Total Pageviews

Sunday, March 15, 2020

The Garden Party by Katherine Mansfield - Bangla Translation - Part 2 of 2 - দ্যা গার্ডেন পার্টি - ক্যাথেরিন ম্যান্সফিল্ড - বাংলা অনুবাদ

The Garden Party by Katherine Mansfield - Bangla Translation

The Garden Party by Katherine Mansfield - Bangla Translation
২য় পর্ব শুরুঃ 
জোস, এখানে এসো, লরা ওর বোনের জামার আস্তিন ধরে টেনে তাকে রান্নাঘরের অপর পাশের সবুজ রঙা দরজার কাছে নিয়ে গেল সেখানে গিয়ে থেমে একটা কিছুতে সে হেলান দিল, ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল, জোস, আমরা আমাদের সকল কর্মকাণ্ড কি বন্ধ করতে যাচ্ছি?
অবাক হয়ে জোস চিৎকার করে বলল, সবকিছু বন্ধ বলতে আসলে কী বোঝাতে চাচ্ছ তুমি?
অবশ্যই গার্ডেন পার্টি বন্ধ করতে হবে
জোস রীতিমতো হতবাক, গার্ডেন পার্টি বন্ধ থাকবে? প্রিয় লরা, আহাম্মকি কোরো না, অবশ্যই আমরা ব্যাপারে কোনো কিছুই করতে পারছি না কেউ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু আশা কোরো না, বেশি বাড়াবাড়ি কোরো না
কিন্তু সদর দরজায় একটি মৃতলোক দেখে আমরা এমন একটি গার্ডেন পার্টি জমাতে পারি না
একটা ছোট্ট কুটিরঘরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অবলম্বন করে? এটা আসলেই একটু বেশি রকম বাড়াবাড়ি একটা বড়ো বেড়াও চলে গেছে মাঝখান দিয়ে আসলেই কুটিরটি এত কাছে ছিল যে, বাগানবাড়ির কাছে থাকার কোনো যোগ্যতাই ছিল না লোকগুলোর যারা এই রঙ করা চকলেট ব্রাউন ঘরটিতে থাকত তারা খুবই নিচু মানের মানুষ বাগানের বাধাকপি, অসুস্থ মুরগি আর টমেটো ছাড়া কিছুই ছিল না ওদের ওদের ঘর থেকে চিমনি পথে বের হওয়া, ধোয়ার কুগুলি ওদের দরিদ্রতার পরিচয় বহন করত ছোট্ট ধোয়ার কুণ্ডলিগুলো কখনোই রুপালি ধোঁয়ার কুণ্ডলির মতো ছিল না মোটেই, ধোপা আর মুচিরা এখানে বাস করত- ঝাড়ু দেয়া প্রভৃতি কাজ করত শিশুরা এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করত শেরিডানরা যখন ছোট্ট ছিল তখন ওদিকে যাওয়া ওদের একেবারেই নিষেধ ছিল, যাতে ওসব লোকদের নোংরা সব কথাবার্তা ওরা না শেখে কিন্তু লরা লোরি মাঝেমধ্যেই পথে হেঁটে আসত জায়গাটা ছিল বিশ্রী আর নোংরা ওদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসত, কাঁপতে কাঁপতে বের হয়ে আসত ওরা কিন্ত তার পরও কারো না কারো সর্বত্র যেতে হয়, একজনকে অবশ্যই সবকিছু দেখতে হয়, তাই ওরাও যেত
একটু ভেবে দেখো, কীভাবে ব্যান্ডপার্টি ব্যান্ড বাজাবে? সেইসব দরিদ্র মহিলাটির কথা বলল লরা
চাও, তাহলে তুমি জন্য শুধু শুধু কষ্টই পাবে আমি তোমারই মতো ব্যাপারে ব্যথিত, আমিও সমবেদনা জানাই ব্যপারে লরার দৃষ্টিতে এবার কাঠিন্যের আভা ছোট্টবেলায় ঝগড়া করার সময় তারা যেভাবে একে অপরের দিকে তাকাত আজও সেভাবে তাকাল তুমি একজন মাতাল শ্রমিককে কখনই মৃত অবস্থা থেকে জীবিত করতে পারবে না, ভদ্রভাবে বলল সে
মাতাল! সে মাতাল কথা তোমাকে কে বলেছে? লরা এবার ক্রুদ্ধ চোখে জোসের দিকে তাকাল সে বলল, এমন ব্যাপারে সবাই যে রকম ভাবে আমি সে রকমই বলেছি আমি সোজা মার কাছে যাচ্ছি এসব বলার জন্য, বলল লরা
যাও, তাই করো গে, ঘোৎ ঘোৎ করে বলল জোস লরা বৃহৎ কাচের দরজাটায় ধাক্কা দিয়ে বলল, মা, আমি কি ভেতরে আসতে পারি?
অবশ্যই বাছা আমার কী ঘটেছে? তোমার মুখখানা এমন দেখাচ্ছে কেন? মিসেস শেরিডান তার ড্রেসিং টেবিল হতে উঠে এলেন তিনি তার নতুন হ্যাটটা মাথায় পরতে চেষ্টা করছিলেন
লরা বলতে লাগল, একটা লোক নিহত হয়েছে মা
নিশ্চয়ই বাগানে নিহত হয়নি, ওর কথায় বাধা দিয়ে বললেন তিনি
না, তা অবশ্য নয়
ওহ্‌, কী যে ঘাবড়ে দিয়েছিলে আমাকে মিসেস এবার কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন এবং বড়ো হ্যাটখানা খুলে হাটুর ওপরে রাখলেন
কিন্ত মা শোনো, লরা রীতিমতো কীপতে কাপতে ঘটনাটা বলল অবশ্যই আমরা পার্টির কাজটা স্থগিত করব, তাই না মা? নম্র বলল সে, ব্যান্ড পার্টি আর সবকিছুই এসে গেছে, ওরা সবাই আমাদের প্রতিবেশী, ওরা সবাই আমাদের কথা শুনবে, তাই না মা?
লরার কথায় ওর মা জোসের মতোই আচরণ করলেন বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব তো দিলেনই না, বরং এতে কৌতুক বোধ করলেন
কিন্তু প্রিয় কন্যা আমার, ব্যাপারে তুমি তোমার স্বাভাবিক বুদ্ধিটাকে ব্যবহার করো এটা তো শুধু একটা দুর্ঘটনা, যদি কারো স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হত তাহলে না হয় একটা কথা ছিল আর তা ছাড়া আমি মোটেই ভাবতে পারি না যে কী করে এই ছোটো অপরিচ্ছন্ন গর্তের মতো ঘরগুলোতে ওরা জীবন যাপন করে আমরা অবশ্যই আমাদের পার্টির কাজকর্ম করব, আশা করি বিষয়টা বুঝতে পেরেছ?
লরা যদিও মুখে হ্যা-সুচক শব্দ করল, তবে এটা ভালো করেই বুঝতে পারল যে বিষয়টা সঠিক নয় মায়ের পাশে সোফাতে বসে সে বালিশে চিমটি কাটতে লাগল
মা, এটা কি একটা অমানবিক ব্যাপার নয়? জিজ্ঞেস করল লরা
প্রিয়তম আমার, মিসেস শেরিডান এবার হ্যাটটা হাতে তুলে ওর কাছে এলেন লরা তাকে থামিয়ে দেয়ার আগেই তিনি বলতে লাগলেন, প্রিয় কন্যা আমার, এই হ্যাটখানা তোমার এটা তোমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে আমার যা বয়স তাতে এটা আমার জন্য একেবারেই বেমানান আমি কখনো তোমাকে এমন দৃশ্য দেখতে দেখিনি নিজেকে এবার ভালে করে দেখো এটা বলেই তিনি তার হাতের আয়নাটা ওর সামনে ধরলেন কিন্তু মা, লরা আবার বলা শুরু করল এবং সে আয়নায় নিজেকে না দেখে অন্যদিকে মুখ ফেরাল সময় মিসেস শেরিডান অসহিষ্ণু হয়ে উঠলেন তুমি খুবই অশোভনীয় আচরণ করছ লরা মিসেস শেরিডান শীতল কণ্ঠে বললেন, লোকজন আমাদের কাছ থেকে এমন ত্যাগস্বীকার কামনা করে না, আর এটা ভদ্রতাসুলভ ব্যাপার হবে না যেটা সহজেই অন্যদের ভোগবিলাসকে নস্যাৎ করে দিতে পারে
লরা বলল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, বলল লরা মায়ের কক্ষ থেকে বের হয়ে সে নিজের ঘরে চলে গেল হঠাৎ করেই আয়নায় একটা সুন্দর মুখ দেখল সে সেটা সে ছাড়া আর কেউ নয় নজরে এল সোনালি ঝালর লাগানো কালো হ্যাটটি আর তার সাথে লাগানো ভেলভেটের লম্বা রিবন কোনো সময়ই ভাবেনি তাকে এমন দেখাবে এটা পরে সে ভাবল, মা কি তাহলে ঠিক কথাই বলেছেন, মনে মনে ভাবল, মা- হয়ত সঠিক আমি আসলেই বেশি রকম বাড়াবাড়ি করছি? হয়ত তাই আর একটু সময়ের জন্য সে ওই দুঃখী মহিলা আর তার সন্তানদের কথা ভাবল, ভাবল ওই মৃত ব্যক্তিটির কথা কিন্তু সবই তার কাছে পত্রিকায় ছাপা খবরের মতোই একেবারে গতানুগতিক, একেবারেই ভিত্তিহীন মনে হতে লাগল সে ভাবল, পা তার কাছে সঠিক বিষয় বলে মনে হল
দেড়টার মধ্যে দুপুরের ভোজনপর্ব শেষ হয় আড়াইটার মধ্যে ওরা সবাই তর্কযুদ্ধের জন্য তৈরি হয় সবুজ কোর্ট পরা ব্যান্ডপার্টি এসে গেছে এবং তারা টেনিস কোর্টের এক পাশে আস্তানা গেড়েছে
সুধিগণ, কিটি সেইটল্যান্ড বলতে লাগলেন, তারা কি ব্যাঙের মতো শব্দ করছে না? আমার মনে হয় এই পার্টি পুকুরের কিনারে কিংবা পুকুরের চারপাশ ঘিরে লতাগুল্মের ফাকে ফাকে করলেই ভালো হত
লোরি তার আনুষ্ঠানিক পোশাকে সজ্জিত হয়ে এসে সবাইকে শ্রীতি সম্ভাষণ জানাল ওকে দেখেই লরার দূর্ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। লোরিকে অনসরন করে সে হলল্রুমে প্রবেশ করল।
লোরি!
হ্যালো! সে তখন সিঁড়ির অর্ধেকটা উঠে গেছে, কিন্তু সে পেছনে এগিয়ে লরাকে দেখতে পেল আর গাল ফুলিয়ে চোখ বড়ো বড়ো করে তার দিকে তাকাল- আমার কথাটা কি বুঝতে পেরেছ? তোমাকে আশ্চর্যজনক সুন্দর লাগছে, বলল লোরি কী চমৎকার হ্যাটটাই না পরেছ
লরা ম্লান মুখে বলল, তা নাকি? লোরির দিকে তাকিয়ে শুধু একটু হাসি দিল আর কিছুই করল না সে
এরপরই স্রোতের মতো দলে দলে লোকজন আসতে লাগল ব্যান্ড বাজতে লাগল ভাড়াটে ওয়েটাররা ঘরে থেকে তাবুতে আসা-যাওয়া করতে লাগল যেখানেই চোখ পড়ে, দেখা যায়, দম্পত্তি কিংবা জোড়ায় জোড়ায় নারীপুরুষ চলাফেরা করছে, কেউবা পিঠ বাকা করে ফুলের গন্ধ শুঁকছে, কেউবা আবার শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, কেউ কেউ আবার বারান্দায় হেটে বেড়াচ্ছে সেরিডানের বাগানে আজ বিকেলে যেন বর্ণিল পাখিদের মেলা বসে গেছে, কোথা থেকে কোথায় এল তারা? আহ্‌! মানুষের সাথে মেলামেশা করতে পারাটা কত যে আনন্দের আর সুখকর! তাদের সাথে হাত মেলানো, গালে হাত দেয়া, মানুষের চোখে চোখ রেখে হাসা
প্রিয়তম লরা, কী সে সুন্দর লাগছে আজ তোমাকে! এক অতিথি বলল হ্যাট পরা অবস্থায় শিশুর মতো শোভনীয় লাগছে
লরা, সত্যিই তোমাকে স্প্যানিশদের মতো লাগছে, অন্য এক অতিথি বলল, এর আগে তোমাকে কখনোই এত সুন্দর লাগেনি
লরা এবার প্রশংসায় কিছুটা উৎফুল্ল হয়ে নম্র কণ্ঠে বলল, চা পান করেছেন কি? এখন আপনারা আইসক্রিম নিবেন কিনা? সত্যি, এই আবেগভরা আইসক্রিমগুলো সামনেই অসাধারণ বাবার কাছে গিয়ে সে নম্রসুরে বলতে লাগল, বাবা, ব্যান্ডপার্টির লোকগুলোকে কি পানীয় দেয়া উচিত নয়, নয় কি?
আজকের এই বিকেলটি ক্রমেই পরিণতির দিকে অথ্রসর হচ্ছে, ম্লান হচ্ছে, ধীরে ধীরে ঝরে পড়ছে বিকেলবেলার পাপড়িগুলো
এত চমৎকার গার্ডেন পার্টি এর আগে কখনো হয়নি, এটা আসলেই একটা বিশাল সাফল্য এবং সবচাইতে উল্লেখকরার মত বিষয়
অতিথিদের বিদায় সম্ভাষণ জানাতে লরা তার মাকে সঙ্গ দিল গাড়ি বারান্দায় পাশাপাশি দাড়িয়ে তারা সবাইকে বিদায় দিল
অন্যদের থেকে ঘুরে লরাকে বললেন, চলো, তাড়াতাড়ি এক কাপ কফি পান করব, আমি খুবই পরিশ্রান্ত, সত্যি পার্টিটা খুবই সার্থক, কিন্তু আহ! পার্টি! এই হল পার্টি! এই পার্টিতে তুমি ছোটো বাচ্চাদের মতো যোগ দেয়ার ব্যাপারে কেন জেদ করলে! ওরা সবাই গাদাগাদি করে তাবুর তলায় বসেছিল!
আমার নির্দেশে যে স্যান্ডউইচ তৈরি হয়েছে তা কি তুমি নেবে বাবা?
অনেক ধন্যবাদ মি. শেরিডান স্যান্ডউইচে একটু কামড় দিতেই তা পড়ে গেল তিনি অন্য একটা হাতে নিলেন আমি মনে করি, আজকের জান্তব একটি দুর্ঘটনার খবর তুমি হয়ত শোনোনি, বললেন তিনি
প্রিয়তম, মিসেস শেরিডান হাত ওপরে তুলে বললেন, এটা আমরা জানি, এটার জন্য পার্টিটাই পণ্ড হওয়ার জোগাড় হচ্ছিল লরা তো জেদ করছিল পার্টি বন্ধ করে দেয়ার জন্য
আহ, মা! লরা ব্যাপারে কোনো টিপ্পনি শুনতে চায় না
সব দুর্ঘটনা রকম ভয়াবহই হয়, বললেন মি. শেরিডান, যুবকটি বিবাহিত ছিল, লেনের নিচের পাশেই থাকত স্ত্রী আর পাঁচটি সন্তান রেখে গেছে বলে শুনতে পেলাম
একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল মিসেস শেরিডান হাতে কাপ ধরা অবস্থায় অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগলেন আসলেই এটা এক ধরনের দায়িত্বে অসচেতনতা
হঠাৎ করেই তিনি লক্ষ করলেন, অতিথিদের নষ্ট করা স্যান্ডউইচ, লক পাফ সবই নষ্ট হতে বসেছে এবার তিনি তার উর্বর মস্তিষ্ক হতে একটা নতুন বুদ্ধি বের করলেন তিনি. বললেন, আমি জানি, চলো আমরা একটি ঝুঁড়ি তৈরি করি আর এগুলো থেকে কিছু ভালো খাবার নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করি যেভাবেই হোক না এটা দরিদ্র শিশুদের জন্য হবে শ্রেষ্ঠ একটা বিষয়, তোমরা এটা মেনে নেবে না তিনি অবশ্যই এর জন্য প্রতিবেশীদের ভেতরে ডেকে আনবেন বিষয়ে কীভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায় লরা? হঠাৎ করেই লাফিয়ে উঠলেন তিনি, বললেন, সিঁড়ির কাছের আলমারি থেকে বড় ঝুঁড়িটা বের করে আমাকে দাও
কিন্তু মা, তুমি কি সত্যি মনে করো যে, এটা খুব শোভনীয় ব্যাপার হবে? বলল লরা অবশ্যই! তোমার আজ কী হয়েছে বলো দেখি এই তো এক কিংবা দু ঘণ্টা পূর্বে তুমি দরিদ্রদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকানোর কথা আমাদের বলছিলে, আর এখন
বেশ ভালো! লরা দৌড়ে গেল ঝুঁড়ির জন্য, এটা ছিল ভর্তি এবার ওর মা অবশিষ্ট খাবারগুলো এর মধ্যে স্তুপাকারে রাখল
প্রিয়তম মোর, এবার তুমিই এটা নাও, আর তোমার নিজস্ব ভঙ্গিমায় তুমি দৌড়ে যাও সেখানে, অপেক্ষা কোরো না, কিছু শাপলাও নিয়ো, ওই শ্রেণীর লোকেরা শাপলা পেলে খুবই খুশি হয়
বাস্তববাদী জোস বলল, ফলে ওর ফ্রকটাই নোংরা করে দেবে
যথাসময়েই তারা যাত্রা করল, শুধু একটা ঝুঁড়ি আর লরা!
ওর মা তাবু থেকে বের হয়ে ওর পিছে পিছে অগ্রসর হল- কোনো রকম বাছাইয়ের মধ্যে যাবে না
কী হলো মা?
না, ছেলেমেয়েদের মাথায় চিন্তা না ঢোকানোই ভালো, ভাবলেন মিসেস শেরিডান- না, কিছু না, দ্রুত অগ্রসর হও তারা তাদের বাগানের গেট বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে এল তখন প্রায় সন্ধ্যা নামছে ছায়ার মতো দেখতে একটা বড়ো কুকুর দৌড়ে আসছিল জায়গাটা ক্রমেই পরিষ্কার হল আর নিচে ফাকা জায়গায় কুটিরগুলোর ছায়া নজরে এল সন্ধ্যার মুহূর্তটি কী শান্ত, নির্মল! পাহাড়ের নিম্নদেশে যাচ্ছে লরা যেখানে একটি মৃত লোক শুয়ে আছে আর এটা সে ভালো করে অনুধাবন করতে পারছে না কেন এটা সে বুঝতে পারেনি? কিছুক্ষণের জন্য থামল লরা হঠাৎ তার হৃদয়ে অনুভূত হতে লাগল পার্টির সেই গুলো, চামচের টুংটাং হাসির শব্দ আর ঘাসের গন্ধ- সবই যেন তার ভেতরে স্পর্শ রাখছে এগুলো ছাড়া মুহূর্তে লরা আর কিছুই ভাবতে পারছে না কী অবাক ব্যাপার! সে ধূসর আকাশের দিকে তাকাল আর ভাবল- হ্যা, আসলেই পার্টিটা খুবই সার্থক হয়েছে
বড়ো রাস্তাটা অতিক্রম করল ওরা ছোটো পথটা শুরু হল কিন্তু বড়োই আঁধার আর কুয়াশা মোড়া শাল মুড়ি দেয়া নারী আর ক্যাপ পরা পুরুষেরা দ্রুত রাস্তা পেরিয়ে যাচ্ছিল লোকজন উচু বেড়ার খুঁটিগুলোর ওপর পা ঝুলিয়ে বসে ছিল দরজার সামনে ছেলেমেয়েরা খেলা করছে ছোট্ট একটা কুটির হতে একটা ক্ষীণ আওয়াজ ভেসে এল কোনো কোনো কুটির হতে আবছা আলোর ঝলকানি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে জানালাপথে লরা সামনে অগ্রসর হল, ভাবল, সাথে করে একটা কোট আনতে পারলে ভালো হত, ফ্রকটা আর বড়ো হ্যাটখানাও যেন কেমন, দেখাচ্ছে, অন্য একটা হ্যাট আনলে ভালো হত লোকগুলো তখন তার দিকে তাকাচ্ছে আসলে এখানে আসাটাই ভুল হয়েছে, সে বুঝতে পারছে পুরো ব্যাপারটাই ছিল ভুল তাহলে কি সে এখান দিয়ে যাবে না?
না, অনেক দেরি হয়ে গেছে সামনে একটা বাড়ি, এটা অবশ্যই বাড়ি, একদল লোক বাইরে দাঁড়িয়ে আছে একটি বৃদ্ধা চেয়ারে বসে কি যেন পর্যবেক্ষণ করছিল? পা দুটো তার খবরের কাগজের ওপরে রাখা লরা কাছাকাছি হতেই কণ্ঠগুলো থেমে গেল লোকগুলো আলাদা হয়ে দূরে সরে গেল তার আসাটাই যেন প্রত্যাশিত ছিল ওরা যেন জানত যে লরা আজ এখানে আসবে
আহ, চলে গেল এখান থেকে! সে মনেপ্রাণে বলল, ঈশ্বর আমার সহায় হন ছোটো রাস্তা ধরে হেঁটে গিয়ে সে একটা দরজায় ধাক্কা দিল লরা ভাবল, আমি ঝুঁড়িটা এখানে রেখেই চলে যাব এটা কেউ স্পর্শ করছে কি না এটা দেখার জন্যও আমি এতটুকু অপেক্ষা করব না এরপরই খুলে গেল দরজা কালো পোশাক পরা একজন মহিলা এসে সামনে দাঁড়াল লরা জিজ্ঞেস করল, আপনি কি মিসেস স্কট?
কিন্তু ভয় জাগানো একটা ব্যাপার ঘটল মহিলা জবাবে বলল, ভেতরে এসো আর আঙিনার গেটটা বন্ধ করল
আমি আসতে চাইনি মা আমাকে পাঠিয়েছেন শুধু ঝুঁড়িটা এখানে রেখে যেতে বিষণ্ণ এই মহিলা ওর কথায় কান দিল বলে মনে হল না কিছুটা অনুনয়ের ভঙ্গিতে মহিলা বলল এখানে থামুন লরা তাকে অনুসরণ করল
লরা এবার মহিলার সাথে একটা ভাঙাচোরা ছোটো রান্নাঘরে গিয়ে ঢুকল আবছা ধোয়ার মাঝে শুধু একটা প্রদীপ আলো দিচ্ছে আর একটি মহিলা আগুনের সামনে বসে আছে
কেউ একজন বলল, কে এই মেয়েকে ভেতরে এনেছে, আচ্ছা, এটা তো যুবতী মেয়ে সে পরার উদ্দেশ্যে আবার বলল, আমি আপনার বোন মিস, আশা করি ক্ষমা করবেন, করবেন না?
ওহ্‌, অবশ্যই, বলল লরা
ঠিক সে মুহূর্তেই অগ্নিকুণ্ডের সামনে বসে থাকা মহিলাটি ওর দিকে মুখ ফেরাল তার রক্তিম আভা, মুখ ফোলা ফোলা, ঠোট দুটো স্ফুরিত দেখলেই যেন কেমন শঙ্কা জাগে
লরার দিকে এমন দৃষ্টিতে সে তাকাল যে, লরার এখানে আসার কোনো উপযুক্ত কারণই খুঁজে পাচ্ছে না, এটার মানে কী? কেন অবাক করা এই মেয়েটি ঝুড়ি হাতে রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে আছে? ব্যাপারটা কী? এটা ভেবে অসহায় মুখখানায় আবার কুঞ্চনের রেখা ফুটে উঠল
লরা তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের হতে চাচ্ছে সে আঙিনার দিকে ফিরল খুলে গেল দরজা সে সরাসরি শোবার ঘরে প্রবেশ করল, যেখানে মৃত দেহটা শুয়ে আছে
তুমি একটিবার তাকে দেখতে চাবে, তাই নয় কি? সে লরাকে বিছানার কাছে নিয়ে গেল, ভয় পেয়ো না মেয়ে সময় মহিলার কণ্ঠস্বর অনেকটা নেমে এল, কোমল তার স্বর খুবই সম্মানের সাথে সে কাফনের কাপড়টি সরাল, মৃত লোকটাকে দেখিয়ে বলল, ঠিক যেন একটা ছবি, আর দেখার মতো কিছুই নেই, চলে এসো বাছা আমার
বেরিয়ে এল লরা
এখানে শায়িত আছে একটি যুবক, অনেক আগেই ঘুমিয়ে গেছে সে- এতটাই শান্ত আর নীরবতা এখানে যে কারো কণ্ঠস্বরই আজ তার ঘুমের কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না, জাগাতে পারবে না ঘুম থেকে সে যেন স্বপ্ন দেখছে, কখনোই আর তাকে জাগানো সম্ভব হবে না বালিশে মাথা রেখে নিদ্রায় নিমগ্ন সে তার চোখগুলোও বোজা, এগুলোর আর কোনো প্রয়োজনও নেই সে এখন নিজেকে সমর্পণ করেছে স্বপ্নের জগতে এই যে গার্ডেন পার্টি, ঝুঁড়ি আর লেস দেয়া ফ্রক- এসব থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে সে খুবই অপরূপ, অত্যন্ত সুন্দর যখন পার্টিতে আগত অতিথিরা হাসি হল্লায় মেতে উঠেছিল, যখন ব্যান্ড বাজছিল মধুর লয়ে, তখন এই প্রস্তরসদৃশ মৃত দেহটাকে এখানে আনা হয়েছে, সুখী-সুখী মৃত লোকটা যেন বলছিল, ঠিক আছে, সব ঠিক আছে যা যেভাবে ঘটার সেভাবেই ঘটেছে, ক্ষেত্রে আমার কোনো অভিযোগ নেই
সবার মতোই তুমিও কান্না করছ, কিন্তু এই শবদেহকে কোনো কিছু না বলে ঘর হতে বের হতে পারবে না
শিশুর মতো ফুঁপিয়ে উঠল লরা
দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন, বলল সে তখন আর সে অপেক্ষা করল না দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসেই সে পথটা খুঁজে পেলেও পথের অজানা অচেনা লোকজনের পাশ কাটিয়ে ছোটো রাস্তার একপাশে লোরির সাথে মিলিত হল
আবছা আধারে সে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি লরা?
হ্যা
মা খুবই দুশ্চিন্তার মাঝে আছে, সবকিছু ঠিক আছে তো?
হ্যা, সব ঠিক আছে, ওহ- বলেই সে লোরির হাতখানা টেনে নিয়ে চেপে ধরল
আমি মনে করি, তুমি সেখানে গিয়ে না কেঁদে পারোনি
লরা ওর হাতে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল, হ্যা, তাই
লোরি তার কাঁধে হাত রেখে বলল, কান্না কোরো না আন্তরিকতাপূর্ণ আর ভালোবাসা মেশানো সুরে বলল সে সত্যি, এটা ছিল একটা বীভৎস ব্যাপার
না, ফুঁপিয়ে উঠল লরা এটা ছিল সত্যি অপূর্ব কিন্তু লোরি হঠাৎ কথা বলতে গিয়ে থেমে ওর মুখের দিকে এক পলক তাকাল এটা কোনো জীবন নয়, তোতলাতে তোতলাতে বলল, এটা কোনো জীবন নয় কিন্তু জীবনটা যে কী সে এটার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবে না কোনো বিষয়ই নয় এটা, মনে মনে অনুধাবন করল সে

এটাই কি ঠিক নয়, প্রিয় বোন আমার? বলল লোরি
---------------------------------- শেষ -------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আল্লাহ  আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করে (মুসলিম, হাদীস : ১৮৫) 
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে আল্লাহ  আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। (মুসলিম, হাদীস : ১৮৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরীল (.) আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত বেশি  তাকিদ করেছেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিবেশীকে মিরাছের অংশিদার বানিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী ৬০১৪; মুসলিম ২৫২৪)

No comments:

Post a Comment

Blog Archive