Total Pageviews

Sunday, April 12, 2020

King Lear - William Shakespeare - Translation in Bengali - 2

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation
Previous Part

King Lear – William Shakespeare – Bangla Translation (Part 2 of 7)

কিং লিয়ার - উইলিয়াম শেক্সপিয়ার - বাংলা অনুবাদ - ১ 

১ম পর্বের পর থেকে শুরুঃ 
  
এরপর তিনি অসওয়াল্ডকে বললেন গনেরিলকে ডেকে আনতে। এমন সময় জনৈক নাইট এসে জানাল যে রাজার মেয়ে অসুস্থ।
লিয়ার জানতে চাইলেন, গনেরিল কি আসবে না!
নাইট বলল, আমার অপরাধ নেবেন না প্রভু। আমার মনে হয় আপনার মেয়ে-জামাই আর তাদের লোকেরা আগের মতো শ্রদ্ধা করে না আপনাকে। আপনি এখন তাদের কাছে বোঝা ছাড়া আর কিছু নন।
ঠিকই বলেছ তুমি, বললেন লিয়ার, আমিও লক্ষ করেছি যে ওরা কর্তব্যে অবহেলা করছে। তবে মনে করেছিলাম যে ওটা আমার মনের ভুল, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখব। যাই হোক, আমার বিদূষক কোথায়?
নাইট বললেন, কর্ডেলিয়ার দুঃখে তিনি খুবই দুঃখিত মহারাজ। এ দুদিন তাই তিনি আসেননি।  
তাকে নিরস্ত করে লিয়ার বললেন, থাক থাক আর বলতে হবে না। আমি স্থির করেছি মেয়ের সাথে কথা বলব। যাও, তাকে ডেকে আন তুমি।
এসময় ঢুকে পড়ল অসওয়াল্ড। তাকে দেখে লিয়ার বললেন, তুমি জান আমি কে?
অসওয়াল্ড উত্তর দিলেন, জানি। আপনি আমার প্রভুপত্নীর পিতা।  
রেগে বললেন লিয়ার, কী বললে? এছাড়া আমার আলাদা কোনও পরিচয় নেই? তোমার এত দুঃসাহস আমার মুখের উপর কথা বলছ? এজন্য আমি তোমায় শাস্তি দেব। বলেই রাজা শুরু করলেন তাকে মারতে। 
তখন কেন্ট বললেন অসওয়াল্ডকে, এই মুহূর্তে এখান থেকে দূর হয়ে যাও নির্বোধ। তোমার কি কাণ্ড-জ্ঞান লোপ পেয়েছে? কার সাথে কীরূপ ব্যবহার করতে হয় তা কি তুমি জান না? বলেই কেন্ট গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিল অসওয়াল্ডকে। কেন্টের এই আচরণে রাজা খুব খুশি হয়ে উপহার দিলেন তাকে।
এমন সময় বিদূষক এসে প্রবেশ করল। তাকে দেখে রাজা ব্যগ্র হয়ে বললেন, তুমি কেমন আছ বিদূষক?'
কেন্টের দিকে তাকিয়ে বলল বিদূষক, স্যার, আমার টুপিটা আপনি নিন। কারণ যার অধীনে আপনি কাজ করেন তিনি স্বয়ং তার দুই মেয়েকে নির্বাসন দিয়েছেন আর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তৃতীয় মেয়েটিকে আশীর্বাদ করেছেন। আল্লাহ যদি আমায় দুটো মেয়ে আর দুটো টুপি দেন----
তার কথা শেষ না হতেই রাজা জানতে চাইলেন, তাহলে?
তাহলে বিষয়-সম্পত্তি তাদের দিয়ে দেবার পর অন্তত একটা টুপি আমার জন্য রেখে দিতাম বলল বিদূষক, আপনাকে এখন অন্য মেয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।  
রেগে গিয়ে লিয়ার বললেন তাকে, এর জন্য কিন্তু তোমায় শাস্তি পেতে হবে।
বিদূষক বললেন, মহারাজ, ভয় পেয়ে যে নির্বোধ সত্যকে এড়িয়ে যায়, সে শুধু মিথ্যাকেই আরও বেশি প্রশ্রয় দেয় এবার আপনি শুনুন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সঞ্চয়ের পরিমাণ বাইরের কাউকে জানায় না। সে কম কথা বলে, ব্যয়ের চেয়ে তার আয় বেশি। হাঁটাপথে না গিয়ে সে ঘোড়ায় চড়ে, কোনও কিছুতেই সে দমে না আর বাজি রাখে বিশেষ বিবেচনার সাথে।
রাজা বললেন, এখানে এ সব কথার কোনও মানে হয় না, খুবই শক্ত তোমার কথাগুলি।
এবার বিদূষক বলল, যে লোকটি আপনাকে বিষয়-সম্পত্তি দান করার পরামর্শ দিয়েছিল তাকে আপনি ডাকুন নয়তো নিজে দাঁড়ান তার জায়গায়, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন তেতো ভাঁড় আর মিষ্টি ভাঁড়ের পার্থক্য।
ভাঁড়ের (বিদূষক) কথা শুনে বললেন কেন্ট, তুমি মোটেও বোকা নও।
ভাঁড় বলল, মোটেও নই, কারণ বোকা হলে চলবে না আমার। এই পৃথিবীর কেউ পুরোপুরি বোকা নয়, রাজার উদ্দেশে বলেই চললেন বিদূষক, আপনি কিন্তু বোকামি করে আপনার সম্পদ ও ক্ষমতা দুভাগে ভাগ করে দিয়েছেন।
এরপর বিদূষক তার কথার সারমর্ম বোঝাতে লাগল একটি গান গেয়ে।।
লিয়ার বললেন, কবে থেকে তুমি গান গাইছ?
ভাঁড় বলল, যবে থেকে সবকিছু কন্যাদের দান করে নিঃস্ব হয়েছেন আপনি।
রেগে গিয়ে বললেন লিয়ার, তুমি একটা মিথ্যেবাদী। আমি চাবুক মারব তোমাকে।
ভাড় বলল, সত্যি কথা বলার জন্য চাবুক মারে আপনার মেয়েরা। আপনি মারেন মিথ্যে কথা বলার জন্য। কী আশ্চর্য মিল আপনাদের মধ্যে। ওই যে আসছে আপনার বুদ্ধির দুর্ভাগ্যের একজন।
গনেরিলকে আসতে দেখে উৎকণ্ঠিত হয়ে বললেন রাজা, কী ব্যাপার গনেরিল! আজকাল প্রায়ই দেখতে পাচ্ছি তোমার গম্ভীর মুখ। এর কারণটা বলবে কি?
বিদূষক বলল রাজাকে, মহারাজ, উনি হলেন মটরডালের ভুসি। কিছুই আর অবশিষ্ট নেই ওর মধ্যে।
রেগে গিয়ে বলল গনেরিল, শুধুমাত্র ও নয়, আপনার প্রশ্রয় পেয়ে আপনার অনুচরেরা পর্যন্ত আমার সাথে ঝগড়া করার সাহস পায়, অভদ্র হয়ে ওঠে তাদের আচরণ। একটু আগে আপনি যে ব্যবহার আমার সাথে করলেন, আমি ভয় পাচ্ছি এই ভেবে যে আপনার সমর্থনেই ওরা এতটা বেড়ে ওঠার সাহস পেয়েছে। যদিও একথা বলতে আমার লজ্জা হচ্ছে, তবুও অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য বাধ্য হয়েই বলছি এর জন্য আপনার শাস্তি পাওয়া উচিত। তাতে হয়তো অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
বিদূষক বলল, কোকিল যেমন তার পালক পিতা কাককে মেরে ফেলে, ঠিক সেইরকম।  
গনেরিলের কথা শুনে রাজা খুব দুঃখ পেলেন মনে। তিনি বললেন, আমি কে তা কি তুমি ভুলে গেছ?
উদ্ধত স্বরে জবাব দিল গনেরিল, বাবা, আপনার জ্ঞান-বুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে।
লিয়ার বললেন, তাহলে কি পাগল হয়ে গেছি আমি? আমি কি আর সেই পূর্বের রাজা লিয়ার নই? কেন এমন পালটে গেছে আমার হাঁটার ধরন? কোথায় আমার সেই দৃষ্টিশক্তি? হায়!
আমার বিচার শক্তিও আজ স্নেহবশত দুর্বল হয়ে গেছে? আমি তাহলে কে?'
বিদূষক উত্তর দিল, আপনি লিয়ারের ছায়া
রাজা বললেন, তবে যে লোকে বলছে আমি সেই তিন মেয়ের বাবা রাজা লিয়ার আর তুমি গনেরিল?
গনেরিল বলল, বয়সের কারণেই আপনার এই ভ্রান্তিজনিত মানসিক দুর্বলতা। আপনি বৃদ্ধ ও সম্মানিত। সে কারণে আপনার বোঝা উচিত যে আপনার অনুগত একশো নাইটের আচরণ খুবই অশোভন। সব সময় তারা মদ খেয়ে বাজে কাজে লিপ্ত থাকে। গোটা রাজসভাটা এজন্য পরিণত হয়েছে এক বিলাস কেন্দ্রে। সে কারণে এখনই আমাদের উচিত ওই বিশৃঙ্খলাকারীদের অপমান করা। আমার কথা শুনুন বাবা। বয়স অনুযায়ী আপনার উপযুক্ত সঙ্গী আর অনুচরদের রেখে তাড়িয়ে দিন বাকিদের। আপনি না করলে বাধ্য হয়েই এ কাজ করতে হবে আমায়
 খুবই অপমানিত বোধ করলেন রাজা লিয়ার। তিনি বেজায় রেগে গেলেন এত বড়ো একটা অপমানের আঘাতে। চিৎকার করে তিনি বললেন, অকৃতজ্ঞ মেয়ে, আমি এ প্রাসাদ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। ভুলে যেও না, আমার আরও সন্তান আছে।
গনেরিল বলল, আমার লোকজনের উপর নিন্দনীয় আচরণ করছে আপনার অনুচরেরা।
এমন সময় প্রবেশ করল আলবেনি। কিন্তু তাকে দেখেও থামলেন না রাজা। সজোরে প্রতিবাদ করে তিনি বললেন, গনেরিল, তুমি শুধু লোভী নও, মিথ্যেবাদীও বটে আমার অনুচরেরা সবাই জ্ঞানী ও গুণী। কোনও রূপ অশোভনীয় আচরণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এরপর অনুতপ্ত রাজা নিজের মাথায় হাত চাপড়িয়ে বলতে লাগলেন, হায়! হায় কর্ডেলিয়ার চরিত্রের যে সমস্ত দোষ আমার চেতনাকে নষ্ট করে দেয়, তার প্রতি ঘৃণা আর তিরস্কারের মধ্য দিয়ে মূখামি প্রবেশ করে বিষাক্ত করে তোলে আমায়, সেই বোধকে আজ ধিক্কার জানাচ্ছে রাজা লিয়ার।
আলবেনি বলল, আপনি অযথা উত্তেজিত হবেন না মহারাজ। অনুগ্রহ করে শান্ত হোন। আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ।
লিয়ার বললেন, হয়তো তাই। তবুও তোমায় অভিশাপ দিচ্ছি গনেরিল তোমার এই কদর্য নোংরা দেহ বঞ্চিত হবে সন্তান ধারণের গৌরব আর আনন্দ থেকে। আর সন্তান জন্মালেও তা হবে অদ্ভুত ধরনের। তার জন্য দুশ্চিন্তায় বিশ্রী হয়ে যাবে তোমার এই সুন্দর মুখ, শুকোবে না চোখের জলও। তোমার পক্ষে তীক্ষ্ণ আর যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠবে বিষাক্ত সাপের দাঁতের মতো সেই সন্তান। আমি চলে যাচ্ছি কারণ আমায় যেতেই হবে।
রাজা লিয়ার চলে যাবার পর আলবেনি বলল, এর অর্থ কী গনেরিল?
গনেরিল বলল, জেনে রেখ, এটা ওর বুড়ো বয়সের হঠকারিতা।
লিয়ার আবার ফিরে এসে গনেরিলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন, তোমার এত দুঃসাহস যে আমার অনুমতি ছাড়াই পঞ্চাশ জন অনুচরকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রাসাদ ছেড়ে যাবার আদেশ দিয়েছ তুমি? ছিঃ গনেরিল, বৃদ্ধ বাবাকে অপমান করে তার চোখ থেকে অশ্রু ঝরানোর প্রবৃত্তি দেখে আমি যত না কষ্ট পেয়েছি, তার চেয়ে বেশি পেয়েছি লজ্জা। মনে রেখ, দয়া-মমতাময়ী আমার আর এক কন্যা আছে। এর শাস্তি সে তোমাকে দেবে! আমি অভিশাপ দিচ্ছি, অনুশোচনায় দগ্ধ হবে তোমার সমস্ত মন।
রাজা লিয়ারের পেছু পেছু চলে গেল কেন্ট ও অন্যান্য অনুচরেরা। গনেরিল বলল তার স্বামীকে, দেখলে ওর ব্যবহারটা?
আলবেনি বলল, তোমার প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমায় বলতে বাধ্য করছে যে। কাজটা তুমি ঠিক করনি। 
তুমি চুপ করবলে স্বামীকে থামিয়ে দিলেন গনেরিল। তারপর বিদূষককে বললেন, শয়তান, মূর্খ! তুমিও দূর হয়ে যাও বাবার সাথে। ওর বার্ধক্যজনিত এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহার আরও বেশি প্রশ্রয় পেয়েছে অস্ত্রশস্ত্র সুসজ্জিত একশো নাইটের শক্তিবলে, আর দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের  অত্যাচার সহ্য করা নিশ্চয়ই আমার পক্ষে সম্ভব নয়  
তোমার ভয় নিতান্তই অমূলক -- বলল আলবেনি।
তা হয় হোক, বলল গনেরিল, আসলে ভয় থেকে মুক্ত হতে গেলে আগে থেকেই জীবন সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন, নইলে ভবিষ্যতে সেখান থেকেই বীর বংশের বীজ উৎপন্ন হবার সম্ভাবনা থেকে যায় যদি আমার বোন একশো নাইট সহ বাবাকে আশ্রয় দেয়, তাহলে এই যে অসওয়াল্ড, লিখেছ সেই চিঠি? জানতে চাইল গনেরিল।
অসওয়াল্ড উত্তর দিল, হ্যা, লিখেছি।
গনেরিল নির্দেশ দিল অসওয়াল্ডকে, তাহলে ঘোড়ায় চেপে এখনই এই চিঠি নিয়ে চলে যাও বোনের কাছে। আরও কিছু কারণ দেখিয়ে জোরদার করে তোল আমার যুক্তিগুলিকে-যাতে সেও ভয় পায় যাও, এবার চলে যাও।
অসওয়াল্ড চলে যাবার পর আলবেনিকে উদ্দেশ করে বলল গনেরিল, তুমি যত না দুর্বল তার চেয়ে বেশি বোকা।
স্ত্রীর মুখে একথা শুনে আলবেনি বলল, তুমি জান তো অনেক সময় অধিক লোকের দ্বারা ঠকে গিয়ে মানুষ বঞ্চিত হয় তার প্রাপ্যবস্তু থেকে।
তাহলে কী বলতে চাও তুমি? জানতে চাইলে গনেরিল।
আলবেনি তার উত্তরে বলল, কিছুই বলতে চাই না আমি। ভবিষ্যই প্রমাণ করবে সব কিছু।
কেন্টের হাতে একটা চিঠি দিয়ে লিয়ার বললেন তাকে, এই চিঠিটা তাড়াতাড়ি পৌছে দাও গ্লচেস্টারের হাতে। চিঠিতে যা লেখা আছে আর আমার মেয়ে যা জানতে চায়, ঠিক সেটুকুরই উত্তর দেবে, বেশি কিছু মোটেও বলবে না। এটা নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যাও নইলে তার আগেই আমি গিয়ে পৌঁছাৰ সেখানে।
তাই হবে প্রভু বলল কেন্ট, আপনার আদেশ পালনের আগে আমি অন্য কিছুতে মন দেব না।  
এবার বিদূষক বলল, সত্যি কথা বলার জন্য আমায় ক্ষমা করবেন মহারাজ। আপনার কন্যার আচরণ কী হবে সে তো আপনি ভালোই জানেন।
অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে লিয়ার বললেন, বলতো, কী হবে?
বিদূষক উত্তর দিল, দিদির মতোই উপযুক্ত হবে তার আচরণ! সোজাপথে না গিয়ে মানুষ যেমন ঘুরপথে গোপনীয় খবর সংগ্রহ করে, তেমনি মানুষের এক চোখ যাতে অন্য চোখকে দেখতে না পায় সেজন্যই ঈশ্বর ব্যবধান তৈরি করেছেন নাসিকা সৃষ্টির মাধ্যমে।
কর্ডেলিয়ার প্রতি আমার আচরণ ঠিক নয় তা আমি জানি, বললেন লিয়ার।
বিদূষক বলল, যাতে শামুকরা আশ্রয়হীন না হয় তাই একটি খোলা তৈরি আছে তাদের মাথা গোঁজার জন্য।
লিয়ার বললেন, ও কথা আর আমাকে মনে করিয়ে দিও না। জোর করে আমি কেড়ে নেব সব।
বিদূষক বলল, মহারাজ, বয়স বাড়ার আগেই আপনার এ বুদ্ধি হওয়া উচিত ছিল।
লিয়ার বললেন, দোহাই তোমাদের, আমাকে তোমরা পাগল করে দিওনা। হে ঈশ্বর! আমার বিবেক-বুদ্ধিকে চঞ্চল করে তুলোনা তুমি। আমি পাগল হতে চাইনা। না, কখনই না।
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - -  -
সুপ্রভাত কিউরান', বলল এডমন্ড।
প্রতি উত্তরে বলল কিউরান, সুপ্রভাত এডমন্ড। আমি এইমাত্রই এলাম আপনার বাবার কাছ থেকে। আমি আগে থেকেই তাকে সতর্ক করে দিয়েছি ডিউক অফ কর্নওয়াল ও রিগানের আসার ব্যাপারে। ভালো কথা, আপনি কি শুনেছেন একটা খবর?
কী খবর কিউরান?' জানতে চাইল এডমন্ড।
কিউরান বলল, আলবেনি আর কনওয়ালের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। উভয়েই গোপনে যুদ্ধের আয়োজন করছেন।
না, সে কথা শুনিনি তো, বলল এডমন্ড।
কিউরান বলল, এবার তাহলে আমি চলি স্যার।
ঠিক আছে, তুমি এস, এডমন্ড বলল।
কিউরান চলে যাবার পর মনে মনে চিন্তা করতে লাগল এডমন্ড, ডিউক আসছেন, সে তো খুব ভালো কথা। ভাগ্যের উপর নির্ভর এবার আমার পরিকল্পনামাফিক কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলি।
গলাটা একটু উঁচু করে ভাইকে বলল এডমন্ড, নেমে এস, একটা কথা আছে তোমার সাথে। এই অন্ধকারের মাঝে তাড়াতাড়ি পালিয়ে যাও তুমি। বাবা জানতে পেরেছেন তুমি কোথায় লুকিয়ে আছ। ঐ বাবার পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছি আমি।
মনে মনে বলল, তলোয়ার বের করে আত্মহত্যার ভান করি।
এরপর জোরে জোরে বলল, ও রে কে আছিস! আলো আন। যাও, শীঘ্র পালিয়ে যাও।
এডমন্ড চলে যাবার পর নিজের চক্রান্তকে আরও যুক্তিপূর্ণ করে তুলতে নিজেই আঘাত করল নিজেকে। তারপর সেই রক্তাক্ত হাত নিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, কে আছ, বাঁচাও আমাকে। বাবা, কোথায় তুমি?
ব্যগ্রকণ্ঠে বলে উঠলেন গ্লচেস্টার, কী হয়েছে এডমন্ড? এত রক্ত কেন তোমার হাতে?
এডমন্ড বলল, এই অন্ধকারের মাঝে দাঁড়িয়ে আপনমনে কী সব যেন বলছিল এডগার। আপনার শব্দ শুনেই সে পালিয়ে গেল এই রাস্তা দিয়ে
কোথায় পালাবে সে শয়তানটা! যে ভাবেই হোক তা থেকে খুঁজে বের কর তোমরা বলে অনুচরদের নির্দেশ দিলেন গ্লচেস্টার। তারপর জানতে চাইলেন এডমন্ডের কাছে, তোমার কাছে কেন সে এসেছিল?
এডমন্ড উত্তর দিল, সে আমার কাছে এসেছিল আপনাকে হত্যা করার উপদেশ দিতে। কিন্তু আমি মন থেকে কিছুতেই সায় দিইনি পিতৃহত্যার মতো জঘন্য কাজে। তাই সে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে আমায় যখন আমি তার অসৎ উদ্দেশ্যের জোর প্রতিবাদ করছি আর প্রতি আক্রমণে উদ্যত হয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছি, ঠিক তখনই সে পালিয়ে গেল ভয় পেয়ে
স্নেহশীল পিতা কিন্তু বুঝতে পারল না এড়মন্ডের চালাকি, উপরন্তু তার প্রতি করুণায় বিগলিত হয়ে তিনি বললেন, রাজার আদেশ নিয়ে আমি সারা রাজ্যে ঘোষণা করে দেব যে তাকে ধরে আনতে পারবে, তাকে প্রচুর পুরস্কার দেওয়া হবে আর তার আশ্রয়কারীকে দেওয়া হবে প্রাণদণ্ড।
এডগারের প্রতি পিতার অবিশ্বাসকে আরও জোরদার করার জন্য বলল এডমন্ড, বাবা, সে আমার ভয় দেখিয়ে গেছে যদি আমি এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ করি, তাহলে সে বলবে আমিই নাকি সেই ষড়যন্ত্রের কারণ। সে নাকি আমার প্ররোচনাতেই পিতৃসম্পত্তি গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করেছে। তার মৃত্যুতে আমার পক্ষে সম্পত্তি লাভ সহজ হবে জেনেই আমি নাকি মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছি।
Next Part

No comments:

Post a Comment

Blog Archive