Total Pageviews

Sunday, April 12, 2020

King Lear - William Shakespeare - Translation in Bengali - 7

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation
Previous Part

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation (Part 7 of 7)

কিং লিয়ার - উইলিয়াম শেক্সপিয়ার - বাংলা অনুবাদ - ৭ (শেষ পর্ব)

৬ষ্ঠ পর্বের পর থেকে শুরু

এ সময় ঘরে ঢুকে বলল আলবেনি, সুপ্রভাত। আমাদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে রাজা এখন তৃতীয় মেয়ের আশ্রয়ে সততার অভাবেই আমরা ভালোভাবে যুদ্ধ করতে পারছি না ফ্রান্সের বিরুদ্ধে।
ব্যঙ্গ করে বলল রিগান, এটা কি কোনও যুক্তির কথা? এডমন্ড বলল, আসুন মহামান্য আলবেনি, তাঁবুতে গিয়ে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করি।  
কেন? জানতে চাইলেন আলবেনি। বিশেষ প্রয়োজন আছে। চল আমাদের সাথে, বলল রিগান।
কিছুক্ষণ ভেবে বলল আলবেনি, বেশ, চল।
-----------------------------------------------  
ছদ্মবেশী এডগার ঘরে ঢুকে বলল আলবেনিকে, আমার মত গরিবের কথা শোনার ইচ্ছে কি আপনার আছে?
আলবেনি বলল, হ্যা, তুমি বল।
আলবেনি আর এডগারকে রেখে দিয়ে চলে গেল ওরা সবাই। তখন এডগার বলল, যুদ্ধে নামার আগে আপনি পড়ে দেখুন এ চিঠিটা। বাইরের এই নোংরা পোশাক সত্ত্বেও আমি জানি কীভাবে সম্মান রক্ষা করতে হয় আমি বলছি আপনাকে, এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে আপনার বিরুদ্ধে। এখন আমি বিদায় নিচ্ছি। সময় হলে আবার আসব আমি।
এডগার চলে যেতেই আবার এল এডমন্ড, সে ডিউককে বলল, আমাদের শত্রু সৈন্যরা এখনও দুর্বল। তাড়াতাড়ি চলুন যাতে সৈন্যদের একজোট করতে পারি বলেই তাড়া দিতে লাগল ডিউককে। আলবেনি চলে যাবার পর মনে মনে একবার তার প্ল্যানটাকে ঝালিয়ে নিল এডমন্ড ওদের দু-বোনের সাথেই আমি ভালোবাসার অভিনয় করব কিন্তু বিয়ে কাউকে করব না।
ওদের আর আমার বাবার সমস্ত সম্পত্তি দখল করতে হলে আমার প্রয়োজন ওদের সমর্থন আর সহযোগিতা। আমি ছেড়ে দেব না লিয়ার আর কর্ডেলিয়ার সাহায্যকারী আলবেনিকে। আর ওরা দু-বোন নিজেদের মধ্যে হিংসার ফলেই মারা যাবে। চালাকি করে এখন থেকে আমি ঝগড়া এড়িয়ে চলব।
----------------------------------------------------
বাবা, এই গাছের তলায় বসে আপনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন, বলেই চলে গেল এডগার। আবার কিছুক্ষণ বাদেই ফিরে এল সে।
আমার হাত ধরে তাড়াতাড়ি আসুন, আমার সাথে পরাজিত হয়ে রাজা লিয়ার বন্দি হয়েছেন তার মেয়ের সাথে, বলল এডগার।
 কান্নায় ভেঙে পড়ে গ্লচেস্টার বলল, না, আমি আর বাঁচতে চাই না। কিন্তু মৃত্যু তো মানুষের ইচ্ছাধীন নয়
চিৎকার করে এডমন্ড তার ভৃত্যদের হুকুম দিল বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা যেন লিয়ার আর কর্ডেলিয়াকে রেখে দেয়
দয়া করে আমার দিদিদের ডেকে দিন, বলল কর্ডেলিয়া।।
না কর্ডেলিয়া, ওদের ডেক না, বললেন লিয়ার, তার চেয়ে আমরা বরং কারাগারে গিয়ে সেই সব রাজাদের সমব্যথী হই যারা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার চোখের জলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে ওদের সাম্রাজ্য আর গর্ব। চল, আমরা কারাগারে যাই।  
রক্ষীসহ লিয়ার আর কর্ডেলিয়া চলে যাবার পর একটা কাগজ ক্যাপ্টেনের হাতে দিয়ে তাকে নির্দেশ দিল এডমন্ড, মনে রেখ, এই চিঠির নির্দেশ অনুযায়ী যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ তোমায় দেওয়া হয়েছে, তা পালন করতে পারলে পদোন্নতি হবে তোমার। যাও, কাজটা তাড়াতাড়ি করে এস।
এ সময় নেপথ্যে বাদ্যধ্বনি শোনা গেল। তারই সাথে প্রবেশ করল আলবেনি, গনেরিল, রিগান আর সৈন্যেরা।
আলবেনি বলল, সাবাস এডমন্ড! আজকের যুদ্ধে তুমিই জয়ী হয়েছ। এবার আমি আমার ইচ্ছেমত বন্দিদের শাস্তি দেব।
আলবেনির কথা শুনে এডমন্ড খুশি হল। সে বলল, রাজা এবং কর্ডেলিয়ার এই অবস্থা দেখে দেশের মানুষ যাতে বিদ্রোহ করতে না পারে, সে জন্যই কঠোর পাহারায় রেখেছি তাদের। এরপর ঠান্ডা মাথায় একদিন তাদের বিচার করা যাবে। 
আলবেনি বল, তুমি বোধহয় তোমার পদমর্যাদার কথা ভুলে গেছ এডমন্ড মনে রেখ তুমি রাজার আত্মীয় নও, একজন প্রজা মাত্র।
রিগান বলল আলবেনিকে, মহাশয়, দয়া করে ভুলে যাবেন না যে আমার সাথে ঘনিষ্ঠতার জন্যই আজ উনি আপনাদের সমপর্যায়ভুক্ত এক সহকর্মী।
তোমার শক্তি, একথা বোলোনা বোন, উনি নিজ বলেই বলীয়ান, বলল গনেরিল।
রিগান বলল, নিজের মতোই আজ আমি তাকে সমস্ত সম্মান সম্ভ্রম দান করলাম। হে আমার প্রিয় সেনানায়ক, সবার সামনে আমি ঘোষণা করছি যে আজ থেকে তুমিই আমার স্বামী এবং প্রভু। আমার সমস্ত জীবন সমর্পণ করলাম তোমার হাতে।
ছিঃ ছিঃ রিগান ধিক্কার দিয়ে বলে উঠল গনেরিল।।
আলবেনি চিৎকার করে বলে উঠল, এডমন্ড, রাজদ্রোহিতার অপরাধে আমি বন্দি করলাম তোমায় সেই সাথে তোমার প্রতি অনুরক্ত আমার ভণ্ড কুটিল স্ত্রীকে গ্রেফতার করলাম। আর এডমন্ড, তুমিও তো সশস্ত্র! আমি তিনবার ঢাক বাজাবার সাথে সাথে একজন লোক এসে তোমার এই রাজদ্রোহিতা আর বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ দেবে।
খাপ থেকে তলোয়ার বের করে বলল এডমন্ড, সেই অভিযোগকারী লোকটি একটি শয়তান। সাহসের সাথে আমিও দ্বন্দ্ব যুদ্ধে আহ্বান জানাচ্ছি তাকে।
আলবেনি বলল, কিন্তু এডমন্ড, তোমার নিজস্ব সৈন্যেরা আমার অনুগত। কাজেই এখন থেকে নিজস্ব শক্তিই তোমার একমাত্র ভরসা।
এ সময় রিগান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। আলবেনি ভৃত্যদের আদেশ দিল ওরা যেন তাকে তার তাবুতে নিয়ে যান।
এদিকে আলবেনির আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে নেপথ্যে ঢাক বাজাতে লাগল ভৃত্যেরা। তৃতীয় বার ঢাক বাজার সাথে সাথে সশস্ত্র অবস্থায় প্রবেশ করল এডগার।
রক্ষী, এর আগমনের উদ্দেশ্য কী? জানতে চাইল আলবেনি।
শয়তানের ষড়যন্ত্র যদিও আমার নির্দিষ্ট পরিচয় নষ্ট হয়ে গেছে, তবুও জেনে রাখুন, আমিও উঁচুবংশের লোক, বলল ছদ্মবেশী এডগার।
ছদ্মবেশী এডগারকে প্রশ্ন করল আলবেনি, আপনার প্রতিপক্ষ কে?
আর্ল অফ গ্লচেস্টার এডমন্ডের প্রতিনিধি কে? জানতে চাইল ছদ্মবেশী এডগার।
আমিই স্বয়ং এডমন্ড, আর্ল অফ গ্লচেস্টার। বল, কী জানতে চাও তুমি এডগারের সামনে এগিয়ে এল এডমন্ড
তাহলে যুবক, তলোয়ার নিয়ে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত হও। আপনার অনেক গুণ থাকা সত্ত্বেও আমি জোর গলায় বলছি আপনি বিশ্বাসঘাতক। আপনি একথা অস্বীকার করলে আমার হাতের তলোয়ারই তার যোগ্য জবাব দেবে, বলল এডগার।
ছদ্মবেশী এডগারকে বলল এডমন্ড, তোমার চেহারা আর কথাবার্তায় ভদ্রবংশের বলে মনে হলেও তোমার ঘৃণ্য ভাষণের জন্য আমার ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তে তলোয়ার দিয়ে তোমায় হত্যা করতে।
তলোয়ার নিয়ে দুজনের মাঝে লড়াই শুরু হবার কিছুক্ষণ বাদেই প্রচণ্ড আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেল এডমন্ড। তা দেখে গনেরিল চিৎকার করে বলে উঠল, ওরে কে আছিস, বাঁচা ওকে।
গনেরিলকে জোর ধমক দিয়ে বলল আলবেনি, চুপ কর কুটিল নারী। তুমি আর এডমন্ড, উভয়েই শোন তোমাদের পাপের কথা। আর এডমন্ড, এই চিঠিটাই সাক্ষ্য দিচ্ছে তোমার ঘৃণ্য কাজের।
বেশ করেছি। ওটা আমার চিঠি। আমি যা খুশি তাই করতে পারি, বলল গনেরিল।
আলবেনি ভৃত্যদের ডেকে বললেন, তোমরা ওকে দেখো।  
মুমূর্ষ এডমন্ড বলতে লাগল, স্বীকার করছি অনেক পাপ করেছি আমি। ওহে যুবক, যদি তুমি উচ্চবংশীয় হও তাহলে আমাকে হত্যা করার পাপ থেকে আমি ক্ষমা করে দেব তোমায়
তার প্রতিদানে আমি তোমায় ক্ষমা করব এডমন্ড। আমি তোমার বড়ো ভাই এডগার। ঈশ্বরের কাছে মানুষকে তার পাপের শাস্তি এ জন্মেই পেতে হয় হয়তো আমার বাবার সেরূপ কোনও কাজের জন্য নিজের চোখ হারিয়েছেন।  
আলবেনি বলল, হে উচ্চবংশের সন্তান, তোমাকে আলিঙ্গন করা থেকে তুমি আমাকে বঞ্চিত কর না। তোমার বাবা এবং তুমি, উভয়েই আমার প্রিয় এতদিন কোথায় ছিলে তুমি? তোমার বাবার এরূপ অবস্থার কথা কে জানাল তোমায়? উত্তরের আশায় আলবেনি উৎসুক ভাবে চেয়ে রইলেন এডগারের দিকে।
এডগার বলল, দিনের পর দিন আমি যখন মৃত্যুভয়ে মৃত্যুর চেয়ে বেশি যন্ত্রণা ভোগ করছি, ঠিক সে সময় আমার দেখা হল বাবার সাথে। তখন দেখলাম তার দু-চোখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পাগলের ভান করে আমি তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চললাম। পরে আমার পরিচয়ও তাকে দিলাম। কিন্তু এত দুঃখ-কষ্ট-বেদনার ভার সইতে না পেরে তিনি মারা গেলেন।
আলবেনি বলল, আপনার এই দুঃখ আমায়ও বিচলিত করেছে।
এডগার বলল, এত অল্পেই আপনি বিচলিত হবেন না মহামান্য ডিউক। যারা নির্বোধ তারাই শুধু অল্পে কাতর হয় আমি যখন পলাতক আসামীর মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম, তখন একজন লোক সহানুভূতির সাথে আমার সব কথা শুনে জড়িয়ে ধরেন আমার বাবাকে। তিনিই আমায় আশা জুগিয়েছেন। এরপর এক এক করে রাজা লিয়ার আর তার দুঃখের কাহিনি বলে যেতে লাগল এডগার।
উৎসুক হয়ে আলবেনি বললেন, কে তিনি?
উনি হলেন নির্বাসিত কেন্ট, যিনি আজও ছদ্মবেশে রয়েছেন, উত্তর দিল এডগার।
এ সময় হাতে একটা রক্তাক্ত ছুরি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করল একজন ভৃত্য। সে চেঁচিয়ে বলল, কে কোথায় আছ, বাঁচাও আমাকে।  
আলবেনি বলল, কী হয়েছে?
ছুরিতে ওই যে রক্ত দেখছেন, তা আপনার স্ত্রীর। ওটা দিয়েই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। আর মরার আগে বোনকেও তিনি বিষ খাইয়ে মেরেছেন, বলল সেই ভূত্য।
এডমন্ড বলল, বাঃ বেশ ভালোই হয়েছে। এবার নিশ্চিন্তে বিয়ে করতে পারব আমরা। এডগার বললেন আলবেনিকে, মহাশয়, ওই দেখুন, এদিকেই আসছেন কেন্ট।
দূর থেকে কেন্টকে আসতে দেখে শ্রদ্ধাভরে বলল আলবেনি, ভেবে পাচ্ছি না কী দিয়ে আপনার মতো মাননীয় ব্যক্তিকে সম্মান জানাব।
কেন্ট বলল, রাজা কোথায়? আমি এসেছি তার কাছ থেকে বিদায় নিতে।  
চমকে উঠলেন আলবেনি, তিনি বললেন, সত্যিই তো রাজা লিয়ার আর তার মেয়ে কর্ডেলিয়া কোথায়?
কেন্ট বলল, যদিও আর বেশিক্ষণ বাঁচব না, তবুও তার আগে একটা কাজ করে যেতে চাই আমি। তাড়াতাড়ি একটা লোককে প্রাসাদ দুর্গে পাঠাতে হবে এই পরিচয় চিহ্ন আর তলোয়ারটা দিয়ে অনেক আগেই ওদের মেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলবেনি বলল, যাও, শীঘ্র যাও।
তলোয়ারটা হাতে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দুর্গের দিকে ছুটে গেল এডওয়ার্ড। তার যাবার দিকে তাকিয়ে বলল এডমন্ড, আমার আর গনেরিলের আদেশ অনুযায়ী ওরা তো কর্ডেলিয়াকে মেরে ফেলবে, কিন্তু বাইরে আমরা রটিয়ে দেব দুঃখে আর হতাশায় আত্মহত্যা করেছে কর্ডেলিয়া
কর্ডেলিয়ার মৃতদেহ কোলে নিয়ে পাগলের বেশে ঘরে এসে ঢুকলেন রাজা লিয়ার। ক্যাপ্টেন, এডগার আর অন্য সবাই ঢুকল তার পিছুপিছু।
ওগো, তোমরা কি সবাই পাথর হয়ে গেলে? প্রাণপণে প্রতিবাদ কর তোমরা। সে যে চিরকালের মতো ছেড়ে গেছে আমায় একটা আয়না দেও আমায় আমি দেখব ওর মাঝে এখনও প্রাণ আছে কিনা পাগলের মতো বলতে লাগলেন রাজা লিয়ার।  
এডগার ও কেন্ট বলল, সত্যিই কী ভয়াবহ পরিণতি রাজা লিয়ারের।
ওগো, তোমরা দেখ ওর আঁচলটা নড়ছে, ও এখনও বেঁচে আছে। কে তুমি, চলে যাও বলছি, বললেন লিয়ার।
মহারাজ, ইনি আপনার বন্ধু কেন্ট বলল এডগার।
লিয়ার বলল, তোমরা মিথ্যেবাদী। মানুষ খুনের দায়ে অভিযুক্ত তোমরা। হয়তো বাঁচাতে পারতাম তাকে। কিন্তু ..... কর্ডেলিয়া, তুমি যেও না, দাঁড়াও, তাকিয়ে দেখ তোমার হত্যাকারীকে ফাসি দিয়েছি আমি।
কে তোমরা? ভালো করে দেখতে পাচ্ছি না আমি। তুমিই কি কেন্ট?
হ্যা প্রভু, আমিই কেন্ট, যে আপনার দুঃখে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
রাজা লিয়ার স্বাগত জানাচ্ছে তোমায়।।
কেন্ট বলল, আপনার দুই মেয়ে আজ মৃত। শ্মশানে পরিণত হয়েছে তাদের রাজ্য।
আমারও মনে হয় তাই, বললেন লিয়ার।
আলবেনি বলল, মাননীয় কেন্ট, মেয়ের শোকে উনি পুরোপুরি উন্মাদ। এসব কথা আজ ওর কাছে অর্থহীন।
কেন্ট বলল আলবেনিকে, মহাশয়, এডমন্ডের মৃত্যু হয়েছে।
সে কথায় কান না দিয়ে আলবেনি বলল, মাননীয় লর্ড এবং আমার বন্ধুরা, এবার আপনারা আমার মনোগত অভিপ্রায় শুনুন। বৃদ্ধ রাজাকে আমি আমার সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে দিলাম। আজ থেকে ওর সেবায় নিয়োজিত রাখৰ নিজেকে। প্রিয় এডগার ও কেন্ট, পূর্বের মতো নিজেদের সাম্রাজ্য নিজের হাতে নিয়ে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন আপনারা।। 
সবাই তাকিয়ে রইল রাজার দিকে। লিয়ার বলতে লাগলেন, হায় হতভাগী কর্ডেলিয়া! তুমি কি কিছু বলতে চাইছ? চিৎকার করে বললেন তিনি, কিছু বল আমায় আমি তোমার বৃদ্ধ পিতা হতভাগ্য রাজা লিয়ার। আমার মেয়ে কি আজও বেঁচে আছে? ওর ঠোট যেন নড়ছে। এডগার, তুমি দেখতে একবার। ওঃ ঈশ্বর! বলেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে সাথে সাথেই মারা গেলেন তিনি।
কাতর স্বরে বলল প্রভু ভক্ত কেন্ট, প্রচণ্ড দুঃখ-শোকেই মৃত্যু হল রাজার।
প্রভু, একবার চোখ মেলে তাকান, বলল এডগার।। 
ওর জীবনকে দীর্ঘায়িত করে আর তাকে কষ্ট দিও না তুমি', বলল কেন্ট, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিল রাজার। এই প্রচণ্ড কষ্ট এতদিন ধরে তিনি কীভাবে সহ্য করেছেন তা ভেবে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।
আলবেনি বলল, এবার আপনারা রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করুন।
কেন্ট বলল, আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়! প্রভুর সঙ্গ ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন। তিনি ডাকছেন আমায়, আমি চললাম তার কাছে।
শেষে বলল এডগার, বয়স বাড়ার সাথে সাথে নানা বাধা-বিঘ্নের মধ্য দিয়ে মানুষ দুঃখের স্বাদ যেমন পায়, তেমনি অর্জন করে নানারূপ অভিজ্ঞতা। অল্প বয়সিরা এসব জানে না। তাই আমাদের উচিত সর্বদা সত্যের পথ অনুসরণ করা আর সেই সাথে বর্তমান সময়ের ভার বহন করা।
- - - - - - - - - - - - - শেষ - - - - -
- - - - - - - - - -  



  

No comments:

Post a Comment

Blog Archive