Friday, June 14, 2019

I have a dream - Martin Luther King - Bangla Summary and Analysis

I have a dream - Martin Luther King - Bangla Summary and Analysis


I have a dream - Martin Luther King
Bangla Summary and Analysis
দাস হিসেবে আমেরিকায় আগত কৃষ্ণাঙ্গরা বহুকাল ধরে আমেরিকায় নিগৃহীত, অপমানিত হয়ে আসছিল। দাসপ্রথা বিলোপ নিয়ে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে প্রবল বিরোধ ছিল। গৃহযুদ্ধের কারণও ছিল কষ্ণাঙ্গরা। দাসপ্রথা আবাহাম লিঙ্কন বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও, কৃষ্ণাঙ্গদের সামাজিক, অর্থনৈতিক নিগ্রহ তখনো বন্ধ হয়নি। এমনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে কৃষ্ণাঙ্গ-অধিকারের দাবিতে মার্টিন লুথার কিং আবির্ভূত হন। অহিংস পথে আন্দোলন করে কৃষ্ণাঙ্গদের মানুষের অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার স্বপ্ন; শ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ নির্বিশেষে সকলেই ঈশ্বর সৃষ্ট মানুষের সমানাধিকার পাবে। তাঁর স্বপ্ন, একই দেশে একই ধর্মাবলম্বী হয়ে কৃষ্ণাঙ্গরা বঞ্চনা মুক্ত হোক, তারা শ্বেতাঙ্গদের সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হোক। কৃষ্ণাঙ্গ শিশুরা শ্বেতাঙ্গ শিশুদের সাথে একই বিদ্যালয়ে, একই বেঞ্চে বসে বিদ্যার্জনের সুযোগ পাক, হাত ধরাধরি করে ভাইবোনের মতো বড়ো হয়ে উঠুক। তার স্বপ্ন যেদিন সফল হবে সেদিনই তিনি শান্তি পাবেন।
আততায়ীর গুলিতে নিহত মার্টিন লুথার কিংয়ের স্বপ্ন সেদিন সফল হয়নি, আত্মা শান্তি পায়নি। কিন্তু আজো বেঁচে থাকলে মার্টিন লুথার কিং শান্তি পেতেন নিশ্চয়ই।
আলোচনা
পটভূমি : রেড ইন্ডিয়ান নিধন, কৃষ্ণাঙ্গদের শোষণ আর আমেরিকার ইতিহাস প্রায় সমার্থক। আনুষ্ঠানিকভাবে দাস প্রথা রহিত হলেও কৃষ্ণাঙ্গ-বিদ্বেষ মার্কিন সমাজ থেকে আজও তিরোহিত নয় সমূলে। ১৯৫০-১৯৬০ এর দশকে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন রোজা পার্কস, ফ্রেড শাটলস ওয়ার্থ প্রমুখ ব্যক্তিরা। মূল অসন্তোষ শুরু হয় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের সমান আসনে বাসে বসা নিয়ে। পরবর্তীকালে মার্টিন লুথার কিং সেই অসন্তোষে নেতৃত্ব দেন, কৃষ্ণাঙ্গদের সম অধিকারের দাবি তোলেন। মন্টোগোমারী বাস বয়কট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ক্ষুদ্র পরিসরের সে আন্দোলনটিই পরে সারা আমেরিকায় অসন্তোষের ঝড় তোলে। একই ভাষাভাষি, একই ধর্মাবলম্বী দুই বর্ণের মানুষের সমান অধিকারের দাবি উত্তাল হয়ে ওঠে। মার্টিন লুথার কিংয়ের অহিংস গান্ধীবাদী আন্দোলন সে দাবিতে মুখর হয়ে ওঠে। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটন ডি,সি শহরে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের সমবেত জনসভায় মার্টিন লুথার কিং আই হ্যাভ এ ড্রীমভাষণটি দেন। তাঁর আন্দোলনের পথ ছিল শান্তির, সৌহার্দের, ভ্রাতৃত্বের। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তাই বোধ হয় তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। কোনো বিভেদ সৃষ্টি নয়। মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তৃতায় ছিল যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিতে কৃষ্ণাঙ্গদের সমঅধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন। তার স্বপ্ন ছিল আমেরিকাকে এক জাতি, এক দেশ বিভেদহীন এক রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন। সে স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে ১৯৬৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন। তাঁর ভাষণের ভাষা প্রাঞ্জল, মার্জিত, অতিকথন জর্জরিত নয়। কৃষ্ণাঙ্গ তথা বিশ্ব মানবতার জন্য, মানবাধিকারের জন্য যুগান্তকারী এক ভাষণ। সুপাঠ্য গদ্য। ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিঙ্কন মানবতার, মুক্তির যে মহান বাণী দিয়েছিলেন সে বাণী থেকে তৎকালীন আমেরিকা কতটা বিচ্যুত, কতটা লঙ্ঘিত তাই তিনি তাঁর ভাষণে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন সহজ সুবোধ্য ভাষায়। তিনি আকুল আবেদন জানিয়েছেন, “Now it is the time to open the doors of opportunity to all of God's children.” লক্ষ্যণীয়, তিনি বলেছেন, কালোরাও ঈশ্বর সৃষ্ট, ঈশ্বরের সৃষ্টিতে যখন ব্যবধান নেই, মানুষের বিভেদ সৃষ্টিও তাই কাম্য নয়। যথেষ্ট দৃঢ়তায় এই আবেদনটিই সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ঐতিহাসিক এই ভাষণটি।

No comments:

Post a Comment

Trending