Friday, December 21, 2018

Dr. Faustus - Christopher Marlowe - Annotations of Bengali Translation - ড. ফস্টাস - ক্রিস্টোফার মার্লো - টিকাসমূহ

tragical history of dr. faustus bangla translation and annotations
অন্যান্য লিঙ্ক সমূহঃ   ১। ইংরেজিতে মূল টেক্সট    ২। ১ম অঙ্কের অনুবাদ     ৩। ২য় অঙ্কের অনুবাদ    ৪। ৩য় অঙ্কের অনুবাদ   ৫। ৪র্থ অঙ্কের অনুবাদ    ৬। ৫ম অঙ্কের অনুবাদ   ৭। ক্রিস্টোফার মার্লোর জীবন

Dr. Faustus - Christopher Marlowe - Annotations of Bengali Translation - ড.
ফস্টাস  - ক্রিস্টোফার মার্লো - টিকাসমূহ 

১. থ্র্যাসিমিনির যুদ্ধঃ ২১৭খ্রীষ্টপূর্বাব্দে থ্র্যাসিমিনি হ্রদের তীরে রোমান ও কার্থেজীয়ানদের মধ্যে এক যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে কার্থেজীয়ানদের নেতৃত্ব দেন বিখ্যাত সমর নায়ক হ্যানিবাল (২৪৭-১৮৩ খ্রীঃ পূঃ)। যুদ্ধে রোমানদের পরাজয় ঘটে।
২. মার্সঃ (Mars) প্রাচীন রোমানরা তাকে যুদ্ধের দেবতা হিসাবে আরাধনা করতেন। গ্রীক মাইথোলজিতে তিনি আরীস নামে অভিহিত। আরীস দেবী হেরার(জুনোর) পুত্র।
৩. মোমের পাখাঃ কথিত আছে যে ডেডালাস তার পুত্র ইকারুসের জন্য দুটি পাখা তৈরী করেছিলেন এবং মোমের সাহায্যে সেগুলো পুত্রের দেহের সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ইকারুস উড়তে উড়তে সূর্যের এত কাছে চলে গিয়েছিল যে তীব্র তাপে মোম গলে যায় এবং সে সাগরে পড়ে যায়। সাধারণতঃ অতিরিক্ত উচ্চাকাংখীদের কি পরিণতি হয় তা দেখানোর জন্যই এই পৌরাণিক কাহিনীটি ব্যবহৃত হয়
৪. আরিস্টটলঃ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক (৩৮৪-৩২২ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ)। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় তিনি অবদান রেখেছিলেন। তাই তাকে বলা হতজ্ঞানীদের শিক্ষক। তার গ্রন্থসমূহের মধ্যে দি অর্গানন, ফিজিকা, মেটাফিজিকা, রেটোরি ও পোয়েটিকস বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি বিখ্যাত বীর আলেকজাণ্ডার দি গ্রেটের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
৫. গ্যালেনঃ গ্রীক চিকিৎসক। জন্ম ১২৯ খ্রীষ্টাব্দ মৃত্যু ১৯৯ খ্রীষ্টাব্দ(সম্ভবত)। জীববিদ্যা ও চিকিৎসাশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছিলেন। দর্শন, সাহিত্য ও ব্যকরণ সম্বন্ধে তিনি গ্রন্থাদি রচনা করেছিলেন।
৬. জাস্টিনিয়ানঃ রোমান সম্রাট (৫২৫-৫৬৫)। তিনি রোমান আইনের ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। তিনি কর্পাস জুরিস নামক আইনবিষয়ক পুস্তকের প্রণেতা এই গ্রন্থ চারটি পর্বে বিভক্ত যথাঃ দি ইনস্টিটিউটস, দি ডাইজেস্ট, দি কোড এবং দি নভেলস।
৭. সন্ত জেরোমের বাইবেলঃ সন্ত জেরোমের প্রকৃত নাম ইউসেবিয়াস সোফ্রোনিয়াস হিয়েরোনিমাস। তিনি ৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২০ খ্রীষ্টাব্দে মারা যান। তিনি বাইবেল অনুবাদ করেছিলেন।
৮. জোভঃ রোমান মাইথোলজিতে Supreme God কে জোভ নামে ডাকা হয়েছে।
৯. পার্মার যুবরাজঃ পার্মার যুবরাজ আলেকজাণ্ডার ফার্নিস ১৫৭৯ সালে নেদারল্যাণ্ডের গভর্নর জেনারেল হিসাবে নিয়োগ পান। ১৫৯২ সালে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসবাস করেন।
১০. আন্টওয়ার্প ব্রীজঃ সম্রাট দ্বিতীয় ফিলিপের অধীনস্থ কর্মকর্তা আলেকজাণ্ডার ফার্নিস অ্যান্টওয়ার্প নামক স্থানে জাহাজ ও নৌকা সহযোগে Scheldt নদীর উপর এক পুল তৈরী করেন। কিন্তু ১৫৮৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল ওলন্দাজ বাহিনীর আক্রমণে ইহা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
১১. মিউজেউসঃ প্রাক-হোমারিক যুগের গ্রীক কবি। কথিত আছে যে, তিনি অর্ফিউসের শিষ্য ছিলেন। ভার্জিল তার ঈনীড মহাকাব্যে উল্লেখ করেছেন যে মিউজেউস যখন পাতালপুরীতে গিয়েছিলেন তখন অনেক প্রেতাত্মা তার চারপাশে ভীড় জমায়।
১২. এগ্রিপ্লাঃ হেনরী কর্নেলিয়াস এগ্রিপ্পা (১৪৮৬-১৫৩৯) ডি অকাল্টিয়া ফিলোজফিয়া (১৫৩৩) নামক গ্রন্থ রচনা করেন। মৃত ব্যক্তিদের আত্মা ডেকে আনার ব্যাপারে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
১৩. ল্যাপল্যান্ডের দানবঃ ল্যাপল্যান্ড মেরু অঞ্চলের একটি রাজ্য। ধারণা করা হত যে ঐ রাজ্যে দানব এবং ডাইনীরা বসবাস করে।
১৪. আফ্রোদিতিঃ জিউস এবং ডায়োনির কন্যা। প্রেমের দেবী হিসাবে সুপরিচিতা। রোমানরা তাকে ভেনাস নামে অভিহিত করত। তারই সহায়তায় প্যারিস হেলেনকে অপহরণ করে। ফলে ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু হয়।
১৫. ডেলফির দেবালয়গ্রীসের ডেলফিতে দেবতা অ্যাপোলোর একটি উপাসনালয় ছিল। এই মন্দিরে পিথিয়া নামক এক যাজিকা ছিলেন। তিনি ভবিষদ্বাণী করতে পারতেন। তাই ঐ মন্দিরে প্রত্যহ অনেক লোকের সমাবেশ ঘটত।
১৬. বেকনঃ রজার বেকন (১২১৪-১২৯৪) ছিলেন একজন দার্শনিক। তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন কিন্তু নিন্দুকেরা তাকে জাদুকর বলত ।
১৭. এলবার্টাসঃ ম্যাগনাস এলবার্টাস (১১৯৩-১২৮০) ছিলেন একজন বিজ্ঞানী। তিনি Elementa Magica নামক একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।
১৮. পিউরিটানঃ তারা ইংল্যাণ্ডের প্রটেস্টান্ট গীর্জার সমর্থকদের একাংশ যারা গীর্জার প্রার্থনা সভার আচার-বিধি সহজীকরণের পক্ষপাতী। তবে নীতিবাগীশ ও আমোদ-প্রমোদের বিরোধী ব্যক্তিদেরও পিউরিটান বলা হয়।
১৯. অরিয়নঃ ইহা সাতটি উজ্জ্বল তারা সমন্বয়ে গঠিত এক তারকাপুঞ্জ গ্রীক পুরাণে উল্লেখ আছে যে অরিয়ন নামক এক শিকারী ছিলেন যিনি মৃত্যুর পর তারকাপুঞ্জে পরিণত হন। তবে অরিয়নকে নিয়ে আরো অনেক গল্প চালু আছে।
২০. জিহোভাঃ ওল্ড টেস্টামেন্টে ঈশ্বরকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।
২১. একিরনঃ গ্রীক পুরাণে উল্লেখিত পাতালপুরীতে একটি নদী। এই নদীকে দুঃখ-নদীও বলা হয়। একিরনের দেবতা বলতে সম্ভবত হেডিসকে বুঝানো হয়েছে।
২২. ডেমোগর্গনঃ স্যার পল হার্ভে তার "The Oxford Companion to Classical Literature' গ্রন্থে ডেমোগর্গন সম্বন্ধে লিখেছেন "The most High of the triple universe, whom it is unlawful to know" এই একই গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে "Demogorgon is perhaps a mistake for Dermiurgus, the Creator."
২৩. ফ্রান্সিস্কানঃ ১২০৯ খ্রীষ্টাব্দে সেইন্ট ফ্রান্সিস অভ আসিসি এক ধর্মসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংঘকে সংঘের সদস্য এবং সদস্যাদের ফ্রান্সিকান বলা হয় ।
২৪. ট্রিনিটিঃ খ্রীষ্টান ধর্মমতে ট্রিনিটি বলতে বুঝায় এক ঈশ্বরের মধ্যে পিতা পুত্র ও পবিত্র আত্মার (God, Christ and the Holy Ghost) মিলন।
২৫. ইলিসিয়ামঃ গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী ইলিসিয়াম হল সেই স্থান যেখানে দেবতাদের অনুগ্রহ প্রাপ্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুর পর আনন্দে ও প্রশান্তিতে জীবন কাটান।
২৬. লুসিফারের স্বর্গচ্যুতিঃ দেবদূতদের শিরোমণি লুসিফার বা শয়তান সুপ্রাচীন কালে দলবলসহ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল এবং যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নরকে নির্বাসিত হয়েছিল-সেই কাহিনী কবি জন মিল্টন তার প্যারাডাইস লস্ট কাব্যগ্রন্থে বিধৃত করেছেন।
২৭. এম্বডেনঃ এলিজাবেথীয় যুগের একটি বৃহৎ সমুদ্র বন্দরের নাম।
২৮. পেনিলোপঃ স্পার্টার ইকারিউসের কন্যা ওডিসিয়াসের স্ত্রী ও টেলেমেকাসের মা। স্ত্রী হিসাবে তিনি ছিলেন পতিব্রতা। ওডিসিয়াসের দীর্ঘ অনুপস্থিতির সময় অনেকেই তার পাণিপ্রার্থী হয়েছিল কিন্তু তিনি সুকৌশলে সবার প্রস্তাবই এড়িয়ে যান।
২৯. সাবাঃ সেবা (বর্তমান ইয়েমেন) রাজ্যের রাণী। তিনি ছিলেন যেমন রূপসী তেমন বিদূষী।
৩০. হোমারঃ প্রাচীন গ্রীক কবি। কালজয়ী মহাকাব্য দি ইলিয়াড এবং দি ওডিসির রচয়িতা।
৩১. আলেকজাণ্ডারঃ ট্রোজান রাজকুমার প্যারিসের অপর নাম আলেকজাণ্ডার। প্যারিস ছিলেন রাজা প্রায়াম ও রাণী হেকুবার পুত্র। তার-জন্মের পর জ্যোতিষীরা বলে যে, তিনি ট্রয় নগরী ধ্বংসের কারণ হবেন। ফলে তার পিতা-মাতা তাকে ইডা পর্বতে ফেলে দিয়ে আসেন। কিন্তু প্যারিস প্রাণে বেঁচে যান। ঐ এলাকার মেষপালকরা তাকে লালন পালন করতে থাকে। যৌবনকালে ইডা পর্বতের এক পরীর সাথে তার বিয়ে হয়। এই পরীর নাম ইনোনী । কিন্তু পরবর্তীকালে দেবী আফ্রোদিতির সহায়তায় প্যারিস মেনিলা পত্নী হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে যান ও তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর থেকে ইনোনী নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে থাকে ।
৩২. অ্যাম্ফিয়নঃ  অ্যাম্ফিয়ন নামক এক দক্ষ সংগীত শিল্পী ছিলেন। তার গানের সুর এতই যাদুকরী ছিল যে, পাথর পর্যন্ত নড়ে উঠতো। তার সঙ্গীতের তালে তালে পাথরগুলো নিজেরাই পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে থিবী নগরীর সীমানা প্রাচীর তৈরী করে।
৩৩. ওভিডঃ রোমান কবি। তিনি ৪৩ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে ইতালীর সালমো নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ খ্রীষ্টাব্দে তার মৃত্যু হয়। ওভিডের পূর্ণ নাম পাবলিয়াস ওভিডিয়াস ন্যাসো। তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থের নাম মেটামরফসিস। তিনি তার একটা কবিতায় অহঙ্কারকে মক্ষিকার সাথে তুলনা করেছিলেন।
৩৪. সন্ত মার্টিন দিবসঃ প্রতি বছর ১১ই নভেম্বর তারিখটিতে খ্রীষ্টানরা সন্ত মার্টিনের স্মৃতি রক্ষার্থে ভোজসভার আয়োজন করেন।
৩৫. অলিম্পাস পর্বতঃ প্রাচীন গ্রীক দেবতারা এই পাহাড়ের উপর বাস করতেন।
৩৬. সেইন্ট পিটার্স ডেঃ প্রতি বছর ২৯শে জুন খ্রীষ্টানরা এই দিবস পালন করেন।
৩৭. ট্রায়ার নগরীঃ জার্মানীর ট্রিভিস নগরীর অপর নাম। এই নগরী পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য বিখ্যাত ।
৩৮. ক্যাম্পানিয়াঃ ইতালীর একটি উর্বর এলাকা। তবে মার্লো ভুলক্রমে নেপলস ক্যাম্পানিয়াকে একই স্থান বলে ভেবেছেন।
৩৯. ম্যারোঃ মহাকবি ভার্জিলের পুরো নাম পাবলিয়াস ভার্জিলিয়াস ম্যারো(৭০-১৯ খ্রীঃপূঃ)। তাকে নেপলসে সমাহিত করা হয়। জনশ্রতি আছে যে তিনি একজন দক্ষ যাদুকরও ছিলেন। যাদুশক্তির বলে এক রাতের মাঝে তিনি একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছিলেন।
৪০. জাকালো উপাসনালয়ঃ সম্ভবত ভেনিসের সেইন্ট মার্ক গীর্জার কথা এখানে ইঙ্গিতে বলা হয়েছে ।
৪১. জুলিয়াস সীজারঃ বিখ্যাত রোমান সম্রাট। সম্ভবত ১০২ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে তার জন্ম হয়ে ছিল। ৪৪ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দের ১৫ই মার্চ তিনি নিহত হন। বহু লেখক তাঁর জীবনকাহিনীকে আশ্রয় করে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
৪২. স্টিক্স বা স্টাইক্সঃ গ্রীক পুরাণে বর্ণিত পাতালপুরীর বিখ্যাত নদী। এই নদী পার হয়েই পাতালপুরী(হেডিস)তে প্রবেশ করতে হত।
৪৩. ফ্রেগেথনঃ পাতালপুরীর পঞ্চনদীর অন্যতম ।
৪৪. শুদ্বিস্থানঃ (Purgatory) স্বর্গ ও নরকের মধ্যবর্তী একটা স্থান। প্রেতাত্মাগুলো নরকে তাদের প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করার পর এই স্থানে প্রেরিত হয়। স্বর্গের প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের জন্য সেখানে তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় কাটাতে হয়। শুদ্ধিস্থান একটা শীতল ও কষ্টদায়ক জায়গা
৪৫. পঞ্চম ক্যারোলাসঃ বিখ্যাত সম্রাট পঞ্চম চার্লস (১৫১৯-১৫৫৬)-এর অপর নাম।
৪৬. মহামতি আলেকজাণ্ডারঃ প্রাচীন যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বীরদের একজন। তিনি ম্যাসিডোনিয়ার রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের পুত্র। ৩৫৬ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দে তার জন্ম। সমরনায়ক হিসাবে তিনি অসাধারণ কুশলতা দেখান এবং বহু দেশ জয় করেন। তিনি ভারতেরও এক বড় অংশ অধিকার করেছিলেন।
৪৭. ডায়ানাঃ রোমান পুরাণের চন্দ্র দেবী। গ্রীক পুরাণে তার নাম আর্টেমিস।
৪৮. একটিওনঃ ক্যাডমাসের দৌহিত্র এবং অ্যারিস্টিউসের পুত্র । শিকারী হিসাবে তার নাম-ডাক ছিল। একদিন তিনি দেবী ডায়ানাকে স্নানরতা অবস্থায় দেখে ফেলেন। দেবী ঐ সময় বিবসনা ছিলেন। ফলে দেবী ক্রুদ্ধ হন এবং একটিওনকে হরিণে পরিণত করেন। এই ঘটনার পর পরই একটিওনের পোষা কুকুররা তার দেহ ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলে।
৪৯. জীবনের সুতাঃ প্রাচীন গ্রীকরা মানবজীবনকে নিয়তিরূপী তিন বোন কর্তৃক বুনা সুতার সাথে তুলনা করেছেন। এই তিন বোনের নাম ক্লথো, ল্যাচিসিস এবং অ্যাট্রোপোস। ল্যাচিসিস সুতার দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করত, ক্লথো সুতাটা পাকাত এবং অ্যাট্রোপোস সুতার প্রান্তটি কেটে দিত।
৫০. ডক্টর লোপাসঃ সম্ভবত অশ্ব ব্যবসায়ী রাণী, প্রথম এলিজাবেথের ব্যক্তিগত চিকিৎসক রডেরিগো লোপেজের নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণ করেছে। রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ রাণীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করার জন্য ডঃ লোপেজকে ঘুষ প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই ষড়যন্ত্রের কথা ফাস হয়ে যায় এবং ১৫৯৪ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী তারিখে ডঃ লোপেজের বিচার করা হয়। কিন্তু মার্লো ১৫৯৩ সালের জুন মাসে মারা গিয়েছিলেন । এ কারণেই গবেষকরা মনে করেন যে ফস্টাস ও অশ্ব ব্যবসায়ীর কথোপকথন মার্লো নয় বরং অন্য কোন নাট্যকারের রচনা।
৫১. হেলেনঃ হেলেন প্রাচীন প্রতীচ্য পুরাণের সর্বাধিক আলোচিত নারী চরিত্র। দেবরাজ জিউস ও লীডার মিলনের ফলে তার জন্ম হয়। স্পার্টার রাজা মেনিলাসের সাথে তার বিয়ে হয়। কিন্তু দেবী আফ্রোদিতির সহায়তায় প্যারিস হেলেনকে অপহরণ করে। এই ঘটনা থেকেই ট্রয় ও গ্রীসের যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
৫২. দার্দানিয়াঃ ট্রয় বা ইলিয়াম নগরীর অপর নাম।
৫৩. মেনিলাসঃ মেনিলাস আগামেমননের কনিষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি অ্যাট্রিউসের পুত্র ও স্পার্টার রাজা ছিলেন। সুন্দরী শ্রেষ্ঠা হেলেন ছিলেন তার স্ত্রী।
৫৪. একিলিসঃ তিনি রাজা পেলেউস এবং জলপুরী থেটিসের পুত্র। তিনি হোমারের দি ইলিয়াড মহাকাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র। একিলিসের জন্মের সময় ভাগ্যদেবীরা তার মাকে জানান যে ট্রয়ের যুদ্ধে তিনি নিহত হবেন। থেটিস চেয়েছিলেন একিলিসকে মরণজয়ী বীরে রূপান্তরিত করবেন। তাই তিনি তাকে স্টিকস নদীতে ডুবিয়ে নেন। কিন্তু ডুবানোর সময় থেটিস একিলিসের গোড়ালি ধরে থাকায় ঐ স্থান না ভিজে বরং আঘাতসাধ্য থেকে যায়। ফলে ট্রয়ের যুদ্ধে অসামান্য নৈপুণ্য প্রদর্শন সত্ত্বেও, প্যারিসের নিক্ষিপ্ত তীর গোড়ালিতে বিদ্ধ হওয়ার কারণে তাঁর অকালমৃত্যু হয়।
৫৫. সেমিলিঃ সে ছিল জুপিটারের প্রেমিকা। সে জুপিটারের কাছে আব্দার করেছিল যেন তিনি তার জ্যোতির্ময় রূপে তার সম্মুখে আবির্ভূত হন। জুপিটার তার অনুরোধ রক্ষা করেন বটে কিন্তু তাঁর দেহ নিঃসৃত তীব্র আলোকছটায় সেমিলির দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যায় ।
৫৬. জুপিটারঃ রোমান পুরাণে জুপিটার হলেন স্বর্গের অধিপতি। তিনি বজ্র, বিদ্যুৎ, ঝড় ও বৃষ্টির দেবতা। রোমানরা বিশ্বাস করত যে পৃথিবীর সমস্ত ঘটনাই তার ইচ্ছায় সংঘটিত হয়।
৫৭. এরিথুসাঃ সে একজন পরী। নদীর দেবতা আলফিউস তাকে ভালবাসত। মার্লো তাকে অ্যাপোলোর প্রিয়তমা হিসাবে কল্পনা করেছেন। উল্লেখ্য যে গ্রীক ও রোমান পুরাণের কোন স্থানেই অ্যাপোলো ও এরিথুসার প্রেম কাহিনীর উল্লেখ নেই ।
৫৮. পিথাগোরাসঃ তিনি একজন বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক। সম্ভবতঃ ৫৮০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সামোস নামক স্থানে তার জন্ম হয়েছিল। তিনি গণিতশাস্ত্র, জ্যামিতি ও জ্যোর্তিবিদ্যায়ও সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি Doctrine of the Transmigration of Souls অথবা মেটেমসাইকোসিসতত্ত্বের প্রবক্তা।
৫৯ . মেটেমসাইকোসিস তত্ত্বঃ এই তত্ত্ব অনুযায়ী মানুষের দৈহিক মৃত্যু ঘটে কিন্তু তার আত্মা অবিনশ্বর। মৃত্যুর পর সেই আত্মা কোন প্রাণীর দেহে প্রবেশ করে সেখানেই অবস্থান করে।
৬০. অ্যাপোলোঃ তিনি ফীবাস অ্যাপোলো নামেও সমধিক পরিচিত। তিনি জিউস ও লেটোর পুত্র। তিনি রোগ নিরাময়, ভবিষ্যদ্বাণী, সঙ্গীত, ধনুবিদ্যা ও যৌবনের দেবতা রূপে পূজিত হতেন। কারো কারো মতে তিনি সূর্যদেবতা।
৬১. কবি প্রতিভারুপ বৃক্ষঃ লরেল অথবা বে নামক বৃক্ষ ছিল অ্যাপোলোর খুবই প্রিয়। এই বৃক্ষের পাতা দিয়ে গাথা মালা কবিরা এবং বিজয়ী যোদ্ধারা পরিধান করতেন। কারো কারো মতে এই বৃক্ষ কবি খ্যাতি অথবা কবি প্রতিভার রূপক।

2 comments:

Trending