Monday, January 28, 2019

Death of the hired man - Robert Frost - Bangla translation

Death of the hired man - Robert Frost - Bangla translation

দা ডেথ অভ দা হাইআর, ম্যান
The Death of the Hired Man

বাংলা অনুবাদ

আনমনে ভাবছিল মেরি টেবিলে রাখা প্রাদীপ শিখায় চোখ রেখে
ওয়ারেনের অপেক্ষায়, যখন সে তাঁর পদধ্বনি শুনতে পেলো
ঘরের অন্ধকার গলিপথ দিয়ে পা টিপে দ্রুতলয়ে এলো নেমে
দ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদটি দিলো তাঁর তরে
তাকে সামনে দিয়ে আগলে রেখে বলে, সাইলাস ফিরে এসেছে।
সাইলাস এসেছে ফিরে বলেই জোর করে ঠেলে
বাইরে পাঠিয়ে দুয়ার আটকে দিয়ে বলল, কিছু মনে কোরো না
বলেই ওয়ারেনের হাত থেকে বাজার সওদা নামাল আঙিনায়,
আর তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে কাঠের সিঁড়িতে বসল দুজনে।
বলতো, কখনো আমি তার প্রতি এমন রেগেছি কি না?
কিন্তু চাই না আমি তার এ বাড়িতে ফিরে আসাটা, বলল সে,
সেবার খড় তোলার মৌসুমে বলেছি তো তাকে, বলিনি কি
এবার গেলে তার এটাই হবে শেষ যাওয়া?
বল, সে কি কাজের যোগ্য? ওর যে বয়স তাতে
কে রাখবে ওকে কাজে, কতটা হবে কর্ম ওকে দিয়ে?
যখনই প্রয়োজনে তাকে আমি চাই,
কোনো কিছু না বলে তখনি হওয়া
মনে মনে ভাবে অল্প কিছু হলেই তো চলে যায়।
তামাক কেনার পয়সা পেলেই কোনো সমস্যা নেই।
ওতেই হবে, ভিক্ষে করতে হবে না তার।
আমি বলি, বাধা মজুরিতে কাউকে রাখা ভালো,
ইচ্ছে থাকলেও জানি এটা সাধ্যের বাইরে মোর, অন্যেরা পারে।
সেই ব্যক্তির কাছে যাওয়াই উচিত, নিজের পরিবর্তন যদি
সে আনতে চায়, সে তো ঢের ভালো
এটাই যদি হতো তাহলে ভাবার ছিল না কিছু, কিন্তু
এটা নিশ্চিত যখনই এমন কিছু বলতে খুলবে মুখ
তখনই ভাববে কেউ ধোকা দিয়ে খরচের কিছু টাকা
দেবে বলে তাকে দেখাচ্ছে লোভ, ফসল কাটার মৌসুমে
যখন মজুর পাওয়াটা কঠিন ব্যাপার। শীত এলে
ঠিকই ফিরে আসে আমাদের কাছে, খুব হয়েছে, ওকে
দিয়ে আমাদের কোনো কাজই হবে না আর।
চুপ! কোরো না চিৎকার, কানে যাবে ওর, বলল মেরি।
শুনুক না, আমি তো তাই চাই, আজ হোক কিংবা কাল
শুনতে হবেই তাকে এসব কথা বলছি পরিষ্কার।
ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়েছে সে চুলোর পাশে।
রোয়ের কাছ থেকে ফিরে দেখি শরীর কুঁকড়ে
গোলাবাড়ির সামনে ঢলে পড়েছে গভীর নিদ্রায়।
হয়েছে, হেসো না তুমি, বড়োই হৃদয়বিদারক আর
ভয় পাওয়ার মতো ঘটনা
চিনতেই পারিনি তাকে প্রথম দর্শনে, চেনার কথাও তো নয়
অনেকটা বদলেছে সে এরই মাঝে, তুমি দেখলেই বুঝবে।
জিজ্ঞেস করেছ, কোথায় ছিল সে এতটা দিন?
কিছুই বলেনি, বাড়িতে ডেকে এনে চা দিয়েছি খেতে আর
কিছুটা তামাক। ওর কাছে ভ্রমণকাহিনি শুনার অনেক
কসরত করার পরেও লাভ হলো না মোটেই, ও শুধু
বার বার ঢলে পড়ছিল ঘুমে।
কী বলল সে? কিছুই বলেনি কি?
যা বলেছে তা সাম্যন্যই,
সত্যি করে বলো দেখি মেরি, ও কিছু বলেছে কি?
আমার জমিগুলো নিড়িয়ে দেবে এমন কিছু বলেছে কি?
ওয়ারেন!
কিছু বলেছে কি, সেটাই শুধু আমি জানতে চাই,
অবশ্যই বলেছে। কী কথা সে বলবে বলতো?
কোনোভাবে যদি এই বৃদ্ধ মানুষটি, আহা
তার আত্মসম্মান রক্ষা করতে চায়, তোমার ক্ষতি কী তাতে?
সত্যিই যদি জানতে চাও, বলেছে সে ওপরে গরু চরানোর
মাঠটাও সে সাফ সুতরো করে দেবে।
মনে হয় এমন কথা তুমি আগেও শুনেছ
ওয়ারেন, কেমন যেন সব আবোল তাবোল বলল
তুমি যদি শুনতে তা, বেশ কবার আমি আমার
কথা থামিয়ে তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে,
লক্ষ করছিলাম ঘুমের ঘোরে সে কথা বলছে কি না!
কেমন যেন আগোছালো মনে হচ্ছিল, তুমি যদি তখন দেখতে তাকে!
হ্যারল্ড উইলসন নামের ছেলেটার কথা মনে আছে তোমার?
সেই যে খড় কাটার মৌসুমে তাকে মজুর হিসেবে রেখেছিলে,
সেই ছেলেটাকে বেদম গালি দিচ্ছিল সে
পড়শুনা শেষ করে এখন আরামে অধ্যাপনা করছে কলেজে।
সাইলাস বলেছে, ওকে নাকি আবার লাগাতে হবে কাজে
দুজনে নাকি খুবই মিল হবে, মিলেমিশে ওরা
খামারটাকে ঝকঝকে করে সাজাবে আবার।
এক কথার সাথে অন্য কথার কোনো মিল নেই,
বার বার কেমন তালগোল পাকাচ্ছিল সাইলাস।
পড়াশুনার বিষয়ে খুবই রাগ সাইলাসের কিন্তু
উইলসনেক সে বড়ো ভালোবাসে। মনে আছে
জুলাই মাসের সেই প্রচণ্ড খরায় গনগনে সূর্যের
আলোর নীচে দুজনে কেবলই তর্ক জুড়ে দিত?
মনে আছে, সাইলাস গাড়ির ওপরে গাদা
করত খড় আর হ্যারল্ড আঁটিগুলো তুলত ওপরে?
আর হ্যা, তুমুল সেই হৈ-হল্লা থেকে বারবারই আমি থেকেছি দূরে।
সেইসব দিনগুলো আজ তাকে স্বপ্নের মতোই করছে জ্বালাতন।
এমন যে ঘটবে তা আর কে জানত বলো?
কীভাবে যে কত স্মৃতি মনের মাঝে রয়ে যায়।
হ্যারল্ডের কলেজ জীবনের উজ্জ্বল তারুণ্য আর প্রত্যয়
তাকে কেবলই জ্বালাতন করত। এতকাল পরে আজও
তার মনে জাগে কত না যুক্তি আর কথার মারপ্যাচ
যেগুলো খুব সহজেই একদা নিয়ে যেত তর্কে,
হৃদয়ে মমতা জাগে। সঠিক জবাবটা খুব দেরিতে
মনে পড়লে, নিজের কাছে নিজেরই কেমন লাগে
আমিও তা বুঝতে পারি না। তার হৃদয়ে মাখা
মাখি হয়ে আছে হ্যারল্ড উইলসন আর লাতিন,
জানি সে আমার কাছে জানতে চায় হ্যারন্ডের
উক্তি সম্পর্কে আমার কী মতামত
সে যে বলে, লাতিন পাঠ করে সে বেহালার সুর
তোলার মতো-এটা কি কোনো যুক্তির কথা
হেজেল গাছের কাটা থেকে সাইলাস ঝরাতে পারে পানি
এটা ছেলেটিকে বিশ্বাস করানো সম্ভব হয়নি কখনো,
বিদ্যালয়ে জ্ঞান অর্জন করে শেষ ফল হলো এটাই।
১ম পর্ব শেষ 


Reactions:

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts