Search This Blog

Total Pageviews

Thursday, December 27, 2018

The Canterbury tales - Prologue Bengali Translation - ক্যান্টারবারি টেলস - প্রোলগের বাংলা অনুবাদ শেষ পর্ব

The canterbury tales prologue bangla translation
The Canterbury tales  - Prologue Bengali Translation - ক্যান্টারবারি টেলস -  প্রোলগের বাংলা অনুবাদ শেষ পর্ব 
The Canterbury tales  - Prologue Bengali Translation - ক্যান্টারবারি টেলস -  প্রোলগের বাংলা অনুবাদ শেষ পর্ব 
ক্যান্টারবারি টেলস - প্রোলগ এর বাংলা অনুবাদ পর্ব ৩ -

Reve - The REEVE - একজন ম্যাজিস্ট্রেট

ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় একজন রাগী খিটখিটে মেজাজের লোক,
দাড়িগুলো তার যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন করে কামানো,
মাথার চুলগুলো যাজকদের মত কান পর্যন্ত গোল ছাট,
সামনের দিকের চুলগুলো খাটো ছাট দেওয়া।
পা দুটো তার লিকলিকে সরু এবং লম্বাটে,
পায়ের গোড়ালির গোল অংশ নেই বললেই চলে।
শস্যভাণ্ডার খাদ্যভাণ্ডারের তদারকিতে তিনি বেশ দক্ষ,
কোনো হিসেবরক্ষকই তাকে অতিক্রম করে যেতে পারবে না।
অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টিতে কেমন ফসল ফলবে।
সেটা তিনি পূর্ব থেকেই বলে দিতে পারেন।
তাঁর মনিবের মেষ, পশুপাল, দুগ্ধখামার, শূকর, ঘোড়া, আসবাব
আর হাঁ-মুরগি সকল কিছু তারই হেফাজতে।
তাঁর প্রভু তার কুড়ি বছর বয়স হতে তাঁর হিসেবই মেনে এসেছেন।
কোথাও তাঁর কোনো বাকি বকেয়া পড়ে থাকে না।
পাইক-পেয়াদা, মেষপালক কিংবা যেকোনো শ্রমিকের
যেকোনো চালাকি, চাতুরালি কিংবা চুরি সবই তার নখ দর্পণে
কারণে তারা সবাই তাকে রীতিমত ভয় করে চলে
সবুজ বৃক্ষরাজির ছায়া ঘেরা তার বাড়িটা,
তার মনিব না পারলেও তিনি ঠিকই বাড়িটা ক্রয় করেছেন,
গোপনে গোপনে তিনি যথেষ্ট টাকা কামিয়েছেন।
কী উপায়ে মনিবকে খুশি রাখতে হয়,
কী করে তার টাকা তাকেই ধার হিসেবে প্রদান করে।
বিনিময়ে ধন্যবাদসহকারে একটি কোট আর টুপি পাওয়া যায়,
এসব বিষয় তার বেশ ভালো করেই জানা আছে।
যৌবনে তিনি চমৎকার একটি হাতের কাজ আয়ত্ত করেছিলেন,
কাঠমিস্ত্রির কাজে তিনি খুবই দক্ষ।
স্কট নামের কালো আর ধূসর রঙের সুন্দর একটা ঘোড়ায় চড়ে চলেছেন তিনি।
পরিধানে নীল রঙা একটা লম্বা স্কুলের টপকোট।
পাশে খুলছে মরচে পড়া একটা তরবারি
আমি যে ম্যাজিস্ট্রেটের কথা বলছি, তিনি এসেছেন।
বেডসওয়েলের কাছাকাছি নরফোক অঞ্চল থেকে।
তার কোটখানা ভিক্ষুকদের কোটের মত ভাজ পড়া
সর্বদাই তার ঘোড়াটা যাত্রীদলের সবার পেছনে থাকে।


Somnour - The Summoner  - একজন কোর্টের নির্দেশ জারিকারী

আমাদের সাথে ছিল একজন কোর্টের নির্দেশ প্রচারকারী।
কুষ্ঠরোগ থাকার কারণে তার মুখমণ্ডল লালচে রঙের,
চোখ দুটো তার একেবারে গর্তে বসা।
চড়ুইপাখির মত যৌনকাতর ইতর লোকটার দুটোর
চামড়া ফুলে গেছে আর দাড়িগুলো খোচা খোচা।
তার মুখমণ্ডল দর্শন করে শিশুরা ভয়ে মূর্ছা যায়।
পারদ, সীসা, গন্ধক, সোহাগা, সাদা সীসা, লবণ তেল, মলম
কোনো কিছু ব্যবহার করার পরও তার মুখের শ্বেতী সারেনি।
লাল টকটকে কড়া মদ আর পেঁয়াজ রসুন খেতে সে খুবই ভালোবাসে।
মদপান করে সে পাগলের মত চিৎকার করতে থাকে।
পাঁড়মাতাল হয়ে সে শুধু ল্যাটিন ভাষায় বকবক করে।
গির্জার খাতাপত্তর থেকে দু'একটা ল্যাটিন বুলি সে আয়ত্ত করেছে।
এটাই স্বাভাবিক, কারণ সারাক্ষণ সে ল্যাটিন ভাষাই শোনে,
আর এটা সবারই জানা যে, একটা কাকও পোপের মত শব্দ করতে পারে।
কিন্তু কেউ এই লোকটার সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেই
ধরতে পারে যে, তার পেটে বিদ্যেবুদ্ধি খুব একটা নেই।
লোকটা তখন শুধুই অহেতুক চিৎকার করে বলতে থাকে
মোট কথা বিষয়টা হল, এই আইনটা দাড়াল কী?
সে খুবই বন্ধুত্বপরায়ণ একজন ইতর লোক,
এর চেয়ে ভালো মানুষ খুব একটা মেলে না।
সিকি গ্যালন মদ দিলে সে তার বউকে এক বছরের জন্য ছেড়ে দেবে,
আর এর জন্য লোকটার কোনো অনুতাপও জাগবে না।
অন্য লোকের ক্ষেত্রেও সে একই খেলা খেলতে ওস্তাদ।
ব্যাপারে সে যদি কোনো ভালো বন্ধু জুটাতে পারে।
তাহলে সে তাকে বোঝাবে, টাকাটাই যদি তার সবকিছু না হয়
তাহলে সহকারী যাজকের কাছে শাস্তির কোনো ভয় নেই,
কারণ শাস্তি বলতে তো কিছুটা টাকা খসে যাওয়া।
কোর্টের নির্দেশজারিকারী লোকটার সুরেই বলা যায়,
টাকার থলেটাই হচ্ছে সহকারী যাজকের কাছে নরকতুল্য।
কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, তার বুলিটা ডাহা মিথ্যে।
সব অপরাধীর মনেই শাস্তি ভয় থাকা উচিত,
কারণ ক্ষমা যেরূপ আত্মাকে সহায়তা দেয়
তেমনি শাস্তিও আত্মাকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়।
অথচ এই লোকটাই এলাকার সব যুবাদের নিয়ন্ত্রক,
যুবাদের সব গোপন বিষয় সে জানে বলেই,
সে সবার পরামর্শ প্রদানকারী হিসেবে খ্যাতিমান।
তার মাথায় থাকে বড় একটা ফুলের তোড়া,
সেগুলো দ্বারা দোকানের একটা সাইনবোর্ড সজ্জিত করা যায়।
নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে কেকের একটা ঢালও তৈরি করেছে।

Pardoner - গির্জার অনুমোদনপ্রাপ্ত একজন ক্ষমা বিলিকারী

তাঁর সঙ্গী হয়ে ঘোড়ার পিঠে চলেছেন তার অন্যতম সুহৃদ
সহকারী রউন্সিভ্যালের যাজকের একজন ভাষ্যকার।
তিনি সবেমাত্র রোমের সভা হতে এসেছেন,
জোরালো শব্দে তিনি গান পরিবেশন করছেন,
ওহে আমার ভালোবাসা তুমি কাছে এসো মোর,
সাথের পাইকটাও তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছে।
কোনো ভেঁপুও এর অর্ধেক শব্দ করতে পারবে না,
মাথায় তার শনের মত কোমল চুল উড়ছে।
ছোট কয়েক গোছা চুল তার মাথার মধ্যিখানে।
সেগুলো তিনি কায়দা করে ঘাড়ের উপরে মেলে দিয়েছেন।
ইচ্ছে করেই তিনি তার মাথাটা ঢাকেননি কোনো আবরণে,
আবরণটা তিনি তাঁর থলের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখেছেন।
মাথায় তার ছোট্ট একটা টুপি, আর বাকিটা খোলা রেখে
তিনি সবাইকে তার ঘোড়ায় চড়ার নতুন কায়দা রপ্ত করাচ্ছেন।
চোখ দুটো তার সর্বদা খরগোশের চোখের মত জ্বলজ্বল করে
তার টুপিতে সেলাই করা নানাবিধ লতাপাতার ছবি,
থলেটা তার কোলের উপরে রাখা
রোম থেকে আনা নানাবিধ জিনিসে ভর্তি সেটা।
তার কণ্ঠস্বর একেবারে ছাগলের মত খড়খড়ে
মুখে দাড়ির চিহ্নমাত্র নেই আর কখনো তা গজাবে না মনে হয়।
মুখখানা তার সদ্য দাড়ি কামানো মুখের মতই মসৃণ,
আমার ধারণা লোকটা হয়ত নপুংসক
কিন্তু কর্মক্ষেত্রে বেডউইক থেকে ওয়ার পর্যন্ত তার মত ভাষ্যকর দ্বিতীয়টি মেলা ভার।
কারণ তার থলেতে যে বালিশের খোলটি রয়েছে।
সেটি নাকি একদা মাতা মেরির মস্তকাবরণ ছিল
যে পাল উড়িয়ে সেন্ট পিটার সমুদ্র যাত্রা করেছিলেন।
আর তাকে যে যাত্রা হতে যিশু[PBUH] ফিরিয়ে এনেছিলেন।
সে পালের ছেড়া একটি টুকরাও নাকি তার কাছে আছে।
পাথর বসানো ধাতব একটি ক্র আছে তার কাছে,
একটা পাত্রে তিনি রেখেছেন শূকর ছানার হাড়গোড়।
পল্লী এলাকার কোনো যাজকের সাথে তার সাক্ষাৎ হলে,
তার কাছে পবিত্র স্মারক বলে তিনি এসব বিক্রি করেন,
আর যাজকের দুমাসের মাইনের সমান পয়সা কামান এটা করেই।
এভাবেই তিনি লোকদের তোষামোদ করেন, প্রতারণা করেন।
আর যাজক মহোদয়দেরকে ধাপ্পা দেন।
তবে ওনার সম্পর্কে সত্যি কথা বলতে হলে অবশ্যই বলতে হয় যে,
গির্জা অভ্যন্তরে তিনি একজন অত্যন্ত মান্যগণ্য সম্মানিত যাজক।
তিনি উত্তমরূপে গ্রন্থ পাঠ করতে পারেন।
নীতিকথার গল্পও পরিবেশন করেন উত্তমরূপে,
আর সবচেয়ে সুমধুর স্বরে পরিবেশন করেন প্রার্থনাসঙ্গীত।
আর এটা তার ভালো করেই জানা যে, প্রার্থনা শেষ হওয়ার পর
মিষ্টিমধুর বাক্য প্রয়োগ করে টাকাপয়সা বাগাতে হবে,
আর এজন্যই তিনি গলা ছেড়ে মনের আনন্দে গান পরিবেশন করেন।

[সড়াইখানায় সবাই একত্র হওয়া]
সকল তীর্থযাত্রীর পদমর্যাদা, পোশাক-আশাক
আর তাদের সংখ্যার কথা সংক্ষেপে পরিবশেন করলাম।
কী কারণে তারা বেলের সন্নিকটে অবস্থিত সাউথওয়ার্কের
টাবার্ড সরাইখানায় এসে মিলিত হয়েছে তাও জানালাম
এরপর সে রাতে সরাইখানায় পৌছার পর আমরা
কী কী কর্ম সম্পাদন করলাম সেটাই জানাব এবার
এরপরে আমাদের যাত্রাপথের অন্যান্য বিবরণ জানাব।
কিন্তু প্রথমেই অনুরোধ করছি, এসব বিবরণ স্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য
সকল তীর্যযাত্রীর কথোপকথন আর কাজকর্মের
সমস্ত বিবরণ সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য
অনুগ্রহপূর্বক আপনারা আমাকে নিকৃষ্টজন ভাববেন না
আমি নিজে এবং আপনারাও ভালো করেই জানেন,
কোনো কাহিনী পরিবেশনকালে সে কাহিনীর সকল
শব্দাবলি, সেগুলো যদি অশ্লীল নিচুমানেরও হয়,
তবুও সেগুলো অবিকল সে রকমই পরিবেশন করা উচিত
সেটা না হলে গল্পটা হয়ে যায় মিথ্যে আর বানোয়াট,
কিংবা সেখানে এসে যোগ হয় বানানো নতুন শব্দাবলি,
এক্ষেত্রে নিজের ভ্রাতার মনের কথাটিও লুকোনো যায় না,
প্রতিটি শব্দই বলতে হয় খুবই পরিষ্কার করে,
পবিত্র বাইবেল থেকে মহান যিশু সবই খোলামেলা বলেছেন,
আপনারা তো জানেন সেখানে নেই কোনো অশ্লীল শব্দাবলি,
যারা প্লেটোর গ্রন্থ পড়েন, প্লেটো তার পাঠকদের বলেন,
কথা আর কর্মের মাঝে অবশ্যই মিল থাকা চাই
আর তাছাড়া আমার কাহিনীর পাত্র-পাত্রীদেরকে
যে আমি নিয়মমাফিক মনোহররূপে সাজাতে পারিনি
সে জন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আপনারা তো ইতোমধ্যেই অনুধাবন করতে পেরেছেন যে,
আমার বুদ্ধিটা কিছুটা মোটা ধরনের।
সরাইয়ের মালিক আমাদের সবার আরাম আয়েশের ব্যবস্থা নিল
আর তার সাথে যথারীতি আহারেরও ব্যবস্থা নিল।
সরাইখানার খাবার খুবই ভালো, পানিয়টা কিছুটা কড়া
আর সে কারণেই সেটা পান করে খুবই খুশি হলাম।
মালিক অতিসজ্জন, যেকোনো ভোজসভার পরিচারকের যোগ্যতা রাখে সে
চেহারাটা বেশ দশাসই, চোখ দুটো ভাসা ভাসা।
অঞ্চলে তার মত সজ্জন নাগরিক দ্বিতীয়টি নেই।
কথায় তার কোনো ঘোরপ্যাচ নেই, জ্ঞানবুদ্ধিও যথেষ্ট আছে
প্রকৃতই সুশিক্ষায় শিক্ষিত জন সে,
সকল দিক বিবেচনায় সে একজন খাটি মানুষ বলা চলে।
আর তা ছাড়া মানুষটা খুবই আমুদে স্বভাবের,
আমরা খাওয়ার বিল মিটিয়ে দেয়ার পর
সে আমাদের বাজনা বাজিয়ে শোনাল, শোনাল
কত না কৌতুক, আরো নানান কিছু।
এরপর বলল, ভদ্রমহোদয় ভদ্রমহিলাগণ, আমি
আপনাদেরকে এখানে সুস্বাগতম জানাচ্ছি,
আমি শপথ করে বলছি পুরোটা বছরে আমি
আপনাদের মত এমন আমুদে তীর্থযাত্রীদল পাইনি,
আমার সে রকম পথ জানা থাকলে আপনাদের সবাইকে খুশি করতাম।
সত্যিকারেই, আপনাদের সবাইকে আনন্দ দান করার
একটা উপায় এরই মাঝে আমার মনে উকি দিয়েছে,
আর এতে আপনাদেরকে গাটের পয়সা ব্যয় করতে হবে না।
আপনারা সদলে ক্যান্টারবারির উদ্দেশে চলেছেন:
মহান ঈশ্বর আপনাদের সার্বিক মঙ্গল করুন,
পুণ্যাত্মা আপনাদের যোগ্য পুরস্কার দিন,
আমি হলফ করে বলতে পারি, পথে যেতে যেতে
আপনারা অনেক গল্পগুজব করবেন, কারণ
নিরেট পাথরের মত ভাষাহীন হয়ে অশ্বারোহণে কোনো আনন্দ নেই,
কারণে আমি আপনাদের যা বলতে চাচ্ছি,
আমি আপনার সামনে একটা প্রস্তাব রাখতে চাই,
আমি আপনাদের কিছুটা উপকারে লাগতে চাই,
আপনারা সকলেই যদি আমার কথা মানেন
আর আমার নির্দেশ মোতাবেক কাজকর্ম করেন,
আর আগামীকাল যাত্রাপথে যদি আপনারা আনন্দ না পান,
তাহলে আমি আমার স্বর্গীয় পিতার নামে শপথ করছি,
আমি আমার মাথাটাই আপনাদের সমর্পণ করব,
এবার আর কথা নয়, আপনারা সম্মতিসূচক হাত উঠান।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বিলম্ব হল না মোদের,
আমাদের মনে হল, বিষয়টা নিয়ে ভাবগম্ভীর
কোনো আলোচনার নেই কোনো প্রয়োজন,
আমরা সবাই কোনো তর্কে না গিয়ে মেনে নিলাম তার প্রস্তাব
অতঃপর সকল বিষয় পরিষ্কার করে বলতে অনুরোধ জানালাম।
সে শুরু করল, দ্রমহোদয় ভদ্রমহিলাগণ, শ্রবণ করুন,
কিন্তু অনুরোধ, আপনারা নিয়ে তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করবেন না।
সংক্ষেপে বলতে গেলে বিষয়টা হল এই যে,
ক্যান্টারবারির যাত্রাপথটা যাতে আপনাদের কাছে সংক্ষিপ্ত মনে হয়
এজন্য ক্যান্টারবারি যাওয়ার পথে প্রত্যেকে দুটি করে কাহিনী শোনাবেন,
আর তীর্থ হতে বাড়ি ফেরার পথে প্রত্যেকে আবার দুটি করে কাহিনী
বলবেন।
আর আপনাদের মাঝেকার যার গল্পটা নীতিকথা হাস্যরসের
দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে প্রতীয়মান হবে সবার কাছে,
তিনি ফেরার পথে সরাইখানায় এসে বিনামূল্যে রাতের খাবার খাবেন,
আপনাদের যাত্রা যাতে সুখ-স্বাচ্ছন্দময় হয় জন্য
আমি নিজেও আপনাদের যাত্রাপথে সাথী হব।
আমি নিজেই হব আপনাদের পথপ্রদর্শক।
আর পথ চলতে গিয়ে যিনি আমার আদেশ অমান্য করবেন,
তাকে শেষে এই যাত্রীদলের যাত্রাপথের সব খরচ বহন করতে হবে।
আমার প্রস্তাবে যদি আপনাদের কোনো অমত না থাকে
তবে আর কথা না বাড়িয়ে সন্মতি প্রদান করুন,
আর আমিও এরই মাঝে আমার সবকিছু গোছগাছ করি।
আমরা সবাই তার সাথে একমত হয়ে,
তার কথামত পথ চলার শপথ গ্রহণ করলাম
আর তিনি যেন আমাদের সবার কাহিনী লিখে রেখে
বিচার-বিশ্লেষণ করে একটা নির্দিষ্ট মূল্য ধরে
সরাইখানায় রাতের খাবারের সুব্যবস্থা গ্রহণ করেন,
আমরা এটাও মেনে নিলাম যে, তারই নির্দেশমত
আমাদের যাত্রাপথের সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে।
সবাই মোরা মেনে নিলাম তার দেওয়া প্রস্তাব,
সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াইন পরিবেশন করা হল সবার জন্য
পানের পর আর হাঁটাহাটি না করে বিছানায় গেলাম

[যাত্রা শুরু]


পরদিন ভোরবেলায় মালিক ঘুম থেকে জেগে
আমাদের সবাইকে ডেকে তুলে সারি দিয়ে লাইনে দাড় করাল
এরপর ঘোড়ায় চড়ে কাছের সেন্ট টমাস কূপে এসে হাজির হলাম।
সেখানে মালিক তার ঘোড়াটা থামিয়ে সবার উদ্দেশে
বলল, দ্রমহোদয় ভদ্রমহিলাগণ, অনুগ্রহ করে শুনুন,
পূর্বে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অবশ্যই স্মরণ আছে আপনাদের,
তবুও আবার আমি সে কথা আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি,
এবার আসুন দেখা যাক, প্রথম কাহিনীটা কে বলবেন
সাঁরাটা পথ আমরা ওয়াইন আর এল খাব এটা যেমন সত্যি
তবে এটাও ঠিক যে, যিনি আমার কথা অমান্য
করবেন তাকে সকল তীর্থযাত্রার খরচ বহন করতে হবে,
এবারে আরো কিছুটা সামনে এগুনোর পূর্বে,
আপনারা সবাই আমার হাত থেকে একটা করে খড়ের ডগা টানুন,
যার হাতে সবচেয়ে ছোট ডাটা উঠে আসবে
তিনিই যাত্রার প্রথম কাহিনী শুরু করবেন।
আমার মালিক প্রভু, সম্মানিত নাইট মহোদয়,
আপনিও আপনার ইচ্ছেমত একটি খড় টানুন।
এবার সামনে এগিয়ে আসুন প্রধান যাজিকা
যাজক মহোদয়, আপনিও সামনে এগিয়ে আসুন,
না না, এতে লজ্জার কোনো কারণ নেই,
কর্মটাকে একেবারে জটিল বিষয় বলে ভাববেন না,
আসুন, এবার সকেলই একটা করে খড় টানুন
আমরা সবাই একটা করে ড় টেনে নিলাম,
এক কথায় বলা চলে, সৌভাগ্যক্রমেই হোক কিংবা
হঠাৎ করেই হোক, নাইটের ভাগেই উঠে এল ক্ষুদ্র টুকরোটা,
এটা দেখে যাত্রীদলের সকলেই আনন্দ প্রকাশ করল
আমাদের সকলের শপথবাক্য আর সম্মতি অনুযায়ী
ওনাকেই প্রথম শুরু করতে হবে কাহিনী,
এবার তাহলে আর কোনো কথাবার্তা নয়।
নাইট মহোদয় অতিসহন বুদ্ধিমানও,
সকল বিষয় বিবেচনা করে তিনি বললেন,
আমাকেই খন প্রথম কাহিনীটা শুরু করতে হবে
তখন মহান ঈশ্বরের সহায়তা নিয়ে এটা সন্মতি দিলাম,
আসুন এবার, আমরা আমাদের ঘোড়া ছুটিয়ে দেই
পথ চলতে চলতেই আমার কাহিনী শুনুন সবাই।
তার কথামত আমরাও ঘোড়া ছোটালাম,
তিনিও খুবই হষ্টচিত্তে, ফুর্তি সহকারে
তাঁর কাহিনী বলা শুরু করলেন
[এখানেই মুখবন্ধের সমাপ্তি] 

No comments:

Post a Comment

Popular Posts