Total Pageviews

Friday, December 14, 2018

Elegy written in country church yard by Thomas Gray analysis and life of the poet in bangla- বাংলায় এলিজি রিটেন ইন এ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ড কবিতাটির সারমর্ম ও আলোচনা ও কবির জীবনী


অন্যান্য লিনক সমূহ
১।মূল ইংরেজি কবিতার লিনক
২।মূল কবিতার বাংলা অনুবাদ 
৩।কবিতাটির শব্দার্থ ও টিকা 
৪।১ম বর্ষের অন্যান্য কবিতা ও গল্পের অনুবাদের লিনক  

এলিজি রিটেন ইন এ কান্ট্রি চার্চইয়ার্ড কবিতার সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও সারমর্ম 
টমাস গ্রের এই বিখ্যাত কবিতাটি ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৭৫১ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত হয়। কবিতাটি গ্রাম্য লোকদের মৃত্যু ও তাদের কবরস্থানকে আশ্রয় করে রচিত। কবিতাটি ৩২টি পর্বে লিখিত। গ্রে শোক প্রকাশের সময় বেছে নিয়েছেন সন্ধ্যাবেলাকে। সন্ধ্যাবেলাটা বেছে নেয়ার কারণ হয়ত এটি দিনের শেষ এবং জীবনেরও শেষ, এ কারণে এ সময়টি বেছে নেয়া হয়েছে। সন্ধ্যা মানেই হলো রাত্রি আসছে চারপাশ আঁধারে ঢেকে দেয়ার জন্য যা নাকি মানুষের হৃদয়ে এক অব্যক্ত বেদনার সূচনা করে, আর এটি যেন মৃত্যুর মতোই নীরবতাকেও বহন করে নিয়ে আসে, সন্ধ্যাবেলার ঘন্টাধ্বনি, পতঙ্গের শব্দ, পেঁচার চিৎকার, মেশাবকদের খোয়াড়ে ফেরা, এ সবই যেন সত্যিকারভাবেই জীবনের সমাপ্তি ও মৃতজনের প্রতি শোকগাথার উপযুক্ত বিষয় ও সময়পরবর্তী পর্বে কবি বলেছেন, যারা এককালে গ্রামের মানুষদের মাঝে জীবিত ছিল এখন তারা অন্ধকার কবরস্থানে শায়িত। মৃতজনেরা আর কখনো তাদের পরিবারের লোকজন ও সন্তানদের কাছে ফিরে আসবে না, আগের মতো আর মাঠে শ্রমও দেবে না। গৃহের আরাম আয়েশও তারা আর ভোগ করবে না। কবি এখানে মৃত পূর্বপুরুষদের কথা বলতে চেয়েছেন। পরবর্তী কয়েকটি প্যারায় তিনি এ জগতে প্রকৃতির যে কিছু আমোঘ নিয়ম আছে তার কথা বলেছেন, গর্বিত পূর্বপুরুষদের কথা, শারীরিক সৌন্দর্য এবং সম্পদ কোনোটাই যে তাদেরকে মৃত্যুর হাত থেকে ফেরাতে পারেনি তাও তিনি বলেছেন। মৃত্যু ধনী এবং গরিব সবার ক্ষেত্রেই সমান। পরবর্তী পর্বে কবি এই সব অজানা অচেনা মানুষদের কথা শোকের সাথে উচ্চারণ করেছেন, তারা যেন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থাকা মণি রত্ন কিংবা মরুভূমিতে অযত্নে ফুটে থাকা আকর্ষণীয় ফুল, যারা অযত্নে অবহেলায় বিদায় নিয়েছে। যারা কোনো দিন ক্ষমতার লোভে একে অপরকে বিনাশ করেনি কোনো অপরাধও করেনি তারা, তাদের কোনো উচ্চাকাঙক্ষাও ছিল না, কোনো অপবাদের কারণে তারা লজ্জিতও হয়নি কোনো দিন। এ পর্বে কবি গ্রাম্য এই মৃতজনদের সহজ-সরল জীবনের কথাই বলতে চেয়েছেন।
কবি শেষে বলেছেন, এই যে তিনি প্রতিদিন সূর্যোদয়ে এবং সূর্যাস্তে পাহাড়ের উপরে উঠে এ দুটো বিষয় উপভোগ করছেন, তিনিও হয়ত একদিন থাকবেন না, আর এটিও যেন জীবনের এক পরম সত্য।
কবিতার শেষে সমাধি লিপির কথা বলা হয়েছে, সেখানে অর্ধশিক্ষিত গ্রাম্য লিপিকার সমাধিলিপি রচনা করেছেন, সেখানে মহান ঈশ্বরের কাছে করুণা প্রার্থনা করা হয়েছে এই মৃতজনদের জন্যে।


টমাস গ্রে'র সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা 
(১৭১৬-১৭৬৮)
১৭১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর কর্নহিল নামক স্থানে টমাস গ্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ফিলিপ গ্রে ছিলেন লন্ডন শহরের একজন খ্যাতিমান দলিল লেখক । গ্রের শৈশবকাল কেটেছে বিশাল একটি পরিবারে এতিম সন্তানের মতো। ছেলেবেলাটা তার খুবই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। কারণ তাঁর পিতা সর্বদা তার মায়ের প্রতি রঢ় আচরণ করতেন।
১৭২৫ সালে কে এটনে পাঠানো হয়। সেখানে তার বেশ ক'জন বন্ধুবান্ধব জুটে যায়। এটনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচীন এঁতিহ্য তার মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে ৷ এটনের প্রকৃতি তার মাঝে বলা যায় চেপে বসে এবং এ সময় তিনি ল্যাটিন ভাষায় কবিতা রচনা শুরু করেন।  
১৭৩৯ সালে তিনি দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন, উপস্থিত হন ফ্রান্সে। সে বছরই নভেম্বর মাসে তিনি আল্পস পর্বত অতিক্রম করেন এবং ১৭৪০ সালের পুরো সময়টাই তিনি ইতালিতে কাটান । রোম ও ভেনিসে ভ্রমণ করেন এবং পরবর্তীকালে বন্ধুদের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় ভেনিস থেকে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। ইতালির এঁতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো গ্রের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ১৭৪২ সালে তার 'ওড অন দি শ্প্রিং' নামক কৰিতা প্রকাশিত হয়। মিস স্পিড নামের এক সুন্দরী মহিলার সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এলিজি ইন এ কান্ট্রি চার্চইয়ার্' কবিতাগুচ্ছ ১৭৫১ সালে প্রকাশিত হয়। ১৭৫৩ সালে তাঁর প্রথম নির্বাচিত কবিতার সংকলন প্রকাশিত হয়। ক্রমে প্রকাশিত হয় 'দি প্রগ্রেস অব পয়েজি' দি ভিসেন্ট অব অডিন' দি ফাটাল সিস্টার' ইত্যাদি মহৎ কাজগুলো।
১৭৬৮ সালে গ্রে ক্যামবেজে সমকালীন ইতিহাসের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৭৭১ সালে ৩০ জুলাই এই মহান কবি লোকান্তরিত হন। এলিজি রিটেন ইন এ কা্ট্রি চার্চইয়ার্ড' কবিতাটি লেখা শুরু হয় ১৭৪২ সালে এবং শেষ হয় ১৭৪৯ সালে ৷ এই কবিতাটি লেখা হয় স্টক পোজি চার্চইয়ার্ডে বসে। সেখানে গ্রের বাবা মৃত্যুর পর তার মা ও মাসি দুজনে বসবাস শুরু করেছিলেন
বর্তমান কবিতাটিতে মৃত ব্যক্তিদের আবাসস্থল কবরস্থানের কথা বলা হয়েছে। যারা এককালে পৃথিবীতে বর্তমান ছিল, স্নেহ-মমতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিল, আজ তারা সকল মমতা ভালোবাসার উর্ধ্বে অবস্থান করে নির্জন কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত। যারা পৃথিবীতে বা তাদের সমাজে বড়ো কোনো ভূমিকা রাখেনি,-দেয়নি কোনো নেতৃত্ব, করেনি কোনো সংঘাত, এই সব সাধারণ নিরীহ মৃতজনদের উদ্দেশ্য করেই কবিতাটি লেখা। এ কবিতাটি হয়ে উঠেছে বিশ্বজনীনের শোকগাথা, যেন সারা পৃথিবীর সকল চার্চইয়ার্ডের মৃতজনদের প্রতি উতসর্গকৃত। সারা দুনিয়ার অবহেলিত নিরীহ মানুষেরা যেন এ কবরস্থানে এসে মিলিত হয়েছে।

যাদের জন্য আজ আর এক ফৌটা অশ্রু বিসর্জন করে না কেউ শুধু স্মৃতিফলকে লেখা কিছু বাণী ঘাসের আড়ালে জেগে থাকে। 

No comments:

Post a Comment

Blog Archive