Friday, April 19, 2019

Woman Society in The Rape of the lock - দি রেপ অব দি লক কাব্যের নারী সমাজ





দি রেপ অব দি লক কাব্যের নারী সমাজ

রানী অ্যানির রাজত্বকালে ফ্যাশনদুরস্ত সমাজে ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপাত্মক সাহিত্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। পোপের দি রেপ অব দি লক ছিল তারই সময়কালের এই ফ্যাশনদুরস্ত সমাজ এর ব্যাঙ্গ বিদ্রুপফ্যাশনদুরস্ত উপরিতলার মানুষদের ফাঁপা বাবুয়ানাকে ব্যঙ্গের কষাঘাতে জর্জরিত করেছেন তিনি। ফাঁপা সেই মানুষদের কার্যকলাপ সুধীজনদের কাছে, বিজ্ঞজনদের কাছে ছিল রীতিমতো হাস্যকর। পোপ এখানে উপস্থাপন করেছেন উপরিতলার জনদের মহামিলন ক্ষেত্রে হ্যাম্পটন কোর্টকে। এই হ্যাম্পটন কোর্ট আসলে কবির দৃষ্টিতে একটি অস্তঃসারশূন্য ক্রিয়াকলাপের একটি স্থান। এখানে অস্তঃসারশূন্য বাবুদের আনাগোনা। কবির দৃষ্টিতে এ স্থানটি বিজ্ঞজনদের নয়, এস্থান যেন পাতালগুহার কোনো অশরীরী বায়বীয় জীবদের আবাসস্থল। এখানে মানবিক সত্তার কোনো হদিস মেলে না, এখানে হদিস মেলে আত্মমগ্ন বিলাসী কিছু প্রাণীরমোট কথা পোপ মূলত আক্রমণ করেছেন তৎকালীন ড্রইংরুম সোসাইটিকেযারা এতটাই বিলাসী, আত্মমগ্ন যে, মানবীয় সত্তার কোনো আভাস উঁকি দেয় না তাদের মাঝে, যদিও মর্ত্যজগতের মানব-মানবী তারা।
কাব্যের নায়িকা বেলিন্দা তথাকথিত সেই ড্রইংরুম সোসাইটির আত্মমগ্ন বিলাসী এক রমণীঅষ্টাদশ শতকের ইংল্যান্ডের অস্তঃসারশূন্য বিলাসবহুল উচুশ্রেণীর নিজ রূপ গর্বে গরবিনী, কর্মবিমুখ বিলাসী রমণীকুলের ধারক যেন এই বেলিন্দা। তার চারপাশ ঘিরে আছে স্তাবকদল। এরাও সেই সমাজেরই ফুটো বাবু। বেলিন্দার প্রাথমিক প্রকাশলগ্নে তার মাঝে পরস্পরবিরোধী কিংবা কিছুটা বিরোধাভাস প্রকাশ পায়। সে আয়নার সামনে নিজেই নিজেকে অনিন্দ্য রুপসী হিসেবে যেন মনে করছে। এটা আসলে তার ভেতরকার শূন্যগর্ভ এক আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটায়পোপ তার কাব্যে আত্মপ্রেমে মগ্ন রঙ্গিনী রমণীর প্রেতাত্মাকে এনেছেন। এই আত্মপ্রেমে মগ্ন রঙ্গিনী রমণীর প্রেতাত্মা যেন অলক্ষে ছায়া ফেলে বেলিন্দার চরিত্রে। এই পরীদের আবার কেউ কেউ নিজেকে প্রকাশ করতে বড়োই অনীহা প্রকাশ করে। এরা বড়োই অহঙ্কারী। গর্বে তাদের পা পড়ে না মৃত্তিকায়। সকল প্রেম তারা প্রত্যাখ্যান করে আর প্রেমিককে তারা করে অবহেলা আর অবজ্ঞা । এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এই রঙ্গিনী রমণী যেন এ কাব্যের নায়িকা বেলিন্দা। এইসব অলৌকিক জীবেরই একজন আ্যারিয়েল যে নাকি নায়িকা বেলিন্দাকে সকল বিপদ আপদে তার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে বেলিন্দাকে সতর্ক করে সকল পুরুষ সান্নিধ্য এড়িয়ে চলতে
বেলিন্দার এই আত্মপ্রেমের মাঝেই যেন তার পূর্ণাঙ্গ নারীসত্তার সকল শক্তি উপস্থিত। পোপ এখানে দেখান, নারীর শক্তি যেন তার রূপ আর অলংকারের মাঝে - এগুলো যেন নারীর অন্তর্নিহিত এক শক্তিমত্তা। বেলিন্দার কুঞ্চিত চুলের শোভনীয় দীর্ঘ বেণী দুটি যেন তার অস্ত্রস্বরূপ। কবি বলেন, এই রমণীর এই বেণীয়ুগল যেন সত্যকে বিনাশ করতে তৈরি হয়েছে।

হ্যাম্পটন কোর্টের তাস খেলার মঞ্চে বেলিন্দাকে পাহারায় যেসব অলৌকিক জীবেরা নিযুক্ত থাকে, তারা আসলে কেউ সর্বজ্ঞ কিংবা সর্বশক্তিমান নয়। আর আ্যারিয়েল, যে সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত, সেও বেলিন্দার নিয়তির কোনো পরিণাম জানে না। হ্যাম্পটন কোর্টের তাস খেলার আসরে বেলিন্দা অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। পোপ তাকে তার কাব্যে মধ্যমণি হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ব্যারন তার প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজের সকল শক্তি প্রয়োগ করেছে, বেলিন্দা যেন এখানে কোনো নারীসত্তা নয়। সে যেন একজন পুরুষরূপী শক্তি তার এই শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দিতায় নামতে সকল রকম কোশেস করতে হচ্ছে ব্যারনকে। .

No comments:

Post a Comment

Trending

Ads