Total Pageviews

Saturday, July 20, 2019

The Faerie Queene - Edmund Spenser - Bangla Translation - Part - 1



The Faerie Queene - Edmund Spenser - Bangla Translation - Part - 1


The Faerie Queene - Edmund Spenser - Bangla Translation - Part - 1
The Faerie Queene: Book I Canto I 
মূল কবিতা
দেখো, আমি এক কবি, যে কিছুকাল আগেও
রাখালিয়া গ্রাম্য কাব্য করতো রচনা, রচনা করতো
মাস আর ঋতুর পরিবর্তন নিয়ে কাব্য,
আর সেই আমি বাধ্য হয়ে করছি সে কাজটি
যে কাজের উপযুক্ত নই আমি মোটেই, আমার কণ্ঠে
উচ্চকিত কাঠিন্য, রচনা করছি বীরত্ব গাঁথার মহাকাব্য
রচনা করছি যুদ্ধ গাঁথা পুরোনো দিনের নাইট আর বীরত্বের কাহিনি,
সেই সব নাইট আর অভিজাত রমণীকুলের মহতী ভালোবাসা
নিয়ে আমার কবিতা বহন করছে নৈতিক আদর্শের গাঁথা।
ওহে পবিত্র চিরকুমারী সঙ্গীতের রানী, টি কাব্যবলার প্রধান,
সাহায্য করো এ কাব্যে আমার যে ভার অর্পণ করেছেন মোর পরে
সহায়তা চাই কারণ এ কর্মের উপযুক্ত নই আমি,
প্রকাশ করুন আমার তরে পুরোনো সেই লুকোনো কাহিনি,
প্রকাশ করুন সেই সব তথ্য, রানী কর্তৃক নিয়োজিত নাইটদের,
প্রকাশ করুন রাজা আর্থারের বীর নাইটদের বিষয়াবলি,
যারা রূপসী রানীর খোঁজে চষেছিল পুরোটা জগৎ,
তাদেরই তরে আমার বেদনা, যারা পায়নি উপযুক্ত সম্মান।
আমার দুর্বল জিহ্বায় দাও শক্তি সে সঙ্গীত গাওয়ার ।
আর এখানে তোমাকেও চাই কিউপিড,
রূপসী ভেনাস আর জুপিটারের পুত্র,
আর তুমি প্রেমের শর নিক্ষেপ করেছিলে রাজা আর্থারের বুকে,
যে কারণে সে উম্মত্ত হয়েছিল ভালোবাসার উত্তাপে,
ডাকছি কিউপিড, ছোড়ো তোমার তীর, এক সাথে এসো
এসো মার্সকে সঙ্গে করে তোমার মাতা ভেনাস সহ আমাকে সাহায্য করতে,
যেন মার্স তার মারমুখী স্বভাব ভুলে আসে শান্ত রূপে,
সে এবার উপভোগ করবে মানবের মহতী প্রেম ভালোবাসা
তার মারমুখী যুদ্ধচেতনা আর ধ্বংসযজ্ঞ ভুলে।
আর সে রূপসী রানী, স্বর্গীয় দেবীর ন্যায় সৌন্দর্যে দীপ্যমান,
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দ্বীপ ইংল্যান্ডের রানী তিনি,
তার আলোক প্রভা উজ্জ্বল সূর্যের মতো পৃথিবীতে পরিব্যাপ্ত,
আসুন রানী, আলোকপ্রভা দিন আমার ক্ষীণ দৃষ্টিতে,
রানীর পবিত্র প্রভা জাগুক মোর দুর্বল অনুরাগী চিত্তলোকে,
আমার দৃষ্টিতে রানী প্রতিভাত হোক উনার মতো
রানী এলিজাবেথ, রানী এলিজাবেথ বড়োই মহতী রানী তিনি,
তিনি শ্রবণ করবেন আমার এই সঙ্গীত উনা (Una) রূপে,
দুর্বল লেখনি মোর সহায়তা চায় আপনার দয়ার

সর্গ -১
একজন অভিজাত নাইট অশ্বারোহণে পরিভ্রমণ করে পথে প্রান্তরে,
লাল ক্রুশ চিহ্ন অংকিত অস্ত্র তার হাতে,
আঘাত এড়াতে তার বক্ষে পরেছে রৌপ্যের বক্ষাবরণী।
যে বর্মের ক্ষত চিহ্ন স্মরণ করায় অতীত দিনের রক্তাক্ত যুদ্ধের কাহিনী,
কিন্তু রেড ক্রস যোদ্ধা তখনো করেনি কোনো যুদ্ধে যোগদান
অশ্বের গতি তার বড়োই হিংস্র, লোহার লাগাম কামড়ে গাজলা তুলেছে মুখে
কিন্তু নাইটের আচরণ বড়োই কোমল, সর্বদা উৎফুল্ল চিত্ত সে,
অশ্বে আরোহণ করে এগুচ্ছে সে সাহস আর আত্মবিশ্বাসে,
যে কোনো সংঘাত আর দ্বন্দু যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে সে।
বুকে শোভে তার রক্ত রাঙা ক্রুশ চিহ্ন
তার প্রিয় মালিকের স্মরণে, যে মারা গিয়েছে।
ক্রুশ চিহ্ন খচিত সেই মহতী ব্যাজ শোভে তার বুকে,
নাইটের বক্ষে শোভিত ক্রুশ চিহ্ন প্রকাশিছে।
নাইটের প্রয়োজন মহান ঈশরের সহায়তা করুণা।
নাইট বড়োই বিশ্বস্ত আর মহান ঈশরের অনুসারী,
বিশ্বাস আর কর্মেও নাইট একই পথের অনুগামী,
কোনো সন্দেহ নেই ঈশরের আনুগত্যে তার, মুখে শোভে শান্ত নীরবতা
কোনো কিছুতেই ভীত নয় সে, অন্য সবার সে ভীতির কারণ।
মহান রূপসী রানী গ্লোরিয়ানার কাছে,
অভিযান কর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নাইট,
পরী রাজ্যের মহতী রূপসী রানী এই গ্লোরিয়ানা,
নাইট তাঁর অভিযানে পেয়েছেন রানীর পৃষ্ঠপোষকতা,
নাইটের চোখে রানীর দৃষ্টি ভঙ্গিমা যেন সারা জগতের সেরা,
সদা তার অশ্বে দ্রুত ধাবমান এই মহান নাইট
যুদ্ধে শত্রুকে পরাস্ত করতে সদা বদ্ধপরিকর,
নাইট সদা চায় নতুন নতুন যুদ্ধকৌশল খুঁজে নিতে
যুদ্ধ করতে প্রস্তুত সদা ড্রাগন আর ভয়াল জীবদের সাথে।
এক রূপসী রমণী যাচ্ছে গাধার পিঠে বসে নাইটের পাশাপাশি,
গাধাটা সাদা বরফের চেয়েও আরো সাদা,
আর রমণী যেন শ্বেত গাধার রঙের চাইতেও মোহনীয়,
রূপসীর রূপ ঢাকা পড়েছে পুরো ঘোমটার আড়ালে,
লিলেনের আবরন হতে কিছুটা প্রকাশিছে সে মুখচ্ছবি,
মুখমণ্ডল তার আবরণে ঢাকা, পরনে কালো গাউন,
কী যেন হারানোর বেদনা দুচোখে তার ফেলেছে করুণ ছায়া,
গাধার পৃষ্ঠে আলুথালু বেশে কী যেন বিয়োগ ব্যথায় কাতর
সাথে তার দড়িতে বাধা দুগ্ধ ধবল এক মেষশাবক।
তারই পাশে হেঁটে যাওয়া সাদা মেষশাবকের মতোই রমণী খাটি, সহজ সরল,
পুরোটা জীবন সে করেছে শুদ্ধতা আর পবিত্রতার সাধনা,
সে এসেছে এক অভিজাত প্রাচীন বনেদী পরিবার হতে,
তার পূর্ব পুরুষেরা ছিল প্রাচীন আমলের এক খ্যাতিমান রাজবংশ,
তাদের প্রভাব ছড়িয়ে ছিল পূর্ব সমুদ্র তট হতে পশ্চিমের সমুদ্র অবধি,
পুরোটা জগই যেন ছিল তার পূর্ব পুরুষদের করতলে,
আকস্মিক নারকীয় ভয়াল শয়তানের কবলে পড়ে ধ্বংস হলো রাজ্যপাট,
শয়তানের উপর প্রতিশোধ নিতে রমণী ডেকেছিল এই নাইটকে,
যেন নাইট এসে ধ্বংসকামী শয়তানের উপরে প্রতিশোধ নেয়।
রমণীর পিছে পিছে হেঁটে যাচ্ছে বড়োই আলসে খর্বাকৃতি এক লোক,
নাইট আর রমণীর অনুসরণ করতে করতে সে বড়োই ক্লান্ত।
পিঠে তার চেপে বসে আছে রমণীর এক বিশাল ব্যাগ,
তাদের চলার পথেই হঠাৎ আকাশ ঢাকল ঘন মেঘে,
জোভ(Jove) রাগান্বিত হয়ে বৃষ্টিধারা ছড়িয়ে দিলেন পৃথিবীতে,
ঘন ধারায় নেমে এল বারিধারা, সবাই খুঁজল নিরাপদ স্থান,
আর সেই মোহনীয় জোড়া, যুগল রমণী আর নাইট।
মনে মনে দুজনে খুবই খুশি হলো,
একই জায়গায় এই দুর্যোগে নিজেদের একে অপরের কাছে পেয়ে
পেতে চাইল তারাও আশ্রয়, কাছাকাছি কোনো স্থানে,
সামনে পেয়ে গেল বৃক্ষছায়াচ্ছন্ন ঝোপ,
ঝড়ো হাওয়া হতে এই ঝোপ রক্ষা করবে এ যুগলকে।
এ ঝোপের দীর্ঘ দীর্ঘ বৃক্ষগুলো ঘন সবুজ পাতায় আচ্ছাদিত,
ঘন ঘন গাছগুলো অনেক জায়গা জুড়ে গায়ে গায়ে লেগে আছে,
এতটাই ঘন সন্নিবেশিত পত্রাবলি, যা ঢেকেছে আকাশের আলো,
অরণ্যের মাঝ বরাবর চলে গেছে প্রসারিত পায়ে চলা পথ।
নাইট আর রমণীর কাছে এ ঝোপ নিরাপদ মনে হতেই,
দুজনে এক সাথে ঢুকে গেল পত্রশোভিত ঝোপের ভেতরে।
ঢুকে গেল তারা ঝোপের ভেতরে, খুশি হলো এমন আশ্রয় পেয়ে,
আরো খুশি হলো তারা যখন শুনতে পেল পাখির কাকলি,
যে পাখিরা ঝড়ের তাড়না হতে রক্ষা পেতে ঢুকেছে ঝোপের ভেতরে,
পাখিরা নিয়েছে আশ্রয় হেথা কুপিত আকাশের তাড়া খেয়ে,
নাইট আর রমণী অবাক হলো এমন দীর্ঘাকৃতি বৃক্ষ দেখে,
জাহাজ তৈরি হয় যে কাঠে সেই সিডার আর পাইন বৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে দর্প ভরে,
আঙুর লতা জড়িত এলম আর প্রাণশক্তিতে ভরপুর পপলার,
আছে আরো এক বৃক্ষ, যা দ্বারা নির্মিত হয় বাড়ি ঘর,
সাইপ্রাস জন্মে কবরস্থানে যা স্মরণ করায় মৃত্যুকে ।
আছে হেথা লরেল বৃক্ষরাজি, যার পত্র দ্বারা সম্মানিত করা হয় বিজয়ী বীরকে,
বলা হয় এ পত্র দ্বারা সম্মানিত করা হয় কবি আর ভবিষ্যদ্বক্তাকেও,
এসবের পাশে আছে ফার বৃক্ষরাজি, প্রেমিকযুগলের আচ্ছাদন উইলোরাজি
আরো আছে, ইয়ো (Eugh) বৃক্ষ যে বক্ষ দ্বারা তৈরি হয় ধনুক,
আরো আছে বার্চ বৃক্ষ, যা দ্বারা তৈরি হয় তীর, করাতকলের কাজেও লাগে,
মিররা বৃক্ষ খেতে তিক্ত, মিষ্টিগন্ধি ফল এ থেকে সদা নির্গত হয় আঠা ।
বিচ বৃক্ষ যার দ্বারা তৈরি হয় রথ, আরো কত না কার্যকরী বৃক্ষরাজি।।
আছে অলিভার বৃক্ষ, আছে ওক বৃক্ষের সারি।
আছে ম্যাপল বৃক্ষরাজি, যাদের পত্র সদা বাতাসে দেয় করতালি।
১০
ঝড় থেমে গেলে যাত্রা শুরু হলো নাইট আর রমণীর,
যাত্রা পথে উৎফুল্ল তারা, কোনো মানসিক যাতনা নেই তাদের,
এবার বেরুনোর পথ খুঁজল তারা, যে পথে এসেছিল হেথা সেই পথ,
কিন্তু না, বহু খোজাখুঁজি করেও সে পথের তারা পেল না সন্ধান,
এলোমেলো কত পথে হাঁটল তারা তবুও পেল না আসল পথ,
এই ভাবে তারা খুঁজে পেয়েছে সঠিক পথ তারপরই ভাবে ও পথ ভুল,
তারা ভয় পেল এই ভেবে হয়তো বেশি শক্তি হারাচ্ছে তারা,
বার বার একই পথে বহুবার ঘুরে ঘুরে ভাবল তারা,
সত্যিকার পথটাকেই হয়তোবা তারা বার বার ভুল করে পেরিয়ে যাচ্ছে।
১১
শেষে সিদ্ধান্ত নিল তারা, যতক্ষণ না পেরুতে পারবে এ অরণ্য,
যতক্ষণ না বাইরে বেরুতে না পারবে ততক্ষণ চলতেই থাকবে,
তারা হঠাৎ হঠাৎ এমন পথ খুঁজে বের করে যে পথে হেঁটেছে অনেকবার,
প্রতিবারই ভাবে এই পথ হয়তো তাদের বাইরে নিয়ে যাবে,
যত্রতত্র ঘুরে ঘুরে তারা প্রচেষ্টা চালাল অনেক,
শেষে হঠাৎ করেই সে অরণ্যে খুঁজে পেল তারা এক পাহাড়ি গুহা
সাহসী নাইট উদ্যোগ নিল সেই আঁধার গুহায় ঢোকার,
নাইট ঘোড়া হতে নেমে ছুঁড়ে দিল অস্ত্র,
বিন্দুমাত্র সময় সে নষ্ট করতে চাইল না এ কাজে।

No comments:

Post a Comment

Popular Posts