Wednesday, April 3, 2019

The Rape of the lock - Alexander Pope - Canto 2 Bangla Translation - দি রেপ অব দি লক - ২য় সর্গ বাংলা অনুবাদ

The Rape of the lock - Alexander Pope - Canto 2 Bangla Translation 



The Rape of the lock 
 Alexander Pope 
Canto 2 Bangla Translation 
দ্বিতীয় পর্ব - দ্যা রেপ অভ দ্যা লক
অপরূপ মহিমা নিয়ে মহাশূন্যে
রক্তিমাভা ছড়িয়ে উদিত হয় সূর্য
সে রশ্মির চেয়ে আরো মোহনীয় রূপসী বেলিন্দা
টেমস নদীর জলধারাকে করে তোলে রক্তিম।
সুসজ্জিত পরী দল ঘিরে আছে তার চারপাশে,
সবারই নয়ন স্থির বেলিন্দার পানে।

উজ্জ্বল ক্রুশ চিহ্ন শোভে তার শুভ্র বক্ষে
ইহুদিরাও একে দেবে চুমো আর অবিশ্বাসীরাও করবে আরাধনা।
চোখের দৃষ্টিতে ফুটে ওঠে তার হৃদয়ের কত কথা
নয়নযুগলের মতোই তার হৃদয়ও চঞ্চল;
একজনের তরে নয়, সবার তরে সে বিলায় অকপট হাসি
কাউকে ব্যথা না দিয়ে আবার সে তা করে প্রত্যাখান।
সূর্যকিরণের মতোই ছড়ায় তার রূপের আভা
সূর্যকিরণে যেমন ধাঁধাঁ লাগে সবার নয়নে।
কী অপরূপ মায়া ভরা এই গর্বহীন মাধুরিমা
ঢেকে দেয় তার কুমারী জীবনের সকল ক্রুটি
তার মুখ চেয়ে ভুলে যাবে তুমি তার যত অন্যায় ত্রুটি
মনোহরা রূপসী প্রলয় ঘটাতে সভ্যতায়
করেছে ধারণ পৃষ্ঠদেশে মোহনীয় চুলের দুটো বেণী
কুঞ্চিত কেশগুচ্ছের দুটো বেণী পরম যতনে
সজ্জিত করে তার হাতির দাঁতের মত শুভ্র গ্রীবা দেশ।
প্রেমের এই মোহন মায়ায় ধরা পড়ে প্রেমিকদল
আহা; বীরের হৃদয় আবদ্ধ হয় রূপের শৃংখলে
বেণীর শৃংখলে আটকা পড়ি মোরা বিহঙ্গদল
অতিসাধারণ সেই কেশগুচ্ছে জড়ায় চঞ্চল মৎস্যের পাখা
রাজবংশাবলি আটকা পড়ে তার মনোহর কেশগুচ্ছের ফাদে
একটি কেশগুচ্ছই মোদের সবলে করে আকর্ষণ

দুরস্ত ব্যারন মুগ্ধ হলো বেলিন্দার মনোহর কেশে
ইচ্ছে হলো এই কেশগুচ্ছ সে করবে হরণ
কেশগুচ্ছ পেতে খুঁজে বের করে নানা ফন্দিফিকির
হয় জবরদস্তি না হয় করবে হরণ প্রতারণা করে;
প্রেমিক যখন উঠে যায় সাফল্যের শিখর চূড়ায়
সাফল্য এল কোন রাস্তায় জিজ্ঞেস করে না কেউ।
এরই তরে প্রণতি জানায় সে মহান ঈশ্বরে
ঈশ্বরের শক্তির সে করে আরাধনা বিনয়ের সাথে
বারোটি ফরাসি প্রেমকাহিনীর আদলে সুচারুরূপে
ভালোবাসার তরে করে সে বেদী নির্মাণ
তিনটি পদক, অর্ধজোড়া হাতের দস্তানা
আর তার অতীত দিনের প্রেমের সকল উপহার দ্বারা।
হাতে নিয়ে প্রেমপত্রের পেটরা জ্বালায় দীপশিখা
প্রেমাবেগেরে তিনটি ফুয়ে জ্বালায় অগ্নিশিখা
এরপর মাথা নত করে জানায় সকরুণ প্রার্থনা
দ্রুত পেতে সেই যুগল বেণী চিরকালের তরে
এশী শক্তি শুনে তার প্রার্থনা মেনে নিল অর্ধেক বাসনা
আর বাকি অর্ধবাসনা উড়ে গেল শূন্যে হাওয়ায় হাওয়ায়
যাচ্ছে এগিয়ে বেলিন্দার তরী পরম নির্ভাবনায়
ভরা জোয়ারের নদীজলে কীপে সূর্যকিরণ
মনোহর সংগীতধ্বনি বাজে আকাশে বাতাসে,
সে সুর ক্রমে ধীরলয়ে মেশে নদীজলে।
মৃদুমন্দ হাওয়ায় নদীজলে ঢেউ জাগে ঢেউ ভাঙে
বেলিন্দার মুখের হাসিতে উচ্ছ্বসিত সমস্ত জগৎ
পরীদল ছাড়া সবাই যেন কেমন অস্থির
হৃদয় ভারাতুর ওদের আসন্ন বিপদের ঘন ঘটায়
ডাকল বেলিন্দা তার অলৌকিক সহচরীদল
ভিড় জমাল তারা এসে তার নৌকার চারপাশে,
পালের কোণে কোণে নিঃশ্বাস ফেলে অলৌকিক জীবদল
মৃদুমন্দ হাওয়ায় তারা দ্রুত নিজেরে লুকায়,
কেউবা তাদের ছোট ছোট পাখা মেলে রৌদ্রালোকে ঝাঁপ দেয়
ছড়ায় সে ডানা ব্রিজের ওপরে কিংবা সোনালি মেঘের কোনায় কোনায়
বায়বীয় সেই জীবদল ফীকি দেয় মানবের চোখে
অবয়ব ডুবে যায় আলোর বন্যায়
সূক্ষ্ম দেহাবরণ তাদের উড়ে যায় হালকা হাওয়ায়
শিশিরবিন্দু ঝলকিত সুক্ষ বস্ত্র তাদের
ঞ্জি আকাশের নানা বর্ণবিভায়
সেথা সূর্যালোকে তারা সপ্তবর্ণ মিশায়
ক্ষণে ক্ষণে সূর্যালোক পড়ে ছড়ায় কত না রঙের মায়া
তাদের ডানার সঞ্চারে বদলায় আলোছায়া,
বিচিত্রবর্ণে রঞ্জিত নৌকার মাস্তল ঘিরে ঘিরে।
আর মাস্তলের সর্বোচ্চ চূড়ায় আসীন অ্যারিয়েল
সূর্যালোকে ঝিলিক দেয় তার রঙিন পক্ষযুগল
উর্ধ্বে তুলে ধরে তার মাথায় দণ্ড, বলল সে,
ওহে অলৌকিক জীব আর পরীদল, কান পেতে শোনো তোমাদের গুরুর বাণী,
এখানে এসেছ যত অলৌকিক জীব, ভূত-প্রেত, পরীদল,
ব্যস্ত রয়েছ হেথায় তোমরা কত না কর্মযজ্ঞ
অলৌকিক জীবদের ওপর বর্তেছে এক অমোঘ নিয়ম
পুতপবিত্র রবে সদা কেউ কেউ বায়ুমণ্ডলে
দিবসের উজ্জ্বল আলোয় শুভ্র করো নিজেদের
কেউ রবে আকাশে গ্রহ নক্ষত্র মেনে দেবে পথনির্দেশ
কিংবা অসীম আকাশে সৌর আবর্তন করবে অবলোকন
কেউবা রবে চন্দ্রের ম্রিয়মাণ আলোর নিচে
আর কেউবা তাড়া করবে খসে পড়া ল্কাপিণ্ডকে
কিংবা শুষে নেবে নিচে ঝুলে থাকা কুয়াশার আস্তর
অথবা সপ্তরঙা রঙধনুতে ডোবাবে ডানা
অথবা ওঠাবে প্রবল ঝটিকা শীতের শান্ত সাগরে
কিংবা চষা জমিতে ঝরাবে বৃষ্টির ধারা
কেউবা খেলবে মানব জাতির নিয়তি নিয়ে
মানবের যাত্রাপথে আর কর্মে দেবে পথ নির্দেশনা
প্রতিটি জাতির প্রধান লোকেরা
অলৌকিক অস্ত্র হাতে পাহারা দেবে ব্রিটেনের সিংহাসন

ওরা বলে কর্ম মোদের রূপসীর রূপ রক্ষায় প্রহরা প্রদান
না পেলেও সম্মান তাতে আছে আনন্দ অফুরান।
নিয়েছি দায়িত্ব মোরা রূপসীর গালের পাউডার
যেন উড়ে নাহি যায় প্রবল হাওয়ায়
সুগন্ধির বোতল হতে সুগন্ধ বেরিয়ে না যায়;
বাসন্তী পুষ্পদল হতে তুলে আনা সুগন্ধির মায়া
রঙধনু হতে রূপের মাধুরী টেনে আনা
রাজকীয় স্নান শেষে রূপসীর চুলে কুঞ্চন দেয়া
মুখে তার লজ্জার আভা টানা আর হৃদয়ে জাগানো কামনার ভার
কিংবা প্রতিনিয়ত তাদের মনকে স্বপ্নে ভরানো
যা দিয়ে তারা সাজাতে পারে কামিজ আর পেটিকোটের পাড়।

আজ এই ক্ষণে নানা ভয়ে ভীত রূপসী রমণী
অলৌকিক জীবেরা তাকে দেয় সতর্ক প্রহরা
মহাভয় কিংবা বিপদ, ধর্ষণ কিংবা তুচ্ছতাচ্ছিল্য
কোথায় অপেক্ষায় আছে নিয়তি রাত্রির কালো আবরণে ঢেকে
রূপসীরা আজ ছাড়াবে তাদের
ভাঙবে কি আজ ভঙ্গুর চীনামাটির সব বাসনকোসন
সম্মানে কিংবা জরির কাপড়ে কি তার লাগবে দাগ
মুখোশ নৃত্যের মাঝে ভুলে যাবে প্রার্থনা
কিংবা বল নাচে হারাবে মন আর গলার হার
কিংবা অদৃষ্টের ফেরে মারা যাবে প্রিয় কুকুরটা তার।
ছুটে এসো অলৌকিক প্রহরীদল রক্ষা করো তোমাদের র্ত্রীকে,
জেফ্রিটা উড়ে উড়ে তাকে দিক পাহারা,
ব্রিলান্তে থাকুক মণিমুক্তার প্রহরায়;
আর সার্বিক দায়িত্বে থাকুক মোমেনতিলা
ক্রিসপিসা, তুমি থাকো রূপসীর বেণীযুগলের পাহারায়
অ্যারিয়েল রবে বেলিন্দার কুকুরের প্রহরায়।

কঠিন দায়িত্ব আছে নির্বাচিত পঞ্চাশ পরীর
বেলিন্দার অন্তর্বাস, মোরা জানি প্রায় সময়েই
সাত পরত পরিধান করেও আচ্ছাদনে ব্যর্থ তা
যদিও তা ছিল বড়োই সুরক্ষিত
আর তিমির হাড়ে তৈরি সে অন্তর্বাসের বন্ধনী,
সার সার আটকানো পেটিকোটের প্রান্ত ঘিরে ঘিরে
চারপাশে দাও সদা সতর্ক প্রহরা
যদি কোনো অশরীরী রক্ষী করে কর্মে অবহেলা
কিংবা ছেড়ে যায় রূপসীর রক্ষাবূহ্য
দ্রুত অবিরল ধারায় নামবে তারপরে প্রায়শ্চিত্তভার পাপকর্মের
বোতলে আবদ্ধ হবে সে কিংবা বিদ্ধ হবে আলপিনে
কিংবা নানা আরকের মিশ্রণে ডুবানো হবে তাকে
কিংবা রমণীর সেলাইয়ের সুচে থাকবে বিধে
গায়ে লাগা আঠা হতে পারবে না পালাতে
আর আঠায় জড়ানো ডানা উড়তে ব্যর্থ হবে।
লবণ গোলা জলে সে হবে কুঞ্চিত
মনে হবে সে যেন একটা শুকনো পুষ্পকলি;
কিংবা ইক্সিয়নের মতোই ঘুরস্ত চাকায় থাকবে বাধা
অবিরত চক্রের আবর্তনে কাতরাবে যন্ত্রণায়
চক্রের সাথে সাথে উত্তপ্ত লাভায় জ্বলবে সে
আর কম্পিত হবে পাতালের ফেনায়।
এটা শুনে অলৌকিক প্রহরীর দল
নিচে এল চলে নৌকার পাল হতে,
কেউবা বৃত্তাবদ্ধ হয়ে রূপসীরে ঘিরে থাকে
কেউ নিজেদের আটকাল বেলিন্দার চুলে,
কেউবা ঝুলে রইল তার কানের দুলে,
সদা কম্পিত তারা আসন্ন বিপদের অপেক্ষায়
সদা উৎকণ্ঠিত তারা নিয়তির অদৃশ্য লীলার শঙ্কায়।
১ম পর্ব - দ্যা রেপ অভ দ্যা লক
৩য় পর্ব - দ্যা রেপ অভ দ্যা লক

[৪৫) (হে নবী !) তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো এবং নামায কায়েম করো, ৭৭   নিশ্চিতভাবেই নামায অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে৷ ৭৮   আর আল্লাহর স্মরণ এর চাইতেও বড় জিনিস৷ ৭৯   আল্লাহ জানেন তোমরা যা কিছু করো৷(Surah Ankabut - 45) ]

No comments:

Post a Comment

Trending