Monday, September 9, 2019

Volpone (The Fox) - Ben Jonson - Translation in Bangla - Act - 1 - Scene - 4 - 5

Volpone (The Fox) - Ben Jonson - Translation in Bangla - Act - 1 - Scene - 4 - 5

Previous Part - Act 1 - Scene 1 - 2 - 3 - Translation in Bangla

Volpone (The Fox) - Ben Jonson - Translation in Bangla - 

Act - 1 -Scene 4 - 5


প্রথম অঙ্ক - চতুর্থ দৃশ্য
(মসকা, করবাসসিওঃ ভলপোনির প্রবেশ)
মসকাঃ আপনি চুপচাপ ঘুমের ভান করা আবার শুরু করুন। (থালাকে উদ্দেশ্য করে) ওখানে থাকো আর অসৎ উপায়ে প্রাপ্তি বাড়তে দাও। এখন আমরা একজন দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখবো, যিনি এই ব্যক্তি যতোটা ভান করেন, তার চেয়েও বেশী জরাজীর্ণ, যদিও তিনি ভলপোনিকে ডিঙিয়ে যাবার আশা করছেন এবং ভলপোনির কবরের ওপর হাঁটতে চাইছেন।
(করবাসিওর প্রবেশ)
মসকাঃ সিনর করবাসসিওঃ আপনাকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি, স্যার।
করবাসসিওঃ তোমার প্রভু এখন কেমন আছেন?
মসকাঃ স্যার, সত্যি বলতে কি, তিনি এখনো আগের মতোই আছেন। কোনো উন্নতি নেই।
করবাসসিওঃ কি! কোনো উন্নতি কি হয়েছে?
মসকাঃ জ্বী না স্যার। তার অবস্থা আগের চেয়ে আরো খারাপ হয়েছে।
করবাসসিওঃ তা বেশ! কোথায় তিনি?
মকাঃ তার শয্যার ওপর, স্যার । এইমাত্র ঘুমিয়েছেন।
করবাসসিওঃ তার কি ভালো ঘুম হয়েছে।
মসকাঃ এক পলকের জন্যও না, সারারাতও নয়, গতকালও নয়। তিনি এইমাত্র
একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়েছেন।
করবাসসিওঃ চমৎকার। চিকিৎসকদের সঙ্গে তাকে কথা বলতে বললো। আমি আমার নিজের চিকিৎসকের কাছ থেকে তার জন্য ঘুমের ওষুধ নিয়ে এসেছি।
মসকাঃ তিনি ঔষধের কথা শুনতে চান না।
করবাসসিওঃ কেন? এই ঔষধটি সেবন করেই আমি উঠে দাঁড়িয়েছিলাম। এটা তৈরী করার সমস্ত উপকরণই আমি দেখেছি আর আমি এও জানি যে এটা খুব কোমলভাবে কাজ করে। এর কাজ হলো ঘুম পাড়ানো।
ভলপোনিঃ (জনান্তিকে)-হ্যা তুমি শেষ নিদ্রার কথাই বলেছো, যাতে আমি ঢলে পড়বো যদি এই ঔষধটি সেবন করি।
মসকাঃ স্যার, ঔষধে তিনি বিশ্বাস করেন না।
করবাসসিওঃ তুমি কি বলছো? বলছো কি তুমি?
মসকাঃ ঔষধে তার কোন বিশ্বাস নেই। তিনি মনে করেন অসুখের চেয়ে চিকিৎসকই বেশি বিপজ্জনক আর তারা নিজেরাই একেকটি অসুখস্বরূপ, যা থেকে প্রত্যেকেরই নিজেকে রক্ষা করা উচিত। আমি তাকে কখনো কখনো দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে শুনেছি যে আপনার চিকিৎসকের কখনোই তার উত্তরাধিকারী হওয়া উচিত নয়।
করবাসসিওঃ তিনি কি বলেছিলেন যে আমার কখনেই তার উত্তরাধিকারী হওয়া উচিত নয়?
মসকাঃ তিনি বলেছিলেন যে আপনার চিকিৎসকের কখনেই তার উত্তরাধিকারী হওয়া উচিত নয়।
করবাসসিওঃ ওহ! না, না, না। এরকম কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
মসকাঃ না, স্যার, সেটা প্রশ্নের বাইরে। এইসব চিকিৎসকেরা যেভাবে তাদের সম্মানী আদায় করেন, সেই পদ্ধতিও তিনি সহ্য করতে পারেন না। তারা রোগীকে মেরে ফেলার আগেই তার টাকা পয়সা সব সাফ করে ফেলেন।
করবাসসিওঃ সত্য তুমি যা বলতে চাইছো, তা আমি বুঝতে পারছি।
মসকাঃ আর, তারা রোগীর ওপর নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে। যদি এ ধরনের কোনো চিকিৎসায় একজন রোগী মারা যায়, আইন শুধু চিকিৎসকদেরই মুক্ত করে না, বরং তাদের পুরস্কৃত করে, আর এর খেসারত দেবার জন্য মৃত্যু কামনা করতেও তারা অনিচ্ছুক।
করবাসসিওঃ এটা সত্য, চিকিৎসকরা একজন বিচারকের মতোই স্বাধীনতা নিয়ে রোগীদের হত্যা করে।
মসকাঃ না, তার চেয়েও বেশি, স্যার, বিচারক আইন অনুসারে একজন অভিযুক্তকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন, যখন একজন চিকিৎসক আইনজ্ঞকেও মেরে ফেলতে পারেন।
করবাসসিওঃ হ্যা, তারা আমাকে অথবা অন্য যে কোন লোককে মেরে ফেলতে পারে। আচ্ছা, ভলপোনির সন্ন্যাস রোগের অবস্থা কি? তিনি কি এখনো এটার তীব্রতায় ভুগছেন?
মসকাঃ এটার অবস্থা আরো ভয়াবহ হয়েছে। তার কণ্ঠস্বর ভেঙ্গে গিয়েছে, আর তার চোখ স্থবির হয়ে গিয়েছে। তার মুখ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে আরো ঝুলে পড়েছে।
করবাসসিওঃ কিভাবে? কিভাবে? স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে তিনি কি এখন বেশি শক্তিশালী হয়েছেন?
মসকাঃ না, স্যার, তার মুখ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে আরো বেশি ঝুলে পড়েছে।
করবাসসিওঃ ওহ, তা বেশ।
মসকাঃ তার মুখ সবসময় বড় করে হাঁ হয়ে থাকে, আর তার চোখের পাতা ঝুলে থাকে।
করবাসসিওঃ তা বেশ।
মসকাঃ এক ধরনের শীতল অসাড়তা তার সমস্ত গ্রন্থিগুলোকে স্থবির করে রেখেছে, আর তার ত্বকের রং সীসে রঙ ধারণ করেছে।
করবাসসিওঃ ? তা বেশ, বেশ।
মসকাঃ তার নাড়ি ধীর গতিতে এবং থেমে থেমে চলছে।
করবাসসিওঃ এসবও বেশ ভালো লক্ষণ ।
মসকাঃ আর তার মস্তিষ্ক থেকে-
করবাসসিওঃ (উচ্ছ্বসিত হয়ে)-সত্যিই ? কি? তার মস্তিষ্ক নিশ্চয়ই এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
মসকাঃ হ্যা, তাই স্যার। আর তার মস্তিষ্ক থেকে-
করবাসসিওঃ আমি তোমাকে বুঝতে পারছি, তা বেশ।
মসকাঃ তার মস্তিষ্ক থেকে শীতল ঘাম প্রবাহিত হচ্ছে, আর তার নমিত চোখের কোণ বেয়ে ক্রমাগত শ্লেষ্মা নির্গত হচ্ছে।
করবাসসিওঃ এটা কি সম্ভব? যদিও আমি ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী, এটা বলতে ভালোই লাগছে। আগে তার মাথা ঘুরতো খুব, তার মাথার কি অবস্থা এখন?
মসকাঃ ওহ। স্যার, এটা এখন কেবল মাথা ঘোরার প্রশ্ন নয়। তিনি এখন অনুভব করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। তিনি এমনকি নাক ডাকাও বন্ধ করেছেন। তিনি যে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন আপনি এটা বুঝতেই পারবেন না।
করবাসসিওঃ চমৎকার। নিশ্চিতভাবেই তার চেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকবে। তার অবস্থার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমি যেন বিশ বছর বয়সের এক তরুণ।
মসকাঃ আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতাম, স্যার।
করবাসসিওঃ তিনি কি তার উইল তৈরী করেছেন? তার উইল অনুসারে তিনি আমাকে কি দিয়েছেন?
মসকাঃ জ্বী না, স্যার।
করবাসসিওঃ তুমি কি বলতে চাইছে যে আমি কিছুই পাবো না?
মসকাঃ তিনি তার উইল তৈরী করেননি, স্যার ।
করবাসসিওঃ ওহ! ওহ! ওহ! তাহলে আইনজ্ঞ ভলটোর কেন এসেছিলেন এখানে?
মসকাঃ স্যার, যে মুহূর্তে আইনজ্ঞ মহাশয় শুনেছেন যে আমার প্রভু উইল তৈরী করতে যাচ্ছেন, তিনি অমনি গন্ধ পেয়ে গিয়েছেন যে আমার প্রভু মারা যাচ্ছেন। আমার প্রভুকে আমি অবশ্যই উৎসাহিত করবো যাতে করে তিনি আপনার স্বার্থ রক্ষা করে উইল তৈরী করেন।
করবাসসিওঃ আইনজ্ঞ মহাশয় তোমার প্রভুর কাছে এসেছিলেন, তাই না? আমার তো তাই মনে হয়।
মসকাঃ জ্বী, তিনি এসেছিলেন আর থালাখানা তিনি আমার প্রভুকে উপহার দিয়েছিলেন।
করবাসসিওঃ তোমার প্রভুর উত্তরাধিকারী হবার জন্য?
মসকাঃ আমি জানি না, স্যার।
করবাসসিওঃ আচ্ছা। আমি তা-ও জানি।।
মসকাঃ (জনান্তিকে) আপনি আপনার নিজের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যাপারটি দেখছেন, স্যার।
করবাসসিওঃ বেশ । আমি তার উত্তরাধিকার হবার পথ বন্ধ করছি। দেখো, মসকা। দেখো, আমি এক থলে ভর্তি চকচর্কে স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে এসেছি যা আইনজ্ঞের থালার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
মসকাঃ (থলে গ্রহণ করে)-জ্বী , নিশ্চয়ই, স্যার। এই মুদ্রাই হলো আসল ঔষধ। এটি সব অসুখের জন্যই পবিত্র নিরাময়। ঔষধ হিসেবে মহান স্বর্ণ এবং ঔষধের মধ্যে কোনো তুলনাই হয় না।
করবাসসিওঃ এই স্বর্ণ পানযোগ্য না হলেও স্পর্শ করা যায়।
মসকাঃ এই স্বর্ণ আমার প্রভুর খাদ্য গ্রহণের পাত্রের সাহায্যে খাওয়ানো হবে। সেটা কি ঠিক হবে?
করবাসসিওঃ হ্যা, হ্যা, তাই করো, তা-ই করো।
মসকাঃ আমার মনে হয় এটা ঠিক হচ্ছে না, স্যার।
করবাসসিওঃ কি?
মসকাঃ তার নিরাময়ের ব্যবস্থা করা।
করবাসসিওঃ ও না, না, না, কোনভাবেই না।
মসকাঃ কেন, স্যার, এটা কিছু অদ্ভুত ঔষধি প্রভাব বিস্তার করতে পারে যদি এটাকে শুধুমাত্র স্পর্শ করা হয়।
করবাসসিওঃ তা বটে। তাহলে তাকে এটা গ্রহণ করতে দিও না। আমি বরং সোনা ফিরিয়ে নিয়ে যাই। এটা আমাকে ফেরত দিয়ে দাও।
মসকাঃ কোনভাবেই নয়। আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি আপনার এতো ক্ষতি করতে পারেন না, স্যার। আমি আপনাকে এমন বুদ্ধি দেবো যে আপনিই পুরো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন।
করবাসসিওঃ কি করে?
মসকাঃ পুরো সম্পত্তির উত্তরাধিকারী, স্যার। এটা আপনার অধিকার, এটা আপনার একান্ত নিজস্ব অধিকার, কোন মানুষ এতে কোনো অংশ দাবী করতে পারবে না। এটি আপনার অধিকার, আর এতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা দাবীদার নেই, নিয়তির ইচ্ছে সেরকমই।
করবাসসিওঃ কিভাবে, কিভাবে, প্রিয় মসকা?
মসকাঃ আমি আপনাকে বলবো, স্যার। অসুস্থতার এই আক্রমণ, তার সময় শেষ-
করবাসসিওঃ আমি তোমার কথার তাৎপর্য অনুভব করতে পারছি।
মসকাঃ আর, তিনি যখন চেতনা ফিরে পাবেন, তখন প্রথম সুযোগেই আমি তাকে উইল তৈরী করার জন্য চাপ দেবো, আর এই থলেটি তাকে আমি দেখাবো।
করবাসসিওঃ বেশ, বেশ।
মসকাঃ আপনি যদি আমার আরো কিছু কথা শোনেন, তাহলে তা আপনার জন্যে মঙ্গল বয়ে আনবে, স্যার।
করবাসসিওঃ বলো, আমি তোমার কথা মন দিয়ে শুনবো।
মসকাঃ এখন আপনাকে দেরি না করে বাড়ি যাবার পরামর্শ দেবো আমি। বাড়ি গিয়ে আমার প্রভুকে আপনার সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে একটি উইল তৈরী করুন।
করবাসসিওঃ আর এভাবে আমার ছেলেকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করাটা কি ঠিক হবে?
মসকাঃ ওহ। স্যার, সেটাই সবচেয়ে ভালো উপায়, আর এরকম ভান ব্যাপারটিকে আরো লোভনীয় করে তুলবে।
করবাসসিওঃ ও, তুমি বলতে চাইছো, এটা শুধু ভান?
মসকাঃ স্যার, আপনি আপনার উইলটা আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। আমি জোর দিয়ে বলছি, আমার প্রভুর জন্য আপনি যেমন দুশ্চিন্তা করছেন, তার শয্যাপার্শ্বে তাকে দেখতে আসছেন, তার রোগমুক্তির জন্য অসীম প্রার্থনা করছেন, তাকে অসংখ্য উপহার দিচ্ছেন, আজ আপনি যে স্বর্ণমুদ্রা উপহার হিসেবে এনেছেন, আর যখন, সবশেষে আপনার উইল তৈরী করছেন আপনার সন্তানের জন্য কোন চিন্তা না করে বা কোনো ছাড় না দিয়ে, যে সন্তান কিনা খুবই সাহসী এবং খুবই যোগ্য, আপনি আমার প্রভুর প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করছেন আর তাকে আপনার উত্তরাধিকারী করছেন, তিনি এতো নির্বোধ বা বিবেচনাহীন হতে পারবেন না, কৃতজ্ঞতাবোধ এবং বিবেকের তাড়নায় তিনি----
করবাসসিওঃ তিনি নিশ্চয়ই আমাকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে যোষণা করবেন।
মসকাঃ ঠিক তাই।
করবাসসিওঃ এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি আগেই চিন্তা করেছি।
মসকাঃ আমি আপনার কথা বিশ্বাস করছি।
করবাসসিওঃ তুমি কি একথা বিশ্বাস করছ না?
মসকাঃ জ্বী, স্যার, আমি বিশ্বাস করছি।
করবাসসিওঃ আমি নিজেই এই পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছিলাম ।
মসকাঃ তিনি যখন তা করবেন, স্যার।
করবাসসিওঃ তুমি বলতে চাইছো, যখন তিনি আমাকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করবেন?
মসকাঃ আর এটা নিশ্চিত যে আপনিই তার মনে জেগে থাকবেন-
করবাসসিওঃ হ্যা।
মসকাঃ আপনি এততাই প্রাণবন্ত এবং শক্তিশালী একজন মানুষ-
করবাসসিওঃ তুমি ঠিক বলেছো।
মসকাঃ জ্বী, স্যার।
করবাসসিওঃ আমিও তা নিয়ে ভাবছি। মসকা, ভেবে দেখো তো, আমার চিন্তাগুলো প্রকাশ করার জন্য তুমি আমার মুখ থেকে শব্দগুলো নিয়ে নিয়েছো, এটা কি খুব চমৎকার ব্যাপার নয়।
মসকাঃ আর এর ফলে, আপনি শুধু আপনার নিজের জন্যই সম্পদ অর্জন করবেন না
করবাসসিওঃ বরং আমার ছেলের উত্তরাধিকারকেও আরো সমৃদ্ধ করব?
মসকাঃ ঠিক তাই স্যার।
করবাসসিওঃ এমনকি এই বুদ্ধিটাও আমার মাথা থেকে বের হয়েছিল।
মসকাঃ হায়, স্যার, ঈশ্বর জানেন যে এটা হলো আমার চিন্তার ফল। (পুরো পরিকল্পনাটা করতে গিয়ে আমি চুল পাকিয়ে ফেলেছি......)
করবাসসিওঃ আমি বুঝতে পেরেছি, প্রিয় মসকা।
মসকাঃ আপনিই হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যার জন্য আমি এখানে পরিশ্রম করছি।
করবাসসিওঃ হ্যা, সাধ্যমতো চেষ্টা করো; করতে থাকো। আমি যাচ্ছি আর যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব, কাজটা করে ফেলছি।
মসকাঃ (জনান্তিকে)-তুমি বোকা বনবে, দাঁড়কাক।
করবাসসিওঃ আমি জানি যে, তুমি একজন সৎ মানুষ।
মসকাঃ এটা বলে আপনি মিথুক হচ্ছেন, স্যার।
করবাসসিওঃ আর-
মসকাঃ (জনান্তিকে)-আপনার ভ্রান্তি আপনাকে সত্য জানা থেকে নিবৃত্ত করছে যেমন করে আপনার বধিরতা আমি যা বলছি তা শোনা থেকে আপনাকে বিরত রাখছে।
করবাসসিওঃ আমি নিশ্চয়ই তোমাকে আমার পুত্রের মতোই দেখবো।
মসকাঃ (জনান্তিকে)-আমারও কোনো সন্দেহ নেই যে আমি আপনার পুত্র বোনারিওকে প্রতারিত করবো।
করবাসসিওঃ আমার তারুণ্য ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেন নয়?
মসকাঃ (জনান্তিকে)-আপনার সম্মান একটি মূল্যবান গাধা।
করবাসসিওঃ তুমি কি যেন বলছিলে?
মসকাঃ আমি আপনার সম্মানের কথা ভাবছি, তাড়াতাড়ি করুন, স্যার।
করবাসসিওঃ নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। আমি তাড়াতাড়ি যাচ্ছি। এখনই যাচ্ছি আমি।
(করবাসিওর প্রস্থান)
ভলপোনিঃ (রোগশয্যা থেকে উঠে বসে)-ও, হাসতে হাসতে আমি ফেটে যাচ্ছি। হাসি আমার পেট ফাটিয়ে ফেলবে---
মসকাঃ আপনার হাসির বন্যা নিয়ন্ত্রণ করুন, স্যার। আপনি জানেন যে এই উত্তরাধিকারের আশা এতই লোভনীয় যে যে কোন উপায়ে, তা যতোই অমার্জিত হোক না কেন, যা কিনা আমরা ব্যবহার করবো, সেটা আমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি করবে।
ভলপোনিঃ ওহ, কিন্তু তোমার পরিচালনা পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনা প্রশংসার দাবীদার। আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারছি না। প্রিয় দুরাত্মা, তোমাকে চুম্বন করতে দাও। তোমার এমন দুর্লভ বুদ্ধিমত্তার কথা আমি কখনো জানতাম না।
মসকাঃ হায়, স্যার, আপনার কাছ থেকে আমি যেমন প্রশিক্ষণ পেয়েছি কেবল তেমনভাবেই আমি কাজ করেছি। আমি তো কেবলমাত্র আপনার দেওয়া নির্দেশগুলোই মেনে চলেছি। আমি তাদেরকে শব্দ দিয়ে প্রতারিত করছি, তোষামোদ করছি, আর তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে ফেলছি।
ভলপোনিঃ তা ঠিক, তা ঠিক, লোভ কী শাস্তিই না নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসছে।
মসকাঃ জ্বী, আপনার সাহায্যে, স্যার।
ভলপোনিঃ এইসব লোকের মাথায় অনেক দুশ্চিন্তার বোঝা রয়েছে, তারা অনেক অসুখে ভুগছে; তাদের বার্ধক্যে অনেক ভীতির ধকল পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। হ্যা, তারা প্রায়ই তাদের জীবনের সমাপ্তি টানার জন্য মৃত্যুকে ডাকে, অথচ অন্য কোনো আশাই তারা এত ঘন ঘন করে না। তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়েছে আর তাদের বোধ ভোতা হয়েছে। তাদের দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, চলৎশক্তি রুদ্ধ হয়ে গেছে। হ্যা, তাদের দাঁতও ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না, যা দিয়ে কিনা তারা খাদ্যগ্রহণ করে। যদিও এটাকে তারা জীবন বলে মনে করছে! না, এখানে একজন লোক ছিলেন, এখন বাড়ি ফিরে গিয়েছেন, যিনি সত্যিই বেশিক্ষণ বাঁচতে চেয়েছেন। তিনি তার বাত আর পক্ষাঘাতের কথা ভুলে গিয়েছেন। তিনি এমন ভান করছিলেন যেন তার বিশ বছর বয়স কমে গিয়েছে। বয়স সম্পর্কে চমৎকার মিথ্যাচার করে তিনি নিজেকে তোষামোদ করছিলেন। তিনি আশা করছেন তার তারুণ্য যাদুর সাহায্যে ফিরে আসবে, যেমন মিডিয়ার যাদুর পানীয় ঈসনের তরুণ্য ফিরিয়ে এনেছিল। আর সেসব ধারণা পোষণ করে তিনি এতোটাই ফুলে উঠেছেন যে মনে হচ্ছে যেন ভাগ্য খুব সহজইে প্রতারিত হবে যেমন প্রতারিত তিনি নিজেই হয়েছেন আর তিনি বেশ হাওয়ায় উড়ছেন। (কড়া নাড়ার শব্দ শোনা গেল)। কে ওখানে এসেছে এখন? উত্তরাধিকারের জন্য সে কি তৃতীয় প্রার্থী?
মসকাঃ আপনার রোগশয্যায় চলে যান। আমি তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। ইনি হলেন করভিনো, আমাদের মার্জিত পোশাকের বণিক।
ভলপোনিঃ (শুয়ে পড়ে)-তুমি আমাকে মৃত বলে ভাবতে পারো।
মসকাঃ আপনার চোখে আরো মলম লাগানো দরকার, স্যার (মলম প্রয়োগ করলো)। কে ওখানে?
প্রথম অঙ্ক পঞ্চম দৃশ্য
 (মসকা, করভিনোঃ ভলপোনির প্রবেশ)
মসকাঃ সিনর করভিনো! আপনাকে যখন সবচেয়ে বেশী স্মরণ করছি তখনই আপনি এখানে এসেছেন। ওহ, যখন আপনি সত্যটা জানতে পারবেন, তখন আপনি কী খুশিই না হবেন।
করভিনোঃ কেন? কি সত্য? কি বিষয়ে সত্য?
মসকাঃ সেই সময় অবশেষে এসেছে, স্যার।
করভিনোঃ তিনি বোধ হয় ইতোমধ্যেই মারা যাননি, তাই না?
মসকাঃ পুরোপুরি মারা যাননি, স্যার, তবে ওই মরার মতোই। তিনি কাউকে চিনতে পর্যন্ত পারছেন না।
করভিনোঃ তাহলে আমি কি করবো?
মসকাঃ কি বিষয়ে, স্যার?
করভিনোঃ আমি তার জন্য একটি মুক্তো এনেছি। এই যে এটি।
মসকাঃ আপনাকে চেনার মতো যথেষ্ট স্মৃতিশক্তি তার রয়েছে। তিনি আপনার কথা এখনো বলেন। তার জিহ্বায় আপনার নাম ছাড়া আর কিছুই নেই। আপনার মুক্তোটি কি প্রাচ্যের, স্যার?
করভিনোঃ ভেনিস নগরে কখনোই এমন মুক্তো ছিল না।
ভলপোনিঃ (রোগ শয্যা থেকে কথা বললেন)-সিনর করভিনো!
মসকাঃ (করভিনোকে)-শুনুন।
ভলপোনিঃ সিনর করভিনো।
মসকাঃ উনি আপনাকে ডাকছেন। সামনে এগিয়ে গিয়ে মুক্তোটি তাকে দিন (ভলপোনিকে) স্যার, ইনি করভিনো, আর তিনি আপনার জন্য একটা মূল্যবান মুক্তো নিয়ে এসেছেন।
করভিনোঃ কেমন বোধ করছেন, স্যার? (মসকাকে) তাকে বলো যে এই মুক্তোটি চব্বিশ ক্যারেটের।
মসকাঃ স্যার, তিনি আমাদের কথার শব্দ শুনতে পান। তিনি শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন। আর আপনাকে এখানে দেখে তিনি খুব আনন্দিত হয়েছেন।
করভিনোঃ তাকে বলো যে আমি তার জন্য একটি হীরেও এনেছি।
মসকাঃ ওঁকে এটা দেখানোটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে, স্যার। এটা তার হাতে দিন। শুধুমাত্র তার হাতের কিছু অনুভূতি অবশিষ্ট আছে। তিনি এখনো জিনিসের স্পর্শ অনুভব করতে পারেবন। দেখুন, তিনি কেমন তাড়াতাড়ি করে মুক্তোটি ধরলেন।
করভিনোঃ হায়, মহোদয়। তার অসুস্থতার দৃশ্যটি কী করুণ!
মসকাঃ ধ্যাত! ভুলে যান, স্যার। একজন উত্তরাধিকারীর হতাশা হলো দেখানো হতাশা, কারণ হতাশার মুখোশের আড়ালে আনন্দের হাসি আছে।
করভিনোঃ কেন? আমি কি তার উত্তরাধিকারী?
মসকাঃ স্যার, আমি শপথ করে বলছি আপনি তাই। তবে তিনি সত্যি সত্যি মারা যাবার আগে তার উইল আমি দেখাতে পারবো না। কিন্তু করবাসসিও এখানে ছিলেন, ভলটোর এখানে ছিলেন, আর অন্যেরাও এখানে ছিলেন। যারা এখানে এসেছিলেন, তাদের সবার সংখ্যা আমি গুনতে পারিনি, অসংখ্য। তারা সবাই সম্পত্তির আশায় এসেছিলেন, মুখখানি হাঁক করে। কিন্তু আমি তক্কে তক্কে থেকেছি আর তার মুখ থেকে আপনার নামটি বলিয়ে নিয়েছি সিনর করভিনো, সিনর করভিনো আমি কাগজ, কলম, কালি নিয়েছি আর তারপর তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছি, তিনি কাকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে চান। তিনি যে নামটি উচ্চারণ করেছেন, তা হলো করভিনো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি কে তার উইলের নির্বাহক হবে, আর তিনি যে নামটি বলেছেন, তা হলো করভিনো। আর যখন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি চুপ হয়ে যেতেন, তখন আমি তার মাথা নাড়া, যা কিনা দুর্বলতার জন্য কাঁপছিলো, সেটাকে ব্যাখ্যা করেছিলাম এভাবে যে তিনি আপনার নামই বলেছিলেন। এভাবে অন্য প্রার্থীদেরকে আমি বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তাকে অভিশাপ দেবার অভিশাপ ছাড়া এবং তাদের দুর্ভাগ্যে বিলাপ করা ছাড়া তারা আর কোনো সম্পত্তিই পায়নি।
করভিনোঃ ওহ! আমার প্রিয় মসকা! (তারা আলিঙ্গন করলো) তিনি কি এভাবে আমাদেরকে আলিঙ্গন করতে দেখতে পাচ্ছেন না?
মসকাঃ একজন অন্ধ প্রাণী যতোটুকু দেখতে পায় তিনি তার চেয়ে বেশী কিছু দেখতে পান না। তিনি কাউকেই চিনতে পারেন না। তিনি কোনো ভৃত্যের মুখ চেনেন না বা নামও জানেন না। কে তাকে শেষবার খাবার বা পানীয় পরিবেশন করেছে, তাও তিনি মনে করতে পারেন না। যাদেরকে তিনি জন্মদান করেছেন বা যাদেরকে তিনি পালন করেছেন, তাদেরকেও তিনি মনে করতে পারেন না।
করভিনোঃ তার কি কোনো সন্তানাদি আছে?
মসকাঃ জ্বী, কিন্তু তারা অবৈধ। তিনি এক ডজন বা তার চেয়েও বেশী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, কারণ মাতাল অবস্থায় তিনি ভিখারিণী, জিপসী মহিলা, ইহুদী মহিলা আর কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। স্যার, এটা কি আপনার জানা ছিল না? বামন, ভাঁড় আর খোজা তারা সবাই তার অবৈধ সন্তান। এই গল্প সাধারণ্যে প্রচারিত। আমি বাদে এই পুরো বাড়ির সত্যিকারের পিতা তিনি। কিন্তু তাদের কাউকে তিনি উইল করে কিছু দান করেননি।
করভিনোঃ তা বেশ, তা বেশ। তুমি কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তিনি আমাদের। কথাবার্তা কিছুই শুনতে পাননি?
মসকাঃ আমি নিশ্চিত কিনা, তা আমাকে আপনি জিজ্ঞেস করছেন স্যার? বেশ, এখন দেখুন আর আপনার নিজের চোখকেই বিশ্বাস করুন। (সে ভলপোনির কানের কাছে মুখ নিয়ে চীৎকার করলো) আপনার বসন্ত হোক আর এখনকার অসুস্থতার সাথে নতুন মাত্রা যোগ করুক, আর মহামারীও হোক। এটা আপনাকে হত্যা করতে পারে অন্য সব অসুখের চেয়ে বেশী তাড়াতাড়ি, স্যার, আপনার উচ্ছংখল এবং অসৎ জীবনযাপন প্রণালীর জন্য বারবার আপনার বসন্তরোগ হওয়া উচিত আর সেই সাথে মহামারীও হওয়া উচিত। (কভিনোকে) আপনি এগিয়ে আসুন, স্যার। এ (ভলপোনিকে) আমি চাই আপনি আপনার নোংরা চোখ দুটো চিরকালের জন্য বন্ধ করুন যা থেকে দুটো ব্যাঙের পঁচা ডোবার মতো শ্লেম্মা নির্গত হচ্ছে আর আপনার ওই স্কুলে পড়া গাল যা চামড়ার বদলে পশুর মোটা চামড়ায় ঢেকে আছে----(করভিনোকে) আসুন, আর তার ওপর গালিগালাজ বর্ষণ করতে আমাকে সাহায্য করুন, স্যার। ওর গাল দুটোকে হিমায়িত ন্যাকড়ার মতো লাগে দেখতে, যার দশা শেষ!
করভিনোঃ (গালিগালাজে অংশ নেন)----আর ওই গাল দুটোকে দেখে মনে হচ্ছে ওগুলো যেন পুরনো ধোয়াচ্ছন্ন দেয়াল যার ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা রেখায় বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
মসকাঃ (করভিনোকে)------- ভাল বলেছেন, স্যার। আপনি মন খুলে কথা বলুন। আরো জোরেও কথা বলতে পারেন আপনি। একটি বন্দুকও যদি তার কানের কাছে গুলি ছোঁড়ে তাহলেও সে শব্দ তার কানের পর্দা ভেদ করতে পারবে না।
করভিনোঃ তার নাক যেন পয়োঃ নালী, সব সময়ই তরল প্রবাহিত হচ্ছে।
মসকাঃ দারুণ তুলনা। আর তার মুখটা কেমন?
করভিনো : না, না, আমরা অবশ্যই তা করবোনা।
মসকাঃ আমি অনুরোধ করছি, আমাকে তা করতে দিন। সত্যিই আমি তাকে একটা বালিশের সাহায্যে চমৎকারভাবে শ্বাসরোধ করে মারতে পারি । যার কাছে তিনি একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তেমন কোনো মহিলার মতো আমি এটা করতে পারি।
করভিনোঃ যা ইচ্ছে হয় করো, কিন্তু এখন আমি যাবো।
মসকাঃ তাই ভালো। হয়তো আপনার উপস্থিতির গুণেই তিনি এখনো বেঁচে রয়েছেন।
করভিনোঃ আমি তোমাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, তাকে মারার জন্য কোনো সন্ত্রাসী কাজ কোরো না।
মসকাঃ কেন নয়, স্যার? আমি আপনাকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে জিজ্ঞেস করছি, স্যার, কেন আপনি এ ব্যাপারে এতো দয়া দেখাচ্ছেন?
করভিনোঃ না, তুমি তোমার নিজের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারো।
মসকাঃ বেশ, স্যার, বলুন।
করভিনোঃ তার মুঠো থেকে তুলে নিয়ে আমি তাকে বিরক্ত করবো না ।
মসকাঃ কী যা তা বলছেন! আপনি আপনার হীরেটা নিয়ে গিয়ে তাকে বিরক্ত করবেন না । এই অযথা দুশ্চিন্তায় কেন আপনি অসুবিধে ভোগ করবেন? এখানে যা কিছু আছে তার কিছুই কি আপনার নয়? আমি কি এখানে নেই। আপনি আমাকে যেমনভাবে তৈরী করেছেন, আমি তেমনই হয়েছি আর আমি আপনার ওপর নির্ভরশীল যার অস্তিত্ব আপনার ওপরই নির্ভর করছে।
করভিনোঃ তুমি একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তি, মসকা। তুমি আমার বন্ধু, আমার সহকর্মী, আমার সঙ্গী, আমার অংশীদার, তুমি আমার পুরো ভাগ্যেরই অংশীদার।
মসকাঃ আমি আপনার পুরো ভাগ্যেরই অংশীদার হবো, শুধুমাত্র একটি ছাড়া।
করভিনোঃ সেটা কি?
মসকাঃ আপনার সুন্দরী স্ত্রী, স্যার। (করভিনোর প্রস্থান) এখন তিনি চলে গিয়েছেন। শুধুমাত্র তার স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা ছাড়া আমরা কোনোভাবেই তাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে পারতাম না।
ভলপোনিঃ মসকা! তুমি আজ তোমার অতীতের সমস্ত কৃতিত্বকে অতিক্রম করছে। (কড়া নাড়ার শব্দ শোনা গেল।) কে ওখানে? আর কারোর জ্বালাতনই আমি সহ্য করবো না। আমার জন্য সঙ্গীত, নৃত্য, ভোজোৎসব আর অন্য সব আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করো। জীবনের সব আমোদ-প্রমোদ উপভোগ করে পৌরুষদীপ্ত টার্কদের চেয়েও নিজেকে বেশী ইন্দ্রিয়প্রবণ বলে প্রমাণ করবো । (মসকার প্রস্থান)। এবার দেখা যাক। আজ আমি একটি মুক্তো, একটি হীরে, একটি থালা, এক থলে স্বর্ণমুদ্রা গ্রহণ করেছি। এক সকালের পক্ষে তা যথেষ্ট পাওয়া। কেন, আজকের পাওয়া সম্পদ গীর্জার লুণ্ঠিত মালের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। আমি যে মাসে একবার মানুষের মাংস ভক্ষণের মাধ্যমে মোটা হই, এই প্রাপ্তি আমাকে তার চেয়েও বেশী মোটা করে তুলেছে। (মসকার প্রবেশ)।
ভলপোনিঃ কে আমাকে দেখতে এসেছে।
মসকাঃ সুন্দরী লেডি-উড-বী, স্যার। তিনি হচ্ছেন ইংরেজ নাইট স্যার পলিটিক উড-বীর স্ত্রী। গতরাতে আপনি কেমন ঘুমিয়েছেন সেটা জানার জন্য আর আপনার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাবেন কিনা সেটা জানার জন্য তিনি একজন দূত পাঠিয়েছেন।
ভলপোনিঃ তিনি এখনই আসবেন না। ঘন্টা তিনেক পরে তার সঙ্গে দেখা করবো।
মসকাঃ দূতকে আমি তাই বলেছি।
ভলপোনিঃ যখন আমি আমোদ-প্রমোদ আর মদ্যপানের পরে অনেক বেশী শক্তি অর্জন করবো, তখনই তাকে আমি দেখতে চাই। আমি স্বর্গের নামে শপথ করে বলছি যে দুর্দান্ত ইংলিশ স্বামীদের ধৃষ্টতা দেখে আমি বিস্মিত হচ্ছি যারা তাদের স্ত্রীদের যার তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিচ্ছেন।
মসকাঃ স্যার, এই নাইটের নামটির সঙ্গে তার চরিত্রের অদ্ভুত মিল রয়েছে। তিনি একজন কূটনীতিক আর তিনি জানেন যে, তার স্ত্রী যথেষ্ট সুন্দরী নন যে তিনি তার স্বামীর প্রতি অবিশ্বস্ত হবেন। কিন্তু যদি তার চেহারাটি সিনর করভিনোর স্ত্রীর মতো সুন্দর হতো।
ভলপোনিঃ সিনর করভিনোর স্ত্রীর চেহারা কি অতীব সুন্দর?
মসকাঃ ওহ, স্যার, তিনি হচ্ছেন ইটালীর বিস্ময়, একটি উজ্জ্বল তারকা। তিনি হচ্ছেন এমন একজন মহিলা যিনি এখন তার তারুণ্যের চরম পর্যায়ে অবস্থান করছেন। তার সৌন্দর্য মাঠের পাকা ফসলের মতোই পরিপক্ক তার ত্বকের রং রাজহাঁস বা রূপা বা তুষার বা লিলির চেয়েও শুভ্র। তার কোমল ওষ্ঠ আপনাকে সবসময় প্রলুব্ধ করবে। আর যখনই আপনি তাকে স্পর্শ করবেন, তখনই সে গলে যাবে। তিনি আপনার সোনার মতোই উজ্জ্বল, আর আপনার সোনার মতোই মোহনীয়।
ভলপোনিঃ এসব কথা আমাকে আগে বলেনি কেন?
মসকাঃ হায়, স্যার, আমি নিজেই গতকাল এসব কথা জেনেছি।
ভলপোনিঃ কিভাবে তার দেখা পাওয়া যাবে ।
মসকাঃ ওহ! সেটা অসম্ভব একটি ব্যাপার। আপনার সোনা যেমন সতর্কতার সঙ্গে প্রহরায় রাখা হয়, তাকেও ঠিক তেমনিভাবে রাখা হয়। তিনি কখনোই দরজার বাইরে আসেন না। তার বাড়ির জানালা ছাড়া অন্য কোথাও তিনি মুক্ত বায়ু সেবন করেন না। আঙ্গুর বা চেরীফলের প্রথম দানার মতোই মিষ্টি তার দৃষ্টি আর তা তাদের মতোই কাছ থেকে দেখা যাবে।
ভলপোনিঃ আমি অবশ্যই তাকে দেখবো।
মসকাঃ স্যার দশজন গুপ্তচর করভিনোর আদেশে কড়া পাহারা দেয় তাকে। করভিনোর পুরো বাড়িটাই গুপ্তচরে ভর্তি। প্রত্যেক ভৃত্য সিলিয়ার গতিবিধি সম্পর্কে করভিনোর কাছে বিবরণী পেশ করে আর তার প্রত্যেক অনুগত ভৃত্য সম্পর্কেও বিবরণী পেশ করে। যখন কেউ বাড়ির বাইরে যায় এবং ফিরে আসে, তখন প্রত্যেককে অন্যজন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ভলপোনিঃ তাকে দেখতে যাবো আমি, কেবলমাত্র জানালায় এক নজর দেখার জন্য হলেও যাবো।
মসকাঃ তাহলে আপনাকে ছদ্মবেশে যেতে হবে।
ভলপোনিঃ বেশ। আমি একজন মৃত ব্যক্তির ছদ্মবেশ নিয়ে যেতে পারি। ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে হবে। (সকলের প্রস্থান)।

No comments:

Post a Comment

Trending