Search This Blog

Total Pageviews

Saturday, February 2, 2019

When lilacs last at my dooryard bloomed - Walt Whitman - Bangla Translation

When lilacs last at my dooryard bloomed - Walt Whitman - Bangla Translation

সম্মান শেষ বর্ষের সিলেবাস থেকে অন্যান্য লেখা ও অনুবাদ

When lilacs last at my dooryard bloomed - Walt Whitman - Bangla Translation
বঙ্গানুবাদ
শেষ যখন লাইলাক ফুটেছিল দরজা প্রাঙ্গনে
রাত্রির শুরুতেই পশ্চিমাকাশে ডুবেছিল সন্ধ্যা তারা
শোকাতুর ছিলাম, থাকব নতুন বসন্ত আসবে যবে
বসন্ত আবার আসবে, আমার তরে নিয়ে আসবে
লাইলাক সারা বছরই, ডুববে সন্ধ্যা তারা,
সে ভাবনা জুড়ে থাকবে আমার চিন্তা সারা।

পশ্চিমাকাশের অপসৃত উজ্জ্বল তারা!
ওগো রাত্রির ছায়া-চঞ্চলা ক্রন্দসী রাত!
মহা আলোকময় অপসৃত তারা, ওগো অন্ধকার লুকাও তুমি সব তারা!
ওগো নির্মম হাত, কোরো না আমায় শক্তিহীন-দুর্বল অসহায়!
রুক্ষ মেঘে ঢেকেছে ' হৃদয়।

দরজার পাশে, পুরোনো খামারমুখী সাদা বেড়ায় ঘেরা বাগে
উঁচু দীড়িয়ে হৃদাকারের গাঢ় সবুজ পাতায় শোভন লাইলাক বন
কোমল কুঁড়ি মেলছে মুখ, স্নিগ্ধ সুরভীতে
সব পাতা বিস্ময় জাগা-সেই লাইলাক ঝোপে
কোমল রংয়ে ফুটছে সবে, গাঢ় সবুজ পাতা হৃদাকারে
তারই একটা মাথা সমেত ভেঙে নিলাম।

কাদা জলে, একাকী মনে গাইছে এক পাখি বিরামে,
লাজুক পাখি লুকিয়ে একা গাইছে নির্জনে
সব যন্ত্রণা ফেলে পিছে
উদাস মনে গাইছে
জীবন শেষের গান বুঝি বন্ধু, তোমার ব্যথা)
গান যদি না থাকত তোমার গলে, যেতে না তুমি চলে

আজ বসন্ত দিনে পেরিয়ে সব প্রান্তর, নগরী
অলিগলি, বন বনানী পেরিয়ে অবশেষে নাম না জানা বেগুনি ফুল
ফুটেছে যেথা সারি সারি
ঘাসের মাঝে, পথের ধারে শোভা শুধু তারি,
বাদামি মাঠের পরে পাকা ফসলের ফুরাল বুঝি দিন
আপেল বনটি পেরিয়ে পরে
যেথা শবটি ঘুমাকে শেষে
দিবস রাত্রি চলছে সে কফিন।

কফিনটি চলছে রাত দিন সব পথই দিয়ে
কালো মেঘে ঢাকল ভুবন
সাড়ম্বরে পতাকা-ঢাকা, সব শহর কালো পতাকায় স্লান
সব এলাকার নারীরা কালো কাপড় পরে
দাড়িয়েছে সার ধরে
শব-মিছিল এঁকেবেঁকে দুলে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়
আলোক মালার রাতে
অগণিত প্রদীপ হাতে, অগনন জনতা
নগ্ন সবার মাথা
প্রতীক্ষা করে কফিনটি দেখার মুখগুলো সব
গাম্ভীর্য মাখা
সমাধি গীত রাত ভরে হাজার কণ্ঠ জুড়ে
গভীর সে গীত রব সব এলাকা
হাজার কণ্ঠ সে গান গেয়ে যায় শোকার্ত স্বরে চারধারে
মাঝখানে সেই কফিন,
নিভু আলোর গির্জাগুলোয় করুণ সুর বাজে
এরই মাঝে চলছে তোমার মরণ-রথ-
গির্জাগুলোয় বেজেই চলে বিষাদ রব
ওই তো ধীরে আসছে কাছে কফিনটি
আমি তাতে গেলাম রেখে লাইলাক মালাটি

 (অন্য কারো তরে নয়, শুধু তোমার তরে
ফোটা ফুল সব ডাল সমেত দেব কফিন ভরে
গাইব ভোরের মতো স্নিগ্ধ সে গান
মৃত্যু মহান
কফিনটি ফুলে ফুলে ঢাকা
মৃত্যু, তোমায় ঢেকে দেব গোলাপ ফুলে ফুলে
সদ্য ফোটা পদ্ম আর লাইলাক দলে
অনেক অনেক ফুল এনেছি বাগান থেকে
দু'হাত ভরা ফুলে আমি কফিন দেব ঢেকে,
ঢেকে দেব কফিন আর মৃত্যুকে )

ওগো পশ্চিম তারা, স্বর্গব্যাপী গতি তোমার
মাস ভরে দেখিনি তোমায়, বুঝেছি মর্ম তোমার ইশারার
নীরবে হেঁটেছি যখন আঁধার-স্বচ্ছ রাতে,
ভেবেছি মনে মনে যেন তুমি চাও আমায় বুঝতে
রাতের পর রাতে

আকাশ থেকে হারিয়ে যেন বুঝেছ আমার ব্যথা
(অন্য তারারা দেখেছে আমায় একা)
ওদের সাথে হেঁটেছি নিঝুম নীরব রাতে (জানি না)
কী যে আমায় রেখেছে নিদ্রাহীন)
রাত্রি শেষে পশ্চিমাকাশে
বুঝেছি তোমার দুঃখ-কথা
শীতল হাওয়ার প্রাতে
স্বচ্ছ-আধার রাতে,
যেখান থেকে হারিয়ে গেলে তুমি
রাতের অন্ধকারে
তোমার মতোই বিদীর্ণ মনে ঘুরেছি আমি, বৃত্ত হারালে তুমি যে রাতে,
কক্ষ হারা বৃত্তহারা তুমি হারিয়ে গেলে

জলাভূমে গেয়ে যাও তুমি
গায়ক পাখি কোমল করুণ সুরে, শুনি তোমার গান, তোমার কলরব,
শুনে তোমার গান, যেন বুঝে উঠি তোমায়
ক্ষণতরে থেমেছিলাম উজ্জ্বল তারায় ভেবে
বিদায়ী বন্ধু তারাটি আমার প্রতি পলে ভাবায় আমায়।

কী করে গাই ব্যথার গান প্রিয় বন্ধুর তরে?
কী করেই বা প্রবোধ মানাব সন্তপ্ত মনে যে মহান মানুষ
হারাল চিরতরে?
-- কী ফুল দিয়েই বা সাজানো তার কবরে?
সাগর বাতাস বয় পুবে পশ্চিমে
পুবের পশ্চিমের সাগর বাতাস
তৃণভূমে বয়ে যায়
বুঝেছে তারা আমার বেদনায়
অজস্র ফুল ছড়িয়ে দেব তোমার কবর গায়।

দেয়ালেই বা ঝুলাব এখন আর কী?
দেয়ালে ঝুলাব কার ছবিটি?
সমাধিই বা তার সাজাব কী দিয়ে
বসন্তের, খামারের বা
অস্তরাগের ধূসর মিহি
ধোয়া দিয়ে
সোনালি রোদের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়ে,
জ্বলজ্বলে তারার আলোয় রাঙিয়ে,
নরম সবুজ ঘাসে
নাকি ফলবতী বৃক্ষ পাতে!
ওই যে দূরে রূপালি নদী ঝলকে, ঢেউ তার বুকে
এখানে ওখানে জেগে থাকে,
তীরে তার পাহাড়, নীরব
ঘুমায় আকাশে হেলান দিয়ে
শহরে সব জীবনের কলরব
অনেক ব্যস্ততা নিয়ে
কলকারখানার শ্রমিকরা কর্মদিন শেষে
ঘরে ফিরে ক্লান্ত মলিন বেশে

দেশটাই-দেহ মন জুড়ে
ম্যানহাটন আমার, প্রাসাদে, চকমকে স্রোতে
দোলায়মান বন্দরে
বিস্তীর্ণ বিচিত্র দেশ উত্তরে দক্ষিণে
ওহাইও সৈকত থেকে মিসৌরী তীরে
বিশাল প্রান্তর ঢাকা ঘাসে ফসলে।
সূর্য ছড়ায় কিরণ স্লিগ্ধ কখন, কখনো রুদ্র ভীষণ।
রঙিন প্রভাত আসে বয়ে সমীরণ
স্নিগ্ধ কিরণে ভরায় ভুবন
দিগন্ত প্লাবি আলোয় ভরে দুপুর
রাতের তারারে ডেকে বাজে সাঁঝে নূপুর
সাদরে ঢেকে দেয় শহর প্রান্তর সুদূর।

গেয়ে যাও, আপন মনে হে ধূসর পাখি
জলাভূমে, বিরামে ঝোপে মুখ রাখি,
আঁধার পেরিয়ে পাইন বন ছাড়িয়ে
বন্ধু আমার গেয়ে যাও তোমার গান
দুঃখ কাতর মানব মনে বাজে সে সুর সমান
কোমল করুণ স্বরে!
ব্যথা হত, বেদনার্ত হৃদয়ে আমার-হে বিস্ময়-গায়ক
তুমিই সঙ্গী আমার-আর তারার আসর (সহসাই মিলাবে)
কিছুটাই ধরে রাখে মোহিনী লাইলাক

দিন ভর চোখ ভরে দেখেছি দূরে
দিনান্ত দেখেছি বসন্তের, ফসল ভরা মাঠের
ব্যস্ত হাত দেখেছি কিষাণের,
ভাবনাহীন রু দেখেছি আমার দেশের
(এত প্রলয় ঝড়ের পর) দেশ আমার স্বর্গ-সুন্দর
বিকেলের স্বর্গ খিলান দ্রুত মিলায়
জীবনের অনন্ত ধারা বয়ে চলে যায়
পোতাশ্রয় ছেড়ে জাহাজেরা ভাসে জলস্রোতে
পাল তোলে যাত্রাতে,
চক্রাকারে গ্রীষ্ম আসে ফসল ভরা ঘ্রাণে, ফসলের মাঠে
ব্যস্ত কিষাণ খুশি ভরা প্রাণে,
সব গৃহেই জীবন চলে আগের মতো দিন
সব কিছু চলছে ঠিক, কোনো বদলহীন,
পথে পথে চলে সচল জীবনের কলবর, হঠাৎ আবার
ব্যথা ভারে থেমে যায় সব
জীবনের সাথে জীবন মিলাই, দুঃখ. ভারই
বেশি বই,
কালো মেঘই ছায় আমায়
মরণেরে নতুন করে চিনি আবার
মরণই চিন্তা ছায়।
মরণ চিন্তা হাটে আমার একপাশে
আমায় নিয়ে মরণ চিন্তা হাঁটে অন্যপাশে
মাঝে আমি চলি সে ভাবনার সাথি হয়ে
নীরব রাতে লুকাতে চেয়েছি কতবার
জলের প্রান্তে সৈকত ধরে, জলাভূমির আধার ভরে চেয়েছি লুকাতে বারবার
সিডার আর পাইন বনের ভুতুড়ে আধার জুড়ে
আসত ভেসে গায়ক পাখির গান সে আঁধার ফুঁড়ে,
বাদামি ধূসর পাখি হতো আমার সাথি
মরণ সুরের গাইত সে গান মরণ আবহে
আপন মনে, একা বিরামে,
পাইন সিডারের সুবাসী বন হতে
সে সুরই আসত ভেসে আঁধার ভরা পথে
সে সুর রাখত জুড়ে গোটা আঁধার বন
বন্ধু আমার স্মৃতি ভরে রাখত আমার মন,
আমার সারা মনে থাকত ভরে সে পাখির গানে
এসো মৃত্যু কোমল পদ ভারে
বিশ্বের সকল ধারে সকল কিনারে
দিবসে রাতে সবারে নাও তোমার হাতে,.
আগে কিবা পরে সবারে নাও তোমার করে।
বিশ্ব ভুবন গায় তোমার গান,
জীবন জানতে, বুঝতে তাকে সব জ্ঞানের রহস্য মৃত্যু
স্বাগত তোমায় মৃত্যু!
তোমার শীতল আলিঙ্গন।
গতি তার অতি সন্তরপণ,
পূর্ণস্বরে উচ্চ রবেন কেউ কি তোমায় ডাকেনি?
তাহলে, আমিই উচ্চ রবে তোমায় মহান করে দিই
ডেকে তোমায় বলি, আসবে যদি, এসো নিঃসঙ্কোচে।

ত্রাতা, মুক্তি দাতা এসো
এসে যখন, করবে তোমার কার্য সম্পাদন, গাইব
আমি তোমার জয়গান,
তোমার ভুবনে হারিয়ে শেষে
অনন্তে যাব মিশে।
আমার আমি ছাড়িয়ে হবো তোমায় হারা
নেচে হেসে আপ্যায়ন করে তোমায়, কাটাব বেলা সারা
নিসর্গে দৃশ্য দেখব দিগন্ত বিস্তারি
অন্তর দিয়ে দেখব দিবসের আলো আর রাত্রির আধার কালো।
নীরব তারাদের দেখব রাতে,
সৈকতে শুনব ঢেউয়ের অনুচ্চ রব
চেনা আমার ওসব,
আত্মাকে সঁপব তোমার কাছে হে রহস্যময়
দেহটাও দেব তোমায় পরম কৃতজ্ঞতায়।
তোমার তরে ছড়াব এক গান,
বৃক্ষ চূড়ায়, সাগর, মাঠ বন বনানী তৃণভূমি জুড়ে,
ঘনবসতির শহরগুলোয়, জাহাজভরা বন্দরগুলোয়
সে গান আমি ভাসিয়ে দেব তোমার বিজয় মেলায়।

হৃদয় মাঝে নিয়ত বাজে,
সে ধূসর পাখির গান,
নীরব রাতে সরব করে যোগায় তাতে প্রাণ
গুঞ্জন তোলে পাইন সিডার বনে,
সতেজ করে জলাভূমি সোঁদা মাটির ঘ্রাণে,
আমার নেতার স্মৃতি জাগায় আমার প্রাণে।
নিষ্পলক চোখে যে সব স্মৃতি করি রোমন্থন
সে সব ভাসে চোখের পরে রঙিন স্বপ্নের মতন।
স্বপ্নে দেখেছি অনেক যুদ্ধ-পতাকা,
ধূম্র-ভেদী অস্ত্র ধ্বনি সব একা একা,
দেখেছি তোমার নিথর দেহ অনেক রক্তে ঢাকা,
ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখেছি অবশেষে, (সব নীরবে)
যুদ্ধাহত পড়ে আছে অনেকে
অনেক দেখেছি মৃত সৈনিকের দেহ ইতস্তত, অনেক,
যুবকের সাদা কঙ্কাল পড়ে থাকতে দেখেছি অনেক,
কঙ্কাল আর নিহত সৈনিকের সার,
তেমন ছিল না তারা, যেমন তাদের ভাবা হয়
আত্মত্যাগে নির্ভয় তারা, এখন নীরবে ঘুমায়
জীবিত তাদের স্বজনেরা, মায়েরা কষ্ট পায়,
স্ত্রীরা, সম্তানেরা, সহযোদ্ধারা মনোবেদনায়,
বেঁচে রইল যারা তারাই ব্যথা পায়

সব স্বপ্ন পেরিয়ে, পেরিয়ে সব রাত
হারিয়ে নেতার দীপ্ত দৃঢ় হাত
হারিয়ে সে পাখির বেদনা ভরা গান
শুনছি বিজয় বাণী, মৃত্যু-বিজয়ী ধ্বনি, বদলে যাওয়ার গান,
নিচুলয়ে হোক না বিলাপ, সে সুর ওঠে, পড়ে রাত্রি ভর
মিলায় আবার ভাসে সে সুর তবুও
জাগায় জীবনের কলস্বর,
মর্ত্যভেদী, ছড়ায় স্বর্গ ধামে,
সে গভীর সুর শুনেছিলাম, বিরামে,
যেতে যেতে লাইলাক গুচ্ছ হৃদাকার পাতার
রেখে যাই দোর গোড়ায়, প্রতীক্ষা বসন্ত আসার
নেতা আমার, তোমার তরে থামিয়ে আমার গান,
পশ্চিমাকাশে তাকিয়ে, তোমার সাথে বীধি আমার প্রাণ,
নেতা আমার, দীপ্তি তোমার হবে না কভু ম্লা
রাত্রি শেষেও কীর্তি তোমার হবে না অবসান
ধূসর পাখিটি চিরদিন গাইবে তোমার জয়,
সে গান সুর তুলবে সবার বুকে থাকবে যারা বিশ্বময়
চিরদিনই তারারা জ্বলবে ব্যথার আলোয় আলোয়
সে পাখিটির গান শুনবে অনাগত সব জন,
স্মৃতি তোমার রাখবে মনে ভালোবাসার ধনজ্ঞানে
আমার বন্ধুগণ
মধুরতম স্মৃতি, শ্রেষ্ঠতম দেশবাসী
রাখবে মনে, তোমায় ভালোবাসি
ফুল, পাখি, তারা সবে আমার মতো করে
রাখবে তোমার স্মৃতি ধরে বন প্রান্তরে


No comments:

Post a Comment

Popular Posts