Sunday, January 20, 2019

The Lion and the Jewel - Bangla Summary - part - Night - Wole soyinka


The Lion and the Jewel - Bangla Summary - part - Night - Wole soyinka

দ্যা লায়ন অ্যান্ড দ্যা জুয়েল - সারাংশ - পর্ব ৩ - নাইট 
রাতের আগের ঘটনা
সিদি দাঁড়িয়ে তাঁর নিজের ছবি দেখছিল। সাদিকু চুপি চুপি একটা ব্যাগ এর মত জিনিস থেকে কিছু একটা বের করল। এটা ছিল গ্রামের প্রধানের একটা ক্ষুদ্র মূর্তি। মহিলাটি তাকে এভাবে এনেছে দেখে সে আনন্দে ফেটে পড়ল। সে সিদিকে দেখল আর তাকে বলল যে যুদ্ধটি  চলছিল তা শেষ। কারন ব্যারোকা এখন পুরুষত্ত্বহীন ব্যাক্তি। একথা শুনে সিদি হাসিতে ফেটে পড়ল।
ল্যাকুনলে তাদের কথা শুনে আবার এগিয়ে আসল। তারা কি নিয়ে এতো হাসি তামাশা করছে সে জানতে চাইল। সাদিকুর কৌতুক শুনে সে বুঝে ফেলল আসলে কি ঘটেছে। সে বিস্মিত হল।
হঠাৎ সিদি বলল তাঁর মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। ব্যারোকা তাকে যে রাতের ভোজে আমন্ত্রন জানিয়েছে সিদি তাতে উপস্থিত হবে। সাদিকু কিছুটা উত্তেজনা অনুভব করল আর তাকে বলল সে যেনো লাজুক ও অনুতপ্তভাবে সেখানে যায়।  ল্যাকুনলে তাদের কাছে হাত জোর করে বলল এই লোকটাকে আর শাস্তি না দিতে। তাদেরকে সাবধান করে দিল সে যে কোন সময় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।
সিদি চলে গেলে সাদিকু ল্যাকুনলেকে উপহাস করে বলল সিদির মত মেয়েকে লাভ করা তাঁর জন্যে অবাস্তব কল্পনার বিলাস মাত্র। সে যদি সিদিকে মোহরানা আদায় করতে না পারে তাহলে সিদির পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করে বরং তাঁর নিজের চরকায় তেল দেয়া উচিত।
ল্যাকুনলে তাকে গর্ব করে বলে এই গ্রাম কয়েক বছরের মাঝেই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। তখন এখানে গাড়ী, সংবাদপত্র, আধুনিক পার্ক ও অন্যান্য নতুন নতুন জিনিস থাকবে। বিয়ে করতে আর বরকে কনে-মূল্য দিতে হবে না। সাদিকু ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাঁর দিকে তাকালো। ল্যাকুনলে তাঁর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল তাকে এসব মেনে নিতে হবে আর বারো বছরের শিশুর মতই তাঁর স্কুলে পড়তে যেতে হবে। তাকে তাঁর অন্ত্রর পুনর্গঠন করতে হবে।  
[রাতে ব্যারোকার শোবার কক্ষে]
ব্যারোকা একজন মল্লযোদ্ধার সাথে কুস্তি খেলছিলেন। দুজনের মারামারি চলছিল, এমন সময় সিদি সম্মান জানিয়ে প্রবেশ করে। সে মারামারির ফাকেই বলে অযাচিত আগন্তুকের প্রবেশে বাঁধা দেয়ার মত দরজায় কি কেউ নেই! সিদি আশ্চর্য হল। তখন ব্যারোকার মনে পড়লো আজ ছুটির দিন। তাই সকল কাজের লোক ছুটিতে আছে। সে ক্ষোভের সাথেই বলল ল্যাকুনলের তৈরী প্যালেস ওয়ার্কার ইউনিয়নের কারনে তারা আজ সপ্তায় একদিন বন্ধ পাচ্ছে।
তখন সিদি দাবি করল সে আসলে অনুতপ্ত হয়েই এখানে এসেছে।  এর আগে তাকে সে ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা না করেই উত্তর দিয়েছিল। এ ব্যাপারে ব্যারোকা উদাসীন আচরণ করে যা সিদিকে মর্মাহত করে। ব্যারোকা তাকে বলল সে এতো তাড়াতাড়ি উত্তর দেয় যে সে খুব শিঘ্রই কষ্ট পাবে। সে তাঁর উদ্দেশ্য পুরণার্থে কথা বলা শুরু করল। সে বলল, গ্রামের প্রধানের প্রিয় নারীকে হতে হবে একজন নম্র ও ভদ্র মহিলা।
এবার সিদি একটু একটু করে কথা ছাড়তে লাগল, বলল, হতে পারে সব চেয়ে প্রিয় নারী তাঁর স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট। ব্যারোকা তাঁর দিকে তাকালো আর জিজ্ঞাসা করল তাঁর কি নারীদের ঈর্শা, হিংসা ও বিদ্বেষ নিয়ে চিন্তা করার সময় আছে নাকি! হঠাত করে ব্যারোকার মানসিক পরিবর্তন সিদিকে কিছুটা ঘাবরে দিল। ব্যারোকা তাকে বসতে বলল আর এটাও মনে করিয়ে দিল সে যেন তাকে রসকষহীন বৃদ্ধ মানুষ না ভাবে। সে বসল আর তাদের কুস্তি খেলা দেখতে লাগল। সিদি বলল মল্লযোদ্ধাই খেলায় জিতবে। ব্যারোকা বলল তাকে তো জিততেই হবে। কারন ব্যারোকা তাকে রেখেছে তাঁর সাথে খেলার মাধ্যমে সে তাঁর নিজের শক্তি সামর্থ বৃদ্ধির জন্যে। যেদিন ব্যারোকা তাকে হারাতে পারবে সে তাকে বাদ দিয়ে নতুন একজন কুস্তিগির রাখবে। ব্যারোকা আরো বলে সে তাঁর স্ত্রীদেরও পাল্টায় যখন তাঁর প্রতি ক্লান্ত হয়ে যায়।
ব্যারোকা আইলাতুর কথা খুব রাগের সাথে বলছিল।  সিদি জানতে চাইলো আইলাতুর সাথে তাঁর কি হয়েছে। এবার সে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল, বলল সে খেলায় জিতবে। এবার ব্যারোকা খুব ভদ্রভাবে উত্তর দিল এবং নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করল।
সিদি এবার নতুন কৌশল অবলম্বন করল। ধীরে ধীরে সে তাকে বিরক্ত করতে লাগল। আইলাতুর প্রসঙ্গ থেকে সে বলল যদি ব্যারোকা নতুন স্ত্রী গ্রহন করে, বলে সে একটা উদাহরন দিল, যদি সে তাঁর বাবা হত তবে কি সে তাঁর মতো একজন বুড়ো লোকের কাছে তাকে বিয়ে দিত!
সিদির কথার জবাবে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যারোকা তাঁর প্রতিপক্ষ খেলোয়ারকে কাধে তুলে মারাত্ত্বকভাবে একটা আছাড় মারলো। সে  খুব দ্রুতই নিজেকে সামলে নিল এবং ব্যারোকার সাথে আবার নতুন খেলা আরম্ভ করল। এর মাঝেই কথা চলতে লাগল। সিদির এমন সমন্তরাল ও সূক্ষ ইঙ্গিতমূলক খোচায় ব্যারোকা মনে মনে দারুন আঘাত পেল। সিদি তাঁর বক্রোক্তিগুলো চালিয়ে যেতে লাগল।  এবার সিদি বলল ব্যারোকাতো গত দু বছর কোন সন্তান জন্ম দিতে পারে নি। তাঁর একথায় ব্যারোকা এতোটাই রাগান্বিত হল যে সে তাঁর প্রতিপক্ষের হাতটা খুব জোরে টেবিলের উপর বাড়ি মারল। এবারও ব্যারোকা জিতে গেল। ব্যারোকা তাকে বলল যাওয়ার সময় দরজা থেকে লাউ নিয়ে যেতে। এসময় ব্যারোকা বদমেজাজী বুড়ো মানুষের মত মুখভঙ্গি করে রাখল। কুস্তিগির ফিরে যাচ্ছিল আর ব্যারোকা আত্মপ্রশংসায় ব্যাস্ত হল। সে তাকে একটি খাম ও ম্যাগাজিন দেখালো। তারপর দেখালো একটি ছাপ দেয়ার স্ট্যাম্প। সে তাকে বলল তাদের গ্রামের স্ট্যাম্পে তার ছবি খোদিত থাকতে পারে। পাশেই যে যন্ত্রটি পড়ে ছিল সেটি দিয়ে স্ট্যাম্প তৈরী করা হয়আরো বলল সে চাইলেই তাঁর ছবি ম্যাগাজিনে ছাপা হতে পারে। ম্যাগাজিনের কথা আসায় ব্যারোকা বলেই ফেলল সে আসলে উন্নতির বিপক্ষে না, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উন্নতি - সকল মানুষ ও তাদের বাড়ি গুলোকে সমান করে ফেলে। এরপর সে সিদির রুপের প্রশংসা করল।
[গ্রামের কেন্দ্রে]
এ সময় গ্রামের কেন্দ্রভূমিতে ল্যাকুনলে অনেকটা নিরাস হয়েই ঘোরাফেরা করছিল। সিদিকে ব্যারোকার কাছে পাঠানোর জন্যে সে সাদিকুর উপর খুব রেগে ছিল। কারন সে জানত ব্যারোকা হয় তাঁর কোন ক্ষতি করবে অথবা তাকে আটকে রাখবে। এসময় কিছু অভিনেতা সেখানে আসল। সাদিকু শান্তই ছিল, কিন্তু ল্যাকুনলের মানসিক অশান্তি বেড়ে যাচ্ছিল।  সাদিকু ল্যাকুনলের কাছ থেকে কয়েন চুরি করে তাদেরকে অভিনয়ের বকশিস দিল। তখন তারা তাঁর প্রশংসা সহকারে বাজনা বাজাতে লাগলো। সাদিকু তাদের বলল ল্যাকুনলের প্রশংসা করতে যেহেতু সে টাকা ল্যাকুনলের পকেট থেকে চরি করেছে। তারপর তারা ব্যারোকার জীবন নিয়ে গান গাইলো। এতে ল্যাকুনলে খুব মজা পেল কারন তারা সেখানে ব্যারোকাকে কটাক্ষ করে কিছু কথা বলা হয়েছে
আলুথালু ও বিক্ষিপ্ত চেহারা নিয়ে সিদি হাজির হল। ল্যাকুনলে তাকে দেখেই বুঝে ফেলল কি ঘটেছে। সে রেগে গেল আর বলল সে কোর্টে মামালা করতে চায়। সিদি এবার আসল ঘটনা বলল। ব্যারোকা সাদিকুকে বলেছে সে আসলে নপুংশক আর সে ভালো ভাবেই জানতো সাদিকু এটা গোপন রাখতে পারবে না, তাঁর সম্মান নষ্ট করার জন্যে কাউকে না কাউকে সে বলে দিবে। আসলে এটা ছিল ব্যারোকার একটা ফাদ, যাতে করে সিদি তাঁর কাছে আসে। কিচ্ছুক্ষনের মাঝেই ল্যাকুনলের রাগ কমে এলো, সে তাঁর মনে গভীর হতাশা প্রকাশ করল। সে তাকে আবার মোহরানা ছাড়া বিয়ের প্রস্তাব দিল কারন সে তো আর এখন কুমারী নয়। ল্যাকুনলেও মনে মনে খুশি কারন সে যেভাবে ভেবে ছিল, ঘটনা সেভাবেই ঘটছে। পরে সাদিকু তাকে জানালো সিদি তাঁর বিবাহের জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে বাদক দল সহ সিদি বের হল তাঁর বিয়ের দাওয়াত দিতে। সিদি ল্যাকুনলে কে বলল সে তাকে তাঁর বিয়ের দাওয়াত দিতে এসেছে। ল্যাকুনলে মনে করল সে তাকে বিবাহ করতে যাচ্ছে। কিন্তু সিদি তাকে বলল তাঁর প্রতি সিদির কোন আগ্রহ নেই, বরং সে ব্যারোকাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। তাঁর কথা শুনে ল্যাকুনলে স্তব্ধ হয়ে গেল। সিদি বলে চলল, যদি দুজনকে তুলনা করা হয় তবে এই ষাট বছর বয়সেও ব্যারোকার ভেতর পূর্ণ যৌবন রয়েছে, আর ল্যাকুনলে যেন ১০ বছর আগেই মৃত কোন প্রাণী। সাদিকু তাদের জন্যে ঈশ্বরের কাছে কল্যান কামনা করল। তাদের বিবাহ শুরু হলে ল্যাকুনলেকে একটি যুবতি মেয়ে বিদ্রুপ করল। সে তাঁর পিছু ধাওয়া করল। সাদিকুও তাঁর পিছন পিছন গেল। ল্যাকুনলে নিজেকে শান্ত করল ও ভিড়ের মাঝে জায়গা তৈরী করে নাচতে লাগলো।    
সম্মান ২য় বর্ষের অন্যান্য নাটক ও কবিতার অনুবাদ


No comments:

Post a Comment

Trending