Sunday, February 24, 2019

Poetics - Aristotle - Chapter - 11 - Reversal, Recognition and Calamity - Bangla translation and Explanation

Poetics - Aristotle - Chapter - 11 - Reversal, Recognition and Calamity - Bangla translation and Explanation


১ম পরিচ্ছেদ এর অনুবাদ, ব্যাখ্যা ও টিকাসমূহ


Poetics - Aristotle - Chapter - 11

Reversal, Recognition, and Calamity

Bangla Translation and Explanation

একাদশ পরিচ্ছেদ - পরিস্থিতি বিপর্যয়, পূর্বপরিচয় জ্ঞান বিপদ আপতন
আগে যেমন বলা হয়েছে, পেরিপেশিয়া বা পরিস্থিতি বিপর্যয় হচ্ছে উপরে বর্ণিত ধরনের এক পরিবর্তন যা সম্ভাব্যতা অথবা আবশ্যিকতার নিয়মের অধীন হয়েও ঘটনাকে বিপরীতমুখী পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। দাহরণ স্বরূপ ইডিপাস নাটকের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। যে দূত এসেছিল ইডিপাসের মনকে উৎফুল্ল করতে এবং তাঁকে তাঁর মা সম্পর্কে ভীতির ভাব থেকে মুক্ত করতে, সে তাঁর কাছে তাঁর আসল পরিচয় উদঘাটিত করে দিয়ে ল্টোটাই করে বসল লীনসিয়াস নাটকেও এরূপ দেখা যায়। লীনসিয়াসকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তারই পাশ থেকে তাকে অনুসরণ করছে দানৌস, যে তাকে হত্যা করবে। কিন্তু ঘটনাচক্রে যা দাঁড়াল তা হচ্ছে এই যে দানৌস নিহত হল এবং নায়ক রক্ষা পেল।
অ্যানাগনোরিসিস বা পূর্ব পরিচয় জ্ঞান হচ্ছে আগের কোন জানা বিষয়ের আলোকে বর্তমানের অজ্ঞতা থেকে জ্ঞানের দিকে পরির্বতন। এর ফলে কবি-নিতির হাতে যে সকল লোকের সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য নির্ধারিত হয়েই আছে তাদের পরস্পরের মধ্যে অনুরাগ অথবা বিরাগের সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে ফলপ্রদ অ্যানাগনোরিসিস তাই, যা পরিস্থিতি বিপর্যয়ের সঙ্গে যুগপৎ দেখা দেয়, যেমনটি ঘটেছে ইডিপাস নাটকে। অবশ্য অন্য ধরনের অ্যানাগনোরিসিস আছে। এর যে সংজ্ঞা আমরা দিয়েছি, তদনুযায়ী অচেতন পদার্থ অথবা প্রাত্যহিক জীবনের বিষয়ও অ্যানাগনোরিসিসে কারন হতে পারে কোন লোক কোন কিছু করছে কিংবা করেনি, তারও অ্যানাগনোরিসিস হতে পারে। কিন্তু যে অ্যানাগনোরিসিস প্লট এবং ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তা উপরে বর্ণিত মতের অ্যানাগনোরিসিস কারণ ধরনের অ্যানাগনোরিসিস পরিস্থিতি বিপর্যয়ে সঙ্গে যুক্ত হলে, তা করুণা অথবা ভয়ের উদ্রেক করবেই এখন কথা হল, যে জাতীয় ঘটনা এরূপ সংবেদনা জাগায়, তাই হল ট্র্যাজেডির অনুকরণের বিষয়। আর ধরনের ঘটনা বা পরিস্থিতির উপরেই নাটকের পাত্র পাত্রীদের সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্যের ব্যাপারটা নির্ভর করে।
অ্যানাগনোরিসিস ব্যাপারটা যখন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয়-সম্পর্কিত ব্যাপার, তখন এমনও হতে পারে যে, কেবল একজনের পরিচয় অন্য একজনের নিকট প্রকাশ পেল; অন্যজনের পরিচয় হয়ত আগে থেকেই জানা আছে কখনো কখনো, অবশ্য দুই পক্ষেরই পারস্পরিক পরিচিতির প্রয়োজন দেখা দিতে পারে! দৃষ্টান্ত স্বরূপ উল্লেখ করা যায়, ইফিজেনিয়ার পরিচয় অরেস্টিস পেল তার কাছে পাঠানো একটি পত্রের মারফত কিন্তু ইফিজেনিয়ার কাছে অরেস্টিসের পরিচয় তুলে ধরবার জন্য প্রয়োজন ছিল দ্বিতীয় আর একটি অ্যানাগনোরিসিসের তাহলে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি বিপর্যয় এবং অ্যানাগনোরিসিস প্লটে এই দুটি উপাদান এই ধরনের ঘটনাশ্রয়ীই হয়ে থাকে[বিস্তারিত আলোচনা ১৬ ও ১৭ তম পরিচ্ছেদ এ রয়েছে] তৃতীয় আর একটি উপাদান হচ্ছে দুর্ভোগ বা বিপদ আপতনের দৃশ্য[ সম্পর্কে ১৩ ১৪ তম পরিচ্ছেদ বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে] বিপদ আপতন বা দুর্ভোগ-দৃশ্য হচ্ছে ধ্বংসাত্মক অথবা বেদনাদায়ক ঘটনার উপস্থাপনা, যেমন মঞ্চের উপরেই মৃত্যু, দৈহিক নির্যাতন, আঘাত প্রদান, অত্যধিক দুর্দশা অথবা ধরনের অন্যান্য বিষয়।


ব্যাখ্যা ও টিকাঃ
Oedipus Tyrannus বা Oedipus Rex বা রাজা ঈডিপাস খ্রীষ্টের জন্মের ৪২৯ বছর পূর্বে এই নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ করা হয়। গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিসের রচিত শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি নায়ক ইডিপাসের নামানুসারে নাটকটির নাম এঁরূপ হয়েছে। থেবসে রাজা ইডিপাসের দৈব বিড়ম্বি মর্মান্তিক জীবন-কাহিনী এই নাটকে রূপায়িত হয়েছে। ইডিপাস ছিলেন রাজা লাইয়াস রাণী জোকাস্তা পুত্র তাঁর জন্মলগ্নেই জ্যোতিষীরা বলেছিল যে পুত্র পিতৃহন্তা হবে এবং মাতৃ-বিবাহের কলঙ্কভাগী হবে। এই অনভিপ্রে ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাবার জন্য রাজা লাইয়াস শিশু পুত্রকে দূরবর্তী কোন স্থানে নিয়ে গিয়ে ত্যা আদেশ দেন। কিন্তু শিশুর মায়াময় মুখের চাহনি দেখে করুণা-পরবশ হয়ে ভারপ্রাপ্ত রাকর্মচারী তাকে হত্যা না করে, দূরদেশে এক নির্জন প্রান্তরে ফেলে রেখে আসে যদিও রাঙা লাইয়াসকে জানান হয়, যে তাঁর আজ্ঞা যথারীতি পালিত হয়েছে। শিশু প্রথমে এক মে-পালকের গৃহে আশ্রয় পায়, পরে করিন্থে নিঃসন্তান রাজা পলিবাস রাণী মেরোপীর পুত্রের মর্যাদা পেয়ে রাজপ্রাসাদেই লালিত-পালিত হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে যখন ইডিপাস দৈববাণীর কথা জানতে পারেন, তখন পিতৃহত্যা মাতৃ-বিবাহের চরম কলঙ্কের থেকে রেহাই পাবার আকুলতায় করিন্থ ত্যাগ করেন। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস। করিন্থ ত্যাগের পরে পথিমধ্যে নিজেরই অজ্ঞাতসারে নিতাস্ত দৈবক্রমে পিতা লাইয়াসকে হত্যা করেন। থেবসের পথে স্ফীংসের ধাঁধাঁর জবাব দেন, পরে নিতান্ত দৈবক্রমেই থেবসে রাজত্ব লাভ করেন এবং প্রথামত মাতা রাণী জোকাস্টাকে বিবাহ করেন। রে ঘটনাক্রমে ইডিপাস যখন সকল সত্য জানতে পারলেন তখন অনুশোচনায়, লজ্জায়, ক্ষোভে উন্মাদ প্রায় হয়ে নিজ চক্ষু দুটি উৎপাটন করেন এবং স্বেচ্ছানির্বাসন বরণ করেন। সফোক্লিস এই ঘটনাই Oedipus Tyrannus নাটকে সফলতার সাথে বর্ণনা করেছেন।  “ইডিপাস তাঁর পিতাকে হত্যা করবেন এবং মাতাকে বিবাহ করবে এই ভবিষ্যৎবাণীকে ব্যর্থ করে দেবার ইচ্ছাতেই করিন্থ ত্যাগ করেছিলেন। কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেলেও, ভবিষ্যৎবাণীর দ্বিতীয় অংশের কথা ভেবে সশঙ্কভাবে দিন কাটাতে লাগলেন ইতিমধ্যে তিনি নিজেরই অজ্ঞাতসারে পিতা লাইয়াসকে হত্যা করেছেন, থেবসের রাজপদ লাভ করেছেন এবং মাতা জোকাস্টাকে বিবাহ করেছেন। কিছুকাল পরে করিন্থ থেকে দূত এসে তাঁকে এই বলে দুশ্চিন্তা-মুক্ত করতে চাইল যে রাজা পলিবাস রাণী মেরোপী তার আসল পিতামাতা নন। দূত এসেছিল তাঁকে দুশ্চিন্তা-মুক্ত.করতে; কিন্তু দূতের কথার ফল হল বিপরীত দূতের কথার সূত্র ধরেই ইডিপাস এক ভয়াবহ নির্মম সত্যের সম্মুখীন হলেন। তিনি আবিষ্কার করলেন যে, করিন্থ ত্যাগের পর পথে যাকে তিনি হত্যা করেছিলেন, তিনি তাঁরই পিতা রাজা লাইয়াস, আর যে জোকাস্টা এখন তাঁর স্ত্রী, তিনি তাঁর মাতা। বিস্তারিত।
২। Lynceus - লিনসিয়াসঃ  থিওডেক্টাস রচিত একটি নাটক নায়ক লীনসিয়াসে নামেই নাটকের নাম। লিনসিয়াস, তাঁর চাচা দানৌসের কন্যা হাইপারমনেস্ট্রাকে  বিয়ে করেছিলেন। লীনসিউসের পিতা ঈজিপ্টাস অর্থাৎ দানৌসের ভাই এর সঙ্গে শত্রুতার জন্য দানৌস তাঁর নিজ কন্যাকে স্বামী হত্যার জন্য প্ররোচিত করলেও, কন্যা হাইপারমনেস্ট্রা সে-আদেশ পালন না করে বরং নিজের বিপদের ঝুঁকি নিয়ে স্বামীকে পলানে সাহায্য করে। পরে লীনসিউসকে নিজ হাতে হত্যা করতে গিয়ে দানৌস নিহত ন। বিস্তারিত।

৩। Iphigenia in Tauris” or “Iphigenia among the Taurians”  বা তৌরিস ইফিজিনিয়াঃ বিখ্যাত গ্রীক নাট্টকার ইউরিপিডিস রচিত টোরিসে ইফিজিনিয়া নাটকের এক চূড়ান্ত সংকটময় মুহূর্তের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। অরেস্টিস এবং তাঁর বন্ধু পাইলেডকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে দেবী আর্টেমিসের মন্দিরে উৎসর্গ করার জন্য আর এই উৎসর্গ-কাজ সম্পাদন করতে যাচ্ছেন মন্দিরের মেয়ে-পুরোহিত ইফিজিনিয়া, যিনি নাকি অরেস্টিসের বোন অরেস্টিস এবং তাঁর বন্ধু দুই জনই গ্রীক, জেনে ইফিজেনিয়া পাইলেডকে এই র্তে মুক্তি দিতে রাজী হলেন যে, সে তার একটি চিঠি আর্গসে তার গৃহে পৌছে দেবে পাছে পাইলেড পত্রটি হারিয়ে ফেলে, তাই ইফিজেনিয়া জোরে জোরে তাকে পত্রের বক্তব্য পড়ে শোনান, যাতে পত্রটি হারিয়ে ফেললেও, খবর পৌছাতে কোন অসুবিধা না হয়। এই পঁত্রের বক্তব্য শুনেই অরেস্টি তাঁর বোন ইফিজেনিয়াকে চিনতে পারে এবং তার কাছে আত্মপরিচয় দান করে এবং নিজ পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রমাণ উপস্থিত করে। বিস্তারিত।
Reactions:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts