Total Pageviews

Friday, May 1, 2020

Crime and Punishment - Fyodor Mikhailovich Dostoevsky - Summary in Bangla

Crime and Punishment  - Fyodor Mikhailovich Dostoevsky - Summary in Bangla
Crime and Punishment  - Fyodor Mikhailovich Dostoevsky - Summary in Bangla


রোডিয়া রোমানোভিচ রাসকোলনিকভ (Rodion Romanovich Raskolnikov) সেইন্ট পিটার্সবার্গের একতি এপার্টমেন্ট বিল্ডিঙের ক্ষুদ্র চিলেকোঠায় বাস করে। টিংটিঙে শুকনো অসুস্থ শরীর এবং ছেড়া ফাটা কাপড় দেখে মনে হবে, যেন একটা ভিখারি। টাকা পয়সার বড়ই অভাব, আর এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত সে। মাঝে মাঝে নিজের সাথেই যেন কথা বলে চলেছে। এতো কিছুর পরও সে ছিল সুদর্শন, চটপটে এবং তাঁর প্রধান দুটি গুন হল, টনটনে আত্মসম্মানবোধ বুদ্ধিমত্তা
সে একটি ভয়ঙ্কর অপরাধের কথা নিয়ে ভাবছিল, কিন্তু কি ধরনের ভয়ংকর অপরাধ সে করবে, সে ব্যাপারে তাঁর কোন ধারনা ছিল না। সে অ্যালিওনা আইভানোভনা (Alyona Ivanovna) নামক এক বৃদ্ধার অ্যাপার্টমেন্টে যায়, যে বন্দকি ব্যবসা করে। তাঁর কাছে একটি হাত ঘড়ি বন্দক রাখতে গিয়েই তাঁর মূল অপরাধের পরিকল্পনা করে ফেলে। সেখান থেকে বের হয়ে সে একটি পানশালায় ঢুকে এবং জনাব মার্মেলাডভের (Semyon Zakharovich Marmeladov) সাথে দেখা হয়। যে মাতাল অবস্থায় তাঁর চাকরিটি ছেড়েছে এবং গত ৫দিন ধরে মদে চুর হয়েছিল। এখন সে বাড়ি যেতে ভয় পাচ্ছে।
মার্মেলাডভ তখন রাসকোলনিকভকে তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ক্যাটেরিনা এবং তাঁর আগের স্ত্রীর একটি কন্যা সোনিয়ার (Sofya/Sonya  Semyonovna  Marmeladov) সম্পর্কে জানায়। এছাড়া এই স্ত্রীর আরো সন্তান ছিল। অর্থাভাবে মার্মেলাডভ এর মেয়ে সোনিয়া পতিতাবৃত্তিকে বেছে নিয়ে ছিল। রাসকোলনিকভ তাঁর সাথে হাটতে হাটতে তাঁর বাসায় যায় সেখানে তাঁর স্ত্রী ক্যাটেরিনার সাথে দেখা হয়। পকেট থেকে তাদের কিছু কোপেক সাহায্য দিয়ে চলে আসে।
পরদিন রাসকোলনিকভ তাঁর মা পুলচেরিয়ার (Pulcheria Alexandrovna Raskolnikov) কাছ থেকে একতি চিঠি লাভ করে। সেখানে সে জানতে পারে পিওতর লুঝিন এর সাথে তাঁর বোন দানিয়ার বিয়ে হচ্ছে। তাঁর বোন এবং তাঁর মা সেইন্ট পিটার্সবার্গে চলে আসছে।
সে তখন অন্য একটি সড়াইখানায় যায় সেখানে একজন  ছাত্রকে আলোচনা করতে শোনে যে যদি বৃদ্ধা মহাজন অ্যালিওনা আইভানোভনা মৃত্যুবরণ করে তাহলে কিভাবে সমাজটা সুন্দর হয়ে উঠবে। রাস্তায় বের হয়ে সে শুনতে পায় যে পরের দিন সন্ধ্যা ৭টায় অ্যালিওনা আইভানোভনা তাঁর বাসায় একা থাকবে। সারাদিন ঘুমিয়ে বিকালে জামার নিচে লুকিয়ে একটি কুঠার নিয়ে অ্যালিওনা আইভানোভনার বাসায় যায়। তাঁর কাছে জিনিস বন্ধক রাখার ছুতোয় তাঁর বাসায় ঢুঁকে কুঠারের আঘাতে তাঁকে হত্যা করে। যখন তাঁর ঘরের মুল্যবান জিনিসপত্র লুট করে বের হয়ে আসছিল, সে সময় ঘরে প্রবেশ করে তাঁর বোন লিজাভেটা (Lizaveta  Ivanovna) বাধ্য হয়ে তাকেও খুন করতে হয়। বের হবার সময় সে কপাল গুনেই বেচে যায়। ঘরে গিয়ে তাঁর কাপড় এর বাকি রক্ত পরিষ্কার করে সোফায় শুয়ে পড়ে এবং ঘুমিয়ে যায়।
পরদিন সকালে সে তাঁর জামায় রক্তের দাগ খোজাখুজি করে এক সময় বাড়ির কাজের মহিলা নাসতাশিয়া পেত্রোভনা (Nastasya  Petrovna) তাকে থানা থেকে তলব করার খবর দেয়। থানায় গিয়ে জানতে পারে যে তাঁর বাড়িওয়ালী ঘরভাড়া না দেয়ার কারনে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছে। সে থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। গতকালের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সে হঠাৎ মূর্ছা যায়। এর ফলে থানার অফিসাররা তাকে এই খুনের ব্যাপারে সন্দেহ করে। সেখান থেকে বের হয়ে সে বাসায় ফিরে তাঁর লুটের মাল গুলো দূরে নদীর তীরে একটি বড় পাথরের নিচে লুকিয়ে রেখে আসে। বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে দূঃস্বপ্ন দেখে এবং এভবে চারদিন সে জ্বর প্রলাপ বকে কাটিয়ে দেয়। চারদিন পরে যখন জ্ঞান ফিরে সে দেখে নাসটাশিয়া তাঁর বন্ধু রাজুমিখিন তাঁর সেবা যত্ন করছে 
সে দেখে যে জসিমভ (Zossimov) নামের একজন ডাক্তার তাঁর চিকিৎসা করেছে এবং জামিওটভ (Alexander Grigorievich Zamyotov) নামের একজন গোয়েন্দা পুলিস অফিসার তাকে দেখে গিয়েছে। অ্যালিওনা আইভানোভনা তাঁর বোনের হত্যার কথা তার সামনে উল্লেখ করায় তাঁর অস্বস্তিকর অবস্থার পুলিশদের নজর এড়ায়নি।
এর পর তাঁর কাছে দানিয়ার (Avdotya Romanovna Raskolnikov - Dunya) বাগদত্তা লুঝিন আসলে তাঁর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। কারন সে ছিল অত্যান্ত শঠ নিচু মানসিকতার লোক। রাসকোলনিকভ তাই কখনোই চাইবে না লুঝিনের সাথে তাঁর বোনের বিবাহ হোক।
বাসা থেকে বের হয়ে সে একটি সড়াইখানায় ঢুঁকে এবং জামিওটভ এর সঙ্গে কথা বলে। সে হয়তো তাঁর কাছে তাঁর হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ফেলত। এরপর সে নিহত বৃদ্ধা মহাজনের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে বের হয়ে রাস্তায় একটি দূর্ঘটনা দেখতে পায়। মার্মেলাডভের উপর দিয়ে একটি ঘোড়ার গাড়ি চলে গিয়েছে। সে তাকে বাসায় নিয়ে আসে। সেখানেই মার্মেলাডভের মৃত্যু হয়। সেখানে তাঁর সাথে সোনিয়ার দেখা হয় এবং তাদেরকে বিশ রুবল অর্থ সাহায্য দিয়ে আসে। এই অর্থ সে তাঁর মা পুলচেরিয়ার কাছে থেকে পেয়েছিল। রাজুমিখিন এর সাথে যখন তাঁর বাসায় ফিরে আসে, সেখানে তাঁর মা বোনকে অপেক্ষারত অবস্থায় দেখে আবার সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
রাসকোলনিকভ তাঁর মা বোনকে সেখানে দেখে বিরক্ত হয় তাদেরকে চলে যেতে বলে। সে তাঁর বোনকে লুঝিনের সাথে বিবাহ ভেঙ্গে দিতে বলে। রাজুমিখিন (Dmitri Prokofych Razumikhin) তাদেরকে তাদের পিটার্সবার্গের ভাঁড়া বাসায় দিয়ে আসে। পরদিন সকালে রাজুমিখিন পুলচেরিয়া দানিয়ার কাছে রাসকোলনিকভ এর অবস্থা বর্ণনা করে তাদেরকে আবার  রাসকোলনিকভ এর বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে ডাক্তার জসিমভ তাদেরকে জানায় যে রাসকোলনিকভ এর অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। আগের রাতের ব্যবহারের জন্য রাসকোলনিকভ তাদের কাছে ক্ষমা চায় এবং আরো জানায় যে তাঁর মা তাকে যে রুবলগুলো পাঠিয়েছিল সেগুলো সে মার্মেলাডভের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দান করে দিয়েছে। দানিয়া এবং লুঝিন (Pyotr  Petrovich  Luzhin) এর বিবাহের ব্যাপারে কথা উঠলেই সে আবার রেগে যায়। সে লুঝিনকে বিবাহ করতে নিষেধ করে। দানিয়া জানায় সেদিন সন্ধায় তাঁর সাথে লুঝিন এর সাক্ষাৎ ঘটবে। লুঝিন তাদেরকে অনুরোধ করেছে, রাসকোলনিকভ যেন সেখানে না থাকে, আর তাহলেই সে আসবে। রাসকোলনিকভ রাজী হয়।
সে সময় সোনিয়া রাসকোলনিকভ এর ঘরে প্রবেশ করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখে সে কিছুটা হতবুদ্ধি হয়ে যায়। সে রাসকোলনিকভকে তাঁর পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করতে বললে আর সে সানন্দে রাজি হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের পরে সোনিয়া যখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল, তখন তাঁর পিছু পিছু একজন লোক আসে- পরে সে জানতে পারে সে হচ্ছে ভিদ্রিগাইলভ (Arkady Ivanovich Svidrigailov) অর্থাৎ গ্রামের বাড়িতে থাকার সময় দানিয়ার দুশ্চরিত্র চাকরিদাতা
রাসকোলনিকভ তখন আইভানোভনাদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট পরফাইরি পেত্রোভিচ (Porfiry Petrovich - রাজুমিখিন এর আত্মীয়) এর কাছে তাঁর বন্ধক রাখা ঘড়ি উদ্ধারের জন্যে যোগাযোগ করে। যখন সে তাঁর বাসায় পৌছায়, যামিওটভও (Alexander Grigorievich Zamyotov) সেখানে উপস্থিত ছিল। রাসকোলনিকভ পরফাইরির মাঝে উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা চলে। রাসকোলনিকভ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে পরফাইরি তাকে সন্দেহ করে তাকে ফাদে ফেলার চেষ্টা করছে। সে কি আসলেই তাকে ফাদে ফেলার চেষ্টা করছে কিনা সে ব্যপারে রাজুমিখিন রাসকোলনিকভ এর মাঝে আলোচনা হয় যখন সে তাঁর বাসায় ফিরে আসে সে জানতে পারে একজন ব্যক্তি তাকে খুজে গিয়েছে। পরে রাস্তায় গিয়ে তাকে ধরলে রাসকোলনিকভকে সে খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করে। সেদিন রাতে সে আবার সেই হত্যাকান্ড নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। যখন ঘুম থেকে উঠে সে তাঁর কক্ষে একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পায়।
সে ছিল ভিদ্রিগাইলভ। সে তাকে জানায় লুঝিন এর সাথে দানিয়ার বিবাহ ভেঙে দেয়া উচিত কারন লুঝিন তাঁর যোগ্য নয়। সে আরো জানায়, দানিয়াকে সে দশ হাজার রুবল দান করতে চায়। তাঁর স্ত্রী মার্ফা পেত্রোভনা মৃত্যুবরণ করেছে এবং তাঁর মৃত্যুর সময় সে দানিয়ার জন্যে তিন হাজার রুবল রেখে গিয়েছে। রাসকোলনিকভ তাঁর এই অর্থ গ্রহনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় এবং যখন সে তাঁর স্ত্রীর প্রেতাত্মা দেখেছে বলে দাবি করে তখন সে তাকে মানসিক বিকারগ্রস্থ হিসেবে সন্দেহ করে। সে চলে গেলে রাসকোলনিকভ রাজুমিখিন একটি রেস্তোরায় যায় যেখানে দানিয়া, তাঁর মা লুঝিন আসবে। লুঝিন দাবি করে যদি রাসকোলনিকভ সেখান থেকে চলে না যায় তাহলে সেখানে সে থাকবে না। যা রাসকোলনিকভ এর মা বোন এর মনে আঘাত দেয়। দানিয়া তাঁর সাথে বাগদান ভেঙে দেয় তাকে চলে যেতে বলে। সে চলে গেলেই সবাই আনন্দিত হয়।
রাজুমিখিন তখন তাদের সাথে একটি যৌথ প্রকাশনার ব্যবসা খোলার ব্যপারে আলোচনা করে। রাসকোলনিকভ তাদেরকে বলে সে আর কাউকেই সেখানে দেখতে চায় না। সে কক্ষ ত্যাগ করলে, তাঁর পিছন পিছন রাজুমিখিন নেমে আসে তাকে সিড়িতে আটকায়। তারা পরস্পর মুখোমুখি হয় এবং রাজুমিখিন বুঝতে পারে রাসকোলনিকভ একজন অপরাধী। সে তখন রাসকোলনিকভ এর মা বোনের কাছে ফিরে আসে যে কোন বিপদে আপদে তাদেরকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
রাসকোলনিকভ তখন সোনিয়া মার্মেলাডভের বাসায় চলে আসে তাঁর সাথে কথা বলে জানতে পারে সে নিহত লিজাভেটার বান্ধবী। সে তাকে তাদের বাইবেল থেকে ল্যাজারাস এর গল্পটা পড়ে শোনাতে বলে। ভিদ্রিগাইলভ সোনিয়ার ফ্লাটের পাশের ফ্লাটে ভাঁড়া নিয়েছিল এবং সোনিয়া রাসকোলনিকভ এর সকল কথাবার্তা সে আড়ি পেতে শুনে নেয়।
পরদিন সকালে রাসকোলনিকভ বন্দক দেয়া ঘড়িটির জন্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পরফাইরি পেত্রোভিচের অফিসে আবার যায়। তারা যখন কথা চালিয়ে যাচ্ছিল রাসকোলনিকভ বুঝতে পারে পরফাইরি তাকে কথার ফাদে ফেলতে চাইছেন। সময় মানসিক চাপে রাসকোলনিকভ কিছুটা ভেঙে পড়ে এবং তাঁর কাছে অভিযোগ করে সে তাঁর সাথে মনস্তাত্বিক খেলা খেলছে। যখন তাদের কথা বার্তা উত্তেজনা যখন চরমে সে সময় সেখানে নিকোলাই (Nikolai Dementiev (“Mikolka”)) নামক একজন লোক এসে উপস্থিত হয়। তাকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্যে সন্দেহ করা হচ্ছিল। সে স্বীকার করে যে সে তাকে হত্যা করেছে। ক্যাটেরিনার (Katerina  Ivanovna  Marmeladov)  স্বরণে রাতের খাবার আয়োজন করলে রাসকোলনিকভ সেখানে যায় এবং পথে একজন তাকে খুনি বলে ডাকে।
এরপর দৃশ্যকল্প লুঝিন তাঁর সহকারী লিভিযিয়াতনিকভ (Andrei  Semyonovich  Lebezyatnikov) এর দিকে ঘুরে যায়। যেখানে রাসকোলনিকভ এর প্রতি লুঝিন এর ঘৃণা আরো বাড়ছিল। মার্মেলাডভের রাতের আয়োজনে লুঝিনও দাওয়াত পেয়েছিল। কিন্তু সে সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সোনিয়াকে তাঁর বাসায় ডেকে নেয় তাঁর হাতে একটি ১০ রুবলের নোট ধরিয়ে দেয়। তাদের আয়োজন কোন রকমে চলছিল। এই সময় লুঝিন সেখানে প্রবেশ করে অভিযোগ করে যে সোনিয়া একটা চোর। সে তাঁর বাসায় গিয়ে ১০০ রুবলের একটি নোট চুরি করে নিয়েছে। সোনিয়া অস্বীকৃতি জানালে সেটি তাঁর পকেট থেকে বের করা হয়। যেইমাত্র না সবাই তাকে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করে, সেখানে লিভিযিয়াতনিকভ প্রবেশ করে তাদেরকে জানায় লুঝিনের ঘর থেকে বের হবার সময় লুঝিন সোনিয়ার পকেটে গোপনে ১০০ রুবলের নোট প্রবেশ করিয়ে দেয়। রাসকোলনিকভ তখন সবাইকে জানায় লুঝিন আসলে সোনিয়ার চরিত্র হননের মাধ্যমে তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। লুঝিন চলে গেলে ক্যাটেরিনা তাঁর বাড়িওয়ালীর মাঝে আর এক প্রস্থ ঝগড়া হয়।   
সবাই চলে গেলে রাসকোলনিকভ সোনিয়ার কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। ব্যাপারে তাদের মাঝে দীর্ঘক্ষন কথা চলে। সোনিয়া তাকে কর্তৃপক্ষের কাছে পাপ স্বীকার করতে বলে। লিভিযিয়াতনিকভ তখন সেখানে আসে তাদেরকে জানায় ক্যাটেরিনা হয়তো পাগল হয়ে গিয়েছে কারন সে তাঁর সন্তানদেরকে রাস্তায় সার ধরে দাড় করিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করছে। সোনিয়া সাথে সাথেই সেখানে ছুটে যায় রাসকোলনিকভ তাঁর বাড়ি ফিরে আসে দানিয়ার সাথে কথা বলে। অতি শীঘ্রই সে রাস্তায় ফিরে আসে সেখানে দেখে ক্যাটেরিনা রাস্তায় পাগলের মত নাচ গান করে বেড়াচ্ছে। সে একজন পুলিসের সাথে ধস্তাধস্তি করে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে তাকে যখন ঘরে নিয়ে আসা হয় তখন মৃত্যুবরণ করে। সেখানে ভিদ্রিগাইলভ হাজির হয় এবং তাঁর মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ দেয়ার বাচ্চাদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব নেবে বলে জানায়। রাসকোলনিকভ যে আসল খুনি সে তাঁর কাছে সেটা প্রকাশ করে।
সোনিয়ার কাছে দোষ স্বীকার করা তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর রাসকোলনিকভ এক ধরনের মানসিক আচ্ছন্নতার মাঝে দিয়ে যায়। তাঁর বাসায় সে রাজুমিখিনের মুখোমুখি হয় এবং সে তাঁর কাছে জানতে চায় কেন সে এমন পাগলামি করে বেড়াচ্ছে তাঁর মা বোনকে কষ্ট দিচ্ছে। তাদের কথার শেষে পরফাইরি পেত্রোভিচ সেখানে উপস্থির হয় এবং থানার ভেতরে তাঁর সাথে করা আচরণের জন্যে ক্ষমা চায়। কিন্তু এতো কিছুর পরও সে নিকোলাইয়ের খুনের স্বীকৃতিতে বিশ্বাস করে না। সে রাসকোলনিকভকে খুনি হিসেবে দাবি করে কিন্তু তাঁর কাছে পর্যাপ্ত প্রমান নেই, তাই তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না বলে জানায়। অবশেষে সে রাসকোলনিকভকে খুনের স্বীকার করতে বলে এবং এই প্রস্তাব দেয় যে যদি সে স্বীকৃতি দেয় তাহলে তাঁর জন্যে লঘু শাস্তির ব্যবস্থা করে দেবে।
রাসকোলনিকভ তখন ভিদ্রিগাইলভকে একটি রেস্তোরায় খুজে পায়। ভিদ্রিগাইলভ তাকে জানায় যদিও সে এখনো দানিয়াকে ভালবাসে, কিন্তু এখন একজন ১৬ বছর বয়সি মেয়ের সাথে তাঁর বাগদান হয়েছে। ভিদ্রিগাইলভ তখন রাসকোলনিকভ এর থেকে আলাদা হলে সে দানিয়াকে কিছু গোপন কথা জানাবার জন্যে তাঁর ঘরে নিয়ে আসে। দানিয়া তাঁর বাসায় আসলে, তাকে সে বিয়ে করতে বলে, তাহলে সে তাঁর ভাইয়ের খুনের ঘটনা চেপে যাবে। দানিয়া তাকে জানায় যদি সে খুনি হয়ে থাকে তাহলে সে তাঁর তো শাস্তি হওয়াই দরকার। এভাবে তাকে দুর্বল করতে না পেরে তাকে ধর্ষণ করতে চায়। দানিয়া সেখানে প্রস্তুত হয়েই এসেছিল। সে তাঁর রিভলভার বের করে গুলি করে কিন্তু তা লক্ষ্যচ্যুত হয়। তাঁর প্রতি ঘৃণার কারনে ভিদ্রিগাইলভ তাকে চলে যেতে দেয় তারপর সে সেইন্ট পিটার্সবার্গের রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করে। দানিয়াকে তিন হাজার রুবল দান করে তাঁর বাগদত্ত্বার পরিবারকে ১৫ হাজার রুবল দান করে। এরপর হোটেলে একটি কক্ষ ভাঁড়া করে। রাতে ঘুমের মাঝে একটি বছরের আবেদনময়ী কন্যাকে স্বপ্নে দেখে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই রিভলভার দিয়ে আত্মহত্যা করে।   
এদিকে রাসকোলনিকভ তাঁর মায়ের সাথে দেখা করে এবং তাকে জানায় সে তাকে আগের মতই ভালোবাসে। তাঁর নিজের কক্ষে ফিরে আসলে তাঁর বোন দানিয়া তাকে খুনের কথা কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকার করতে বলে। তারপর সে সোনিয়ার সাথেও ব্যাপারে আলাপ করে। সেও তাকে দোষ স্বীকারের কথা বলে। তারপর সে পুলিস স্টেশনে যাওয়ার পথে একটি বাজারে থেমে মাটিতে চুমু খায়। পুলিস স্টেশনে সে পৌছে সে জানতে পারে ভিদ্রিগাইলভ সকালেই আত্মহত্যা করেছে। তাই সে দোষ স্বীকার না করেই বাহিরে বের হয়ে আসে। তাঁর চোখের সামনে সোনিয়ার চেহারা ভেসে উঠে, সে আবার ফিরে যায় ইলিয়া পেত্রোভিচ (Ilya  Petrovich  (“Gunpowder”)) নামক পুলিস অফিসারের কাছে তাঁর দোষ স্বীকার করে।
বছর দেড়েক পরে, বিচার শেষে রাসকোলনিকভ সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে অবস্থান করছিল। সেখানে তখন পর্যন্ত তাঁর সাজা খাটার মেয়াদ নয় মাস হয়েছিল। সোনিয়া তাঁর কষ্ট লাঘবের জন্যে নিয়মিতই সেখানে তাঁর সাথে দেখা করতে যেত। যেহেতু সে নিজেই নিজের দোষ স্বীকার না করলে কখনোই সত্য প্রকাশিত হবার তেমন কোন সম্ভাবনা ছিলে না এবং আগে অনেক ভালো কাজ করেছিল, তাই বিচারকরা তাঁর মৃত্যুদন্ড মাফ করে দিয়েছিল এবং তাকে মাত্র আট বছরের লঘু সাজা দিয়েছিল। রাসকোলনিকভ এর গ্রেফতারের পর তাঁর মা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে মারা যায়। রাজুমিখিন দানিয়াকে বিয়ে করে। পরে রাসকোলনিকভ তাঁর নিজের হত্যাকাণ্ডের জন্যে শোকগ্রস্থ হয় সোনিয়ার প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে। 

No comments:

Post a Comment