Tuesday, January 26, 2016

মজার গল্প - ইঁদুর আর বিড়াল

সংগ্রহঃ জার্মান লোককথা


Bangla Funny Story - The Rat and The Cat 


বিড়াল  আর ইঁদুরের মাঝে বড়ই ভাব। একবার তারা চিন্তা করল, একসঙ্গে একই ঘরে বসবাস করবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ।শুরু হলো তাদের একই বাড়িতে বসবাস। শীতকালে চারিদিকে খাবারের খুবই অভাব। শীতের জন্য তারা একটা চর্বির পাত্র কিনলো। দূরের একটি গির্জার বেদির নিচে লুকিয়ে রাখলো। শীতকালে যখন খাবারে টান পড়বে তখন এই পাত্রের খাবার  তারা খাবে।
 একদিন বিড়ালটি বলল, শোনো ছোট্ট ইঁদুর, আমার মামাতো বোনের চাঁদের মতো ফুটফুটে সুন্দর একটি ছেলে হয়েছে। পারিবারিক মুরব্বি হিসেবে তার ছেলেটির ধর্মে দিক্ষিতের কাজটি আমাকেই করতে হবে।তাই তারা আমাকে সেখানে নিমন্ত্রণ করেছে। তাই তোমাকে একাকী এখানে রেখে আমাকে যেতে হচ্ছে।"
 "  ঠিক আছে, যাও। তবে ভালো খাবার পেলে আমার কথাও একটু মনে কোরো। কতদিন আমি লাল আংগুরের শরবত খাই না", বলল ইঁদুরটি।


  বিড়ালটি সোজা চলে গেল গির্জার পেছনে। লুকিয়ে রাখা চর্বির পাত্রের ওপর থেকে খানিকটা চর্বি তারাতারি খেয়ে নিল। তারপর ধীর পায়ে চলে গেল শহরে। সারাদিন ঘোরাফেরা করে বাড়ি ফিরলো সন্ধ্যার পরে।
  "নিশ্চয়ই বেশ আনন্দেই কেটেছে তোমার আজকের দিনটা। তা কী নাম রাখলে তোমার ভাগ্নের?" ইঁদুর জিজ্ঞাসা করলো। টপ-অফ, টপ-অফ(top-off) নাম রেখেছি ভাগ্নের।টপ-অফ, মজার নাম তো! এমন নাম আগে তো কখনো শুনিনি।
  কিছুদিন পর আবার ফন্দি আঁটলো বিড়ালটি।সে ইঁদুরটিকে ডেকে বলল," শুনেছো, আমার আর এক বোনের আবার সন্তান হয়েছে। আমাকে আবার দ্বিতীয় ভাগ্নেটির কাছে যেতে হবে। পরিবারের মুরব্বি হিসেবে আজ তার হাতে সাদা আংটি পরাতে হবে। আমি বোনটাকে না করতে পারিনি। তোমাকে এবারও কস্ট করতে হবে। বাড়িটির দিকে একটু নজর রেখো ভাই।"মাথা নেড়ে সায় দিল বোকা ইঁদুরটি।
  চতুর বিড়াল গির্জার পেছনে গিয়ে চর্বির অর্ধেকটা খেয়ে কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে এলো।"আচ্ছা, তোমার বোনটির ছেলের নাম তো জানা হলো না। কী নাম তার?" ইঁদুর জিজ্ঞাসা করলো।
 "হাফ-গন!হাফ-গন! (half-gone)"
 "কী বলছো তুমি! এমন নামতো আমি জীবনেও শুনি নাই। আর নামের বইয়েও তো এ রকম নাম খুঁজে পাওয়া যাবে না।"
বিড়ালটির মাথায় তখন চর্বির কৌটার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। "শুনেছো, তৃতীয়বারের মতো আমাকে তারা নিমন্ত্রণ করেছে। এবারের ভাগ্নেটা কিন্তু কালো। কিন্তু তার পা দুটো সাদা। সারা শরীরে আর কোথাও সাদা রঙ নেই। এমন ঘটনা খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। যাই হোক তুমি আমাকে যাওয়ার জন্য অনুমতি দাও"। বিড়ালটি হাসতে হাসতে বলল।
"টফ-অফ, হাফ-গন! নামগুলো বেশ রহস্যের মধ্যে ফেলছে আমাকে। ঠিক আছে, যাও"_ ইঁদুর বলল। ইঁদুরটি ছিল হাবাগোবা। বাড়ি, ঘরদোর সে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রাখে। আর এর মধ্যে চর্বির কৌটা থেকে সবটুকু চর্বি খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে ধূর্ত বিড়াল।
রাতে বেশ চনমনে হয়ে বাড়ি ফিরলো বিড়ালটি।"তৃতীয় ভাগ্নেটির নাম কী রাখলে?" অল-গান!অল-গন! (all-gone)
 "বেশ ভয়ঙ্কর নাম তো! এ নামের অর্থ কী? কোনো বইপত্রে তো এমন নাম  কখোনো দেখিনি! মাথা নাড়তে নাড়তে ঘুমোতে গেল বেচারা ইঁদুর।চতুর্থবারের মতো কেউ আর বিড়ালটিকে দাওয়াত করলো না।
 অবশেষে শীতকাল চলে এলো। খাবার-দাবারের খুবই অভাব।ইঁদুর বিড়ালকে বলল, চলো গির্জার পেছন থেকে লুকিয়ে রাখা চর্বির কৌটাটি নিয়ে আসি।দুজন সেখানে গিয়ে খুঁজে পেল খালি কৌটাটি।
বুঝতে পারলাম তোমার চালাকি। তুমি তাহলে এখানেই এসেছ দাওয়াত খেতে। প্রথমবার টফ-অফ, দ্বিতীয় বার হাফ-গন, আর তৃতীয়বার অল-গন?"

"চুপ। বেশি কথা বললে,
 আমি তোমাকেই খেয়ে ফেলবো"।

ধমক শুনে থমকে গেল বেচারা ইঁদুর। "তৃতীয় ভাগ্নের নাম তাহলে অল-গান"।বলেই বিড়াল তাকে ধরে ফেলার পূর্বেই মাথা নিচু করে দিল ভোঁ-দৌড়। পেছনে তার বন্ধু চতুর বিড়াল।

Sunday, January 24, 2016

কুজো বুড়ি - Kujo Buri


কুজো বুড়ি - Kujo Buri 

 এক যে ছিল কুঁজো বুড়ি। সে সবসময় লাঠি ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে চলত, আর তার মাথাটা খালি ঠক-ঠক করে নাড়ত। বুড়ির ২টি কুকুর ছিল। একটির নাম ছিল রঙ্গা, আর একটির নাম ছিল ভঙ্গা।বুড়ি যাবে তার নাতনীর বাড়ি, তাই  তার কুকুর দুটোকে বলল, তোরা বাড়ি থাকিস, কোথাও চলে টলে যাসনে আবার।’ 
রঙ্গা আর ভঙ্গা সমস্বরে বলল, আচ্ছা,  বুড়ি মা , তুমি কোন চিন্তাই কোরো না'
 তারপর বুড়ি লাঠিতে ভর দিয়ে, কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, আর তার মাথাটা খালি ঠক ঠক করে নাড়ছে। এমনি করে সে খানিক দূর এগোতেই শিয়ালের সাথে তার দেখা।তখন শিয়াল তাকে দেখতে পেয়ে বলল, ঐ রে, সেই কুঁজো বুড়ি যাচ্ছে। বুড়ি, তোকে তো খাব!
  বুড়ি বলল, দাড়া, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মোটাতাজা হয়ে আসি, তারপর না হয় পেট ভরে খাস। এখন খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়ে কি এ ছাড়া আর কিছু আছে?
 শুনে শিয়াল বললে, আচ্ছা, তবে মোটা হয়ে আস, তারপর খাব তখন। বলে শিয়াল চলে গেল।
 তারপর বুড়ি আবার লাঠিতে ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, আর তার মাথাটা ঠক-ঠক করে নড়ছে। এমনি করে আরো খানিক দূর গেল আর বাঘের সাথে দেখা । তখন বাঘ তাকে দেখতে পেয়ে বলল, ঐ রে, সেই কুঁজো বুড়ি যাচ্ছে। বুড়ি, তোকে আজই খাব আমি!
 বুড়ি বললে, দাড়া, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মোটাতাজা হয়ে আসি, তারপর না হয় খাস। এখন খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়ে কি আর কিছু আছে?
 শুনে বাঘ বলল, আচ্ছা, তবে মোটা হয়ে আস, তারপর খাব তখন। বলে বাঘ চলে গেল।
 তারপর বুড়ি আবার লাঠি ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে যাচ্ছে, আর তার মাথাটা ঠক-ঠক করে নড়ছে। এমনি করে সে আরো খানিক দূর গেল আর  এক ভাল্লুক  এর সাথে দেখা হল।  ভাল্লুক তাকে দেখতে পেয়ে বলল, ঐ রে, সেই কুঁজো বুড়ি যাচ্ছে। বড্ড খিদে পেয়েছে, বুড়ি, তোকে তো আজ খাব!
 বুড়ি বলল, দাড়া, আমি আগে নাতনীর বাড়ি থেকে মোটা হয়ে আসি, তারপর খাস। এখন খেলে তো শুধু হাড় আর চামড়া খাবি, আমার গায়ে কি আর কিছু আছে?
  শুনে ভাল্লুক বলল, আচ্ছা, তবে মোটা হয়ে আস, তারপর খাব ।এই বলে ভাল্লুক চলে গেল।   বুড়িও আর খানিক দূর গিয়েই তার নাতনীর বাড়ি পৌঁছল। সেখানে দই আর ক্ষীর খেয়ে-খেয়ে এমনি মোটা হল যে, কি বলব! আর একটু মোটা হলেই সে ফেটে যেত।তাই সে তার নাতনীকে বললে, ওগো নাতনী, আমি এবার বাড়ি চললুম। তবে  আমি পায়ে হেটে চলতে পারব না। আমাকে গড়িয়ে যেতে হবে। আবার পথে ভাল্লুক, বাঘ আর শিয়াল হাঁ করে বসে আছে। আমাকে দেখতে পেলেই ধরে খাবে। এখন বল দেখি কি করি?
 নাতনী বললে, ভয় কি দাদীমা? তোমাকে এই লাউয়ের খোলটার ভিতরে পুরে দেব। তাহলে শিয়াল, বাঘ, ভাল্লুক কেউই বুঝতেও পারবে না, তোমাকে খেতেও পারবে না।বলে, সে বুড়িকে একটা লাউয়ের খোলের ভিতর পুরে, তার খাবার জন্যে চিঁড়ে আর তেঁতুল সঙ্গে দিয়ে, হেঁইয়ো বলে লাউয়ে ধাক্কা দিল, আর লাউ গাড়ীর মতন গড়গড়িয়ে চলতে লাগল।
 লাউ চলছে আর বুড়ি তার ভিতর থেকে বলছিল-লাউ গড়-গড়, লাউ গড়-গড়, খাই চিড়ে আর তেঁতুল,বীচি ফেলি টুল্‌-টুল্‌।বুড়ি গেল ঢের দূর!পথের মাঝখানে সেই ভাল্লুক হাঁ করে বসে আছে,  কখন বুড়ি আসে তারপর বুড়িকে খাবে বলে। সে বুড়ি-টুড়ি কিছু দেখতে পেলে না, খালি দেখল একটা লাউ গড়িয়ে যাচ্ছে। লাউটাকে নেড়ে-চেড়ে দেখল, বুড়িও নয়, খাবার জিনিসও নয়। আর তার ভিতর থেকে কে যেন বলছে, বুড়ি গেল ঢের দূর! শুনে সে ভাবলে, বুড়ি চলে গিয়েছে। তখন সে রাগ করে তাতে দিল এক লাথি আর সেটা গাড়ির মতন গড়গড়িয়ে চলল।
 লাউ চলছে আর বুড়ি তার ভিতর থেকে বলছে-লাউ গড়-গড়, লাউ গড়-গড়,খাই চিড়ে আর তেঁতুল,বীচি ফেলি টুল্‌-টুল্‌।বুড়ি গেল ঢের দূর!আবার খানিক দূরে বাঘ বসে আছে বুড়িকে খাবে বলে। সে বুড়িকে দেখতে পেল না, খালি দেখল একটা লাউ গড়িয়ে যাচ্ছে। সেটাকে নেড়ে-চেড়ে দেখল, বুড়িও নয়, খাবার জিনিসও নয়। আর তার ভিতর থেকে কে যেন বলছে, বুড়ি গেল ঢের দূর। শুনে সে ভাবল বুড়ি চলে গিয়েছে। তখন সে রাগ করে তাতে দিল এক লাথি, আর সেটা গাড়ির মতন গড়গড়িয়ে আবার চলতে লাগল।
  লাউ চলছে আর বুড়ি তার ভিতর থেকে বলতে লাগল-লাউ গড়-গড়, লাউ গড়-গড়,খাই চিড়ে আর তেঁতুল,বীচি ফেলি টুল্‌-টুল্‌।বুড়ি গেল অনেক দূর!’ 
 আবার খানিক দূরে বুড়ির বাড়ির কাছে চলে আসতেই দেখাগেল সেই শিয়াল পথের মাঝখানে বসে আছে।  সে লাউ দেখে বলল, হুঁ! লাউ কিনা আবার কথা বলে। ওর ভিতর কি আছে দেখতে হবে।
  তখন সে হতভাগা লাথি মেরে লাউটা ভেঙেই বলে কিনা, বুড়ি তোকে তো এখন খাব!বুড়ি বলল খাবি বইকি! নইলে এসেছি কি করতে? তা, আগে দুটো গান শুনবিনা?শিয়াল বললে, হ্যাঁ,  খাওয়ার আগে দুটো গান হলে মন্দ হয় না। আমিও একটু-আধটু গাইতে পারি।বুড়ি বলল, তবে তো ভালোই হল। চল ঐ মাটির টিবিটায় উঠে গাইব গান। বলে বুড়ি সেই টিপির উপরে উঠে সুর ধরে চেঁচিয়ে বলল, আয় -আয়, রঙ্গা-ভঙ্গা, তু-উ-উ-উ-উ!অমনি বুড়ির দুই কুকুর ছুটে এল, একটা ধরল শিয়ালের ঘাড়, আর একটায় ধরল তার কোমর। ধরে টান কি টান! শিয়ালের ঘাড় ভেঙে গেল, কোমর ভেঙে গেল, জিভ বেরিয়ে গেল, প্রাণ বেরিয়ে গেল-তবু তারা টানছেই, টাইছেই, খালি টানছে।এভাবেই  অতি চালাক শিয়াল শাস্তি পেল।

Friday, January 22, 2016

বিয়ে

বাবা ছেলেকে ডেকে কথা বলছেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন।
বাবাঃআমি চাই তুমি আমার পসন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করবে!!!  
ছেলেঃঅসম্ভব! তাছাড়া আমার পসন্দ হওয়া দরকার।
বাবাঃআমি বিল গেটসের মেয়েকে দেখেছি।  তোমার জন্যে আমার পসন্দ হয়েছে।
ছেলেঃতাহলে ঠিক আছে।

বিল গেটস

এবার বাবা বিল গেটসের সাথে দেখা করলেন।
বাবাঃআমি আপনার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিবাহ দিতে চাই।
বিল গেটসঃঅসম্ভব!
বাবাঃদেখুন,  আমার ছেলে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সি ই ও।
বিল গেটসঃতাহলে আমি রাজি।
এবার বাবা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে গেলেন।
ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এর সাথে দেখা করলেন।



প্রেসিডেন্ট কিম


বাবাঃআমার ছেলেকে আপনার ব্যাংকে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে!  
প্রেসিডেন্টঃঅসম্ভব!
বাবাঃআমার ছেলে হল বিল গেটসের মেয়ের জামাই।
প্রেসিডেন্টঃতাহলে ঠিক আছে।

Popular Posts