Total Pageviews

Sunday, April 12, 2020

King Lear - William Shakespeare - Translation in Bengali - 5

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation
Previous Part

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation (Part 5 of 7)

কিং লিয়ার - উইলিয়াম শেক্সপিয়ার - বাংলা অনুবাদ - ৫

৪র্থ পর্বের পর থেকে শুরুঃ 


লিয়ার বললেন, আচ্ছা টম, তোমার এ অবস্থা কে করেছে? তোমার মেয়েরা কি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে?  
না মহারাজ, এর মধ্যে আমি একটা কলঙ্কের ব্যাপার দেখছি, বলল বিদূষক।
লিয়ার বললেন, তাহলে আমি অভিশাপ দিচ্ছি, যথাসময়ে পতন হবে ওর মেয়েদের।
ছদ্মবেশী কেন্ট বলল, মহারাজ ওর কোনও মেয়ে নেই।
তুমি একটা মিথ্যেবাদী, চিৎকার করে বললেন লিয়ার, মেয়ে না থাকলে কখনো ওর এই অবস্থা হত? দেখছ না, আমার মেয়েরাও তো এভাবেই আমার রক্ত শোষণ করেছে।
বিদূষক বলল, এ অসহ্য পরিবেশকে মেনে নেওয়া আমার মতো নির্বোধের পক্ষে সম্ভব নয়
ব্যগ্র কণ্ঠে রাজা জিজ্ঞেস করলেন টমকে, আগে কী করতে তুমি?
টম উত্তর দিল, আগে আমি খুব অহংকারী ছিলাম। কথায় কথায় মিথ্যে শপথ নিতাম। যৌবনের নানা খেলায় ব্যস্ত রাখতাম নিজেকে। নিজ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য হীন কাজ করতেও পেছ-পা হতাম না। মদ খেতাম, জুয়ো খেলতাম প্রেম নিয়ে অলসতা, লুব্ধতা, ধূর্তামি আর নানারূপ পাপ কাজে সিদ্ধহস্ত ছিলাম আমি। এসব কাজে আমি ছিলাম পশুরও উপরে। কিন্তু সাবধান, হর্মন বনের বাতাসের রূপ ধরে আসছে ঐ শয়তান।
 হে ঈশ্বর, মানুষের কি কোনও দাম নেই? বললেন লিয়ার, এই গুহায় বাস করছি আমরা তিনটি দু-পেয়ে প্রাণী, অথচ কেউই স্বাভাবিক নই। তারপর হঠাৎ তিনি দুহাতে নিজের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে অনাবৃত করতে লাগলেন দেহকে।  
বিদূষক বলল, মহাশয়, এই শীতের রাতে গায়ের পোশাক খুলবেন না। ঐদিকে দেখুন, কে যেন মশাল হাতে এগিয়ে আসছে।
এডগার বলল, ও হচ্ছে শয়তান কিবাগিগিবেট। সন্ধ্যার পর মানুষের দুরবস্থার নকল করে সে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে তাদের।   
নেপথ্যে পায়ের আওয়াজ শুনে রাজা বললেন, কে ওখানে? কার গলা শোনা গেল পেছনে? কে তুমি? আগে তোমার নাম বল।
আমি সেই হতভাগ্য টম যার খাদ্য হল কোলাব্যাং, বিষাক্ত সাপ, টিকটিকি আর মরা কুকুর। আমার পানীয় হল শ্যাওলা পচা জল, সম্বল জামা-কাপড়, একটা ঘোড়া আর তলোয়ার। আমি সেই শয়তান যাকে অহরহ তাড়া করছে আর একটা শয়তান। নরক আর অন্ধকারের রাজাই আমার একমাত্র বন্ধু।  
গ্লচেস্টার বলল, জানো, আমার ছেলেদের কাছে আজ আমি একটা ঘৃণিত জীব মাত্র।  
রাজা লিয়ার বললেন, আপনার কন্যাদের বারণ সত্ত্বেও আমি এসেছি আপনাকে নিয়ে যাব বলে। এর পরপরই তিনি বললেন, বজ্রের উদ্দেশ্য কী? আচ্ছা টম, তোমারই বা জ্ঞানের উদ্দেশ্য কি?
রাজার এরূপ অবস্থা দেখে দুঃখের সাথে কেন্ট বললেন, গ্লচেস্টারকে, স্যার, ওর মাথা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে।
গ্লচেস্টার বললেন, সেজন্য দায়ী ওর মেয়েরাই। জানো বন্ধু, এই কিছুদিন আগে আমার প্রিয় পুত্রও হত্যা করতে চেয়েছিল আমাকে। আমিও রাজার মতোই এক হতভাগ্য। তারপর লিয়ারকে উদ্দেশ করে বললেন, আজকের রাতটা খুবই দুর্যোগের। আমার কথাটা শুনুন মহারাজ।
লিয়ার বললেন, আমি ক্ষমা চাইছি তোমাদের কাছে। এস, সবাই ভেতরে যাই। ওহে যুবক, এস, বিশ্রাম করবে। আমাকেও তোমার সঙ্গী করে নাও।
গ্লচেস্টার বলল, চুপ, ধীরে ধীরে। তারপর ছদ্মবেশী কেন্টকে উদ্দেশ করে তিনি বললেন সে যেন সবাইকে ভেতরে নিয়ে যায় সবাই যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকছে, তখন টমরূপী ছদ্মবেশী এডগার বলে উঠল, ধিক ধিক, আমি টের পাচ্ছি এক ব্রিটিশ বীরের উপস্থিতি।
----------------------------------------------
কর্নওয়াল বলল, তাহলে তো গ্লচেস্টারকে হত্যা করার চেষ্টা করে ঠিকই করেছে তোমার ভাই। এ বাড়ি ছেড়ে যাবার পূর্বে আমিও প্রতিশোধ নেব তার উপর।
এডমন্ড ছিল খুব চতুর। সে বলল, না হুজুর, তা করবেন না তাহলে সবাই আমায় অপবাদ দেবে পিতৃহত্যার। আমার ভাগ্যটা সত্যিই খুব খারাপ। কারণ আমার বাবা চেষ্টা করছেন ফরাসিদের অনুকূল সুযোগ দেবার। আর এ চিঠিটাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, বাবা যেন এ কাজ থেকে বিরত হন। কিন্তু এ চিঠিটা যদি সত্যি হয় তাহলে....।।
কর্নওয়াল বলল, 'সত্যি মিথ্যে যাই হোক না কেন, তোমার বাবাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে পারলে তুমিই হবে আর্ল অফ গ্লচেস্টার।  কথাটা শুনে মনে মনে ভাবতে লাগল এডমন্ড, যদি সত্যিই এরকম হয়, তাহলে তো রাজার প্রতি বাবার সান্ত্বনা বাণীই দূর করে দেবে ডিউকের সন্দেহ আর সেই সাথে সফল হবে আমার উদ্দেশ্য। হে ঈশ্বর, আমার উদ্দেশ্য যেন সফল হয়
--------------------------------------------
গ্লচেস্টার কেন্টকে বলল, আপনি এখানে একটু অপেক্ষা করুন। আমি দেখছি অন্য আর কিছু করা যায় কিনা। গ্লচেস্টারের মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে গেলেন কেন্ট। রাজার প্রতি তার এই মমতাময় আচরণের জন্য তিনি গ্লচেস্টারের মঙ্গল কামনার প্রার্থনা করলেন ঈশ্বরের কাছে।।
এডগারকে দেখিয়ে বিদূষক প্রশ্ন করলেন লিয়ারকে, মহারাজ, এই লোকটি কে?
লিয়ার বললেন, উনি এক রাজা।
বিদূষক বলল, উহঁ, ছেলেকে ভদ্র হতে দেখলে নিচু শ্রেণির মানুষও পাগল হয়ে যায় উনি সত্যিই পাগল হয়ে গেছেন। যে কোনও ঠুনকো জিনিস এখন সহজেই ওর বিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে।
লিয়ার বললেন, আমি সামনাসামনি বিচার করব তাদের। ওহে যুবক আর বিদূষক, তোমরা দুজনেই বস এক জায়গায়, আর অকৃতজ্ঞের দল, আমি বিচার করব তোমাদের।
এডগার বলল, আবার নাইটিংগেলের পাখির সুরে গান গাইছে জঘন্য শয়তানটা। ওহে শয়তান, তুমি চুপ কর। এখন আমার কাছে কোনও খাবার নেই।
ওহে যুবক, তুমি আর তোমার সঙ্গী এই বেঞ্চের উপর বস বিচারক হিসাবে--- তারপর কেন্টের দিকে তাকিয়ে বললেন লিয়ার, আচ্ছা, তুমিও বস এদের সাথে। আমি দেখব বিচার করে। আগে গনেরিলের বিচার হবে। সে তার বৃদ্ধ পিতাকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে।
অদৃশ্য মহিলার উদ্দেশে বলল বিদূষক, তুমিই গনেরিল? আমি ভেবেছিলাম তুমি এক নোংরা আবর্জনা।  চিৎকার করে বলে উঠলেন লিয়ার, এই নারীর মন যে কত ক্র তা ওর চোখ দেখলেই বোঝা যায় তোমরা তাড়াতাড়ি অস্ত্র নিয়ে এস। তোমরা এরূপ অবিশ্বস্ত যে তাকে পালিয়ে যেতে দিলে?
রাজা আজ ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন, বাধা মানছে না কেন্টের চোখের জলও। আচ্ছা, ট্রে, সুইটহার্ট আর ব্রাট, এই তিনটে কুকুর কি আমার দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করছে? জানতে চাইলেন লিয়ার।
টম বলল, ভাববেন না, তাড়া করলেই তারা পালিয়ে যাবে।
আবার বললেন লিয়ার, তোমরা রিগানকে কেটে দেখ কী দিয়ে তার হৃদয়টা সৃষ্টি করেছেন প্রকৃতি। যাও, তোমরা আর চিৎকার করো না, আমি এবার বিশ্রাম নেব। 
গ্লচেস্টার তাড়াতাড়ি এসে পৌছল সেখানে। সে কেন্টকে বলল, বন্ধু, বাইরে যে ঘোড়ার গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে, তাতে মহারাজকে চাপিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব তোমরা তাকে নিয়ে যাও ডোভারে আমার নিরাপদ আশ্রয়ে আর আধঘণ্টা দেরি হলেই বিপন্ন হবে তার জীবন। আমাকে অনুসরণ করে তোমরা তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাও নিরাপদ স্থানে।
হয়তো ওর আত্মা এই ঘুমের মাঝে বিশ্রাম পাচ্ছে, বলল কেন্ট; যাই হোক, তুমি এস বিদূষক। আমরা সাহায্য করব রাজাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে।
সবাই চলে যাবার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল এডগার! মনে মনে সে ভাবল, হয়তো পৃথিবীর নিয়মই এই। মহান ব্যক্তির দুঃখ ভুলিয়ে দেয় তুচ্ছ ব্যক্তিগত দুঃখকে। দীর্ঘদিন সুখে থাকার পর হঠাৎ দুঃখ পেলে তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে আর দুঃখী লোকের পক্ষে দীর্ঘদিন দুঃখভরা জীবন কাটানোর কষ্টও প্রচুর। আমি আর আমাদের মহান রাজা, উভয়েই কষ্ট পাচ্ছি পিতা আর সন্তানের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির দরুন না টম (এডগার), এসব নিয়ে তোমার আর ভাবার দরকার নেই। যখন দেখবে সবকিছু বাধা দূর হয়ে বাপ-ছেলের মিলন ঘটবে, ঠিক তখনই সবার সামনে আত্মপ্রকাশ করবে তুমি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, মহারাজ যেন নিরাপদে ডোভারে যেতে পারেন।
----------------------------------------------
ফ্রান্সের সৈন্যরা যে এসে পড়েছে সে খবর দিদি তাড়াতাড়ি পাঠিয়েছিলেন আলবেনির কাছে। চাকরেরা চলে যাবার পর কর্নওয়াল বলল এডমন্ডকে, সেই বিশ্বাসঘাতক গ্লচেস্টারকে খুঁজে বের করে তার উপর প্রচণ্ড প্রতিশোধ নেব আমি। তার আগে এডমন্ড, তুমি গনেরিলের কাছে গিয়ে দ্রুত সব ব্যবস্থা কর।
এ সময় ছুটতে ছুটতে এসে বলল অসওয়াল্ড, প্রভু, আগে থেকেই ষড়যন্ত্র করে রাজা ও তার সামন্ত এবং অনুচরবর্গকে ডোভারে পাঠিয়ে দিয়েছেন লর্ড গ্লচেস্টার।  
একথা শুনে তৎপর হয়ে উঠল কর্নওয়াল। সে বলল, আপনি তাড়াতাড়ি ঘোড়ায় চেপে চলে যান। আর আমার অনুচরবর্গ, তোমরা সবাই খুঁজে বের করব তাকে। কে? কে দাঁড়িয়ে ওখানে?
অনুচরসহ গ্লচেস্টারকে বন্দি অবস্থায় দেখে বেজায় খুশি হলেন কর্নওয়াল আর রিগান। এরপর সবাই পৈশাচিক আনন্দে চিৎকার করে বলে উঠল, অকৃতজ্ঞ শয়তান, তোরা বেঁধে ফেল ওর হাত দুটো।  
তাদের আচরণে অবাক হয়ে বললেন গ্লচেস্টার, সে কি? আমিই আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি আর আশ্রয়দাতাকে আপনারা এভাবে অপমান করছেন? মনে রাখবেন, আমি বিশ্বাসঘাতক নই। রিগান, তুমি এরূপ অন্যায়ভাবে আমার দাড়ি ছিড়ো না।
বুড়ো শয়তান, তুমি একটা পাজি বদমাশ বলল রিগান।
গ্লচেস্টার জ্বলে উঠল এ কথা শুনে। সে বলল, নিষ্ঠুর নারী, আমি তোমায় অভিশাপ দিচ্ছি অতিথির প্রতি এরূপ অন্যায় আচরণের জন্য। ভবিষ্যতে আমার এ দাড়ির প্রতিটি লোম চরম শাস্তি দেবে তোমায় বল, কেন তোমরা এরূপভাবে অপমান করছ তোমাদের আশ্রয়দাতাকে
কর্নওয়াল বলল, আমিও সে কথা বলতে চাই তোমায় বল, কোথায় রেখেছ ফ্রান্সের রাজার চিঠিটা? কী ধরনের ষড়যন্ত্র তুমি করেছ বিদেশিদের সাথে নিয়ে?
রিগান বলল, আর এরই সাথে এটাও বল যে উন্মাদ রাজা এখন কোথায়?
গ্লচেস্টার বলল, আমার কাছে যে চিঠিটা আছে তা বিরোধী পক্ষের নয়, ওটা এসেছে একজন নিরপেক্ষ লোকের কাছ থেকে। আমি শুধু রাজাকে সাহায্য করেছি ডোভারে পালিয়ে যেতে।
কর্নওয়াল বলল, কেন তুমি এ কাজ করেছ? আমরা যে তোমায় বারণ করেছিলাম সে কথা কি তুমি ভুলে গেছ?
গ্লচেস্টার উত্তর দিল, না, ভুলিনি। তবে আজ আমি মরতে বসেছি। তাই কোনো ভয়ই তামায় বাধ্য করতে পারবে না অন্যায় কাজ করতে।
রিগান জানতে চাইল, কেন তুমি রাজাকে ডোভারে পাঠিয়েছ?
গ্লচেস্টার বলল, তোমাদের হিংস্র নখ আর দাঁতের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতেই আমি পাঠিয়ে দিয়েছি তাকে। যে দুর্যোগপূর্ণ রাতে তোমরা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়েছ, সে রাতে তোমাদের ধ্বংস করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি অথচ তার স্নেহময় অন্তর কামনা করছিল বৃষ্টিপাতের। আমি চাই যত শীঘ্র হোক ঈশ্বরের অভিশাপ নেমে আসুক তোমাদের উপর, ধ্বংস হয়ে যাও তোমরা।
 রিগান বলল কর্নওয়ালকে, নষ্ট করে দাও ওর চোখ দুটো।
গ্লচেস্টার বলে উঠল, কী নিষ্ঠুর তোমরা! অন্তত মানবিকতার খাতিরে এই বুড়োটাকে তোমরা রক্ষা কর।
গ্লচেস্টারের এই কাতর আবেদনে স্থির থাকতে না পেরে একজন ভৃত্য এসে বাধা দিল কর্নওয়ালকে। ভৃত্যের এই দুঃসাহস দেখে রিগান তাকে মেরে ফেলল তলোয়ার দিয়ে মৃত্যুর আগে সে ভৃত্য বলে গেল, হে আমার প্রভু (গ্লচেস্টার), আমি মারা গেলাম। আপনি দেখবেন ঘৃণিত এই নারীর জীবনের পরিণাম কত ভয়ানক।
যাতে আর তা দেখতে না হয়, সে ব্যবস্থাই আমি করছি, বলেই তলোয়ার দিয়ে গ্লচেস্টারের দু চোখ অন্ধ করে দিল কর্নওয়াল। তারপর দূর করে তাড়িয়ে দিল তাকে।
চোখের যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল গ্লচেস্টার, বলল, পুত্র এডমন্ড, অন্যায়কারীদের তুমি উপযুক্ত শাস্তি দিও যখন তুমি শুনবে তোমার বাবার উপর এরূপ অত্যাচার হয়েছে।
 গ্লচেস্টারের কথা শুনে হা হা করে হেসে উঠল দুজনে। তারপর ব্যঙ্গের সুরে বলল রিগান, তোমার বিশ্বাসঘাতকতার কথা এডমন্ড ফঁস করে দিয়েছে আমাদের কাছে। তোমার মত অবিবেচক বিশ্বাসঘাতক সে নয় যে তোমায় দয়া করবে।
ও কি নির্বোধ আমি, বলল গ্লচেস্টার, এডমন্ডের কথায় বিশ্বাস করে আমি চরম অন্যায় করেছি এডগারের প্রতি। ঈশ্বর, তার যেন মঙ্গল হয়  
চাকরকে ডেকে রিগান বলল, বের করে দাও এ লোকটাকে। তারপর বলল কর্নওয়ালকে, আঘাতটায় কি খুব যন্ত্রণা হচ্ছে?' 
হা প্রিয়তমা, বলল কর্নওয়াল, অসতর্ক মুহূর্তে আমায় আঘাত করেছে ভৃত্যটা। চল, ভেতরে যাই।  
ওরা চলে যাবার পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ভৃত্য স্থির করল তারা রাজার কাছে এখানেই থেকে যাবে। তাদের মধ্যে একজন চলে গেল গ্লচেস্টারের আহত চোখে লাগাবার জন্য প্রলেপের খোঁজে।
অন্যজন বলল, চল, বুড়ো আর্লকে অনুসরণ করে আমরাও যাই এডগারের খোঁজে। ঈশ্বর যেন তাকে ভালো রাখেন।
----------------------------------------------
কোনও কাজে ব্যর্থ হলেও মানুষ সর্বদা একটা-না-একটা আশার দ্বারা পরিচালিত হয় কিন্তু সবচেয়ে শোচনীয় ব্যাপার সৌভাগ্য থেকে দুর্ভাগ্যের কবলে পড়াটা। এখন যিনি দুর্ভাগ্যের কবলে পড়েছেন অথচ ভবিষ্যৎ সুখের আশায় সে দুঃখকে অম্লান বদনে মেনে নিয়েছেন, সেরূপ লোকদের মধ্যে আমিও একজন মনে মনে নিজেকে এরূপ ভেবে নিল এডগার। একজন বুড়ো লোকের সাহায্যে বাবাকে আসতে দেখে এডগার বলল, কী আশ্চর্য! আমার বাবা আসছেন এক বুড়ো লোককে অবলম্বন করে!
বুড়ো লোকটি গ্লচেস্টারকে উদ্দেশ করে বলল, হুজুর, আশি বছর বয়স পর্যন্ত আমি আপনার অধীনস্থ একজন প্রজা।
গ্লচেস্টার বলল, ঈশ্বর তোমার কল্যাণ করুন। তুমি চলে যাও, নইলে বিপদ হতে পারে তোমার। আমার সামনে এখন শুধুই অন্ধকার। পথ চলার জন্য কোনও সাথীর প্রয়োজন নেই আমার। হে প্রিয় এডগার, ভুলবশত যে অন্যায় আমি তোমার উপর করেছি, তার জন্য আজ ক্ষত-বিক্ষত আমার হৃদয় এই অন্ধত্ব দশা থেকে আমার মুক্তি হবে যদি কখনও তোমার স্পর্শ পাই।
 পিতার এই শোচনীয় অবস্থা থেকে এডগার মনে মনে ভাবতে লাগল এর চেয়ে খারাপ আর কিছুই হতে পারে না।
এডগারকে দেখে বৃদ্ধ বলল, ওহে যুবক, কোথায় যাচ্ছ তুমি?
গ্লচেস্টার বলল, কে উনি? উনি কি একজন ভিক্ষুক? মনে হয় না ও পুরোপুরি পাগল। গত রাতে ঝড়ে বিপর্যস্ত একটা লোককে দেখে আমার মনে পড়ে গিয়েছিল ছেলের কথা। কিন্তু সে সময় নির্বুদ্ধিতাবশত আমায় আচ্ছন্ন করে রেখেছিল বিজাতীয় ক্রোধ। তাই মনে হয়েছিল মানুষ সামান্য কীটমাত্র। আজ বেশ বুঝতে পারছি মানুষ কত অসহায় । আমায় বল, লোকটির কি নগ্নদেহ?
হ্যা প্রভু, বলল বৃদ্ধ।
গ্লচেস্টার বলল, তাহলে এখনি গিয়ে তার জন্য কিছু পোশাক নিয়ে এস। এখন সেই হবে অন্ধের যষ্টি স্বরূপ।
কিন্তু প্রভু, উনি তো সম্পূর্ণ পাগল, বলল বৃদ্ধ
তা হোক বলল গ্লচেস্টার, আমি যা বললাম তাই করো শীঘ্র চলে যাও।  
বৃদ্ধ লোকটি চলে গেল। বাবার দুঃখে এডগার এত কাতর হয়ে পড়েছে যে তার কথা বলার শক্তি নেই। কিন্তু অন্ধ গ্লচেস্টার চিনতে পারেনি তাকে। তিনি বললেন, যুবক, তুমি বলতে পার ডোভারের পথ কোন দিকে?
ওদিকে হতভাগ্য টমের বুকে তখন অনবরত নাচছে পাঁচ শয়তান-ওবিডিকাঠ,হবিডিডাম্প, মৃদু, মোলদা আর বিকারটিগিরেট। সুতরাং অর্থহীন তার কথা। তবুও সে বলল, ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন। আমি জানি ডোভারের পথ।
উৎসুক হয়ে তাকিয়ে গ্লচেস্টার বলল, হে প্রিয় বন্ধু, এই নাও টাকা। দুঃখময় জীবনে অন্তত কিছুটা শান্তি ভোগ কর। জীবনে যাদের কাছে সুখটাই বড়, তোমার দুঃখ তাদের কাছে সৃষ্টি করবে ঘৃণা তুমি সুস্থ হও।
------------------------------------------------
আলবেনিকে জিজ্ঞেস করলেন গনেরিল, তোমার প্রভু কোথায়
উত্তর দিল আলবেনি, তিনি খুবই পালটে গেছেন ম্যাডাম। তিনি বিশ্বাসই করলেন না ফরাসি সৈন্যের আগমন-বার্তা আর গ্লচেস্টারের বিশ্বাসঘাতকতার কথা। উল্টে ভাবলেন যে আমিই মিথ্যেবাদী।
এ কথা শুনে গর্জে উঠে গনেরিল বলল, একমাত্র তোমার মতো নির্বোধ, দুর্বল, কাপুরুষরাই পারে দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে থাকতে।


Next Part

No comments:

Post a Comment

Blog Archive