Search This Blog

Total Pageviews

Sunday, January 6, 2019

King Oedipus Bangla Translation - Part - 14 - রাজা ঈডিপাস বাংলা অনুবাদ পর্ব ১৪

jocasta suicide
King Oedipus Bangla Translation - Part - 14  -  রাজা ঈডিপাস বাংলা অনুবাদ পর্ব ১৪




King Oedipus Bangla Translation - Part - 14  -  রাজা ঈডিপাস বাংলা অনুবাদ পর্ব ১৪
পর্ব ১৪ শুরুঃ  
[প্রাসাদের ভেতর থেকে একজন পরিচারক বেরিয়ে এল]
পরিচারক : ওহে, থীবস নগরীর সম্মানিত অমাত্যবর্গ, যে বেদনাপূর্ণ বিষয় আপনারা আপনাদের এ জীবনে কোন দিন প্রত্যক্ষ করেননি, সেই বেদনাবিধুর ঘটনা আজ আপনারা প্রত্যক্ষ করবেন এই ল্যাবডাকাসের রাজকীয় প্রাসাদে। গভীর সংগোপনে যে পাপের কালিমা জমেছে এই প্রাসাদের অন্দরমহলে, যে পাপের কলংক দাগ ইস্টার আর ফ্যাসিসের জলধারাও মুছতে পারবে না। আর এসব পাপাচার সংঘটিত হয়েছে তারই ইচ্ছাতে। বড়ই ভয়াল, বড়ই ভয়াল সেই পাপ
কোরাস : যাদের এই ভয়াল দুঃখ আর সমূহ বিপদের বিষয়ে মোরা পূর্ব থেকেই অবগত ছিলাম, তাদের কথা ছাড়া কার কথা বলছ তুমি?
পরিচারক : প্রথমেই সংক্ষেপে বলছি, আমাদের মাননীয়া রানী মৃত।
কোরাস গায়ক : হায়! হতভাগিনী! কী করে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটল?
পরিচারক : নিজেই নিজেকে হত্যা করেছেন তিনি। সে ঘটনা এতটাই হৃদয়বিদারক যে, আপনাদের সেটা না দেখাই ভালো। আমি মার সাধ্যানুযায়ী তার বর্ণনা দেব। প্রথমে তিনি দু'হাতে নিজের মাথার কেশ ছিড়তে ছিড়তে তাঁর বিছানায় ছুটে গেলেন। তিনি রাজা লেয়াসের সেই পুত্রের কথা স্মরণ করে উচ্চস্বরে রাজা লেয়াসের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন উন্মাদিনীর মতো। এই পুত্রের হাতেই তার পিতা নিহত হন আর এই পুত্রের সন্তানই তার মাতা গর্ভে ধারণ করেন। তিনি তার পুত্রের ঔরসজাত দুটি সন্তান নিজ গর্ভে ধারণ করেছেন এটা ভেবে পাগলের মতো আর্তচিৎকার করতে লাগলেন। এরপর কী করে তিনি মারা গেলেন আমরা তা বলতে পারব না। কারণ ঈডিপাস তখন ঝড়ের গতিতে সেখানে প্রবেশ করে আমাদের সরিয়ে দিলেন। ঈডিপাস তখন চারপাশে তাকিয়ে কী যেন খুঁজছিলেন। তিনি আমাদের অনুরোধ করলেন একটা তরবারি এনে দিতে। এরপর তিনি তার স্ত্রী অর্থাৎ তার মাতাকে খুঁজতে লাগলেন। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার কাছাকাছি ছিল। তিনি চারপাশে খুঁজতে খুঁজতে একটি কক্ষের বন্ধ দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করলেন। কক্ষের দরজা খুলে যেতেই আমরা সবাই দেখতে পেলাম রানী জোকাস্তা গলায় ঝাস লাগিয়ে ঝুলে আছেন। ফাসের দড়ি শিথিল করে ঈডিপাস রানীর মৃতদেহটা কক্ষের মেঝেতে নামালেন। এরপর রানীর কেশ থেকে স্বর্ণের ; কাটা খুলে নিয়ে নিজের দুচোখের তারায় বিধিয়ে দিয়ে আপনমনে বললেন, না জেনে তোমরা এমন এসব গোপনীয় অথচ দেখা নিষিদ্ধ অঙ্গ প্রত্যক্ষ করেছ, যেটা দেখাটা তোমাদের একেবারেই ঠিক হয়নি। আর অঙ্গের সেসব স্থান কোন দিনই দেখতে পাবে না তোমরা। এবার তোমরা চিরদিনের জন্য অন্ধ হয়ে যাও। এটা বলে তিনি ঘন ঘন তার অক্ষিকোটরে আঘাত করতে লাগলেন। অজস্র ধারায় কালো রক্ত ঝরতে লাগল তার চক্ষুযুগল হতে। ওদের দুজনের যৌথ পাপাচারে রাজপ্রাসাদে লেগেছে কলঙ্কচিহ্ন। একদা ঈডিপাসের পিতার এই প্রাসাদ ছিল সুখসম্পদে ভরপুর, এখন সেখানে শুধু মৃত্যুর করাল ছায়া, নিদারুণ শোক আর পাপের কলঙ্ক দাগে ভরা।
কোরাস গায়ক : আর তার অবস্থা এখন কেমন, এখনো তিনি যন্ত্রণায় মুহ্যমান?
পরিচারক : তিনি এখন চিৎকার করে সবাইকে ডেকে বলছেন, তাকে প্রাসাদ থেকে রাস্তায় বের করে দিতে। পুরো থীবসবাসীকে জড়ো করে তাকে যেন দেখানো হয়। তারা যেন এই পিতৃহত্যাকারী ও নিজ মাতাকে সম্ভোগকারী সেই পাপাচারীর পরিচয় সবার সামনে মেলে ধরে। ওইসব শব্দ আমি মুখে বলতে পারব না। তিনি বলেছেন তাকে যেন এই রাজপ্রাসাদ থেকে, এই রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। যে রাজপ্রাসাদ তার দ্বারা পূর্বেই কলংকিত হয়েছে। তার ছোয়ায় এবং তার অবস্থানে এই প্রাসাদ যেন আর কলুষিত না হয়। তিনি এখন আর কোথাও যেতে পারছেন না। তার একজন পথ দেখানোর লোক প্রয়োজন। তিনি আবার আপনাদের সামনেও উপস্থিত হবেন। এই তো তার কক্ষের দরজা খুলে গেল। এবার আপনারা সবাই নিজ চক্ষে তার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য অবলোকন করতে পারবেন। যে করুণ কাহিনী কানে শোনা যায় না সেটা আপনারা নিজ কানে শুনতে পাবেন।
[অন্ধ অবস্থায় ঈডিপাসের প্রবেশ]
কোরাস গায়ক : আহ, ওহে ভয়াল দুর্ভাগ্যের প্রতিমূর্তি। এমন ভয়াল দৃশ্য আমি এ জীবনে কখনো দেখিনি। কী করে তোমার এই উন্মাদ অবস্থা হল। কোন অদৃশ্য শত্রু অমানুষিক প্রতিহিংসাবশে তোমাকে তার শিকারে পরিণত করেছে? তোমাকে দেখে আমার বুকটা এতটাই কম্পিত হচ্ছে যে, অনেক কিছু জানার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তোমাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছি না, তোমার মুখের দিকে পর্যন্ত তাকাতে পারছিনা আমি।
ঈডিপাস : ওহ, কী নিদারুণ যন্ত্রণা! আমি কোথায়? আমার এই কণ্ঠস্বর বাতাসে ভর করে কত দূর যাচ্ছে? ভাগ্য আমার, কত দূর তোমার বিস্তার আমার তরে?
কোরাস গায়ক : এমন অকথ্য বাণী মরণশীল কখনো শোনেনি, এমন ভয়াল ব্যাপার কখনো দুচোখে দেখেনি।
ঈডিপাস : ওহে, অসহ্য ভয়াল অন্ধকার রাত, আমার চোখের আলো নিভিয়ে দিয়েছ, এখানে নেই কোন দিবালোক, কালো মেঘমালা আমাকে ভাসিয়ে নিচ্ছে কোথায়। ওহু, ফের আবার আমার হৃদয় স্মৃতির মর্মজ্বালায় তাড়িত হচ্ছে।
কোরাস গায়ক : একই সাথে নিদারুণ মর্মজ্বালা সহ্য করা আর তার তরে বিলাপ করতে হচ্ছে তোমাকে। দ্বিগুণ জ্বালায় জ্বলছ তুমি।
ঈডিপাস : আমার তরে তোমার অকপট ভালোবাসা আজো অটুট রয়েছে দেখছি বন্ধু। এই অন্ধ হতভাগার জন্য আজো তুলি শোক করছ। আমি চোখে না দেখলেও তোমার কণ্ঠস্বর শুনে তোমার উপস্থিতি টের পাচ্ছি।
কোরাস গায়ক : কোন ভয়াল দুরাত্মার প্ররোচনায় তুমি তোমার নিজের দুটো চোখ অন্ধ করলে স্বেচ্ছায়?
ঈডিপাস : অ্যাপোলো, বন্ধু, অ্যাপোলো, সে-ই আমাকে এই বিষাদের মাঝে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমি আমার ভাগ্য দোষেই নিজের চোখ দুটো বিনষ্ট করেছি। যে চোখে আমি সুন্দর কিছু প্রত্যক্ষ করতে পারিনি সে চোখ দুটো কেন থাকবে?
কোরাস গায়ক : তোমার কথা অস্বীকার করছি না।
ঈডিপাস : আমি এ জীবনে সুন্দর আর কী প্রত্যক্ষ করব, ভালোই বা বাসব কাকে? কার মধুর সম্বোধনে প্রীত হব। এর চেয়ে ভালো বন্ধু আমাকে দূরে কোথাও নিয়ে চলো। দেবলোক দ্বারা ঘৃণিত, অভিশপ্ত এই হতভাগাকে দূরে কোথাও নিয়ে চলো।
কোরাস : তোমার এই নিদারুণ বাণী শ্রবণ করে আমিও মর্মজ্বালা অনুভব করছি, তোমার সাথে আমার পরিচয় না হওয়াটাই ছিল ভালো।
ঈডিপাস : অভিশপ্ত হোক আমার সেই উপকারী জন, যে আমাশৈশবে পরিত্যক্ত অবস্থায় হাত-পায়ের বাঁধন খুলে বাঁধন মুক্ত করেছিল। আমাকে নতুন জীবন দান করার জন্য তাকে কোন ধন্যবাদ দিতে পারছি না আমি। আমার যদি মৃত্যু হত তখন তাহলে আমার জন্য তোমার ও আমার অন্য বন্ধুদের হৃদয়ে এত মর্মর্যাতনা উপস্থিত হত না।
কোরাস গায়ক : আমরাও এটাই ভাবছি।
ঈডিপাস : আর আমাকেও পিতৃরক্ত ঝরাতে হত না, লোকজন আমাকে মাতৃসম্ভোগকারী হিসেবেও সম্বোধন করত না। আজ আমি ভয়াল এই অপকর্মের জন্য স্বর্গর্ত দেবতা মানবকুল দ্বারা কলংকিতা এক মাতার সন্তান হিসেবে ঘৃণার পাত্র। এর চাইতেও ভয়াল কোন দুঃখজনক ব্যাপার থাকলেও ঈডিপাস সেটা সহ্য করতে সক্ষম।
কোরাস গায়ক : তুমি যে যথার্থই বলছ, সেটাই বা আমি তোমাকে কী করে বলি। অন্ধ হয়ে বেঁচে থাকার চাইতে মৃত্যু অনেক মঙ্গলকর।

পর্ব ১৫ লিঙ্ক



1 comment:

  1. Thanks for Translation in Bangla.Really it help me for study. Thanks a lot of this group.

    ReplyDelete

Popular Posts