমি আস্থা সহকারেই বলছি যে তোমার জন্য আমার অন্তরে যে স্থায়ী ভালবাসা আছে তার দ্বারাই তোমার সব ত্রুটি ক্ষমা করব এবং সব দোষ শুধু লাঘব নয় অগ্রাহ্য করব। যাও, নিজের নির্দোষিতার গুণে নিরাপদে থাক।
ডাচেসঃ (জনান্তিকে) আঃ, ঈশ্বরের কৃপায় বড়ই স্বস্তি পেলাম। বিপদের হাওয়াটা কেটে যাচ্ছে।
[ডাচেস, অ্যান্টনিও, ডেলিও এবং পরিচারকদের প্রস্থান]
ফার্ডিনান্ডঃ সে অপরাধবোধে ভুগছে। তাকে দেখে মনে হয় যে সে যেন লোহিততপ্ত লাঙ্গলের ফলার। উপর হাঁটছে।
[বসোলার প্রবেশ] এই যে বসোলা, তোমার তথ্য সংগ্রহের কাজ কেমন চলছে?
বসোলাঃ স্যার, একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারিনি। জনশ্রুতি আছে যে তিনি (ডাচেস) এখন তিনটি জারজ সন্তানের মাতা। কিন্তু কার ঔরসে তাদের জন্ম সে কথা জানার জন্য হয়তো আমাদের গ্রহ নক্ষত্রের সাহায্য নিতে হবে।
ফার্ডিনান্ডঃ আরে, কারো কারো মতে তো সবকিছুই নক্ষত্র রাজির গায়ে লিখা থাকে।
বসোলাঃ হ্যা, তাদের মতই সত্য প্রতীয়মান হতো যদি ঐ লেখা পড়ার মতো চশমা আমরা খুঁজে বের করতে পারতাম। আমার সন্দেহ হয় ডাচেসের উপর মায়াবিদ্যা প্রয়োগ করা হয়েছে।
ফার্ডিনান্ডঃ বল কি, মায়াবিদ্যা! কোন উদ্দেশ্য সাধনে তা ব্যবহার করা হয়েছে।
বসোলাঃ যাতে তিনি এমন কোন অপদার্থকে অত্যধিক ভালবেসে ফেলেন যার সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করতে তাঁর লজ্জা হয়।
ফার্ডিনান্ডঃ তোমার ধর্মে কি ভাবার অবকাশ আছে যে, তরল ঔষধ বা যাদুমন্ত্রের এমনই ক্ষমতা যে তার প্রভাবে আমরা ইচ্ছা বা অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রেম করতে বাধ্য হই।
বসোলাঃ আমি দৃঢ়ভাবেই এটা বিশ্বাস করি।
ফার্ডিনান্ডঃ বাদ দাও ঐসব কথা। এসব নিছক ভয়াবহ ছল-চাতুরী। কতিপয় প্রবঞ্চক হাতুড়ে আমাদের প্রতারিত করার জন্য এসব জিনিস আবিষ্কার করেছে। তুমি কি মনে কর ভেষজ অথবা যাদুমন্ত্র ইচ্ছাশক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে? ঐসব তুচ্ছ পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু দেখা গিয়েছে পরীক্ষার উপকরণগুলো মৃদু বিষাক্ত এবং সেগুলো রোগীকে উম্মাদ বানানোর ক্ষমতা রাখে। এগুলো প্রয়োগের পর ডাইনীরা দ্ব্যর্থ বোধক ভাষায় হলফ করে বলে যে রোগী প্রেমে পড়েছে। এই ডাইনী বিদ্যা তার দুর্গন্ধযুক্ত রক্তের মাঝে নিহিত আছে। আজ রাতে আমি তার নিকট থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করব। তুমি বলেছিলে যে গত দুদিনের ভিতর তার শয়নকক্ষের একটা দু-নম্বরী চাবি যোগাড় করেছ।
বসোলাঃ হ্যা, আমি ঐ চাবি পেয়েছি।
ফার্ডিনান্ডঃ আমি ঠিক এটাই চাচ্ছিলাম।
বসোলাঃ আপনি এখন কি করতে চান?
ফার্ডিনান্ডঃ তুমি কি কিছু অনুমান করতে পারছ?
বসোলাঃ না।
ফার্ডিনান্ডঃ তাহলে এই সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন করো না। যে ব্যক্তি আমার অভিসন্ধি অনুধাবন করতে পারবে ও আমার পরিকল্পনা আঁচ করতে পারবে সে দাবী করতে পারবে যে পৃথিবীর চারপাশ দিয়ে সে বন্ধনী জড়িয়েছে এবং যাবতীয় চোরাবালির গভীরতা মেপেছে।
বসোলাঃ আমি তা মনে করি না।।
ফার্ডিনান্ডঃ তাহলে দয়া করে বলতো, আমার সম্বন্ধে তোমার ধারণাটা কি?
বসোলাঃ আমি মনে করি, আপনি নিজের কথা অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলেন এবং ভীষণ আত্মশ্লাঘা বোধ করেন।
ফার্ডিনান্ডঃ তোমার হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দাও, আমি তোমাকে ধন্যবাদ জানাব। তোমাকে নিযুক্ত করার পূর্বে আমি যাদের পুরস্কৃত করেছি তাদের প্রত্যেকেই ছিল চাটুকার।বিদায়, যে বন্ধু সমালোচনার মাধ্যমে শক্তিমান ব্যক্তির ত্রুটিগুলো বিশ্বাসযোগ্যরূপে তার সম্মুখে তুলে ধরতে পারে কেবল সেই ঐ ব্যক্তিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
[প্রস্থান]
দি ডাচেস অভ মালফি
তৃতীয় অঙ্ক
দ্বিতীয় দৃশ্য
[একই প্রাসাদে ডাচেসের শয়নকক্ষ]
[ডাচেস, অ্যান্টনিওঃ ক্যারিওলার প্রবেশ]
ডাচেসঃ আমার আয়না আর গয়নার বাক্স এখানে নিয়ে এসো। মান্যবরেষু, আজ রাতে কিন্তু এখানে তোমার ঠাই হবে না।
অ্যান্টনিওঃ বাস্তবিকই, তোমাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে একটা জায়গা আমার আদায় করতে হবে।
ডাচেসঃ খুব ভাল কথা। আশা করি এমন একটা সময় আসবে যখন অভিজাত ব্যক্তিরা টুপি হাতে নিয়ে নতজানু হয়ে স্ত্রীদের নিকট রাতে তাদের শয়নকক্ষে অবস্থানের অনুমতি নিতে আসবে এবং এটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়াবে।
অ্যান্টনিওঃ আমি অবশ্যই এখানে ঘুমাব।
ডাচেসঃ বল কি, অবশ্যই? তুমি হলে অনিয়মের রাজা।
অ্যান্টনিওঃ আসল কথা হল আমার শাসন চলে কেবল রাত্রি বেলায়।
ডাচেসঃ আমি তোমার মুখ বন্ধ করে দেব। [তিনি স্বামীকে চুম্বন করলেন]
অ্যান্টনিওঃ না, একটি মাত্র চুম্বন যথেষ্ট নয়। ভেনাসের রথ টেনে নিয়ে যেত দুটো কোমল ঘুঘু পাখি। অতএব আরেকটা চুম্বন আমার অবশ্যই প্রাপ্য । [ ডাচেস তাকে আবার চুম্বন করলেন] । -আচ্ছা ক্যারিওলা, তুমি কবে বিয়ে করবে?
ক্যারিওলাঃ প্রভু, আমি কখনই বিয়ে করব না।
অ্যান্টনিওঃ ধিক, এই একাকী জীবনকে। ঐ জীবন যাপনের ইচ্ছা ত্যাগ কর। ডেফনি বোকার মত পালাতে গিয়ে নিষ্ফলা লরেল বৃক্ষে পরিণত হয়েছিল। সিরিঙ্কস পরিণত হয়েছিল এক অনুজ্জ্বল নলখাগড়ায়; অ্যানাক্সারীট জমাট বেঁধে পাথরস্তম্ভে পরিণত হয়েছিল; এ সব কাহিনী (বানোয়াট কিচ্ছাকাহিনী) আমরা পড়েছি। অপরদিকে যারা বিয়ে করে ভালোবাসার মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেছে তারা স্রষ্টার কৃপায় জলপাই, ডালিম অথবা তুঁত গাছে কিংবা পুষ্প, মূল্যবান পাথর অথবা বিশিষ্ট তারকায় রূপান্তরিত হয়।
ক্যারিওলাঃ এগুলি অসার কাব্যকথা। কিন্তু, দোহাই আপনার, বলুনতো তিনজন ভিন্ন ভিন্ন যুবক, যাদের একজন জ্ঞানী, অন্য জন ধনী এবং অবশিষ্টজন রূপবান, যদি আমায় বিবাহের প্রস্তাব দেয় তবে আমি কোনজনকে পছন্দ করব। .
অ্যান্টনিওঃ এতো কঠিন প্রশ্ন। প্যারিসও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি অন্ধের মতো বিচার করেছিলেন। তবে তার পিছনে একটা বড় কারণ ছিল। তাঁর সামনে তিন তিনজন প্রেমপিয়াসী সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় আবির্ভূত হয়েছিলেন। তখন তার পক্ষে সঠিক বিচার করা কি সম্ভব ছিল? এমন একটি দৃশ্য ইউরোপের সর্বাপেক্ষা স্থিরমস্তিষ্কের আইনজীবির বিচারবুদ্ধিকেও বিভ্রান্ত করে দিতে সক্ষম। এই মুহূর্তে তোমাদের দুইজনের এত সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে। সে প্রশ্নটা এখন করতে চাই।
ক্যারিওলাঃ প্রশ্নটা কি?
অ্যান্টনিওঃ ভেবে অবাক হই কেন কুরূপা ভদ্রমহিলারা অধিকাংশ সময় ততোধিক কুৎসিৎ নারীদের পরিচারিকা হিসাবে রাখেন এবং কেনই বা তারা সুন্দরী পরিচারিকাদের সহ্য করতে পারেন না।
ডাচেসঃ ও, এই তোমার প্রশ্ন। অচিরেই এর উত্তর দেওয়া হবে। তুমি কি জীবনে এমন কোন অদক্ষ চিত্রকরের কথা শুনেছ যে স্বেচ্ছায় কোন উৎকৃষ্ট আঁকিয়ের দোকানের নিকট বসবাস করতে চায়? তাতে তার আঁকা মুখচ্ছবিগুলোর অবমূল্যায়ন হয় এবং তার সর্বনাশ হয়। দয়া করে আমায় বল আমরা কি কখনও এত আনন্দে ছিলাম -আমার চুলে জট বেধে যাচ্ছে।
অ্যান্টনিওঃ ক্যারিওলা, তোমার কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। চল আমরা তাকে আপনমনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চুপিসারে এই ঘর ত্যাগ করি। অতীতেও সে যখন বেশী বিরক্ত বোধ করেছে, আমি বিভিন্ন সময়ে এই একই কৌশল অবলম্বন করেছি। তাকে রাগান্বিত অবস্থায় দেখতে আমার ভাল লাগে। ক্যারিওলা, নিঃশব্দে বেরিয়ে এসো।
[অ্যান্টনিওঃ ক্যারিওলার প্রস্থান]
ডাচেসঃ আমার চুলের রং কি বদলানো শুরু করেনি? যখন আমার চুল ধূসর হয়ে যাবে আমি দরবারের সবাইকে নিজ নিজ চুলে পাউডার দিতে বলব যাতে ওদেরকে আমার মতই দেখায়। নানা কারণে তুমি আমায় ভালবেসেছ। তুমি আমার হৃদয়মঞ্জিলে প্রবেশের চাবি চাওয়ার আগেই আমি তোমাকে অন্তরে ঠাই দিয়েছি।
[পশ্চাৎ থেকে ফার্ডিনান্ডের প্রবেশ]
একদিন দেখা যাবে অসতর্ক অবস্থায় তুমি আমার ভাইদের হাতে ধরা পড়েছ। আমি ভাবছি যেহেতু আমার ভ্রাতা এই প্রাসাদে অবস্থান করছেন, তোমার নিজ শয্যায়ই রাত কাটানো উচিত। কিন্তু তুমি বলতে পার যে ভালবাসার সাথে ভয়ের সংমিশ্রণ ঘটলে তা মধুরতম হয়। আমার ভাইরা তোমার সন্তানের ধর্মপিতা হতে রাজী না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর সন্তান নিব না। এ ব্যাপারে আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি। তুমি কি বাকশক্তি হারিয়েছ? এ শুভ সংবাদ। কারণ তুমি জেনে রেখ আমার ভাগ্যে আয়ু লাভ বা মৃত্যুবরণ যাই লেখা থাক না কেন তা আমি রাজোচিত ভাবেই মেনে নিব।
ফার্ডিনান্ডঃ তাহলে ঝটপট মরে যাও।
[তিনি ডাচেসের হাতে একটা ছোরা তুলে দিলেন]
হায় সতীত্ব তুমি কোথায় লুকিয়েছ? কোন বীভৎস জিনিস তোমার ঔজ্জ্বল্য ম্লান করে দিয়েছে।
ভাচন ও দোহাই, প্রভু। আমার কথাটা শুনুন।
ফার্ডিনান্ডঃ হে সতীত্ব, এও কি সত্য যে তুমি শুধু নামেই রয়েছ? তোমার কি কোনই প্রয়োজনীয়তা নেই।
ডাচেসঃ প্রভু-
ফার্ডিনান্ডঃ কথা বলো না।
ডাচেসঃ না, প্রভু। আপনার কথা শোনার জন্য আমি মনপ্রাণ ঢেলে দিব।
ফার্ডিনান্ডঃ হায়, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি বড়ই ত্রুটিপূর্ণ। ফলে যা ঘটে যাওয়া রোধ করতে আমরা কমই পারি তা আগেই বুঝতে পেরে আমরা এত অসুখী হয়ে যাই। আপন ইচ্ছামতো চল এবং তাতেই পুলকিত হও। লাজ-লজ্জা হারিয়ে ফেলা ও নির্লজ্জতার সীমা ছাড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কলঙ্কিত জীবনের মাঝে কোন শান্তি পাওয়া যায় না।
ডাচেসঃ দোহাই প্রভু, আমার কথাটা শুনুন। আমি বিবাহিতা।
ফার্ডিনান্ডঃ তাই না কি?
ভাচেসঃ বিয়ে করে আমি সুখী হয়েছি; তবে বিয়েটা হয়ত আপনার পছন্দসই হবে না। কিন্তু যে পাখী ইতোমধ্যেই উড়াল দিয়েছে তার ডানা ছেটে ফেলার জন্য বড় অসময়ে আপনি কঁচি নিয়ে এসেছেন। আপনি কি আমার স্বামীর সাথে দেখা করবেন?
ফার্ডিনান্ডঃ হ্যা, যদি ব্যাসিলিস্কের চক্ষুর সাথে আমার চোখ দুটো বিনিময় করতে পারি তা হলে---------
ডাচেসঃ এটা নিশ্চিত যে, আপনি তার সহযোগিতায় এখানে এসেছেন।
ফার্ডিনান্ড ওঃহে, তোমার মতো কালপেঁচার কাছে বাঘের গর্জনও সুরেলা মনে হবে। দোহাই তোমার, চুপ কর।
-আমার বোনকে যে ব্যক্তি ভোগ করেছ তাকেই বলছি কারণ আমি নিশ্চিত যে তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ। তুমি যেই হওনা কেন তোমার আপন নিরাপত্তার খাতিরে যেন তোমার পরিচয় আমি জানতে না পারি। তোমাকে খুঁজে বের করার প্রস্তুতি নিয়েই আমি এখানে এসেছিলাম তথাপি আমি এখন বুঝতে পেরেছি যে সে ধরনের প্রয়াস এত সহিংসতার সৃষ্টি করবে যে আমাদের দুজনকেই জাহান্নামে যেতে হবে। আমাকে এক কোটি পাউণ্ড দেওয়া হলেও আমি তোমার মুখ দেখব না। তাই আমি যেন কোনদিন তোমার নাম না জানতে পারি সেজন্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই শর্ত মোতাবেক তুমি তোমার কাম চরিতার্থ করতে পারবে তবে তোমাকে দুর্ভাগা জীবন যাপন করতে হবে। আর এই যে দুশ্চরিত্রা মহিলা, যদি তোমার শখ থাকে যে তোমার ঐ উপপতিটি তোমার বাহুডোরে থেকেই বৃদ্ধ হবে তাহলে আমি তার জন্য এমন একটি ঘর তৈরী করে দেব যেমনটি আমাদের দরবেশরা পবিত্র কাজে ব্যবহার করতেন। তার মৃত্যু ঘটা না পর্যন্ত তার মাথায় যেন সূর্য কিরণ বর্ষিত না হয়। বাঁদর এবং কুকুরের ন্যায় অন্যান্য ভাষাহীন প্রাণী যার তার নাম উচ্চারণ করতে পারবে কেবল তাদের সাথেই যেন সে কথা বলার সুযোগ পায়। তুমি যেন টিয়া পাখী পুষো না কারণ পাখীটি তার নাম উচ্চারণ করা শিখে যেতে পারে। যদি তাকে ভালবেসে থাক তবে নিজের জিহবাই কেটে ফেল। নইলে হয়তো তার অজ্ঞাতসারেই তুমি তার নাম প্রকাশ করে ফেলবে।
অচেসঃ আমার বিয়ে করতে বাধা কোথায়? পুনর্বিবাহ করে আমি তো কোন নতুন পৃথিবী বা নতুন প্রথার সৃষ্টি করিনি।
ফার্ডিনান্ডঃ তুমি নিজের সর্বনাশ করেছ। তোমার মৃত স্বামীর হাড়সম্বলিত কফিনটার উপরের সীসানির্মিত ভারী ঢাকনাটা তুমি সরিয়ে ফেলেছ এবং সেই গুরুভার আমার বুকে বেঁধে দিয়েছ।
ডাচেসঃ তার জন্য আমার হৃদয়ে এখনও রক্তক্ষরণ হয়।
ফার্ডিনান্ডঃ তোমার? তোমার আবার হৃদয় আছে নাকি! কামনার আগুনে ভরা একটি ফাপা কামানের গোলা ছাড়া আর কি অভিধায় তোমার হৃদয়কে আমি আখ্যায়িত করতে পারি।
ডাচেসঃ এ ব্যাপারে আপনি বড় বেশী কড়া; যদি আপনি আমার ভ্রাতা ও রাজা না হতেন তবে বলতাম যে আপনি অতিরিক্ত একগুঁয়ে; আমার সুখ্যাতি বিপন্ন হয়নি।
ফার্ডিনান্ডঃ তুমি কি জান সুখ্যাতি বলতে কি বুঝায়? তোমাকে সে কথা বলে বিশেষ লাভ হবে না কারণ অনেক বিলম্ব হয়ে গিয়েছে। শিক্ষাদানের সময় আর নেই। একটা গল্প বলি শোন। একদা সুখ্যাতি, প্রেম ও মৃত্যু পৃথিবী ভ্রমণের পরিকল্পনা আঁটলো। তারা স্থির করল যে পরস্পরের থেকে বিদায় নিয়ে তারা তিনটি ভিন্ন পথে সফরে বের হবে। মৃত্যু সঙ্গীদের বলল যে, তাকে তারা মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অথবা মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটা শহরে খুঁজে পাবে। প্রেম ওদের বলল যে উচ্চাকাঙ্খহীন রাখাল সম্প্রদায়ের মাঝে তার সন্ধান করতে। তারা যৌতুক নিয়ে মাথা ঘামায় না। পিতামাতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছুই পায়নি এ ধরনের শান্তিপ্রিয় লোকদের মাঝেও তার খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। তখন সুখ্যাতি বলল দাঁড়াও, আমাকে ফেলে যেওনা কারণ আমি যদি আমার পরিচিত লোকের নিকট থেকে চলে যাই তবে সে আমাকে আর কোনদিন খুঁজে পাবে না। এটাই আমার স্বভাব। তোমার ক্ষেত্রে তেমনটিই ঘটেছে। তুমি সুখ্যাতির সাথে বিদায়সূচক করমর্দন করেছ ফলে তোমার জীবন থেকে সুখ্যাতি বিলীন হয়ে গিয়েছে। অতএব, বিদায়। আমি আর কখনো তোমার মুখ দেখব না।
ডাচেসঃ পৃথিবীর সকল রাজপুত্র ও রাজকন্যার মাঝে কেবল আমাকেই পবিত্র স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে বাক্সবন্দী হয়ে থাকতে হবে? আমি তো বিগত যৌবনা নই। আমার যৎসামান্য রূপও আছে।
ফার্ডিনান্ডঃ পৃথিবীতে এমন কিছু কুমারী দেখতে পাওয়া যায় যারা ডাইনীর সমতুল্য। আমি আর কোনদিন তোমার সাথে দেখা করব না।
[প্রস্থান]
[ক্যারিওলার প্রবেশ। একটি পিস্তলসহ অ্যান্টনিওর পুনঃপ্রবেশ]
ডাচেসঃ তুমি কি ঐ প্রেতাত্মাটিকে দেখেছ?
অ্যান্টনিওঃ হ্যাঁ, কেউ আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এজন্য তোমার (ক্যারিওলার) দিকেই এই অস্ত্র তাক করা উচিত।
ক্যারিওলাঃ প্রভু, আমার অনুরোধ তাই করুন। আপনি যখন আমার হৃদয় বিদীর্ণ করবেন, আমার নির্দোষিতা আপনার দৃষ্টিগোচর হবে।
ডাচেসঃ উনি ঐ গ্যালারী দিয়ে প্রবেশ করেছেন।
অ্যান্টনিওঃ আমি চাই ঐ ভয়ঙ্কর চিজটা পুনরায় আসুক। তাহলে নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করার পর আমি তার নিকট আমার ভালবাসার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারতাম।
[ ডাচেস তাকে ছোরাটি দেখালেন ]
হায়, হায় এর অর্থ কি?
ডাচেসঃ তিনি ওটা আমার কাছে রেখে গিয়েছেন।
অ্যান্টনিওঃ অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তিনি চেয়েছেন ছোরাটি দিয়ে তুমি নিজেকেই আঘাত কর।
ডাচেসঃ তাঁর কার্যকলাপ দেখে তেমনটিই তো মনে হয়।
অ্যান্টনিওঃ এই ছোরাটির হাতল এবং ফলা উভয়ই বিদ্যমান। ছোরাটি উনার দিকে ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ ফলাটি তাঁর বিদ্বেষ ভরা অন্তরে বিধিয়ে দিত।
 [ দরজা ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শোনা গেল]
-এ কি? দরজা ধাক্কাচ্ছে কে? আরো বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে কি?
ডাচেসঃ মনে হচ্ছে আমি যেন একটা বিস্ফোরণোন্মুখ মাইনে পা রেখেছি।
ক্যারিওলাঃ বসোলা আসছে।
ডাচেসঃ এখান থেকে সরে যাও। হায়, একি যন্ত্রণা! আমার মনে হয় অপকর্মগুলোকেই মুখোশ ও পর্দার সাহায্যে আড়াল করে রাখতে হয়। আমাদের তা করার প্রয়োজন নেই। তুমি এখনি এই স্থান ত্যাগ কর। আমি ইতোমধ্যেই একটা পরিকল্পনা এঁটেছি।
[অ্যান্টনিওর প্রস্থান]
[বসোলার প্রবেশ ]
বসোলাঃ আপনার ভ্রাতা, ডিউক মহোদয় ভীষণ রেগে গিয়েছেন। তিনি তাড়াহুড়ো করে ঘোড়া ছুটিয়ে রোম অভিমুখে যাত্রা করেছেন।
ডাচেসঃ এত বিলম্বে?
বসোলাঃ উনি ঘোড়ায় চড়তে চড়তে বললেন আপনি নাকি সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
ডাচেসঃ আসলেই আমার ধ্বংস বড় নিকটবর্তী।
বসোলাঃ কেন, কি ব্যাপার।
ডাচেসঃ আমার গৃহস্থালীর তত্ত্বাবধায়ক অ্যান্টনিও হিসাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে আমার সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। নেপলসের কতিপয় ইহুদীর নিকট থেকে আমি টাকা ধার নিয়েছিলাম। আমার ভ্রাতা আমার জামিন হয়েছিলেন। কিন্তু অ্যান্টনিও চুক্তির শর্ত পালন করেনি।
বসোলাঃ আশ্চর্য ব্যাপার! (জনান্তিকে) এটা ডাচেসের চালাকী।
ডাচেসঃ এর ফলশ্রুতিতে আমার ভাই নেপলসে ঋণের আবেদন জানিয়ে প্রত্যাখাত হয়েছেন। আমার কর্মকর্তাদের ডেকে আন তো।
বসোলাঃ ডাকছি।
[প্রস্থান]
[অ্যান্টনিওর পুনঃপ্রবেশ]
ডাচেসঃ তোমার এখন অবশ্যই অ্যানকোনা নামক স্থানে পালিয়ে যেতে হবে। সেখানে একটি বাড়ী ভাড়া করবে। তুমি যাত্রা করার পর আমি আমার অলঙ্কার ও ধনসম্পদ তথায় প্রেরণ করব। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল তাই আমাদের দ্রুত কাজ করতে হবে। এখন দীর্ঘ আলাপ না করে ছোট ছোট শব্দে ভাব বিনিময় করতে হবে। আমি এখন তোমাকে এক মনগড়া অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করব। একেই ট্যাসো বলেন Magnanima menzogna অর্থাৎ এক মহান মিথ্যাভাষণ যা অবশ্যই আমাদের সম্মানকে সুরক্ষিত করবে। ঐ শোন, ওরা আসছে।
[বসোলা এবং কর্মকর্তাদের পুনঃপ্রবেশ]
অ্যান্টনিওঃ সম্মানিতা ডাচেস কি আমার বক্তব্য শুনবেন?
ডাচেসঃ তোমার নিকট থেকে আমি ভালই প্রতিদান পেলাম। তুমি আমার দশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেছ। তোমার মতো লোককে গৃহ তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে নিযুক্ত করায় সম্ভবতঃ আমাকে মানুষের অভিশাপ কুড়াতে হবে। হিসাব নীরিক্ষণের সময় তুমি চালাকি করে অসুস্থ হয়ে পড়তে। হিসাব সঠিক আছে বলে আমি স্বাক্ষর না দেওয়া পর্যন্ত তুমি অসুস্থ থাকতে। আর তারপর চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়াই ভাল হয়ে যেতে। ভদ্রমহোদয়গণ, আমি এই লোকটিকে শাস্তি দিয়ে তোমাদের সবার জন্য একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যাতে তোমরা আমার সুনজরে থাকতে পার। হায়, তোমরা চিন্তাই করতে পারবে না যে কি অপকর্ম সে করেছে। আমি ঘটনাটা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না কারণ আমি তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে চাই। (অ্যান্টনিওর প্রতি) এই চলে যাও। অন্যত্র তোমার ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখ।
অ্যান্টনিওঃ সাধারণতঃ মানুষ যেমন করে তার দুর্ভাগ্যের বছরটি পার করে তেমনভাবেই আমিও নিজের চাকুরীচ্যুতির ব্যাপারটি সহ্য করার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত। যার কারণে এ ঘটনা ঘটল আমি তাঁকে দায়ী করব না। ধরে নিব, ডাচেসের খামখেয়ালির জন্য নয় দুষ্টগ্রহের কারনেই এমন হল। হায়রে চাকুরীর ভিত্তি কতই পচনশীলঃ অনিশ্চিত! আপনারা হয়তো লক্ষ্য করছেন যে আমার অবস্থা হল সেই ব্যক্তির মতো যে শীতের রাতে নিভু নিভু আগুনের পাশে সুখনিদ্রায় দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত করে এবং ঐ স্থান ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক থাকে; তথাপি যেমন শীতকাতর হয়ে যে ওখানে প্রথম বসেছিল ঠিক তেমন অবস্থায়ই তাকে চলে যেতে হয়।
ডাচেসঃ তোমার যাবতীয় দায় দেনা সমন্বয় সাধনের জন্য আমরা তোমার সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলাম।
অ্যান্টনিওঃ আমি পুরোপুরি আপনার গোলাম। আর তাই এ কথা খুবই যৌক্তিক যে আমার যা কিছু আছে তার অধিকারী আপনিই।
ডাচেসঃ অতএব জনাব, তোমাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল।
অ্যান্টনিওঃ সুধি, আপনারা দেখুন মনপ্রাণ ঢেলে কোন রাজার সেবা করার পরিণতি কি হতে পারে।
[প্রস্থান]
বসোলাঃ বলপ্রয়োগ করে পাওনা আদায়ের এ এক দৃষ্টান্ত; সমুদ্র থেকে যে জলকণা আহরিত হয়, খারাপ আবহাওয়ার সময় সেগুলোই বৃষ্টির আকারে নেমে এসে পুনরায় সাগরে মিশে যায়।
ডাচেসঃ আমি অ্যান্টনিও সম্পর্কে তোমাদের অভিমত জানতে চাই।
২য় কর্মকর্তাঃ সে রান্না করা শূকরের হা হয়ে থাকা মুখের দৃশ্য সহ্য করতে পারে না। আমার মনে হয় মাননীয়া ডাচেস জানতে পারতেন যে একজন ইহুদীর মতই লোভী।
৩য় কর্মকর্তাঃ আহা, আপন স্বার্থ চরিতার্থের জন্য আপনিই যদি তার কর্মকর্তা হতেন!
৪র্থ কর্মকর্তাঃ তাহলে আপনি অধিকতর অর্থ লাভ করতেন।
১ম কর্মকর্তাঃ সে তার কানের ছিদ্র কালো পশমী কাপড় দিয়ে বন্ধ করে রাখত এবং কেউ টাকার জন্য তার কাছে এলে তাকে বলত যে সে কানে কম শুনে।
২য় কর্মকর্তাঃ কেউ কেউ বলত যে সে উভলিঙ্গ ব্যক্তি কারণ সে মহিলাদের সহ্য করতে পারে না।
৪র্থ কর্মকর্তাঃ যখন কোষাগার পূর্ণ থাকত তাকে কতই না নীচ আর দাম্ভিক দেখাত। ভালই হয়েছে, তাকে চলে যেতে দিন।
১ম কর্মকর্তাঃ হ্যা, সে বিভিন্ন উৎস থেকে যে অর্থ কামিয়েছে তার কিছু অংশ নিয়েই সে চলে যাচ্ছে যাতে তার সোনার চেনটির ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়।
ডাচেসঃ তোমরা এখন যাও।
[কর্মকর্তাদের প্রস্থান]
[(বসোলার প্রতি)] ওদের সম্পর্কে তুমি কি ধারণা পোষণ কর?
বসোলাঃ এরা সবাই দুবৃত্ত। অ্যান্টনিওর সুসময়ে ওরা তার খেদমত করেছে। ওরা তার ঘোড়ার ময়লা নালের গন্ধ শুকেছে, খচ্চরের মত তাকে অনুসরণ করেছে এবং তার সম্মুখে সার্কাসের ভালুকের মত নর্তন কুর্দন করেছে। তার লালসা চরিতার্থের জন্য আপন কন্যাদের উৎসর্গ করেছে এবং জ্যেষ্ঠপুত্রদের তার জন্য গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত করেছে। তারা ভেবেছে যারা অ্যান্টনিওর অনুগ্রহপ্রাপ্ত এবং যারা তার দেওয়া উর্দি পড়েছে তারা ছাড়া আর কেউ সুখী নয় অথচ এখন তারা উকুনের মত ঝরে পড়েছে। যা হোক, আপনি কখনো তার মতো আর একজন লোক খুঁজে পাবেন না। সে এক শ্রেণীর দুবৃত্ত ও চাটুকারদের রেখে গিয়েছে। তাদের ধ্বংস অনিবার্য। রাজ-রাজড়ারা নিজেদের পয়সায়ই চাটুকারদের পোষেন; চাটুকাররা মনিবদের অনাচারের কথা গোপন রাখে আর চাটুকাররা যেসব মিথ্যা কথা বলে মনিবরা তা গোপন রাখেন। এটাই নাকি ন্যায়বিচার। হায়রে দরিদ্র ভদ্রলোক!
ডাচেসঃ তুমি তাকে দরিদ্র বলছ! সে তো কেবল নিজের পেটিকাই পূর্ণ করেছে।
বসোলাঃ নিশ্চিতভাবেই সে ছিল অতি সৎ। জুপিটার যখন প্লুটোকে কোন মানুষের কাছে পাঠাতেন তখন প্লুটো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। এই আচরণের অর্থ ঈশ্বরের প্রশংসা করে যে সম্পদ পাওয়া যায় তা ধীরে ধীরে হাতে আসে। কিন্তু যখন শয়তান তাঁকে প্রেরণ করে তখন তিনি অশ্বপৃষ্ঠে আসীন হয়ে দ্রুতবেগে ধাবিত হন। আপনি খামখেয়ালি করে কি অমূল্য রত্ন পথের ধূলায় নিক্ষেপ করলেন তা আপনার দৃষ্টিগোচর করতে দিন। যে লোক এই সম্পদ খুঁজে পাবে আপনি তারই উপকার করেছেন। সে ছিল একজন চমৎকার ও অতি বিশ্বস্ত অমাত্য; সে এমন এক সৈনিক যে ভাবত নিজেকে অবমূল্যায়ন করা যেমন পশুত্বের পরিচায়ক তেমনি আত্মগর্ব করাটাও শয়তানোচিত আচরণ। স্বীয় গুণাবলী ও শিষ্টাচারের জন্য সে ভাগ্যের আরো আনুকূল্য পাবার দাবীদার ছিল। কথাবার্তা বলার সময় নিজেকে জাহির করার চাইতে আত্মসমালোচনা করেই আনন্দ পেত। তার অন্তরটা নৈতিক গুণাবলীতে পরিপূর্ণ তথাপি সে এগুলো প্রায় নীরবেই লালন করত এবং বড় গলায় এ সব গুণ জাহির করত না।
ডাচেসঃ কিন্তু তার জন্ম হয়েছে নীচ বংশে।
বসোলাঃ আপনি কি নিজেকে একজন অর্থগৃধু ব্যক্তিতে পরিণত করতে চান যার কাজ হল বংশবৃত্তান্ত সংরক্ষণ? আপনি কি মানুষের গুণের চেয়ে তার বংশলতিকাই বেশী পরখ করেন? আপনি তার অভাব বোধ করবেন। জেনে রাখুন যে রাজার নিকট একজন সৎ প্রশাসকের স্থান ঝর্ণার পাশে রোপিত সেডার বৃক্ষের সমতুল্য। ঝর্ণার সুশীতল জলে বৃক্ষমূল বিধৌত হয়; আর কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ বৃক্ষ ছায়া দিয়ে ঝর্ণাকে পুরস্কৃত করে। কিন্তু আপনি তা করেননি। যে রাজার মতি গতি এতই পরিবর্তনশীল তার অনুগ্রহের উপর নির্ভর করার চেয়ে জনা দুই রাজনীতিবিদের থলে এবং গুপ্তচরের হৃদয়তন্ত্রীর উপর ভেসে থেকে সাঁতরিয়ে বারমুডা গমন করাও অধিকতর ভাল বলে আমি মনে করি। অ্যান্টনিও, তোমার যাত্রা শুভ হোক। পার্থিব জগতের হিংসা বিদ্বেষ তোমার পতন ঘটাল। যেহেতু নৈতিক স্থলনের কারণে তোমার পতন হয়নি অতএব এখনই বলা যাচ্ছে না যে এতে তোমার কোন ক্ষতি হল কিনা?
ডাচেসঃ আহা তোমার কথাগুলো সুমধুর সঙ্গীতধ্বনির মত শোনাচ্ছে।
বসোলাঃ আপনি কি এ কথা মন থেকে বলছেন?
ডাচেসঃ যে মহান লোকটি সম্বন্ধে তুমি কথা বলছ তিনিই আমার স্বামী।
বসোলাঃ আমি স্বপ্ন দেখছি না তো? যে যুগে সবাই উচ্চাকাঙখা চরিতার্থের নেশায় ব্যাগ্র, সে সময়ে এত মহৎ কেউ আছে কি যে মেকী বংশ মর্যাদা এবং অর্থ-বিত্তের দিকটা অগ্রাহ্য করে নিছক সদগুণাবলীর জন্য কোন ব্যক্তিকে পছন্দ করবে? এও কি সম্ভব?
ডাচেসঃ তার ঔরসে আমার তিনটি সন্তান রয়েছে।
বসোলাঃ আপনি ভাগ্যবতী কারণ আপনি বাসরশয্যা রচনার মাধ্যমে এক শান্তি ও সুখের বাসা গড়ে তুলেছেন। যেসব বিদ্বান ব্যক্তি কারো পৃষ্ঠপোষকতা পান না, তারা এই কাজের জন্য আপনারা মঙ্গল কামনা করবেন। এতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। তারা এটা ভেবে উল্লসিত হবেন যে এখনও এই পৃথিবীতে গুণের কিছুটা কদর আছে। আপনার রাজ্যের কুমারী মেয়েরা, যৌতুক প্রদানের মত সঙ্গতি যাদের নেই, আশা করবে যে আপনার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ধনীর দুলালরা তাদের বিবাহ করবে। এই মহান কাজের জন্য তুর্কীরা এবং মুররা পর্যন্ত খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করে আপনার সৈন্যের অভাব পূরণ করবে ও আপনাকে সেবা করবে। সর্বোপরি এ যুগের অবহেলিত কবিরা আপনার সুন্দর হাতের ছোঁয়ায় যে লোকটির কপাল ফিরেছে তাকে সম্মান দেখাতে গিয়ে আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। জীবিত সকল রাজা বাদশার চেয়েও আপনার নামকে তারা আরো শ্রদ্ধার্য করে তুলবে। একইভাবে অ্যান্টনিও সম্বন্ধে বলা যায় যে যখন বংশবৃত্তান্ত সংরক্ষণকারীরা মানুষের কাছে বিক্রয় করার মতো কোর্ট অব আর্মস (অর্থাৎ স্মারকচিহ্ন) খুঁজে পাবে না তখনও বহু লেখকের লেখনী থেকে তার সুখ্যাতি ঝরে পড়বে।
ডাচেসঃ তোমার বন্ধুত্বপূর্ণ কথার্বাতার মাঝে আমি সান্ত্বনার পরশ অনুভব করছি। তাই আমি আশা করি তুমি এই ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করবে।
বসোলাঃ হ্যা, আমার শাসনকর্তার গোপনীয় তথ্যাদি, আমি হৃদয়ের গভীরেই লালন করব।
ডাচেসঃ তুমি আমার যাবতীয় অর্থ ও মণি মানিক্য তত্ত্বাবধানের ভার নেবে এবং তাকে অনুসরণ করবে কারণ সে অ্যানকোনায় আশ্রয় নিয়েছে।
বসোলাঃ তাই হবে-
ডাচেসঃ আর তুমি যাওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই আমিও সেখানে চলে যাব।
বসোলাঃ আমাকে ব্যাপারটা একটু ভাবতে দিন। মাননীয়া ডাচেস, আপনি লরেটোয় অবস্থিত মাতা মেরীর উপাসনালয় পরিদর্শনে যাওয়ার ভান করবেন। উপাসনালয়টা অ্যাঙ্কোনা থেকে বড় জোর একুশ মাইল দূরে। তাহলে আপনি আপনার মূল কর্মীবহর সহই সসম্মানে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন সে ক্ষেত্রে আপনার পলায়নের ব্যাপারটি আপনার ভ্রমণসূচীর অংশ বলেই প্রতীয়মান হবে।
ডাচেসঃ জনাব, আমি তোমার নির্দেশনা অনুযায়ীই অগ্রসর হব।
ক্যারিওলাঃ লুকার কূপে গোসল করতে যাওয়া অথবা জার্মানীর স্পা নামক স্থানে ভ্রমণ করাই ডাচেসের জন্য ভাল হবে। এটা আমার অভিমত। কারণ, যদি আমার কথা বিশ্বাস করেন তো বলি, তীর্থযাত্রার ভান করে ধর্ম নিয়ে এহেন মস্করা করাটা আমি পছন্দ করিনা।
ডাচেসঃ তুমি নির্বোধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। আমরা যাতে যাত্রা শুরু করতে পারি সেজন্য দ্রুত প্রস্তুতি নাও। অতীতের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আমরা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করব না। ভবিষ্যতে যেসব দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে সেগুলো প্রতিহত করার জন্য বিচক্ষণ পদক্ষেপ নিতে হবে।
[ডাচেসঃ ক্যারিওলার প্রস্থান]
বসোলাঃ রাজনীতিবিদগণ শয়তানের প্যাড আচ্ছাদিত নেহাই। শয়তান তাদের ঘাড়ের উপরই সব পাপাচারের পরিকল্পনা করে। তার হাতুড়ীর আওয়াজ কোনদিন শোনা যায় না। সে যে অভিজাত মহিলার কক্ষেও কার্যক্রম চালাতে পারে তার প্রমাণ তো এখানেই রয়েছে। এখন সবকিছু আমার প্রভুকে জানানো ছাড়া আর কোন কাজ বাকী আছে কি?
[হায়রে ঘৃণ্য গুপ্তচর বৃত্তি! তবে হ্যা, পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তিই কাজের জন্য পুরস্কার অথবা প্রশংসা পেতে চায়। এক্ষেত্রে, আমার ক্রিয়াকলাপের জন্য নিশ্চিত ভাবেই আমি পদোন্নতি লাভ করব। যে সব লোক ঘাসের ন্যায় বস্তুকেও বাস্তবসম্মত ভাবে আঁকতে পারে তারা প্রশংসিত হবেই।]
[প্রস্থান]
Next part - The Duchess of Malfi - John Webster - Bangla Translation - Act - 3 - Scene - 3-4-5

নাটকের উপরের অংশের টিকাসমূহ
তৃতীয় অঙ্ক ও প্রথম দৃশ্য।
১. প্যাস্কুইলঃ এক রোমান মুচির নাম। সম্ভবতঃ তিনি ব্যঙ্গ কবিতা লিখতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তার বাগান থেকে একটি মূর্তি খুঁড়ে বের করা হয় (১৫০১)। কার্ডিনাল ক্যারাফফা মূর্তিটি নিজ প্রাসাদের নিকট স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই মূর্তির উপর বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখা ব্যঙ্গ কবিতা আটকিয়ে দেওয়ার প্রথা চালু হয়ে যায়। এই সব লেখাও প্যাসকুইলস-পেপার নামে পরিচিতি লাভ করে।

তৃতীয় অঙ্কঃ দ্বিতীয় দৃশ্য।
১. ভেনাসঃ সৌন্দর্য ও প্রেমের দেবী। পুরাণে উল্লেখ আছে যে তিনি একটি রথে আসীন হয়ে ভ্রমণ করতেন। দুটি ঘুঘু পাখী ঐ রথ টেনে নিয়ে যেত।
২। ডাফনিঃ জলদেবতা পেনেউসের কন্যা। অ্যাপোলো তার রূপে অত্যন্ত মুগ্ধ হন। ডাফনি পলায়নের চেষ্টা করলে তিনি তার পিছু নেন। অ্যাপোলো যখন তাকে প্রায় ধরে ফেলেছিলেন তখন তার প্রার্থনা শুনে অন্য দেবতারা তাকে লরেল বৃক্ষে রূপান্তরিত করেন।
৩. সিরিঙ্কসঃ গ্রীক পুরাণোক্ত এক পরী। প্যান তার প্রতি প্রেমাসক্ত হয়ে পড়েন ও তার পিছু ধাওয়া করেন। সে লাডন নদীতে আশ্রয় নেয়। নিজ প্রার্থনানুযায়ী সে নলখাগড়ায় পরিণত হয় ।
৪। অ্যানাক্সারীটঃ সাইপ্রাসের এক রমণী। ইফিস তাকে ভালবাসত। কিন্তু অ্যানাক্সারীটের আচরণে সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যা করে। তার মৃত্যুতেও অ্যানাক্সারীট ভাবলেশহীন আচরণ দেখানোয় দেবী ভেনাস ক্রুদ্ধ হন। শাস্তিস্বরূপ তিনি ঐ রমণীকে পাথরের মূর্তিতে পরিণত করেন।
৫। এতৎসংক্রান্ত গল্পটি হলঃ আইরিস ব্যতীত সকল দেব দেবী পেলেউস ও থেটিসের বিবাহোৎসবে আমন্ত্রিত হন। আইরিস তখন একটি সোনার আপেল অতিথিদের মাঝে নিক্ষেপ করেন। আপেলের গায়ে লিখা ছিল সুন্দরী শ্রেষ্ঠার জন্য-হেরা, আফ্রোদিতি এবং এথেনা প্রত্যেকেই ঐ আপেলটি নিজের বলে দাবী করেন। দেবতা হার্মিস তিন দেবীকে ইডা পর্বতে নিয়ে যান। কে আপেলটি পাবেন তা বিচারের ভার দেওয়া হয় ট্রোজান রাজা প্রিয়ামের দ্বিতীয় পুত্র প্যারিসের উপর। তিন দেবী তাঁদের ভুবনমোহিনী রূপে প্যারিসের সম্মুখে হাজির হন। প্রত্যেকেই প্যারিসকে নানা উপহার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিচারের রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালান। প্যারিস আফ্রোদিতির পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীকালে, পূর্ব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক, দেবী আফ্রোদিতি স্পার্টার রাজা মেনেলউসের পরমাসুন্দরী স্ত্রীকে অপহরণের ব্যাপারে প্যারিসকে সহায়তা করেন। এই ঘটনা থেকেই ট্রয়ের যুদ্ধের সূচনা হয়।
৬. ব্যাসিলিস্কঃ এক কল্পিত প্রাণী। এই প্রাণী কারো দিকে দৃষ্টিপাত করলে অথবা কারো দেহে নিঃশ্বাস ফেললে সেই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
৭. ট্যাসোঃ ইতালীয়ান কবি (১৫৪৪-১৫৯৫ খ্রীঃ) জেরুজালেম ডেলিভার্ড' নামক গ্রন্থের রচয়িতা।
৮. প্লুটোঃ গ্রীক পুরাণ অনুসারে তিনি পাতালের অধীশ্বর। কিন্তু এক্ষেত্রে ওয়েবস্টার ভুল করে তাকে ঐশ্বর্যের দেবতা বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ধনসম্পদের দেবতার নাম হল প্লুটাস।

তৃতীয় অঙ্কঃ তৃতীয় দৃশ্য।
১. ১৫২৫ সালে প্যাভিয়ার যুদ্ধে ফরাসী বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে। বিজয়ী বাহিনীর নেতৃত্ব দান করেন ল্যানয় ও মার্কুইস অভ পেস্কারা। ল্যানয় ফরাসী রাজা প্রথম ফ্রান্সিসকে বন্দী করেন। নাট্যকার এক্ষেত্রেও একটা ভুল করেছেন। কারণ ডাচেসের প্রথম সন্তানের জন্ম যদি ১৫০৪ খ্রীষ্টাব্দে হয়ে থাকে তাহলে তিনি ১৫২৫ সালের বহু পূর্বেই অ্যানকোনায় পলায়ন করেছিলেন। অতএব বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে ডাচেসের পলায়নের সমসাময়িক কালে কারো পক্ষেই ল্যানয়ের বীরত্ব সম্পর্কে জানার কথা নয়।
২. একিলিসঃ বিখ্যাত গ্রীক বীর। ট্রয়ের যুদ্ধে তিনি অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন।
৩. হেক্টরঃ রাজা প্রিয়াম ও হেকুবার পুত্র। তিনি একজন বীর যোদ্ধা ছিলেন। ট্রয়ের যুদ্ধে তিনি একিলিসের হাতে নিহত হন।
৪. স্যালামান্ডারঃ এক প্রকার সরীসৃপ (মতান্তরে এক ধরনের আত্মা) যারা আগুনের মধ্যে বসবাস করতে সমর্থ বলে বিশ্বাস করা হতো।
৫. মাইকেল এঞ্জেলো ও বিখ্যাত ইতালীয়ান চিত্রকর ভাস্কর ও স্থপতি। তিনি ১৪৭৫ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৬৪ খ্রীষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

৬. পরপইজঃ এক প্রকার সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী। কথিত আছে যে ঝড় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে তারা পানির উপরে মাথা তোলে।


No comments:

Post a Comment

Popular Posts