Monday, November 28, 2016

রাসুল(সা) এর আনসারদের পরিচয়ঃ


আনসারদের পরিচয়ঃ
আওস ও খাজরাজ দুই ভ্রাতার বংসধরদের আনসার বলা হয়। নিচের ঘটনার মাদ্ধ্যমে বিস্তারিতঃ
আমর ইবনে আমিরের য়ামন ত্যাগঃ
আবু যায়েদ আনসারীর বর্ণনা অনুযায়ী আমএর ইবনে আমূরের য়ামন ত্যাগের কারনেই ছিলো যে, মারীবের যে বাধ টি ঈয়ামনবাসির জন্যে পানি সংরক্ষন করতোএবং তারা ইচ্ছামত সেই পানি দিয়ে সেচ দিতো, একদিন তিনি দেখলেন সেই বাধে একটি বন্য ইদুর গর্ত খুড়েছেএতে করে তিনি বুঝলেন যে বাধ টি বেশি দিন টিকবে নাতাই তিনি ইয়ামন থেকে অন্যত্র চলে যাওার সিদ্ধান্ত নেনতার বংসধররা তার সাথে এই ব্যাপারে  বিরোধে লিপ্ত হয়এক পর্যায়ে তিনি তার ছোট ছেলেকে বললেন,আমি যখন তোমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে তোমাকে চড় দেব, তখন তুমিও আমাকে আক্রমন করবে এবং পালটা চড় দেবে  তখন তার ছেলে তার নির্দেশ মত কাজ করল।তখন আমর তার ছেলেকে বললঃ আমি এমন দেশে আর থাকবো না , যেখানে আমার ছেলে আমকে থাপ্পর দেয়।তারপর তিনি নিজের সমস্ত সম্পদ বিক্রির জন্যে বাজারে নিয়ে গেলেন।এ সময় ইয়ামানের কিছু গন্যমান্য ব্যাক্তি দেশবাসীকে  বলল, তোমরা আমরের রাগকে স্বাগত জানাও।তারপর তারা তার সম্পত্তি কিনে নিল।আমর তার নিজের কিছু সন্তান এবং পৌত্রদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন।
এই সময় বনু আযদ বলল , আমরাও আমর ইবনে আমীরের সাথে চলে যাব।এখানে থাকবো না।তারপর তা্রাও তাদের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে চলে গেল।বহু এলাকা পেরিয়ে তারা আকের নামক এলাকায় গিয়ে বসতি স্থাপন করল। আকের বংসধর তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হল।যুদ্ধে কখোনো তারা জিততো আবার কখোনো তারা হারতো।  তারপর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেল এবং তারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লো।হাফনা ইবনে আমীরের বংসধর সিরিয়ায়, আওস ও খাজরাজ ইয়াসরিবে(মদিনায়) , বনূ খজায়া মারয়ায় , আযদের বংসধর সারা ও আম্মানে বসতি স্থাপন করলো।এরপর আল্লাহ তায়ালা বন্যা দিয়ে মরিবের বাধ ভেংগে দিলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুরা সাবায় বলেন, 
১৫) সাবা  জন্য তাদের নিজেদের আবাসেই ছিল একটি নিদর্শন৷  দুটি বাগান ডাইনে ও বাঁমে৷ খাও তোমাদের রবের দেয়া রিযিক থেকে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর৷ উত্তম ও পরিচ্ছন্ন দেশ এবং ক্ষমাশীল রব৷
১৬) কিন্তু তারা মখু ফিরালো৷ শেষ পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে পাঠালাম বাঁধভাঙ্গা বন্যা৷  এবং তাদের আগের দুটি বাগানের জায়গায় অন্য দুটি বাগান তাদেরকে দিয়ে দিলাম যেখানে ছিল তিক্ত ও বিস্বাদ ফল এবং ঝাউগাছ ও সামান্য কিছু কুল৷
কবি আশা বলেন, ইংগিত উপলব্ধিকারীদের জন্যে যথেষ্ঠ নিদর্ষন ও শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে।এবং বন্যা মারীব বাধ টিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। হিময়ার সেটি পাথর দিয়ে নির্মান করেছিলো।বন্যায় সেটি কখোনো তার ক্ষতি করতে পারেনি। সেই বাধ তাদের ফসল  ও আংগুরকে পানি দিয়েছে অকৃপন ভাবে।যখন তা বন্টিত হত, তখন তা সবার জন্যে পর্যাপ্ত হত। এরপর তারা এমন অভাবগ্রস্থ হয় যে,তারা দুধ ছাড়ানো বাচ্চাকে এক চুমুক পানিও দিতে পারতো না ।



ইসমাঈল আলাইহিস্ সালামের অধস্তন পুরুষদের বংশক্রম
ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ঔরসে ১২ জন পুরুষ সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা হলেন: নাবেত, কাইযার, আযরাল, মীশ, মাসমা, মাশী, দাম, আযর, তীম, ইয়াতুর, নাবাশ ও কাইয়ুম।
নাবেতের ঔরসে ইয়াসজুব, ইয়াসজুবের ঐরসে ইয়ারুব, ইয়ারুবের ঔরসে উদ এবং উদের ঔরসে আদনান জন্মগ্রহণ করেন।
আনদানের পর থেকে ইসমাঈলের বংশধরগণ গোত্রে গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আদনানের দুটি পুত্রসন্তান ছিল : মাআদ ও আক।
আক ইবনে আদনান চলে যান ইয়ামানে এবং সেখানেই তাঁর বংশধররা স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। আক সেখানকার বনু আশয়ার গোত্রে বিয়ে করেন এবং তাদের সাথেই বসবাস করতে থাকেন, ফলে তাদের দেশ ও ভাষা উভয়ই এক হয়ে যায়। বনু আশয়ার গোত্রের ঊর্ধতন পুরুষরা হলো : আশয়ার, তদীয় পিতা নাবাত, তদীয় পিতা উদ, তদীয় পিতা হামাইসা, তদীয় পিতা আমর, তদীয় পিতা উরাইব, তদীয় পিতা ইয়াশজুব, তদীয় পিতা যায়েদ, তদীয় পিতা কাহলান, তদীয় পিতা ইয়াশযুব, তদীয় পিতা ইয়ারুব ও তদীয় পিতা কাহতান।
আদনানের অপর পুত্র মাআদ ইবনে আদনানের চারটি সন্তান জন্মে : নিযার, কুদাআ, কানাস ও ইয়াদ। কুদাইর বংশধর হিমইয়ার ইবনে সাবা পর্যন্ত বেঁচে থাকার সৌভাগ্য অর্জন করে। কিন্তু মাআদ সংক্রান্ত বংশধর বিশেষজ্ঞের মতে, কানাস বিন মাআদের বাদবাকী বংশধর নিশ্চিহ্ন হযে যায়। তবে হিরার বাদশাহ নুমান ইবনে মুনযির তাদেরই বংশধর।

তথ্যসূত্রঃ সিরাতে ইবনে হিশাম (মূল বই-ইসলামীক ফাউন্ডেশন এবং সংক্ষিপ্ত বই ইসলামীক সেন্টার  ) 

Tuesday, November 1, 2016

সাত বোন ও নেকড়ে ( চীনা শিক্ষামুলক লোককাহিনী)



পৃথিবী তে আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় দেশ গুলোর একটি হল চীন। আবার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী লোকের বাশ এই চীন দেশে।তাদের লোক কাহিনী গুলোও খুব সুন্দরর।
অনেক আগের ঘটনা এটি। সব সময়ই আকাশে চাঁদ উঠে। হঠাত একদিন আকাশে চাঁদ উঠে নি। অথচ সে রাতে আকাশ ভরা তারা ঝিকিমিকি করছিল। রাতের খাবার খুজতে সাতটা নেকড়ে বাঘ নিজেদের আকার পালটিয়ে  সাতজন যুবকের রুপ নিয়ে পাহাড়ের নিচে নেমে এলো। কিছু দুরেই এক বাড়িতে থাকতো সাতটি কুমারি মেয়ে। তারা ঘরে বসে সারাদিন সুতা কাটতো।তাদের ঘরের ফুটো দিয়ে,  নেকড়ে বাঘ গুলো সাত বোনকে দেখতে পেলো।ভেতরে ঢুকে মেয়ে কটাকে খেয়ে ফেলার জন্যে  তারা দরজার আঘাত করলো। দরজার ফুটো দিয়ে তারা বাহিরে সাত অচেনা যুবক কে দেখতে পেল। দরজা খোলার মত সাহস তাদের হল না।  দরজা খুলছে না দেখে  নেকড়ে বাঘ গুলো তাদের বলল। আমাদের গরুটা হারিয়ে গিয়েছে। সেটাই খুজতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অন্ধকারে আমরা নিজেরাই রাস্তা হারিয়েছি। আমরা কি আপনাদের বাসায় রাতেই এই সময়টা থাকতে পারি?
মেয়েরা বলল,  আমরা এখানে আছি,কিন্তু আমাদের বাবা মা বাহিরে গিয়েছে,  আপনাদে থাকতে দিলে সমস্যা আছে।আপনারা অন্য জায়গায় দেখুন। তখন তারা বলল, ঠিক আছে,  আমরা আপনাদের বাড়ীতে থাকতে চাই না, কিন্তু একটু বিশ্রাম করতে না পাড়লে, আমরা আর একটুও এগোতে পারবো না। দয়া করে আমাদের অন্তত একটু বিশ্রাম করতে দিন।  তাদের মন গলে গেল,  তারা তখন দরজা খুললো। তাদের কে চেয়ারে বসতে দিল। তাদের কে চেয়ারে বসতে দেয়ার সময় বড় বোন খেয়াল করলো, তাদের প্রত্যেকেরই পেছন দিকে একটা করে লেজ গুটানো আছে। সে ভয় পেয়ে গেল আর কাউকে কিছু না বলে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল।
তার ঠিক পরের ছোট বোন অর্থাৎ বড়দের মাঝে ২য় সে অতিথিদের কে পা ধোয়ার জন্যে পানি দিল।পানি ঢেলে দেয়ার সময় খেয়াল করলো,  তাদের পায়ে ঘন কালো কালো লোম। সেও  ভয়ে শিউরে উঠলো এবং পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল।
চার নম্বর বোন অতিথিদের কয়েকটি চালের পিঠা খেতে দিলো।পিঠা দেয়ার  সময় তাদের হাতে সুচোলো নখ দেখতে পেলো। আর যখনি তারা পিঠা নিচ্ছিল, হাতের সুচোলো নখের কারনে পিঠা গুলোয় পাঁচটা করে ফুটো হয়ে যাচ্ছিলো। ভয়ে তার শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছিল।তার হাত থেকে পিঠা গুলো,  মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলো। তার অবস্থা দেখে নেকড়েরা জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে।  তার ও খুব পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু ভয়ে তার পা গুলো যেন জমে গিয়েছিল।
কোন উপায় না দেখে সে আগের মতই আবার সুতো কাটতে বসল। বাহিরে তার চালচলন স্বাভাবিক দেখে নেকড়েরা আবার খেতে শুরু করলো। চার নম্বর বোন তার ছোট তিন বোন ক বললো,যারা এসেছে তারা মানুষ নয় নেকড়ে। মানুষ খাওয়া জন্যে তারা মানুষের রুপ ধরে এসেছে। এখনি কিছু একটা না করতে পারলে তারা আমাদের ধরে খেয়ে ফেলবে। ছোট তিন বোন ভয়ে কেদে  ফেলে এমন অবস্থা হল। কিন্তু নেকড়ে গুলোর শুনে ফেলার ভয়ে তারা কাদতেও পারছিলো না।   সবচেয়ে ছোট বোন বলল,  তুমি আমার বড়,  তুমি আমাদের বাচানোর একটা উপায় বের কর।
৬ নম্বর বোন তার ঠিক বড় বোন কে বললো,  তুমি তো আমার বড়,  আমাকে বাচাবার একটা উপায় বের করে দাও না। ৫ নম্বর বোন কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে থেকে তার বড় বোনকে বলল,  তুমি তো আমাদের সবার বড়,  দয়া করে আমাদের বাচাবার একটা উপায় বের করে দাও না। বড় বোন ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো ,  এই নেকড়ে বাঘদের কবল থেকে পালানো খুবই কঠিন। সে তখন ছোট তিন বোন কে বলল,  আমাদের বোড় তিন বোন আমাদের আমাদের কে নেকড়ে বাঘের কবলে রেখে পালিয়ে গেল। আমদের নিজেদের কেই একটা বুদ্ধি বের করতে হবে। নাহলে আর বাচতে হবে না। সুতা কাটবার ছলে তারা ফিসফিস করে পরামর্শ  করতে লাগলো। কিছুক্ষনের মাঝেই চড়কার বনবন শব্দ কমে এলো। চার বো মাথা খাটিয়ে  একটা বুদ্ধি বের করল। চার নম্বর বোন দারিয়ে বলল তাদের অনেক ঘুম পেয়েছে। আপনাদের খাওয়া শেষ হত কতক্ষন?  উত্তরে তারা বললো,  বেশি রাত তো হয় নি।  তাছাড়া তোমাদের  বড়  বোনেরা এখোনো ফিরে আসে নি। তোমরা বরং আগুনের কাছে বসো ,  গা গরম হবে।

চতুর্থ বোন বলল,  ঠিক আছে,  আমরা একটু আগুন পুইয়ে নিই,  গা  গরম হবে। আগুনের কাছে গিয়ে সে বলল, আগুন টা কমে গিয়েছে,  আমি বরং উপর থেকে কিছু লাকড়ি নিয়ে আসি।
নেকড়ে বাঘ গুলো তাকে কোন সন্দেহ করলো না। চতুর্থ বোন উপরে উঠল,  লাকড়ি আনার ছুতোয়। কিছুক্ষন পরে উপর থেকে তার গলার আওয়াজ ভেসে আসল, সে ছোট তিন বোন কে ডাকছিলো আমি এতো কাঠ উপর থেকে নামাতে পারছিনা।  তোমরা তিনজন আমাকে একটু সাহায্য করবে। ছোট তিন বোন উপরে চলে গেলো। নিচে নেকড়ে রা অপেক্ষা করছিলো।  অনেক্ষন হয়ে গেল,  কিন্তু তাদের উপর থেকে কাঠ নিয়ে ফেরার  নাম নেই। শেষে তাদের আর ধৈর্য হল না,  বড় নেকড়ে টি উপরে গেল,  কি হয়েছে দেখার জন্যে।  কিন্তু অনেক ক্ষন হয়ে গেল তার আর ফেরার নাম নেই।এর পর এক জন একজন করে আরো দুই নেকড়ে উপরে গেলো,  কিন্তু কারোই আর ফেরার খবর নেই। বাকি নেকড়ে গুলো তখন  আস্তে আস্তে লাইন ধরে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে লাগলো। কিন্তু সিড়ি যেখানে শেষ হয়েছে চার বোন সেখানে অপেক্ষা করছিলো। সিড়ি বেয়ে প্রথম নেকড়েটি উপরে মাথা ঢোকাতেই দেখলো চার বোন সেখানে লাঠি নিয়ে অপেক্ষা করছে।  চার বোন ই তাকে গায়ের সকল জোড় এক করে দিলো বাড়ি,  আর সে সাথে সাথেই সে উলটিয়ে পড়লো বাকি নেকড়ে দের নিয়ে নিচে ফায়ারপ্লেস এর উপর। ভয়ে নেকড়ে গুলো দৌড়ে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে। এই সুযোগে মেয়েরা ঘরের খিল এটে দিলো।নেকড়েরা বুঝতে পারলো,  এই মেয়ে গুলো বড় তিন নেকড়েকে খতম করেছে। রাগে তারা তাদের আসল রুপ ধারন করলো। থাবা মেরে দরজা ভাংগার চেষ্ঠা করলো। কিন্তু প্রচন্ড মজবুত দরজা তারা ভাংতে পারলো না।  শেষে তারা ভাবল পিছনের দরজা ভাংগা যায় কিনা।  কিন্তু পিছনের দরজাও শক্তভাবে বন্ধ।
পিছনের দরজার কাছে এক নেকড়ে একটি পিপে দেখতে পেলো। পিপের ঢাকনাটা ঠিক মতো লাগেনি। সে উকি মারতেই একটি দুল পড়া কান দেখতে পেলো। সাথে সাথেই সে এক কামড়ে দুল পড়া কানটাই ছিড়ে নিল।  ওদিকে আর এক নেকড়ে একটা পা দেতে পেল গাছ থেকে ঝুলছে। সে নিচে থেকে লাফ দিয়ে তার পায়ের একটা আংগুল কেটে নিল।  আর এক নেকড়ে পিছনে ঘুরতে ঘুরতে একটি ঝোপের ভিতর থেকে কিছু একটা বেরিয়ে থাকতে দেখলো।অমনি ঝাপিয়ে পড়ে সে এক কামড় দিলো।সেখানে আসলে ছিল তাদের আর এক পালিয়ে যাওয়া বোন।  নেকড়েটি কামড়ে তার পশ্চাতদেশ এর মাংছিড়ে নিয়েছিলো।যাতে করে সে দীর্ঘ দিন আর কোথাও বসতে পারবে না।

স্বার্থপর দের আল্লাহ এভাবেই শাস্তি দেন। বড় বোন,  মেঝো বোন আর সেঝো বোন তাদের স্বার্থপরতার জন্যেই ক্ষতিগ্রস্থ হল। আর ছোট চার বোন সাহসি ভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে বেচে গেলো।
Protected by Copyscape

Monday, October 31, 2016

শিয়াল, কাক ও সাপ

  আজ আমরা এক চতুর শিয়াল ও কাকের গল্প শোনাব। 


শিয়ালের গল্প  

অনেক দিন আগের কথা। এক মরুভূমির পাশের গ্রামে একটি শিয়াল বাস করত। ওই বনের সব পশু-পাখির কাছে জ্ঞানী, পণ্ডিত ও অভিজ্ঞ মুরব্বি হিসেবে শিয়ালের খুব নাম ডাক ছিল। শিয়াল হাঁস-মুরগী ও আঙুর বাগানের দুশমন হলে কী হবে- বনের অন্যান্য পশু-পাখি কিন্তু তাকে ভয় পেত না। কারো কোনো প্রয়োজন হলেই চলে আসত শিয়ালের কাছে। তার সঙ্গে বুদ্ধি-পরামর্শ করত।
 ওই বনে একজনের সঙ্গে তার খুব ভালো খাতির ছিল। সে ছিল এক দাঁড়কাক। উঁচু পাহাড়টির ওপরে তার বাসা। পাথরের গর্তেই সে বাসা করে নিয়েছে। শিয়াল যখনই পাহাড়ের ওদিকটায় আসত তখনি কাকের সঙ্গে বসে গল্প করত।
 একদিন শিয়াল বের হলো বনের পশু-পাশিদের সুখ-দুঃখের খবর নিতে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ফিরে শেষ পর্যন্ত পৌঁছল কাকের বাসায়। এসেই দেখে কাক মুখ গোমড়া করে বসে আছে। তার চেহারায় গভীর দুঃখ ও আতঙ্কের ছাপ। শিয়ালকে দেখে কাক চুপচাপ। শিয়াল সালাম দিয়ে বলল: আসসালামু আলাইকুম। কি খবর বন্ধু? ব্যাপার কী হে! মনে হয় তোমার সময় ভালো যাচ্ছে না। তা হঠাৎ এমন কী ঘটল যে, তুমি মন খারাপ করে বসে আছো?
 শিয়ালের কথা শুনে এবার কাক মুখ খুলল এবং বলল-বন্ধু আমার! কী আর বলব, মানশিক ভাবে বেস অশান্তিতে আছি । বেশ কদিন হলো এক উটকো বিপদ এসে পড়েছে আমার ওপর। আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত করে ফেলেছে।
শিয়াল: কে সে , যে তোমার জীবনকে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে? যদি শক্তিতে কুলোয় তাহলে তা চামড়া তুলে নেব।
 কাক: না ভাই, তোমার শক্তিতে কুলোবে না। আমার শত্রু  এক মারাত্মক বিষধর সাপ। কদিন পর পর এসে হানা দেয় আমার বাসায় এবং আমার কলিজার টুকরো বাচ্চাদের এক একজন করে নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলে। তুমি তার সাথে পারবে না। তার ঝগড়া করতে গেলেই ছোবল মারবে। তোমার ধারালো দাঁত থাকলে হয়তো কামড়াতে পারবে কিন্তু সে তোমার জিহ্বাতেই ছোবল দিবে
 শিয়াল:  তা তুমি ঠিকই বলেছো। কিন্তু তোমার জোরও তো কম, তুমি তো তাকে কিছুই করতে পারবে না। তাহলে কিছু ভেবেছো?
 কাক: আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি প্রতিশোধ নেবই। যদি সফল হই তো বিপদমুক্ত হলাম। তা না হলে মরণ তো একবার হবেই । একবারই মরব, একবারই কাঁদব। যদি তার ভয়ে সবসময় চুপ করে থাকি তবে সে  আমাদের কাউকেই রেহাই দেবে না। আমরা কখনো শান্তিতে থাকবে পারব না।
 শিয়াল: আরে ভাই, তুমি তো সাপের সাথে যুদ্ধ করে টিকতে পারবে না। সাপ যদি তোমার গলা পেঁচিয়ে ধরে তাহলে নির্ঘাত দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে।
 কাক: তুমি ঠিকই বলেছো। তবে আমি এত বোকা নই যে, আমি সাপকে গিয়ে বলব- হে সাপ! একটু সবুর করো, চুপচাপ বসে থাকো, আমি তোমাকে মারবো।
 শিয়াল: তাহলে কিভাবে সাপকে মারতে চাচ্ছ তুমি?
 কাক: আমি যখন দেখব যে, সাপ ঘুমিয়ে আছে তখন তার উপর অতর্কিত হামলা করব। আমার ঝারালো  নখ দিয়ে তার চোখ উপড়ে ফেলব। অন্ধ হয়ে গেল সাপ আর চোখে দেখতে পারবে না এবং আমার বাসাও খুঁজে পাবে না। বাসা খুঁজে না পেলে আমার কলিজার টুকরো বাচ্চারাও আর মারা পড়বে না। তুমি কী বলো- শিয়াল ভাই, আমার পরিকল্পনা কি ঠিক আছে?
 কাকের পরিকল্পনা শুনে শিয়াল কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল। তারপর বলল-
 শিয়াল: না ভাই, এ কাজ করতে যেও না। এতে সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম। যদি সাপ ঘুম থেকে সজাগ হয়ে যায় এবং তোমাকে দেখে ফেলে আর তুমি তাকে অন্ধ করে না দিতে পারো তাহলে সে তোমার প্রতি ভীষণ ক্ষেপে যাবে। এখন হয়তো শুধু খাওয়ার লোভে তোমার বাসায় আসে কিন্তু তখন প্রতিশোধ নেয়ার জন্য আসবে এবং অনেক বেশি ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।
 কাক: তাহলে বলো আমি এখন কী করতে পারি?
 শিয়াল: আমি বলি কি জানো, এমন কাউকে সাপের সাথে লড়াইয়ে পাঠাও যার গায়ে জোর আছে। দেখো না মানুষ নেকড়ের সাথে লড়াই করার জন্য সব সময়ই মেষপালের সাথে কুকুরও রাখে। মানুষের বুদ্ধি হলো এই যে, তারা দুই দুশমনকে পরস্পর লেলিয়ে দেয়। এতে করে এই দুই দুশমনের একজন অন্তত শেষ হয়ে যায় এবং অন্যজন মানুষের বশে আসে। এতে মানুষ নিরাপদ থেকে যায়।
 কাক: তোমার দৃষ্টিতে পশুদের মধ্যে কার এমন জোর আছে যে, সাপের সাথে পেরে উঠবে? কে এক হাতে সাপের মুণ্ডু ধরে অন্য হাতে তার গলা ছিঁড়ে ফেলতে পারবে? বিড়াল হয়তো পারত কিন্তু বিড়ালের সঙ্গে আমার তেমন বন্ধুত্ব নেই। এখন কী করি তাই বলো।
 বিড়াল: বেশ ভালো কথা। বিড়াল ছাড়াও কেউ থাকতে পারে। তাছাড়া,  বিড়াল যদি বন্ধু হতো তা হলেই কি তাকে লড়াইয়ের ময়দানে পাঠানো যেত? দুনিয়ার কোনো কাজ কখনো শুধু করে করা যায় না। সবাই তার স্বার্থ দেখতে চায়।
 কাক: তাহলে তুমিই বলো, কোন পশুকে পাঠাতে পারি সাপকে বধ করতে?
 শিয়াল: পশু দিয়ে কাজ হবে না বরং মানুষ পাঠাতে হবে। মানুষই পারে সাপকে মেরে টুকরো টুকরো করতে।
 মানুষের কথা শুনে কাক খানিকটা অবাক হয়ে গেল। এরপর শিয়ালকে উদ্দেশ করে বলল:
 কাক: তুমি হয়ত ঠিকই বলেছো কিন্তু কাকের বাচ্চার জন্য মানুষের কেন এত দয়া হবে যে, তারা ছুটে আসবে সাপ মারতে?
 শিয়াল: কাকের বাচ্চার জন্য মানুষের দরদের প্রয়োজন নেই। মানুষ নিজের প্রয়োজনেই ছুটে আসবে সাপ মারতে। সাপ যেমনি কাকের শত্রু, তেমনি মানুষেরও শত্রু। মানুষ যেই জানতে পারবে এখানে সাপ বাসা বেঁধেছে অমনি ছুটে আসবে সাপ মারার জন্য।
 কাক: তা না হয় বুঝলাম কিন্তু মানুষ কিভাবে জানবে যে, এই পাহাড়ে সাপ আছে।
 শিয়াল: মানুষ নিজের ইচ্ছায় জানবে না, তাদেরকে জানানোর দায়িত্ব আমাদের।
 কাক: আমরা কিভাবে জানাবো, আমরা তো মানুষের ভাষা জানি না!!
 শিয়াল: ভাষা না জানলেই যে, মানুষকে জানানো যাবে না ব্যাপারটা এমন নয়। যেকোনো সমস্যার সমাধান আছে। প্রয়োজন শুধু চিন্তা-ভাবনা করা। আল্লাহ আমাদের মাথায় যে বুদ্ধি দিয়েছেন তা খাটাতে হবে।
 কাক: তা তো ঠিকই বলেছো। কিন্তু
 শিয়াল: কোনো কিন্তু নয়। শোনো, আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। তুমি উড়ে যাবে পাশের গ্রামে। এরপর মানুষের ঘরবাড়ি বা উঠোন থেকে কোনো হালকা পাতলা কিন্তু দামী জিনিস ছো মেরে উঠিয়ে নেবে। তা ঠোঁটে নিয়ে এমনভাবে উড়তে থাকবে যাতে মানুষ তোমাকে দেখতে পায়। এরপর জিনিসটি নেয়ার জন্য লোকজন তোমার পিছু পিছু দৌড়াতে থাকবে। তুমিও এমনভাবে আস্তে আস্তে উড়বে যেন মানুষ নিরাশ না হয়। এরপর পাহাড়ের ওপর এসে যেখান সাপকে দেখবে সেখানে জিনিসটা ফেলবে। এরপর তোমাকে আর কিছুই করতে হবে না, বাকি কাজ মানুষই করবে।
 শিয়ালের কথা শুনে কাক আনন্দে নেচে উঠল। খুশিতে গদগদ হয়ে বলল:
 কাক: তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ শিয়াল ভাই। তোমার বুদ্ধির প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না। আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
এই বলে কাক পাখা মেলল আকাশে। উড়ে গেল পাশের গ্রামে। এক বাড়িতে দেখল একদল মেয়ে বসে গল্প-গুজব করছে। একজন মহিলা একটি সুন্দর জামা সবাইকে দেখাচ্ছে। জামাটি বেশ মূল্যবান এবং নতুন বলে মনে হলো। কাক ভাবল এটি ছো মারা সহজ হবে। একটি ছোট বালিকা জামাটি দেখার জন্য হাতে নিতেই কাক তা ছোঁ মেরে নিয়ে গেল। জামার একটি হাত কামড়ে ধরে কাক ছুটল পাহাড়ে দিতে। মহিলাদের চিল্লাচিল্লি ও ছুটাছুটিতে গ্রামে পুরুষও ছুটল কাকের পিছু পিছু। এমন আজব কাণ্ড দেখে গ্রামসুদ্ধ মানুষ ছুটল পাহাড়ের দিকে। তাদের ধারণা- কাক বেশিদূর জামাটি নিয়ে যেতে পারবে না, এক জায়গায় গিয়ে ক্লান্ত হবেই।
এদিকে, কাক আঙুর বাগান পার হয়েই দেখতে পেল সাপকে। লোকজন আসার অপেক্ষায় পাহাড়ের উপর কয়েকটি চক্কর দিল। যেই দেখল যে, মানুষজন পাহাড়ের কাছে পৌঁছে গেছে অমনি কাক তার মুখের জামাটি ছুঁড়ে ফেলল সাপের গায়ের উপর। কাপড় দেখেই মানুষজন ছুটল কাপড়ের দিকে। ওদিকে সাপও প্রথমে চমকে উঠল। লোকজন এসেই সাপ দেখে থমকে দাঁড়াল। তাড়াতাড়ি ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে দূরে সরিয়ে লাঠি-সোটা ও ইট-পাথর নিয়ে হামলা চালাল সাপের উপর। সাপকে মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলল। কোত্থেকে এক চিল এসে ছোঁ মেরে সাপের টুকরোগুলোকে নিয়ে গেল। লোকজন এসে জামাটি উদ্ধার করে আনন্দ করতে করতে গ্রামের দিকে গেল।
 সাপের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর উড়াল দিয়ে সোজা চলে গেল শিয়ালের কাছে। শেয়ালকে সব ঘটনা খুলে বলল এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল।

( ভাবানুবাদ )
আল্লাহর ১৮ হাজার সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান হচ্ছে মানুষ । বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও বিষয়টি প্রমাণিত । মানুষ ছাড়া যেসব প্রাণি সবচেয়ে বুদ্ধিমান হিসেবে প্রমাণিত তাদের মধ্যে ডলফিনওরাংওটাং, শিম্পাঞ্জি কাকপিঁপড়া ও কুকুরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
যেসব প্রাণি আয়নায় নিজেদের চিনতে পারে তাদের মাঝে ডলফিন অন্যতম। ডলফিন অনেক বছর পরে দেখা হলেও তার নিজের মাকে এবং দলের নেতাকেও চিনতে পারে। বলা হয়ে পানির মাঝে সব চেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণি হচ্ছে ডলফিন। সাগরে ঢেউ এর মাঝে ঘুরে বেড়ায়ভেসে বেড়ায়দল বেঁধে সাঁতার কাটেখেলেনিজেরা আনন্দ  করতে থাকে। তাদের নিজস্ব একটা ভাষাও আছেযেটা মানুষ ইদানীং একটু একটু করে বুঝতে শুরু করেছে। ওরা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারে। পৃথিবীর অন্য সব বুদ্ধিমান প্রাণীদের মতো ডলফিনও অনেক বছর ধরে তার বাচ্চার সাথে থাকে, তাকে লালন পালন করে তাকে নানা রকম কৌশল শেখায় আর ডলফিনদের নিয়ম-কানুন।
মানুষের পরেই সবচেয়ে বুদ্ধিমান হিসেবে ওরাংওটাং-কে মনে করা  হয়। ওদের খুব গোছানো সংস্কৃতি আছেনিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমটাও বেশ উন্নত। তোমরা শুনলে হয়তো বিশ্বাস করবে না যেওরা বন্য পরিবেশে নানা যন্ত্রপাতিও  ব্যবহার করে! তারা নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠী গড়ে তোলে। নিজেদের মধ্যে ওদের শক্ত সামাজিক বন্ধন রয়েছে। মা ওরাংওটাং অনেক বছর ধরে তার বাচ্চার সঙ্গে থাকে। এভাবে তারা বাচ্চাদের বন্য পরিবেশে টিকে থাকার নানা রকম কৌশল শিক্ষা দেয়।
কীটপতঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে ধূর্ত প্রজাতি হচ্ছে পিঁপড়া। এরাও ওরাংওটাংয়ের মত সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করে। এদের সামাজিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন স্তর থাকেআর প্রতিটি স্তরের সদস্যদের কাজের সীমানা ভিন্ন ভিন্ন হয়। পিঁপড়া সূর্যের অবস্থান নির্ণয়ের মাধ্যমে নিজের পথ চিনে নিতে পারে।
বুদ্ধিমান প্রাণিদের কথা উঠলে কাকের নামও সামনে চলে আসে। এই কাকের মস্তিস্কের আঁকার পাখিদের মধ্যে সবথেকে বড়। কাক তার আশপাশের পরিস্থিতি বুঝে কাজ করতেআর কোনো কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে সেই কাজ করার দক্ষতা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমনকি কাক কোনো কাজ করার জন্য দরকারি জিনিষ পর্যন্ত তুলে কাজে লাগাতে পারে। কাকেরা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলাও করে থাকে।
কুকুরকেও বুদ্ধিমান প্রাণিদের তালিকায় গবেষকরা রেখেছেন। এই কুকুর মানুষের বলা ৩০০টি শব্দ পর্যন্ত আলাদা আলাদাভাবে বুঝতে পারে। আর একটি  পূর্ণ বয়স্ক কুকুরের বুদ্ধি ১ বছর বয়স্ক মানুষের বুদ্ধির সমান হয়।
এছাড়াশিম্পাঞ্জি যে অনেক বুদ্ধিমান প্রাণি । কিছুদিন আগে বিশেষজ্ঞরা আবিস্কার করেছেন যেশিম্পাঞ্জিরা ভবিষ্যত নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে আর সেই অনুসারে কাজ করে।

 এসব প্রাণির বাইরে বুদ্ধিমান ও ধূর্ত প্রাণি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় শিয়ালকে । অনেকেই শিয়ালকে পণ্ডিত হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই শিয়ালের পাণ্ডিত্য নিয়ে বহু গল্প প্রচলিত রয়েছে।

মুল গল্পের ইংরেজী ভার্সন নিচে দেয়া হলঃ


There was a banyan tree, where two  husband and wife crows lived . In the hollow of the same tree, lived a big black cobra.


The crows had suffered a problem because the  cobra would climb up the tree and eat the newborn childrens,  whenever the female crow hatched her eggs. They could do nothing to save them.


To seek  advice, The crows went to a jackal, who lived in a nearby  hill, . They narrated everything to him and requested to advice  them to get rid of their problem.


They said, "O Friend, It has become dangerous to live here. Please tell us how we can protect our children from being eaten up by the wicked black cobra."


The jackal replied, "Please don't worry . Even powerful enemies can be Exteminates with the use of wit."


Hearing this, the crows requested, "O Friend, please tell us how we can overcome and destroy this wicked cobra."


The jackal told them a plan, "Fly into the capital of the kingdom, not far from here. Visit the house of someone who is wealthy and careless at the same time. Notice if something of value is lying around. If you find so, pick it up when the servants are watching you."


He continued, "You will need to fly slowly so that the servants can follow you. Return back to your tree and drop it in the hollow of the tree where the cobra lives. When the servants reach, they will kill the cobra when they see it."



The crows decided to follow the jackal's advice and flew off immediately according to his plan.


As they flew above the capital, the female crow noticed wealthy women swimming in a lake. They had left gold and pearl necklaces on the banks of the lake, which were guarded by royal servants.


At once the female crow swooped down, and picked up a big necklace in her beak, and started flying slowly.


When the royal servants noticed her, they picked up sticks and stones, and started throwing at her, and ran to chase her.



she dropped the necklace in front of the hollow of the tree, where the black cobra was asleep. She sat on one of the branches for the royal servants to notice.

When the royal servants arrived, the black cobra came out of the hollow of the tree to see what all the noise was about. The black cobra confronted the king's servants with swelling hood, but the servants attacked the cobra with sticks and stones to recover the necklace.


They killed the wicked cobra, and returned with the necklace. And the crows, having gotten rid of the cobra, lived happily.


The wise says:

Even a very powerful enemy can be destroyed through deceit.

Popular Posts