Total Pageviews

Sunday, February 16, 2020

Fra Lippo Lippi - Robert Browning - Bengali Translation - part -1 of 2

Fra Lippo Lippi - Robert Browning - Bengali Translation - part -1 of 2
Fra Lippo Lippi - Robert Browning - Bengali Translation - part -1 of 2



আমি হলাম গরীব সাধু, নাম লিপ্পো!
তোমার মশালের আলো আমার মুখে ফেলে দেখার দরকার নেই।
তোমার অভিযোগটা কি? তুমি কি একজন ভিক্ষুকে দেখতে পাচ্ছো না!
আর এই মাঝ রাতে তোমার কাজ হলো ঘুরে দেখা,
আর এই যে তুমি আমায় গলির মাথা থেকে ধরে আনলে
যেখানে হাসিখুশি মেয়েরা তদের দরজা আধখোলা রাখে
আমি খুঁজছিলাম আমার নিবাস কারমাইনের [Carmine] মঠ,
বেরিয়ে এসো সাধুরা মেটাও তোমাদের কৌতূহল,
দ্যাখো এনেছি, এখানে এক ইদুর যে ঢুকছিল ভুল গর্তে
ওয়েফ, ওয়েফ, [Wekeweke] ইদুরেরা এখন তোমার সঙ্গ দেবে।
প্রহরী তোমার অবস্থান সম্পর্কে নিজেই ভালো জানে,
তুমি কেন চেপে ধরছো শক্ত করে মোর গলা
অনুরোধ, আমার বিষয়ে জানো, আসলে আমি কে?
যখন যাচ্ছিলাম কসিমো মেডিসির [Cosimo of the Medici] আবাস স্থলে।
তখন ডাকলে আমায় পথের তেমাথা থেকে,
সে বাড়িটার ছাদে এক বিশাল গম্বুজ, ফু! ভালো মানুষ তুমি,
এখন স্মরণ করবে তুমি এই প্রহরীর কথা কেন ধরেছি গর্দানে
যখন ঘটনার তরে শাস্তিটা তুমি পাবে।)
কিন্তু হে সাধু অপমান মোরা করছি না আপনাকে,
আপনি যদি তাই থাকেন ভেবে মোদের কিছুই করবার নেই।
মোরা কি ফেলনা মাছ [pilchards] রাজপথে কাঁচিয়ে দেখ [sweep the streets]
আর গুণে দেখ দাম, যে কয়টা [মাছ] জালে পড়ল ধরা।
তুমি প্রহরী মানুষটি ঠিক জুতার মতোই,
তোমাতে মুখ জুতার ছবি আঁকতে মোর লাগবে কাজে
প্রভু রাগান্বিত নই আমি, তোমার প্রহরী কুকুর তাড়াও
খাও গিয়ে দুপয়সা [quarter-florin]  হাত করে,
আমি গিয়ে উঠি আমার প্রভু মেডিসির আবাসে
বহুবার দেখা হবে মোদের আবার বহুবার
আবার আসবো ফিরে চৌমাথায় তোমাকে পছন্দ করি প্রহরী
সে সময় আসবে বর্শা হাতে করে
হাতে থাকবে লণ্ঠন আর কিছু সঙ্গীজন।
জন ব্যাপটিস্ট এর মতো ঝাঁকড়া চুলে
এক হাতে অস্ত্র অন্য হাতে রক্ত ঝরবে তার
যদি তাপ দিতে পারো এক টুকরাকে
কিংবা দিতে পারে এনে কালো কাঠ কয়লা
জেনে খুশি হবে, আমি দিব্যি এঁকে দেবো,
প্রহরীর ছবি, কারণ একজন চিত্রকর আমি।
তুমি নিশ্চয়ই শুনেছো ব্রাদার লিপ্পোর নাম।
শুনেছো হয়তো তার চিত্রকর্মের কথা।
আমি সেই খ্যাতিমান ব্রাদার লিপ্পো [brother Lippo],
আমি দেখি তুমি তো মজার লোক হে
বলো মজার কাহিনী, শুনেছো মনোযোগ দিয়ে।
বসো, শোন তাহলে, সময়টা তখন বসন্তকাল,
জোড়ায় জোড়ায় প্রেমিক প্রেমিকা বেড়াচ্ছে ঘর হতে,
বিচিত্র বেশ ভূষায় নাচে গানে একাকার
নৃত্য করছে তারা রাজপথে একে অপরের হাত ধরে।
আমি ব্যস্ত ছিলাম ছবি অঙ্কন কাজে
জানালা পথে মোর বইছিল মৃদু হাওয়া।
গাইছিলো নাচছিলো তারা পথের পাশে বিয়ে উৎসবের গান,
ফোটে কতো না ফুলরাশি
নিয়ে যাও মোর ভালোবাসা, ছড়াও পথে পথে
ওগো পুষ্প বৃক্ষরাজি।
আমি লিসা, আমিও যাবো ওরই সাথে
পুষ্পরাজির সঙ্গীত বুকে ধরে।
হঠাৎ তাকিয়ে দেখি জানালা পথে
তিনটি আবছায়া সুন্দরী রমণীর অবয়ব
দ্রুত মিলিয়ে গেল পথের আলো ছায়াতে
দ্রুত জোগাড় করে একখানা মই
নেমে এলাম রাজপথে মিলতে ওদের সাথে,
সেন্ট লরেন্স গির্জার কাছে, মিলিত হলাম মোরা,
দীর্ঘ সময় ধরে ওদের সাথে করে হৈ হল্লা, ফিরে এলাম ঘরে,
উঠলাম পরদিন ভোরে, গেলাম নিজের কাজে,
আজ এই রাতের বেলায় দেখা হলো পথের মোড়ে
ওদের রূপ সুষমা আকর্ষণ করল আমায়
রূপ মুগ্ধ আমি গেলাম ওদের পিছুপিছু,
নাচ গান শেষ হলো, চলে গেল ওরা,
আমি রওয়ানা হলুম মোর প্রভু কসিমোর গৃহে,
ঠিক এমনি সময়ে প্রহরীর দল এসে ধরল আমাকে।
প্রহরী এখনও তোমার চোখে শাণিত দৃষ্টি
অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে তুমি নাড়ছো তোমার মাথা,
আমি সম্মানিত জন, মঠের সাধু রক্ষা কর মোর সম্মান,
প্রভু কসিমু বলেছে, একজন মঠের সাধু দয়াশীল জন পৃথিবীতে
এসো, শোন তাহলে শোনাই তোমায় মোর জীবন কাহিনী
শিশুকালে মরে গেছে মোর মাতা-পিতা মৃত্যুকালে মোরে ফেলে গেল রাজপথে,
কতো না দুঃখে বেদনায় পথে পথে কাটলো দুটো বছর
ডুমুরের খোসা তরমুজের খোসা খেয়ে কেটেছে দিন,
[On fig-skins, melon-parings, rinds and shucks]
খেয়েছি কতো না উচ্ছিষ্ট, একদিন কুয়াশাচ্ছন্ন বেলায়,
আমার পেটটা ছিল একেবারে খালি,
ঝড়ো বাতাসের ঝাপটায় খেলাম আছাড়ি-পিছাড়ি,
এক বৃদ্ধ চাচী লাপাসিয়া [Lapaccia] হাত ধরে উঠালো আমায়
অতঃপর ব্রিজ পার হয়ে দেয়ালের ওপাশে,
আমাকে নিয়ে এলো, মঠের আঙিনায়,
দীর্ঘ এক মাস পর রুটি জুটল আমার কপালে
মঠের ফাদার মুখ ভরা খাবার নিয়ে সম্বোধন করল আমায়,
অতঃপর ওরা আমায় বানালো মঠের সাধু।
দিল আমার ভোগ বিলাস আর সুবিধা যাবতীয়
খাওয়া আর পরার ছিল নাকো কোনই অসুবিধা
প্রচুর অবসর সময় তখন হাতে আমার
আমি মনোযোগ দিলাম তখন ছবি আঁকায়
অতঃপর দিলাম মনোযোগ পড়াশোনায়
দ্রুত আয়ত্তে নিলাম ল্যাটিন শিল্প সাহিত্যের ভাষা,
আট বছরের এতিম, আমাকে দেখে পথের মানুষ
কতো সুধীজন জানাতে গভীর সমবেদনা,
ধর্ম কর্মে মোর বেশি ছিল নাকো মনোযোগ :
ল্যাটিন ভাষা মোর লাগলো না কোন কাজে
তখন বালক আমি তাকিয়ে থাকতাম রাজপথে
দেখতাম মানুষের চলাফেরা আচার আর আচরণ,
পথে বসে আঁকতাম মানুষের ছবি,
নকল করতাম মানুষের দেখে কতো না গ্রন্থাবলী [antiphonary's marge],
ছবি আঁকতাম নিখুঁত, আঁকতাম মানুষের অবিকল প্রতিকৃতি।
আসলে আমার আঁকার বিষয় ছিল মানব হৃদয়,
মানুষের ছবিতে আমি তুলে আনতাম তার হৃদয়।
আমার কথা ছিল ছবি শুধু ছবিই হবে না,
তার মানে থাকবে অফুরন্ত প্রাণের জোয়ার।
ছবিতে উঠবে ফুটে মানুষের জীবনের কলরব।
আশা আনন্দ আর ভালোবাসার প্রকাশ।
তুমি যদি দ্যাখো একজন সাধারণ রূপসীকে
পর্যবেক্ষণ করো সাধারণ দৃষ্টিতে, সেটা নয় আসল।
তুমি তাকে দ্যাখো আধ্যাত্মিক চোখের
দেখো তার হৃদয়ের গভীর চাওয়া আর
তবে একজন মঠের সাধুরও ছিল সীমাবদ্ধতা
একজন রূপসী নারীর ছবি অঙ্কনের বেলায়,
তুমি গ্রহণ করবে না এমন যুক্তি যে
একজন আট বছরের বালক চুমো দেবে রমণীর গালে
ধর্ম কর্মে মোর ছিল নাকো মনোযোগ,
মঠের সাধুরা আমায় দেখতে না ভালো চোখে,
ফেলে দেয়া হতো মঠের কতো না মোমবাতি
সেসব কুড়িয়ে আমি বিক্রি করেছি পথে পথে,
শেষে একবার সাধুরা ডাকলো ম্যাজিস্ট্রেট
ফ্লোরেন্সের সেই বিচারক শাস্তির ভয় দেখালো আমাকে।
ভাবো দেখি একবার পথে পড়ে থাকা অসহায় বালক,
কী করে বাঁচালো নিজেকে তৈরি করল নিজেকে শেষে চিত্রকর রূপে।
Next Part 

No comments:

Post a Comment

Blog Archive