Friday, October 20, 2017

ডাবের পানির মজার তথ্য




 
সারা পৃথিবী তেই ডাবের পানি বেশ জনপ্রিয়।এই  গরমে পিপাসা মিটাতে শক্তিদায়ক হিসেবে ডাবের পানি খুবই ভাল কাজ দেয়। তবে এটি নিয়ে যে সকল তথ্য চালু আছে তার বেশিরভাগই সত্য নয়। আসুন জেনে নিই এগুলো কতটা সত্য।
ডাবের পানি কতটা শক্তিদায়ক?
ডাবের পানি দ্রুত ডিহাইড্রেশন/পানিশূন্যতা দূর করে বলে পান করার পর বেশ ভাল লাগে এটা ঠিক, কিন্তু এতে  শক্তি  বা calorie যে খুব বেশি রয়েছে, তা নয়। ১০০ মি লি ডাবের পানিতে চিনি বা শর্করা আছে দুই দশমিক সাত মিলিগ্রামের মতো, যা দোকানের বিভিন্ন   কোমলপানীয়,  জুস বা ড্রিংকস থেকে  অনেক কম। বাজার  প্রলিত কোমল পানীয়র তুলনায় এতে ক্যালরির পরিমাণও কম। একে লো ক্যালরি ড্রিংকস বলা যায়। তাই ডাবের পানিতে অনেক শক্তি মিলবে, এটা ঠিক নয়। তবে এর শর্করার প্রায় পুরোটাই সহজ শর্করা(C6H12O6), মানে দ্রুত রক্তে মিশে যেতে সক্ষম।
পটাশিয়াম ডাবের পানি
এটা ঠিক যে ডাবের পানিতে পটাশিয়াম(K) আছে। যে সকল রোগীদের কিডনীতে সমস্যা আছে তাদের ডাবের পানি কম খেতে বলা হয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পটাশিয়াম আছে এমন খাবার কিন্তু তাঁরা নিয়মিত খেয়ে চলছেন ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে পটাশিয়াম মাত্র ১৮৫ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে একটা কলায় পটাসিয়াম আছে ৪২২ মিলিগ্রাম, আর একটা আলুতে আছে ৭১৫ মিলিগ্রাম কমলা টমেটোতেও অনেক পটাশিয়াম আছে। তাই পটাশিয়ামের বিধিনিষেধ থাকলে ওগুলোর কথাও মাথায় রাখুন।
উচ্চরক্তচাপের রোগীর মানা
অনেকটা স্যালাইনের মতোডাবের পানিতে বিভিন্ন ধরনের লবণ খনিজ পদার্থ রয়েছে। তাই পান করলে রক্তচাপ বাড়তে পারে, এমন ধারণাও আছে। এটা ঠিক নয়। কেননা ডাবের পানির লবণ মূলত পটাশিয়াম, সোডিয়াম নয়। আর পটাশিয়াম একটি বৈশিষ্ঠ্য হল রক্তনালি প্রসারিত করে, বরং রক্তচাপ কমাতেই সাহায্য করে। সোডিয়াম উল্টোটা করে। তাই উচ্চরক্তচাপের রোগীর ডাবের পানি পান করতে সমস্যা নেই।
ডাবের পানি পান করলে ওজন কমে
বাজারচলতি জুস ড্রিংকসের তুলনায় ডাবের পানির ক্যালরি কম, এটা সত্য, তাই বলে এটা একেবারে পানির মতো ক্যালরিমুক্ত, চিনিমুক্ত পানীয় নয়। তাই ওজন কমাবে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ

No comments:

Post a Comment

Trending