Total Pageviews

Friday, January 4, 2019

King Oedipus - Bangla translation - Part-1 - কিং ঈডিপাস প্রথম পর্ব

king oedipus bangla translation
King Oedipus - Bangla translation - Part-1 - কিং ঈডিপাস প্রথম পর্ব 




[প্রতিটি পর্বের নিচে পরের পর্বের লিঙ্ক দেয়া আছে। সেখানে ক্লিক করে পরের পর্বে সরাসরি চলে যান] 
King Oedipus - Bangla translation - Part-1 - কিং ঈডিপাস প্রথম পর্ব কিং ঈডিপাস
থিবীসের রাজপ্রাসাদের সম্মুখ ভাগ
[রাজা ঈডিপাসের প্রাসাদের সম্মুখভাগ, প্রাসাদের সামনের আঙিনায় স্থাপিত কয়েকটি পূজার বেদী, বেদীগুলোর চারপাশ ঘিরে আবেদনের ভঙ্গিমায় বসে আছে থীবসের নানা শ্রেণীর নাগরিকবৃন্দ]
[প্রাসাদের প্রধান দরোজা দিয়ে অনুচরবর্গসহ রাজা ঈডিপাসের প্রবেশ]
ঈডিপাস : ওহে জনক ক্যাডমাসের নবীন সন্তানেরা, ধূপের ধোয়ার সুগন্ধিতে দেখছি ভরে উঠেছে নগরী, আর তোমরা লরেল, অলিভ বৃক্ষের শাখা আর মাল্য হাতে প্রার্থনার ভঙ্গিমায় আমার সম্মুখে উপবিষ্ট, আমি তো এসবের কিছুই বুঝতে পারছি না। বিষয়টা সংবাদবাহকের কাছে না শুনে, আমি রাজা ঈডিপাস নিজেই এসেছি তোমাদের সামনে নিজ কানে শোনার জন্য[পুরোহিতকে উদ্দেশ্য করে] সন্মানিত পুরোহিত, আপনিই বলুন, ওদের সবার এখানে আসার উদ্দেশ্যটা কী? তোমরা কি কোন কামনা কিংবা ভীতির কারণে এখানে এসেছ? আমি সাগ্রহে যেকোন সহায়তা দেব তোমাদের; তোমাদের এই নিবেদনে যদি আমি কোন সহানুভূতি আর আগ্রহ প্রদর্শন না করি তাহলে আমি সবার কাছে হৃদয়হীন বলে পরিচিত হব।
পুরোহিত : মহানুভব রাজা এবং প্রভু আমার, আপনি দেখুন, এখানে নারী, শিশু, আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা সবাই একত্রিত হয়েছি; এই আমি বৃদ্ধ জিউসের পুরোহিত আর কিছু যুবা ছাড়া বাকি সবাই অলিভ বৃক্ষের শাখা হাতে নিয়ে গেছে বাজারে অবস্থিত দেবী প্যালাসের মন্দিরে, সেখানে ইসমেনাস অগ্নি সংকেত দ্বারা তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। আপনি দেখুন, মৃত্যুর উত্তাল তরঙ্গের আঘাতে আমাদের নগরী তচনচ হয়ে গেছে। অদৃশ্য কোন কারণে মাঠে ফলছে না ফসল, ফল ধরছে না গাছে, রমণীর গর্ভে আসছে না সন্তান। তার উপর নির্দয়, ভয়াল এক দেবতা প্লেগের মহামারি রূপে ভর করে চালাচ্ছে প্রচণ্ড দাপট। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ক্যাডমাসের বংশাবলি, অগণিত মৃত আত্মার কান্না আর করুণ আর্তচিৎকারে ভরে গেছে নরকগুলো। আপনাকে দেবতার সম্মান দিতে আপনার এই বেদীমূলে প্রার্থনা জানাতে আসিনি আমরা। আপনি একজন মহান ভাগ্যবান মানব বলেই এখানে এসেছি। আপনি একদা আকষ্মিকভাবে এই নগরে আবির্ভূত হয়ে জঘন্য এক জাদুকরী মায়াবিনীর কবল হতে উদ্ধার করেছিলেন আমাদের। কিন্তু আমরা কোন কাজেই লাগিনি আপনার, পাননি কোন স্বর্গীয় সহযোগিতা। তবুও আমাদের দিয়েছেন উন্নত জীবন। মহিমাম্বিত রাজা ঈডিপাস, আপনার কাছে সকরুণ নিবেদন এই, আপনি নিজেরই মহিমা কিংবা দৈব কোন শক্তি বলে আমাদেরকে এ বিপদ হতে উত্তরণের পথ বের করুন। অতীতেও আমরা আপনার যোগ্যতার প্রমাণ পেয়েছি। অতীতেও আপনি আমাদেরকে বিপদ হতে উদ্ধার করেছেন, এবারও তাই করুন। হে মহান মানব, আপনি আবার আমাদের উদ্ধার করুন। অতীতে আপনি যে খ্যাতি লাভ করেছেন তা আবারও অটুট থাকুক। আমরা যেন এটা ভুলেও না ভাবি যে, অতীতে আপনি আমাদের উদ্ধার করে, পরে আবার বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এবার এমন করে আমাদের সাহায্য করুন যাতে আর কোন বিপদে আমরা পতিত না হই। আপনি যেদিন এসেছিলেন এ রাজ্যে তখন সারা রাজ্যে দেখা গিয়েছিল সুখ-সমৃদ্ধি আর উন্নতির লক্ষণআপনি আবার আমাদেরকে সেই সমৃদ্ধি আর সুখ প্রদান করুনযদি আপনি এ রাজ্যের প্রজাদের সুশাসন দ্বারা সুখ শান্তিতে রাখতে চান, তা হলে এ রাজ্য যাতে জনমানবহীন নির্জন ভূমি না হয় তারই ব্যবস্থা গ্রহণ করুন কারন রাজ্যে প্রজাকুল না থাকলে শুধু দেয়ালঘেরা শূন্য নগরী আর সমুদ্রতটে জাহাজের বহর থাকলেই রাজা রাজ্য চালাতে পারেন না।
ঈডিপাস : আমি তোমাদের জন্য বেদনার্ত হে আমার সন্তানেরা, বিশ্বাস করো আমাকে, আমি জানি তোমরা বড়োই দুঃখকষ্টে দিনযাপন করছ। তোমাদের সবার যে মনোবেদনা সেটা তোমাদের ব্যক্তিগত; কিন্তু তোমরা আলাদাভাবে যে বেদনাভার বহন করে চলেছ সেইসব দুঃখের ভার আমার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে, আমার এ বেদনাভার আমার ব্যক্তিগত নয়, আমার দুঃখ প্রজাদের জন্য, সারা রাজ্যের জন্য। আমাকে তোমরা আরসচেতন কোরো না। আমি তোমাদের তরে চিন্তার জটাজালে জড়িয়ে পড়ে গভীর নিদ্রায় ডুবে যেতে চাই, এ নিদ্রা হতে আমাকে আর ডেকে তুলো না। অনেক চিন্তার পর এ বেদনাভার হতে পরিত্রাণের যে পথ খুঁজে পেয়েছি। সে সূত্র ধরে মোটামুটি সম্মুখে অগ্রসর হয়েছি আমি। আমি আমার স্ত্রীর ভাই মেনোসিয়াস পুত্র ক্রেয়নকে পাঠিয়েছি। পিথিয়ার অ্যাপোলোর মন্দিরে দৈববাণী শোনার জন্য। আমি প্রশ্ন করে পাঠিয়েছি কী করে আমি তোমাদেরকে সমূহ বিপদ হতে বাঁচাব। কিন্তু যথাসময়ে ক্রেয়ন এসে না পৌছানোর জন্য বড়োই চিন্তাকুল আমি। এটাও বুঝতে পারছি না সে এত দেরি করছে কেন। সে দৈববার্তা নিয়ে আসার সাথে সাথে আমি সে মোতাবেক কাজ না করলে সবাই আমাকে অবমাননা করবে।
পুরোহিত : যথার্থ বলেছেন আপনি (তিনি দেখতে পেলেন কে যেন আসছে) আর তাকিয়ে দেখুন, আভাস পাচ্ছি; ক্রেয়ন আসছে, হ্যা, সে-ই আসছে মনে হয়!
ঈডিপাস : (তাকিয়ে দেখে) আর মুখখানা তার হাসিখুশি! ওহ, দেবতা অ্যাপোলো! তার সংবাদটা যেন শুভ হয়।
পুরোহিত : অবশ্যই শুভ সংবাদ, তা না হলে তার মাথায় ফলভারানত লরেল বৃক্ষের শাখা থাকত না।
ঈডিপাস : অতি সত্বরই জানতে পারব। এই তো কাছাকাছি চলে এসেছে সে। যুবরাজ ভ্রাতা আমার, কী সংবাদ বলো? তুমি দেবতার মুখনিসৃত কী বাণী নিয়ে এসেছ আমাদের জন্যে?
[ক্রেয়নের প্রবেশ]
ক্রেয়ন : সুসংবাদ। যেকোন অসহনীয় বেদনার কারণটা যদি জানা যায় তাহলে তা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।
ঈডিপাস : কিন্তু সে বাণীটা কী? তুমি আমাকে একাধারে আশা ও হতাশার মাঝে আটকে দিয়েছ, বাণীটা কী?
ক্রেয়ন : অবশ্যই বলব আপনাকে। আপনি কি সবার সামনেই এটা শুনবেন নাকি আমার সাথে ভেতরে যাবেন?
ঈডিপাস : সবার সামনেই বলো, আমি তো সবার দুঃখই বহন করছি, জীবন দিয়ে হলেও এ দুঃখভার দূর করা উচিত আমার।
ক্রেয়ন : ঠিক আছে, তাই বলছি, যে নির্দেশ আমি দেবতা ফিবাস অ্যাপোলোর কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বলেছেন নোংরা কোন বস্তু, যা আমাদের রাজ্যে জন্ম হয়েছে, বেরে উঠেছে এবং আমাদের রাজ্যটাকে দূষিত করে তুলেছে, এখন রাজ্য হতে সে বস্তুটাকে সরাতে হবে, এটা না হলে এর প্রতিবিধানের অন্য কোন পথ খোলা নেই।

পর্ব ২ এ যান 

No comments:

Post a Comment

Popular Posts