Total Pageviews

Friday, April 10, 2020

Preface to Shakespeare or Preface to the Plays of William Shakespeare – Dr. Samuel Johnson – Translation in Bengali (Part 6 of 6)

Previous Part Link

Preface to Shakespeare or Preface to the Plays of William Shakespeare – Dr. Samuel  Johnson –  Translation in Bengali (Part 6 of 6)
অন্য সম্পাদকদের সম্পাদনা কর্মকে শ্রেণি বিন্যস্ত করে, আমি ভাবতে লাগলাম কী করে এদের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা যায়, কী করেইবা যে অংশটুকু তারা বাদ দিয়ে গেছেন তা পূর্ণ করা যায় যতগুলো কপি সংগ্রহ করা সম্ভব ততগুলো কপিই আমি সংগ্রহ করেছি। কিন্তু বিরল এই কপিগুলোর পরস্পরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারছিলাম না। ঘটনাক্রমে বা অন্যের অনুগ্রহে যে কপিগুলো আমার হাতে এসেছে আমি সেগুলো সতর্কভাবে মূল্যায়ন করেছি, অনেক ক্ষেত্রেই তা করার ক্ষমতা আমার না থাকা সত্ত্বেও করেছি।

পুরোনো কপিগুলো নিরীক্ষণ করে আমি সহসাই দেখলাম; পরের দিকে সম্পাদকরা যতই তাদের শ্রমশীলতা নিয়ে বড়াই করে থাকুক না কেন, তারাও অনেক অনুচ্ছেদকে অন্যায়ভাবে অক্ষত রাখে এবং রো অনুসৃত পথ অনুসরণ করেই সন্তুষ্ট থাকে কিন্তু একটু যত্নবান হলেই তারা রো ত্রুটিগুলো আবিষ্কার করতে পারত হয়ত। পরবর্তী সম্পাদকরা কিছু শব্দ বদলে তাদের মতে যে শব্দটি বেশি সুন্দর সুবোধ্য মনে হয়েছে সেটি ব্যবহার করেছে। আমি সে শব্দ পালটে দিয়েছি, কারণ আমার মনে হয়েছেঃ ইংরেজি ভাষার ঐতিহ্যের ধারা, শব্দের প্রকাশ ক্ষমতা তখনই সুরক্ষিত থাকে যখন কোনো রচয়িতার রচনাকে তার মূলে সংরক্ষণ করা যায় অন্য সম্পাদকরা মিটারের উন্নতি ঘটাবার চেষ্টা করেছেন। আমি সে চেষ্টা থেকে বিরত থেকেছি। দুই একটা শব্দ বদলে অন্য শব্দ যোগ করা গেলেও মূল বাক্যটির ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয় আমি সে রকম চেষ্টা খুব বেশি করিনি। আমি শুধু প্রাচীন শব্দগুলোকে পুনরুদ্ধার করে যেখানে যেটি উপযুক্ত বিবেচনা করেছি সেখানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি।
পুরোনো কপিগুলোর তুলনামূলক বিচার করে যে সংশোধন করা হয়েছে, আমি তাদের অবিকৃত রেখে দিয়েছি। কোথাও কোথাও সামান্য পরিবর্তন করে থাকলে, তার ব্যাখ্যা করেছি। কখনো কখনো অনুমান নির্ভরতা অপরিহার্য হয়ে পড়লেও আমি তার যদৃচ্ছ ব্যবহার করিনি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুরোনো পুস্তকগুলোর মূলে যেমন আছে তেমনভাবেই তাদের বিশ্বাস করা উচিত। সৌন্দর্য বা প্রাঞ্জলতার জন্য বা ভাবের উন্নত প্রকাশের জন্য তাদের কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন অনুচিত। প্রথম প্রকাশকদের মূলের প্রতি একক বিশ্বস্ততা বা একক বিচারবুদ্ধি নির্ভরতা কোনোটাকে খুব কৃতিত্ব না দেয়া গেলেও, তাঁরাই মূল রচনা পাঠের আনন্দ পেয়েছিলেন বেশি, আমরা যারা চিন্তা নির্ভরতায় পাঠ করি, তাদের তুলনায় কিন্তু প্রথম প্রকাশকরাও অজ্ঞতা বা অবহেলবশত, অনেক ভুল করেছেন। অতএব, সমালোচনার প্রয়োজন হবেই, তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে অধিক অনুমান নির্ভরতা বা অধিক সংশয় দুটোই বাদ দিয়ে মধ্যপন্থা অনুসরণই শ্রেয়
আমার সমালোচনায়, আমি মধ্যপন্থাই অনুসরণ করবার চেষ্টা করেছি এবং কোনো অনুচ্ছেদ খুব বিব্রতকর মনে হলে তাকে নীরবে পুনঃস্থাপিত করবার চেষ্টা করেছি। আমার সব শ্রম দিয়েছি পুরোনো কপিকে সর্বাঙ্গীন পুনরুদ্ধারে এবং তা করতে গিয়ে সামান্যতম সম্ভাবনাকেও আমি অবহেলা করিনি, যাতে হুয়েটিয়াস [Huetius - পিয়ের ড্যানিয়েল হুয়েটিয়াস, ফরাসি সাহিত্যতাত্ত্বিক পণ্ডিত] আমার নিন্দা করতে পারে, এই বলে যে, আমি শুধু শব্দ, বাক্য বদলাবার উচ্চাশায় গবেষণার শ্রম এড়িয়ে গেছি। মধ্যপন্থা অবলম্বনে আমি ব্যর্থ হইনি বলে মনে হয় আমি অনেক লাইনকে সশংয়াপন্নতা মুক্ত করেছি এবং অনেক দৃশ্যকে অতি উৎসাহীদের শুদ্ধি অভিযান মুক্ত করেছি। আমার মতে, এসব শুদ্ধি অপ্রয়োজনীয় ছিল। আমি ব্যাপারে রোমান নীতি অনুসরণ করেছি : রোমানরা মনে করত, একজন, শত্রুকে হত্যার চেয়ে একজন নাগরিককে রক্ষা করা অনেক সম্মানের। তাই আমি আক্রমণ করার চেয়ে রক্ষা করা শ্রেয় মনে করেছি। 
আমি নাটকের প্রচলিত অঙ্কবিন্যাস অনুসরণ করেছি, অবশ্য আমার বিশ্বাস, অঙ্কবিন্যাসের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। পরবর্তী সম্পাদনাগুলোতে যে অঙ্কবিভাজন দেখানো হয়েছে সে রকম অঙ্ক বিভাজন মূল কপিটিতে নেই। নাটকে মোট চারটি বিরতি থাকার কথা কিন্তু শেক্সপিয়রের খুব কম নাটকই নিয়ম অনুসরণ করে বিভাজিত। অঙ্ক বলতে, স্থান কাল পরিবর্তন না করে সাময়িক বিরতিকে বুঝায় একটা বিরতিই একটা অঙ্ক। সব নাটকেই কম বেশি অঙ্ক থাকে কিন্তু তা যে পাঁচ অঙ্কেরই হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শেক্সপিয়র তা জানতেন, তিনি তাই অনুশীলন করেছেন। তাঁর নাটকগুলো সেভাবেই রচিত। তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটকে তাই কোনো অঙ্কবিভাজন দেখা যায় না। কিন্তু, কোনো বিশেষ ঘটনা বা সময় অতিক্রমণের পর অঙ্কবিভাজন থাকলেই ভালো হতো এতে অনেক অসঙ্গতিকে এড়ানো যেত।  
শেক্সপিয়রের রচনাবলিকে পূর্বাপর সঙ্গতিপূর্ণ করতে, বিরতি চিহ্ন আমি স্বাধীনভাবে ব্যবহার করেছি। যারা তার শব্দ এবং বাক্যগুলোকে ক্রটি মুক্ত করতে গিয়ে ত্রুটিপূর্ণ করেছেন, তারা কি তার কোলন কমাগুলো ঠিক রেখেছেন? ছাড়া অন্যান্য অসামঞ্জস্যগুলোর সামঞ্জস্যতা বিধানে যা করণীয় তা করার চেষ্টা আমি নীরবে করেছি; কোনো নাটকে বেশি শ্রম দিয়েছি, কোনো নাটকে কম। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখা কঠিন; যেমন কঠিন বিক্ষিপ্ত মন দিয়ে অপসৃয়মাণ সত্যকে অনুসরণ করা। তবুও আমি অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় স্বাধীনভাবে শুদ্ধ করেছি; তাদের সংযোজন, বিয়োজন করেছি স্বাধীনভাবে। অন্য সম্পাদকদের তুলনায় আমি তা কমই করেছি, তবে তাতে মূল রচনার যেন অঙ্গহানি না ঘটে সে দিকে লক্ষ রেখেছি। অধিকাংশ পাঠক, এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ে এত শ্রম দিয়েছি বলে আমাকে দোষারোপ তো করবেনই না বরং বিস্মিত হবেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সম্পাদনা শিল্পটি এরকমই কিন্তু তারা সম্পাদনা শিল্পটিকে ভালোভাবে জানলেও তাতে যে খুশি হতোই তাও বলতে পারছি না।
আমি যত বেশি অনুমান নির্ভরতায় কাজ করেছি ততোই অনুমানের উপর আমার বিশ্বাস কমেছে, তাই কিছু কপি মুদ্রণের পর, আমার অনুমান নির্ভরতায় মূল রচনায় তা সংযুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই সিদ্ধান্তটি নেবার জন্য আমি নিজেই নিজেকে ধন্যবাদ দিই, কারণ যতই দিন যায় আমার নিজের করা সংশোধনগুলো সম্পর্কে আমার সন্দেহ আরো বেড়ে যায়
আমার টিকাগুলো আমি মার্জিনেই রেখে দিয়েছি তাতে আপত্তিজনক কিছু থাকলেও সে জন্য আমি তিরস্কৃত হবো বলে মনে হয় না। অনুমান নির্ভর কাজ যদি মূল রচনাকে অক্ষত রাখে তাহলে তাতে আপত্তি থাকার কথা নয় প্রয়োজনীয় সংশোধন তাই নিরাপদেই করা যায় আমার সংশোধনগুলো অনুল্লেখ্য বলেই আমি সেগুলো নিয়ে বেশি বাগাড়ম্বর করতে চাই না। আমি ইচ্ছে করলেই দীর্ঘ টিকা লিখতে পারতাম, এটা এমন কোনো কঠিন কাজ নয় টিকা লেখার কাজটি হচ্ছে, প্রধানত, পূর্ববর্তী সম্পাদকদের ত্রুটিগুলো নিরীক্ষণ করা এবং কতগুলো সংশোধন প্রস্তাব করা। সে সব প্রস্তাব হয়তো পাঠকদের নজরেই পড়বে না, অনেক সম্পাদক হয়ত ক্রোধ ভরে তা বাতিলই করে দেবে। আমি মনে করি যে কোনো সংশোধন প্রস্তাব সংক্ষিপ্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয় দীর্ঘ যৌক্তিক বিশ্লেষণ যাতে প্রয়োজন তেমন সংশোধন প্রস্তাব না করাই ভালো তা নিয়ে ব্যাপক আবিষ্কারের আস্ফালনও অযাচিত। তার চেয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে সমালোচনার স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখাই শ্রেয়  
জন্যই পূর্ববর্তী সম্পাদনা কাজগুলোকে আমি যথোপযুক্ত মনে করিনি, অতিকথন জর্জরিত, শ্রমহীন বলে সন্দেহ করেছি। শ্রমহীন সংশোধন কাজ সঠিক প্রতীয়মান হয় না তাই আমি মূল রচনা পুনর্গঠনে শুধু প্রয়োজনীয় কাজটুকুই করেছি, প্রচলিত নীতিকথা—“যে কাজে কোনো সংশয় দেখা দেয়, সে কাজ কোরো না”—অনুসরণ করেছি। তীর থেকে কোনো বিপর্যয় দেখে, কোনো নাবিক ভীত হতেই পারে, আমার সামনে বহু সম্পাদকের অপকীর্তি দেখে, আমিও সেই নাবিকের মতো ভীত হয়ে, সতর্ক থাকতে বাধ্য হয়েছি। পূর্ববর্তী সম্পাদকদের সম্পাদনা কর্মের প্রতি পৃষ্ঠায়; বুদ্ধিমত্তাকে কূটতর্কে, আর জ্ঞানকে, বহুমতে সন্ধিগ্ধ হতে দেখেছি। বাধ্য হয়েই, আমি যাদের ভক্ত অনুসারী ছিলাম, যাদের চিন্তার প্রভাবে ছিলাম তাদের সংশোধনকেও আমি বাতিল করে দিয়েছি। জানি না, আমার সংশোধন কর্মকে বাতিল করে, কতজন আমার পূর্ববর্তীদের মতকেই সঠিক বলে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবেন।
     Criticks, I saw, that other's names efface,
     And fix their own, with labour, in the place;
     Their own, like others, soon their place resign'd,
     Or disappear'd, and left the first behind.—Pope
সমালোচকদের দেখেছি, অন্যের নাম মুছে,
নিজের নামটিই সযত্নে রেখে গেছে;
অন্যদের মতো তার নামটিও একদিন হারিয়ে যাবে,
বা উধাও হবে আর প্রথম নামটিই পুনঃস্থান পাবে। (পোপ : টেম্পল অব ফেইম)
অনুমান নির্ভর কর্মে প্রায়ই ভুল হয়, তাতে সে কর্মীর বা অন্যদের বিস্মিত হবার কিছু নেই; বিশেষত, তার কর্ম যদি সুশৃঙ্খল যুক্তিপূর্ণ না হয়, স্বতঃসিদ্ধ না হয় অনুমান নির্ভর সম্পাদকের কাজে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি। কোনো অনুচ্ছেদের ভাব প্রকাশের তির্যকতা যদি তিনি ধরতে না পারেন, কোনো শব্দগুচ্ছকে যদি তিনি সামান্যতম ভুল ব্যাখ্যা করেন, কোনো বাক্যের সংযুক্তাংশকেও যদি লঘু ভঙ্গিতে দেখেন, তাহলে তিনি শুধু ভুলই করবেন না হাস্যাস্পদও হবেন। আর যদি সফলও হন তাহলে তার সাফল্য হবে অনেক সম্ভাব্যতার মধ্যে একটি এবং অন্য কেউ তার সাফল্যকে খণ্ডিত করতে পারে। অনুমান নির্ভর কাজটিতে তাই আনন্দের আড়ালে বিপদ লুকানো থাকে। আবার সংশোধনের লোভও সংবরণ করা যায় না। অনুমান নির্ভর কাজে আনন্দ আছে, আবিষ্কারের গৌরব আছে এবং যিনি একবার অনুমান নির্ভর কাজ শুরু করেন তিনি তার কাজে কোনো আপত্তি উঠবার ভয়ে ভীত না হয়ে সানন্দে তার কাজ অব্যাহত রাখেন। তবুও সুধী মহলে অনুমান নির্ভর কাজের বেশ কদর আছে। যে অনুমান নির্ভর কাজ রেনেসাঁ যুগ থেকে আজ পর্যন্ত; আলেরিয়ার [Bishop of Aleria  - আলেরিয়ার বিশপ, জোনস আঁদেস (১৪১৭-১৪৮০) লাইব্রেরীয়ান  সমালোচক]
যুগ থেকে বেন্টলির [Richard Bentley (27 January 1662 – 14 July 1742) English classical scholar, critic, and theologian - ট্রিনিট কলেজের অধ্যাপক। প্রাচীন গ্রন্থকারদের সংশোধক] যুগ পর্যন্ত গুণী জনের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তার অবমূল্যায়ন করাও আমার উদ্দেশ্য নয় প্রাচীন রচয়িতাদের নিয়ে যারা কাজ করেন তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন, শেক্সপিয়রকে নিয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের বেলায় তেমনটি দেখা যায় না। তারা ব্যাকরণসিদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভাষা নিয়ে কাজ করেন, যে ভাষায় সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়ঃ সারের তুলনায় হোমারের অনেক অনুচ্ছেদই সুবোধ্য ছিল। সে ভাষার শব্দের ব্যবহার সুপ্রতিষ্ঠিত তাই অর্থের তারতম্য দেখা যায় না। একাধিক পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেলেও তাতে একই ভুল দেখা যায় না। তবুও স্ক্যালিজার [Scaliger : জোসেফ জাষ্টাস ক্যালিজার (১৫৪০-১৬০৯) রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত পণ্ডিত], সালমাসিয়াসকে [Salmasius : ক্লড ডি সালমাসিয়াস (১৫৫৮-১৬৫৩) ১৬৪৯ সালে লীডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন] বলেন, তার সংশোধন কর্মে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। স্ক্যালীজার বলেন, “আমাদের অনুমান নির্ভর কাজ আমাদেরকে তাচ্ছিল্যের পাত্র করে, প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপির চেয়ে উন্নত কোনো পাণ্ডুলিপি পেলে আমরা পূর্বতনটির সংস্কার কাজের কথা ভেবে লজ্জিত হয়ে পড়ি।আর লিপিসাস [Lipsius - ষোড়শ শতাব্দীর বেলজিয়ান পণ্ডিত] অভিযোগ করতেন, সমালোচকরা ভুল দূর করতে গিয়ে, ভুলই বেশি করে। বস্তুত, যেখানে শুধু অনুমান নির্ভরতায়ই সংশোধন কাজ চলে, সেখানে স্ক্যালিজার লিপিসাস যত বড়ো জ্ঞানীই হোন, তাদের কাজে অস্পষ্টতা, বিরোধ থাকবেই, যেমন আছে আমার থিওবল্ডের কর্মে।
ভুল করে থাকলেও আমি সম্ভবত কম ভুলই করেছি কিন্তু জন-দাবি সম্পূর্ণ মিটিয়ে সমাদৃত হবার যোগ্য কাজ আমি করতে পারিনি বোধ হয় অজ্ঞতার প্রমাণ যেমন বেশি পাওয়া যায় তেমনি অত্যুকৃষ্ট জ্ঞানের আশা করাও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যারা কী চায় তাই জানে না, তাদের সন্তুষ্ট করা কঠিন। তাদেরও সন্তুষ্ট করা সমান কঠিন যারা পরিকল্পিতভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু আশা করে। আমি আমার কর্মে অন্যদের যতটা না হতাশ করেছি তার চেয়ে বেশি হতাশ করেছি নিজেকে তবুও আমি অবিচলভাবে কাজ করে গেছি। শেক্সপিয়রের সমগ্র রচনায়, এমন কোনো অনুচ্ছেদ নেই যা আমার কাছে অশুদ্ধ মনে হয়েছে আর তা আমি শুদ্ধ করিনি, মূলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিনি। আর যে অনুচ্ছেদই আমার কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়েছে তাই আমি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছি। অনেক ক্ষেত্রেই আমি অনেকের মত ব্যর্থ হয়েছি, অবশেষে পশ্চাদপসরণ করে আমার উষ্মা প্রকাশ করেছি। আমি দম্ভ ভরে কোনো কিছুকেই পাশ কাটিয়ে যাইনি, যা পাঠকের কাছে আমার কাছে সমান দুর্বোধ্য মনে হয়েছে, আমি সে ক্ষেত্রে আমার অজ্ঞতা স্বীকার করেছি। সহজ কোনো দৃশ্য নিয়ে আমি নিঃসন্দেহে অনেক মেকি তত্ত্বকথা স্তুপ করতে পারতাম কিন্তু যেখানে কিছুই বলার প্রয়োজন নেই, সেখানে কিছু বলা থেকে বিরত থেকেছি বা অন্যরা যেখানে অনেক বলেছেন সেখানে আমি আর বক্তব্য যোগ করিনি। আমি যে আলস্যবশে তা করিনি, তা নয় সজ্ঞানেই তা বলিনি
টিকা লেখার প্রায়ই প্রয়োজন হয় কিন্তু সেগুলো সমস্যারও সৃষ্টি করে। শেক্সপিয়রের প্রতিভার সঙ্গে যার সম্যক পরিচয় এখনো ঘটেনি তাকে শেক্সপিয়রের সবগুলো নাটক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে, যদি তিনি সেগুলো পড়ে সর্বোচ্চ আনন্দ পেতে চান, তিনি টিকাগুলো না পড়লেও পারেন। যখন তার কল্পনার পাখায় রং লাগে তখন তার টিকাগুলোর ব্যাখ্যায় নেমে না আসাই ভালো গভীর মনোযোগে তিনি শেক্সপিয়র অধ্যয়ন করলে তাকে থিওবল্ড পোপ নির্ভর না হলেও চলে। তিনি স্বচ্ছন্দে সুবোধ্য দুর্বোধ্য অংশ পড়ে ফেলতে পারবেন। গল্পটিরও সংলাপের রসাস্বাদন তিনি নির্বিবাদেই করতে পারবেন। শেক্সপিয়র পাঠের আনন্দ উচ্ছ্বাস কিছুটা স্থির হয়ে এলে, টিকাগুলো তখন তিনি পড়ে দেখবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তাদের যথাযোগ্যতা বিচার করে দেখতে পারেন।  
টিকাগুলো কোনো নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের বিশ্লেষণ করে কিন্তু তাতে মূল রচনা পাঠের আনন্দ হ্রাস পায় পাঠকের কল্পনা প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায়, মূল রচনা বিচ্যুত করে। পাঠক তাতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মূল রচনাটিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, যে রচনাটি গভীর মনে পড়েছিলেন তাতেই নিরাসক্ত হয়ে পড়ে।
খণ্ডিতকে দেখে সমগ্রকে দর্শনের আনন্দ পাওয়া যায় না। কোনো বৃহৎ কর্মকে সম্পূর্ণ আত্মস্থ করতে তার কর্মপরিধিকে চেতনার গভীরে প্রতিষ্ঠিত করতে বুদ্ধিবৃত্তিকে হতে হয় সুদূরপ্রসারী। গভীর পর্যবেক্ষণই বৃহৎ রচনার ক্ষুদ্র দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠে, সামগ্রিক সৌন্দর্য হয়ে উঠে দীপ্তিমান। শেক্সপিয়রের রচনায় আনন্দ দানের যে ক্ষমতা সুপ্ত তাকে জাগরিত করার কৃতিত্ব তার সম্পাদকদের প্রাপ্য নয় তাঁর রচনা পঠিত হয়েছে, প্রশংসিত হয়েছে, অনুসৃত হয়েছে সাথে সাথে বিকৃতও হয়েছে। কিন্তু শেক্সপিয়র পাঠ থেমে থাকেনি, তাঁর রচনাকে পরিশুদ্ধ না করেই তাঁর রচনা পাঠ চলেছে। ড্রাইডেন [Dryden] তবুও বলেন :
সব আধুনিক প্রাচীন লেখকদের মধ্যে সম্ভবত শেক্সপিয়রই ছিলেন মহৎ হৃদয়ের, চিন্তাশীল মনের অধিকারী। প্রকৃতির সব উপাদানই ছিল তার মধ্যে উপস্থিত। সৌভাগ্যবশত তিনি বিনা শ্রমেই সেগুলোকে দেখার অনুভব করার মতো করে উপস্থাপন করে গেছেন। যাঁরা তাঁকে অশিক্ষিত বলেন, প্রকারান্তরে তারা তার প্রশংসাই করেন। প্রকৃতির শিক্ষায় শিক্ষিত শেক্সপিয়রকে প্রকৃতির গভীরে পৌছার জন্য পুস্তক নির্ভর হতে হয়নি, পুস্তকের দৃষ্টিতে প্রকৃতিকে দেখতে হয়নি। তিনি অন্তরের দৃষ্টিতেই প্রকৃতিকে দেখেছেন। আমি তাকে সর্বত্র একই রকম দেখেছি এমন বলতে পারছি না, সর্বত্র তাকে একই রকম দেখলে, তাকে মানব জাতির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বললেও যথেষ্ট বলতাম না বোধ হয় কখনো কখনো তিনি খুব সফল নন, তার হাস্য দৃশ্যগুলো সব সফল নয়, তাঁর গম্ভীর দৃশ্যগুলোতে উচ্চ শব্দের নিনাদ। কিন্তু মহৎ ঘটনায়, তিনি মহৎ। তবে কেউ বলতে পারবে না, তিনি তাঁর প্রতিভা প্রকাশ উপযোগী ঘটনা পেয়েছিলেন, পেলে তাকে সর্বোচ্চমানে পৌছাতে পারতেন, অন্য যে কোনো কবির তুলনায় ("Quantum lenta solent inter viburna cupressi.")
পরিতাপের বিষয় যে, শেক্সপিয়রের মতো একজন রচয়িতার রচিত গ্রন্থের টিকা মন্তব্যের প্রয়োজন হয়, তাঁর ভাষাও অপ্রচলিত হয়, ভাব দুর্বোধ্য হয় কিন্তু চিরাচরিত বিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটবার নয়, মানুষের জীবনে যা ঘটবার, শেক্সপিয়রের জীবনেও তাই ঘটেছিল কালের অতিক্রমণে বা দৈবচক্রে। খ্যাতির প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত অনীহা আর মুদ্রণ যন্ত্রের কারণে তাঁর রচনায় ভুলের পরিমাণ বেড়েছে। সম্ভবত তিনি এত মহৎ হৃদয়ের মানুষ ছিলেন যে সফল মঞ্চায়নকেই সংরক্ষণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এমনও হতে পারে তিনি তার রচনাকে সংরক্ষণ উপযোগীই মনে করেননি। পরবর্তীকালে, তার অবহেলিত সে রচনাগুলোর পুনরুদ্ধার ব্যাখ্যা করা নিয়ে সম্পাদকরা সুনামের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এমনই খ্যাতি প্রয়াসীদের মধ্যে আমি এক অখ্যাত ব্যক্তি আমাকে এখন জন-রায়ের সম্মুখীন হয়ে, আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হবে। আমি আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে আমার মন্তব্যগুলো নিবেদন করতে চাই, অবশ্য ইতিমধ্যেই আমি সে জন্য অনেক উৎসাহ পেয়েছি, সম্মানিত হয়েছি। সম্পাদনা কর্মে সব সময়ই কিছু অপূর্ণতা থেকেই যাবে। সুধীজন আমার সম্পাদনা কর্মটি কীভাবে গ্রহণ করবেন, সে বিষয়ে আমার কিছু উৎকণ্ঠা থেকেই যাবে।
প্রিফেইস টু শেক্সপিয়র


No comments:

Post a Comment

Blog Archive