Saturday, July 27, 2019

Walt Whitman - Life and works in Bangla

Walt Whitman - Life and works in Bangla 

Walt Whitman - Life and works in Bangla 

জীবন ও কর্ম
ওয়াল্ট হুইটম্যান ছিলেন একাধারে কবি প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। অ্যামেরিকান কবিদের মাঝে হুইটম্যান ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবশালী। তাকে মুক্তছন্দের কবিতার জনক বলা হয়। ওয়াল্ট হুইটম্যান লং আইল্যান্ডের হান্টিংটন এর  ওয়েস্ট চিল নামক স্থানের ছোটো একটি খামারবাড়িতে ১৮১৯ সালের ৩১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ওয়াল্টার ও মা লুইসা ভন ভেলসর মোটামুটি শিক্ষিত ছিলেন। নয় জন সন্তান ছিল তাদের। এদের মধ্যে দুজন ছিল মানসিক দিক থেকে অসুস্থ। হুইটম্যানের পিতা প্রথমে একটি খামার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ইমারত নির্মাণের কাজে সহায়তা করতেন শ্রমিকদের সাথে। হুইটম্যানের মা ছিলেন তাঁর সন্তানদের খুবই কাছাকাছি। তিনি উদারনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন ভ্রাতৃসংঘ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন, যা পরবর্তীতে হুইটম্যানের মধ্যে প্রভাব ফেলে। হুইটম্যান তাঁর কবিতায়, ‘তোমাকে’, ‘তুমিএসব শব্দ নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, এসবই ভ্রাতৃসংঘের স্মৃতি, এমনকি তিনি তাঁর লেখায় যে নবম মাস কথাটি ব্যবহার করেছেন সেটিও এই চেতনারই ফলশ্রুতি, এটি ভ্রাতৃসংঘের স্মৃতিকে স্মরণ করায়। তাঁর ছেলেবেলায় লং আইল্যান্ডের ছোটো খামার আর প্রতিবেশী ব্রুকলিন শহর তাঁর কাছে অভিন্ন হৃদয় বন্ধুর মতো ছিল। দুটো স্থান বিশেষ করে এ দুটো জায়গার পরিবেশ, প্রকৃতি, মানুষজন যুবক হুইটম্যানের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর কবিতা ‘There was a child went Forth’ আমাদের সামনে তাদের গার্হস্থ্যজীবন ব্যবস্থা, মা বাবা ও পরিবার পরিজনদের ছবি স্পষ্ট করে তোলে। একজন সমালোচকের মতে, এই টগবগে তরুণ কেমন যেন একটু অলস আর সর্বদা স্বপ্নের জগতে নিমগ্ন থাকে। মাত্র এগারো বছর বয়সে হুইটম্যান বিদ্যালয় পরিত্যাগ করে নানাবিধ কর্মের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। কখনো অফিস বেয়ারা, কখনো বা ছাপাখানার সহকারী বালক কিংবা গ্রাম্য পাঠশালার শিক্ষক, সত্যি কথা বলতে কি সে সময়ে হুইটম্যান বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার উপযুক্ত ছিলেন না।
এরপর সতেরো বছর বয়সে তিনি সাংবাদিকতার পেশা বেছে নেন। হুইটম্যান বিভিন্ন ধরনের পত্রপত্রিকায় কাজ করেন। এ সময়েই তাঁর ‘Leaves of Grass’ লিখিত হয়। সাতাশ বছর বয়সে তিনি ব্রুকলিন ডেইলি ঈগল পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। কিন্তু এ কর্মে তিনি দুবছরের বেশি টিকে থাকেননি। বিশেষ করে রাজনৈতিক কারণে সেখান থেকে তিনি সরে আসেন। মূলত তিনি ছিলেন গণতন্ত্রবাদী। পত্রিকায় কাজ করার সময় তিনি আমেরিকাকে আরো ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেলেন। সেসবই যেন তাঁর সঙ্গীতকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলল। মাঝেমধ্যেই হুইটম্যান উদ্দেশ্যহীনভাবে এখানে সেখানে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করতেন, বিনা কারণেই খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করতেন। তিনি তার ভাই জেফের সাথে একবার ট্রেন জার্নি করেন বাল্টিমোর থেকে কাম্বারলেন অবধি। কোচে আরোহণ করে।পার্বত্য এলাকা ঘুরে বেড়ালেন। ওহিওর নিম্ন অঞ্চলে নৌকা ভ্রমণ করলেন, মিসিসিপি থেকে বন্দর নগরী লুসিয়ানা পর্যন্ত। তিনি নায়াগ্রা জলপ্রপাতও পর্যবেক্ষণ করেন। স্রোতে নৌকা ভাসিয়ে তিনি নেমে আসেন শেষে ব্রুকলিন নদীতে।
হুইটম্যান আমেরিকার জীবনযাত্রা, এর নদ নদী, প্রকৃতি, প্রেইরি অঞ্চল, মানুষের কর্মচাঞ্চল্য সবই অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করেছেন। আমেরিকাকে তিনি মনেপ্রাণে ভালোবেসেছেন, আমেরিকাই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। ১৮৪৮ সালে ব্রুকলিনে ফিরে এসে তিনি আবার সাংবাদিকতার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করলেন। ১৮৫৫ সালের ৪ জুলাই তার Leaves of Grass-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হলো। বইটি এক হাজার কপিও বিক্রি হলো না। এমনকি এ বিষয়ে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনাও প্রকাশিত হলো না।
আরো নতুন কবিতা সংযোজন করে ১৮৫৬ সালে ‘Leaves of Grass’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হলো। এটি দেখে এমার্সন পত্র লিখে জানিয়েছিলেন, শুরুতেই তোমার অগ্রগতিকে শুভেচ্ছা জানাই
এরপর আমেকিায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে, হুইটম্যান প্রত্যক্ষ করলেন এই বীভৎসতা, তার স্বপ্নের আমেরিকা যেন আহতদের চিৎকার আর মৃত জনদের পরিবারের হাহাকারে ভরে গেল। এ ঘটনা তার চিন্তাজগতে ব্যাপক ছাপ ফেলে যায়। এরই মাঝে আততায়ীর হাতে নিহত হলেন আব্রাহাম লিংকন, নিপীড়িত জনদের এই মহান নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক পেলেন হুইটম্যান, যার ফলশ্রুতিতে তিনি লিখলেন তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা, ও ক্যাপ্টে্‌ মাই ক্যাপ্টেন।
১৮৬৫ সালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে একটি প্রাইভেট সংস্থায় সেক্রেটারি হিসেব, যোগ দেন। ১৮৭৩ সালে তার বয়স যখন চুয়ান্ন সে সময় হঠাৎ করেই তিনি স্ট্রোক করলেন এবং বাতে পঙ্গু হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছলেন এবং প্রায় শক্তিহীন হয়ে পড়লেন। এ সময়েই তার মা মারা গেলেন, হুইটম্যান নিজেকে খুবই অসহায় ভাবতে লাগলেন এবং ওয়াশিংটন থেকে নিজের জন্মস্থানে ফিরে এলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিউজার্সির ক্যামডেনে স্থায়ী হলেন। এ সময়েই তার ‘Prayer of Columbus' লেখা হয়।

কোনো মহিলাকে হুইটম্যান বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কি না এমন প্রমাণ মেলে না। তবে উইলিয়াম ব্লেকের জীবনী রচয়িতা আলেকজান্ডার গিলক্রিস্ট-এর সুন্দরী বিধবা হুইটম্যানকে প্রেমপত্র পাঠান, কিন্তু হুইটম্যান খুবই সম্মানের সাথে তাঁর পত্রের উত্তর প্রদান করেছিলেন। হুইটম্যানের অন্যান্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে ডেমোক্রেটিক ভিসতাস, নভেম্বর বাউস, এ ব্যাকওয়ার্ড গ্র্যান্স, ওভার ট্রাভেল রোড বিখ্যাত। সং অভ সাইলেন্স তাঁর অন্যতম মহৎ কর্ম। ১৮৯২ সালের ২৬ মার্চ এই মহান কবি পরলোকগমন করেন।
অন্যান্য লিঙ্ক সমূহঃ

No comments:

Post a Comment

Trending